কৃষক কার্ড পাবে ১কোটি ৬৫লাখ কৃষক: মিলবে ১০ ধরনের সুবিধা
- আপডেট সময় : ০৯:৩৫:৩২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৩ মার্চ ২০২৬
- / ১০১৩ বার পড়া হয়েছে
কৃষক কার্ড পাবে ১কোটি ৬৫লাখ কৃষক: মিলবে ১০ ধরনের সুবিধা
মোফাজ্জল হোসেন ইলিয়াছঃ
কৃষি খাতে ভর্তুকি, ঋণ ও প্রণোদনা সহজলভ্য করতে দেশের এক কোটি ৬৫ লাখ কৃষককে কার্ডের আওতায় আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আগামী চার বছরে পর্যায়ক্রমে এই কার্ড বিতরণ করা হবে। মৎস্যচাষি ও দুগ্ধ খামারিরাও এ সুবিধার অন্তর্ভুক্ত হবেন। এর মাধ্যমে কৃষকদের কাঠামোগত বঞ্চনা কমিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, একজন কৃষক এই কার্ডের মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে ১০ ধরনের সুবিধা পাবেন। এর মধ্যে রয়েছে—ন্যায্যমূল্যে কৃষি উপকরণ, সরকারি ভর্তুকি ও প্রণোদনা, সেচ সুবিধা, সহজ শর্তে কৃষিঋণ, কৃষি বিমা, ন্যায্যমূল্যে কৃষিপণ্য বিক্রির সুযোগ, প্রশিক্ষণ, আবহাওয়ার তথ্য এবং রোগবালাই দমনে পরামর্শ।
এই কার্ডের মাধ্যমে জমির পরিমাণ অনুযায়ী সার ক্রয় করা যাবে, যা অতিরিক্ত সারের ব্যবহার কমাতে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে। কৃষকদের বিদ্যমান ভাতা বা সুবিধার কার্ডগুলোও এ ব্যবস্থার আওতায় আনা হবে। তবে সুবিধা বিতরণের পদ্ধতি এখনো চূড়ান্ত হয়নি; কয়েকটি উপজেলায় পরীক্ষামূলক কার্যক্রম চলছে।
প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর জানিয়েছেন, এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য কৃষকদের স্বীকৃতি ও মর্যাদা নিশ্চিত করা। এজন্য প্রতিটি কৃষকের জন্য সোনালী ব্যাংকে ব্যাংক হিসাব খোলা হবে। প্রথম ধাপে ২১ হাজার ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষককে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। জমির পরিমাণ অনুযায়ী কৃষকদের বিভিন্ন শ্রেণিতে ভাগ করা হবে।
কার্ডে কৃষকের ৪৫ ধরনের তথ্য সংরক্ষণ করা হবে এবং আর্থিক সহায়তা যেন কৃষিখাতে ব্যয় হয়, তা নিশ্চিত করা হবে।
প্রাথমিকভাবে দেশের ১০টি উপজেলার ১০টি কৃষি ব্লকে তথ্য সংগ্রহ চলছে, যা এপ্রিলের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা। পরে আরও ১৫টি উপজেলায় এ কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে। কৃষকদের আয়, জমির মালিকানা ও আর্থিক অবস্থার ভিত্তিতে পাঁচটি শ্রেণিতে অন্তর্ভুক্তির কাজও চলমান রয়েছে।
সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, কৃষক কার্ড চালুর মাধ্যমে কৃষি ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন, উৎপাদন বৃদ্ধি, কৃষিপণ্যের বৈচিত্র্য আনা, উৎপাদন খরচ কমানো এবং ভর্তুকি বিতরণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে। প্রাথমিকভাবে চার বছরে এ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৬শ ৮১ কোটি টাকা।
সানেমের নির্বাহী পরিচালক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক সেলিম রায়হানের মতে, সঠিক কৃষক শনাক্ত করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। হালনাগাদ তালিকার অভাবে অ-কৃষক বা মধ্যস্বত্বভোগীরা সুবিধা নেয়ার চেষ্টা করতে পারেন।
তিনি আরো বলেন, ভর্তুকি ও সুবিধা সুষ্ঠুভাবে বিতরণ নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ। স্থানীয় পর্যায়ে তদারকির অভাব, বাজারে কৃত্রিম সংকট বা দুর্নীতি থাকলে প্রকৃত কৃষকেরা বঞ্চিত হতে পারেন। এছাড়া প্রযুক্তিগত অবকাঠামো ও তথ্য ব্যবস্থাপনায় দুর্বলতা থাকলেও উদ্যোগটির কার্যকারিতা ব্যাহত হতে পারে।
এই উদ্যোগ সফল করতে নির্ভুল ডিজিটাল ডেটাবেজ তৈরি, স্বচ্ছ যাচাই–বাছাই প্রক্রিয়া, এবং ভর্তুকি বিতরণে কঠোর তদারকি ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
দৈনিক আস্থা/এমএইচ


















