ঢাকা ০৯:২২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম:
Logo পানছড়িতে খালেদা জিয়ার স্বরণে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্টিত Logo ছয় মাসে ব্যাংক থেকে ৬০ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিলো সরকার Logo প্রাণ ফিরছে লোগাং ইউপি শহীদ জিয়া স্মৃতি সংসদে Logo পানছড়িতে ভারতীয় অবৈধ পন্য আটক Logo পানছড়িতে সড়ক নির্মাণে নিম্নমানের খোয়া-রাবিশ ব্যবহার Logo মুসাব্বির হত্যার প্রতিবাদে খাগড়াছড়িতে স্বেচ্ছাসেবক দলের বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ Logo অষ্টগ্রামে জলমহাল দখলকে কেন্দ্র করে অতর্কিত হামলা, ছাত্রদল সভাপতিসহ আহত ৬ Logo পানছড়িতে খালেদা জিয়ার স্বরণে স্বেচ্ছাসেবক দলের আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্টিত Logo ঘরে-বাইরে নিরাপত্তাহীনতা, সারাদেশে বাধাহীন ‘মব’-২০২৫ Logo সড়ক পাশে ফেলে যাওয়া দুই শিশুর বাবার বাড়ি খাগড়াছড়ি

গৃহবধূকে বিবস্ত্র করে নির্যাতনের ঘটনা ওসি ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

News Editor
  • আপডেট সময় : ০৯:৩৯:৩৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২০
  • / ১১১০ বার পড়া হয়েছে

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে এক নারীকে বিবস্ত্র করে নির্যাতনের ঘটনায় তিনজনকে আটক করা হয়েছে৷ তবে ঘটনার একমাস পরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিও দেখে উদ্যোগী হওয়ায় পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে৷

গত ২ সেপ্টেম্বরের ঘটনা হলেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নির্যাতনের ভিডিওটি ভাইরাল হয় গত শনি-রোববারে৷ এরপরই বর্বরোচিত ঘটনাটি জানতে পারে পুলিশ৷ তা-ও বেগমগঞ্জ থানা পুলিশ জানতে পারেনি, কোনো ব্যবস্থাও নেয়নি, নোয়াখালী জেলার এসপির নজরে এলে তিনি দুর্বত্তদের গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেন এবং তারপর তৎপর হয় পুলিশ৷

এ পর্যন্ত যে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে৷ দেশের বিভিন্ন এলকা থেকে প্রত্যেককেই গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব৷

স্থানীয় ঘটনা একমাসেও কেন তারা জানতে পারলেন না- এই প্রশ্নের জবাবে বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হারুন অর রশীদ বলেন, ‘‘আমাদের কেউ জানায়নি৷ কেউ অভিযোগও করেনি৷ ফলে আমরা জানতে পারিনি৷ ফেসবুকে ভিডিও ভাইরাল হলে আমরা জানতে পারি৷’

ওসির এই জবাবটি গ্রহণযোগ্য নয় বলে মনে করেন পুলিশের সাবেক এআইজি এবং ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা বিভাগের সাবেক প্রধান সৈয়দ বজলুল করিম৷ তিন বলেন, ‘‘কেউ জানাবে সেজন্য পুলিশের বসে থাকার সুযোগ নেই৷ অনেক সময় প্রভাবশালীদের কারণে অসহায় মানুষ মুখ খোলে না৷ কিন্তু পুলিশের তো তথ্য সংগ্রহের নিজস্ব চেইন থাকে৷ গ্রামের চৌকিদারও তাদের তথ্য দিতে বাধ্য৷ আর এখন থানা পর্যায় পর্যন্ত গোয়েন্দা সংস্থা কাজ করে৷’’

গৃহবধূকে বিবস্ত্র করে নির্যাতনের ঘটনা ‘ষড়যন্ত্র’ হতে পারে: আইনমন্ত্রী

তার মতে, ‘‘এর জন্য ওই থানার ওসি দায়ী৷ হয় তিনি জেনেও ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার জন্য গোপন করেছেন অথবা তিনি থানায় কিছু খেয়ে ঘুমিয়ে কাটান৷ তার দায়িত্ববোধ বলে কিছু নেই৷’’

