ঢাকা ০৯:২৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬, ১১ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

গ্রিল ভেঙে বাসার ভেতরে প্রবেশ চেতনানাশক স্প্রে করে তিন বাসায় ডাকাতি

Iftekhar Ahamed
  • আপডেট সময় : ০১:৪০:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২১
  • / ১০৮৪ বার পড়া হয়েছে

জেলা প্রতিনিধি:

শ্রীমঙ্গল উপজেলায় চেতনানাশক স্প্রে করে এক রাতে তিনটি বাসায় ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। ডাকাতরা জানালার গ্রিল ভেঙে বাসার ভেতরে প্রবেশ করে ৫ ভরি স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ ৫ লাখ টাকা লুট করে নিয়ে গেছে।বৃহস্পতিবার (৪ ফেব্রুয়ারি) ভোরে তিন পরিবারের ১৬ জনকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

শ্রীমঙ্গল থানা পুলিশ ভুক্তভোগী এক ব্যক্তি ফেসবুকের স্ট্যাটাস দেখে ও ৯৯৯ নম্বরে খবর পেয়ে ভোরে ঘটনাস্থলে পৌঁছে অচেতন অবস্থায় ওই ১৬ জনকে উদ্ধার করে। তারা হলেন— পৌরসভার শ্যামলী আবাসিক এলাকার ব্যবসায়ী খালেদ মিয়া (৩৫), তার স্ত্রী উম্মে জাহান উর্মি (২৬), মা শামসুন্নাহার (৫০), বোন সাকেরা বেগম (৩৪), ভাই জাহেদ মিয়া (২০) ও চাচাতো ভাই রাশেদ আহমেদ (২০), পাশের ফ্ল্যাটের বাসিন্দা আব্দুল লতিফ (৫০), তার স্ত্রী রাহেলা বেগম (৪০), তার দুই কন্যা সীমা আক্তার (২৩) ও রীমা আক্তার (১৭), একই ভবনের ওপর তলার বাসিন্দা ফরিদ মিয়া (৫০) এবং তার স্ত্রী ও ৪ ছেলে। তাদেরর নাম জানা যায়নি। পরিবার ৩টি জনৈক মিলন মিয়ার বাসার ভাড়াটিয়া।

খালেদ মিয়ার ভগ্নিপতি বাকের মিয়া জানান, রাত ১২টার দিকে পরিবারের লোকজন ঘুমিয়ে পড়লে ভোর চারটার দিকে খালেদ মিয়া কিছুটা সুস্থ অবস্থায় জেগে ওঠেন। এরপর পরিস্থিতি বুঝে তার ফেসবুকে বিষয়টি জানিয়ে একটি স্ট্যাটাস ও একইসাথে ৯৯৯ নম্বরে ফোন দেন।খবর পেয়ে শ্রীমঙ্গল থানার পুলিশ সদস্যরা এসে খালেদ মিয়া ও তার পরিবারের ৫ সদস্যকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠান।

বাকের মিয়া জানান, রান্নাঘরের জানালার গ্রিল ভেঙে ডাকাতরা ভেতরে প্রবেশ করে আলমিরা ভেঙে নগদ ৫ লাখ টাকা ও প্রায় ৫ ভরি স্বর্ণালঙ্কার লুট করে নিয়ে গেছে। পুলিশের উদ্ধারকাজ চলাকালে পাশের ও উপরের ফ্ল্যাটের বাসিন্দারা চিৎকার করলে ওই পরিবার দুটির আরও ১১ সদস্যকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠিয়েছে পুলিশ। এর মধ্যে আব্দুল লতিফের অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এমএ কাইয়ুম নামে স্থানীয় এক প্রতিবেশী জানান খালেদ মিয়ার বাসা ছাড়া অন্য দুই বাসার কোনো মালামাল খোয়া যায়নি।শ্রীমঙ্গল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) হুমায়ুন কবির বলেন, সন্ধ্যার কোনো এক সময় দুষ্কৃতিরীরা রান্নাঘরের জানালা দিয়ে খাবারে চেতনানাশক স্প্রে করে থাকতে পারে। রাতে সেই খাবার খেয়ে পরিবারের সদস্যরা অচেতন হয়ে পড়লে জানালার গ্রিল ভেঙে খালেদ মিয়ার বাসার আলমিরা থেকে নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার চুরির ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। পুলিশ অপরাধীদের আটক করতে তৎপর রয়েছে।