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার একলাশপুর ইউনিয়নে এক মাস আগে এই মধ্যযুগীয় বর্বরতার ঘটনা ঘটে নির্যাতিতার নিজের ঘরে৷ দুবৃত্তরা নারীর ঘরে ঢুকে তাকে বিবস্ত্র করে নির্যাতন করে৷ তিনি তাদের পা ধরে ‘বাবা’ ডেকেও রেহাই পাননি৷ নির্যাতকরা নির্যাতনের ঘটনা মোবাইল ফোনের ক্যামেরায়ও ধারণ করে উল্লাস প্রকাশ করে৷

ওই এলাকার ‘দেলোয়ার বাহিনীর প্রধান দেলোয়ার ও বাদল, কালাম এবং আবদুর রহিমসহ তার সহযোগীরা এই বর্বরোচিত ঘটনা ঘটনায়৷ স্থানীয় সূত্র জানায়, এলাকার সবাই ঘটনা জানতো৷ এমনকি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও জানতেন৷ কিন্তু কেউ তা প্রকাশ করেনি৷

নির্যাতিতা জীবনের ভয়ে থানায় অভিযোগ করেননি৷ ঘটনার একমাস পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নির্যাতনের ভিডিও ভাইরাল হলে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে নিরাপত্তার ব্যবস্থা করে৷

বেগমগঞ্জ থানার ওসি জানান, একমাস নারীকে বিবস্ত্র করে নির্যাতন করার মতো ঘটনা কেউ জানতে না পারলেও অবশেষে মোট দুটি মামলা হয়েছে৷ একটি নারী নির্যাতনের এবং আরেকটি পর্নোগ্রাফি আইনে৷ দুটি মামলাতেই ৯ জনকে আসামি করা হয়েছে৷

নির্যাতিত নারী পারিবারিক সমস্যার কারণে বাবার বাড়িতে এসেছিলেন৷ সেখানেই ‘দেলোয়ার বাহিনি’ এ ঘটনা ঘটায়৷ তবে বেগমগঞ্জ থানার ওসি বলছেন নতুন কথা৷ তার দাবি ঘটনার সঙ্গে নির্যাতিতার স্বামীও জড়িত, ‘‘তার স্বামীই এই ঘটনার ইন্ধনদাতা৷ তাদের মধ্যে খারাপ সম্পর্কের জেরে এই ঘটনা ঘটেছে৷’’ দেলোয়ার বাহিনী সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘‘তারা স্থানীয় একটি বখাটে গ্রুপ৷’’

ঘটনার একমাস পর ভাইরাল হওয়া ভিডিও দেখে পুলিশের নড়েচড়ে বসা এবং শুরুতেই ভুক্তভোগীর পরিবারকে জড়ানোর চেষ্টাকে কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না মানবাধিকার কর্মীরা৷ তারা মনে করেন, আসলে এটা অপরাধীদের সাথে পুলিশের যোগাযোগ থাকার কারণেও ঘটনাটি এতদিন চাপা থাকতে পারে৷ মানবাধিকার কর্মী এবং আইন ও সালিশ কেন্দ্রের সাবেক নির্বাহী পরিচালক শিপা হাফিজ বলেন, ‘‘২০১৫ সালে শিশু রাজন হত্যার ঘটনায়ও আগে পুলিশ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি৷ ফেসবুকে আসার পর তারা তৎপর হয়৷ তারা আগে জানলেও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি৷’’

তার মতে, ‘‘পুলিশ একটি অকার্যকর এবং রাজনৈতিক বাহিনীতে পরিণত হয়েছে৷ যাদের ক্ষমতা আছে, প্রভাব আছে তাদের পিছনে ছুটে বেড়াচ্ছে৷ সাধারণ মানুষের জন্য পুলিশ নয়৷ রাস্তায় ১০টা ধর্ষণ হলেও তারা ফিরে তাকাবে না৷ আমাদের মন্ত্রীরা, জনপ্রতিনিধিদের কেউ কি এখন পর্যন্ত বলেছেন প্রতিদিন ধর্ষণ হচ্ছে, আমরা লজ্জিত?’’

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা বিভাগের সাবেক প্রধান সৈয়দ বজলুল করিম বলেন, ‘‘পুলিশ তার দায়িত্ব থেকে অনেকটাই সরে যাচ্ছে৷ তারা মানুষের জন্য কাজ না করে ক্ষমতার দিকে তাকিয়ে থাকে যার ফল এই ভয়াবহ পরিস্থিতি৷’’ সূত্র: ডয়েচে ভেলে।

গৃহবধূকে বিবস্ত্র করে নির্যাতনের ঘটনা ওসি ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

আপডেট সময় : ০৯:৩৯:৩৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২০

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে এক নারীকে বিবস্ত্র করে নির্যাতনের ঘটনায় তিনজনকে আটক করা হয়েছে৷ তবে ঘটনার একমাস পরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিও দেখে উদ্যোগী হওয়ায় পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে৷

গত ২ সেপ্টেম্বরের ঘটনা হলেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নির্যাতনের ভিডিওটি ভাইরাল হয় গত শনি-রোববারে৷ এরপরই বর্বরোচিত ঘটনাটি জানতে পারে পুলিশ৷ তা-ও বেগমগঞ্জ থানা পুলিশ জানতে পারেনি, কোনো ব্যবস্থাও নেয়নি, নোয়াখালী জেলার এসপির নজরে এলে তিনি দুর্বত্তদের গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেন এবং তারপর তৎপর হয় পুলিশ৷

এ পর্যন্ত যে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে৷ দেশের বিভিন্ন এলকা থেকে প্রত্যেককেই গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব৷

স্থানীয় ঘটনা একমাসেও কেন তারা জানতে পারলেন না- এই প্রশ্নের জবাবে বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হারুন অর রশীদ বলেন, ‘‘আমাদের কেউ জানায়নি৷ কেউ অভিযোগও করেনি৷ ফলে আমরা জানতে পারিনি৷ ফেসবুকে ভিডিও ভাইরাল হলে আমরা জানতে পারি৷’

ওসির এই জবাবটি গ্রহণযোগ্য নয় বলে মনে করেন পুলিশের সাবেক এআইজি এবং ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা বিভাগের সাবেক প্রধান সৈয়দ বজলুল করিম৷ তিন বলেন, ‘‘কেউ জানাবে সেজন্য পুলিশের বসে থাকার সুযোগ নেই৷ অনেক সময় প্রভাবশালীদের কারণে অসহায় মানুষ মুখ খোলে না৷ কিন্তু পুলিশের তো তথ্য সংগ্রহের নিজস্ব চেইন থাকে৷ গ্রামের চৌকিদারও তাদের তথ্য দিতে বাধ্য৷ আর এখন থানা পর্যায় পর্যন্ত গোয়েন্দা সংস্থা কাজ করে৷’’

গৃহবধূকে বিবস্ত্র করে নির্যাতনের ঘটনা ‘ষড়যন্ত্র’ হতে পারে: আইনমন্ত্রী

তার মতে, ‘‘এর জন্য ওই থানার ওসি দায়ী৷ হয় তিনি জেনেও ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার জন্য গোপন করেছেন অথবা তিনি থানায় কিছু খেয়ে ঘুমিয়ে কাটান৷ তার দায়িত্ববোধ বলে কিছু নেই৷’’

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার একলাশপুর ইউনিয়নে এক মাস আগে এই মধ্যযুগীয় বর্বরতার ঘটনা ঘটে নির্যাতিতার নিজের ঘরে৷ দুবৃত্তরা নারীর ঘরে ঢুকে তাকে বিবস্ত্র করে নির্যাতন করে৷ তিনি তাদের পা ধরে ‘বাবা’ ডেকেও রেহাই পাননি৷ নির্যাতকরা নির্যাতনের ঘটনা মোবাইল ফোনের ক্যামেরায়ও ধারণ করে উল্লাস প্রকাশ করে৷