ট্যাগস :

গ্রিল ভেঙে বাসার ভেতরে প্রবেশ চেতনানাশক স্প্রে করে তিন বাসায় ডাকাতি

আপডেট সময় : ০১:৪০:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২১

জেলা প্রতিনিধি:

শ্রীমঙ্গল উপজেলায় চেতনানাশক স্প্রে করে এক রাতে তিনটি বাসায় ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। ডাকাতরা জানালার গ্রিল ভেঙে বাসার ভেতরে প্রবেশ করে ৫ ভরি স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ ৫ লাখ টাকা লুট করে নিয়ে গেছে।বৃহস্পতিবার (৪ ফেব্রুয়ারি) ভোরে তিন পরিবারের ১৬ জনকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

শ্রীমঙ্গল থানা পুলিশ ভুক্তভোগী এক ব্যক্তি ফেসবুকের স্ট্যাটাস দেখে ও ৯৯৯ নম্বরে খবর পেয়ে ভোরে ঘটনাস্থলে পৌঁছে অচেতন অবস্থায় ওই ১৬ জনকে উদ্ধার করে। তারা হলেন— পৌরসভার শ্যামলী আবাসিক এলাকার ব্যবসায়ী খালেদ মিয়া (৩৫), তার স্ত্রী উম্মে জাহান উর্মি (২৬), মা শামসুন্নাহার (৫০), বোন সাকেরা বেগম (৩৪), ভাই জাহেদ মিয়া (২০) ও চাচাতো ভাই রাশেদ আহমেদ (২০), পাশের ফ্ল্যাটের বাসিন্দা আব্দুল লতিফ (৫০), তার স্ত্রী রাহেলা বেগম (৪০), তার দুই কন্যা সীমা আক্তার (২৩) ও রীমা আক্তার (১৭), একই ভবনের ওপর তলার বাসিন্দা ফরিদ মিয়া (৫০) এবং তার স্ত্রী ও ৪ ছেলে। তাদেরর নাম জানা যায়নি। পরিবার ৩টি জনৈক মিলন মিয়ার বাসার ভাড়াটিয়া।

খালেদ মিয়ার ভগ্নিপতি বাকের মিয়া জানান, রাত ১২টার দিকে পরিবারের লোকজন ঘুমিয়ে পড়লে ভোর চারটার দিকে খালেদ মিয়া কিছুটা সুস্থ অবস্থায় জেগে ওঠেন। এরপর পরিস্থিতি বুঝে তার ফেসবুকে বিষয়টি জানিয়ে একটি স্ট্যাটাস ও একইসাথে ৯৯৯ নম্বরে ফোন দেন।খবর পেয়ে শ্রীমঙ্গল থানার পুলিশ সদস্যরা এসে খালেদ মিয়া ও তার পরিবারের ৫ সদস্যকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠান।

বাকের মিয়া জানান, রান্নাঘরের জানালার গ্রিল ভেঙে ডাকাতরা ভেতরে প্রবেশ করে আলমিরা ভেঙে নগদ ৫ লাখ টাকা ও প্রায় ৫ ভরি স্বর্ণালঙ্কার লুট করে নিয়ে গেছে। পুলিশের উদ্ধারকাজ চলাকালে পাশের ও উপরের ফ্ল্যাটের বাসিন্দারা চিৎকার করলে ওই পরিবার দুটির আরও ১১ সদস্যকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠিয়েছে পুলিশ। এর মধ্যে আব্দুল লতিফের অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এমএ কাইয়ুম নামে স্থানীয় এক প্রতিবেশী জানান খালেদ মিয়ার বাসা ছাড়া অন্য দুই বাসার কোনো মালামাল খোয়া যায়নি।শ্রীমঙ্গল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) হুমায়ুন কবির বলেন, সন্ধ্যার কোনো এক সময় দুষ্কৃতিরীরা রান্নাঘরের জানালা দিয়ে খাবারে চেতনানাশক স্প্রে করে থাকতে পারে। রাতে সেই খাবার খেয়ে পরিবারের সদস্যরা অচেতন হয়ে পড়লে জানালার গ্রিল ভেঙে খালেদ মিয়ার বাসার আলমিরা থেকে নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার চুরির ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। পুলিশ অপরাধীদের আটক করতে তৎপর রয়েছে।