ওই এলাকার ‘দেলোয়ার বাহিনীর প্রধান দেলোয়ার ও বাদল, কালাম এবং আবদুর রহিমসহ তার সহযোগীরা এই বর্বরোচিত ঘটনা ঘটনায়৷ স্থানীয় সূত্র জানায়, এলাকার সবাই ঘটনা জানতো৷ এমনকি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও জানতেন৷ কিন্তু কেউ তা প্রকাশ করেনি৷

নির্যাতিতা জীবনের ভয়ে থানায় অভিযোগ করেননি৷ ঘটনার একমাস পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নির্যাতনের ভিডিও ভাইরাল হলে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে নিরাপত্তার ব্যবস্থা করে৷

বেগমগঞ্জ থানার ওসি জানান, একমাস নারীকে বিবস্ত্র করে নির্যাতন করার মতো ঘটনা কেউ জানতে না পারলেও অবশেষে মোট দুটি মামলা হয়েছে৷ একটি নারী নির্যাতনের এবং আরেকটি পর্নোগ্রাফি আইনে৷ দুটি মামলাতেই ৯ জনকে আসামি করা হয়েছে৷

নির্যাতিত নারী পারিবারিক সমস্যার কারণে বাবার বাড়িতে এসেছিলেন৷ সেখানেই ‘দেলোয়ার বাহিনি’ এ ঘটনা ঘটায়৷ তবে বেগমগঞ্জ থানার ওসি বলছেন নতুন কথা৷ তার দাবি ঘটনার সঙ্গে নির্যাতিতার স্বামীও জড়িত, ‘‘তার স্বামীই এই ঘটনার ইন্ধনদাতা৷ তাদের মধ্যে খারাপ সম্পর্কের জেরে এই ঘটনা ঘটেছে৷’’ দেলোয়ার বাহিনী সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘‘তারা স্থানীয় একটি বখাটে গ্রুপ৷’’

ঘটনার একমাস পর ভাইরাল হওয়া ভিডিও দেখে পুলিশের নড়েচড়ে বসা এবং শুরুতেই ভুক্তভোগীর পরিবারকে জড়ানোর চেষ্টাকে কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না মানবাধিকার কর্মীরা৷ তারা মনে করেন, আসলে এটা অপরাধীদের সাথে পুলিশের যোগাযোগ থাকার কারণেও ঘটনাটি এতদিন চাপা থাকতে পারে৷ মানবাধিকার কর্মী এবং আইন ও সালিশ কেন্দ্রের সাবেক নির্বাহী পরিচালক শিপা হাফিজ বলেন, ‘‘২০১৫ সালে শিশু রাজন হত্যার ঘটনায়ও আগে পুলিশ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি৷ ফেসবুকে আসার পর তারা তৎপর হয়৷ তারা আগে জানলেও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি৷’’

তার মতে, ‘‘পুলিশ একটি অকার্যকর এবং রাজনৈতিক বাহিনীতে পরিণত হয়েছে৷ যাদের ক্ষমতা আছে, প্রভাব আছে তাদের পিছনে ছুটে বেড়াচ্ছে৷ সাধারণ মানুষের জন্য পুলিশ নয়৷ রাস্তায় ১০টা ধর্ষণ হলেও তারা ফিরে তাকাবে না৷ আমাদের মন্ত্রীরা, জনপ্রতিনিধিদের কেউ কি এখন পর্যন্ত বলেছেন প্রতিদিন ধর্ষণ হচ্ছে, আমরা লজ্জিত?’’

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা বিভাগের সাবেক প্রধান সৈয়দ বজলুল করিম বলেন, ‘‘পুলিশ তার দায়িত্ব থেকে অনেকটাই সরে যাচ্ছে৷ তারা মানুষের জন্য কাজ না করে ক্ষমতার দিকে তাকিয়ে থাকে যার ফল এই ভয়াবহ পরিস্থিতি৷’’ সূত্র: ডয়েচে ভেলে।