ঘুষ চাওয়ার ঘটনা সামনে আসায় আইসিটি’র বিচারপ্রক্রিয়ার উপর আস্থা কমবে
- আপডেট সময় : ১১:১০:৫৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬
- / ১০৩৫ বার পড়া হয়েছে
ঘুষ চাওয়ার ঘটনা সামনে আসায় আইসিটি’র
বিচারপ্রক্রিয়ার উপর আস্থা কমবে
স্টাফ রিপোর্টারঃ
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে [আইসিটি] এক কারাবন্দী সাবেক সংসদ সদস্যকে জামিনে মুক্তি দেওয়ার জন্য প্রসিকিউটরের এক কোটি টাকা চাওয়ার ঘটনা প্রকাশ্যে আসায় বিচারপ্রক্রিয়ার ওপর মানুষের আস্থা ক্ষুণ্ণ হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, এমন দুর্নীতি বিচারপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচারের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় চট্টগ্রামে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার আসামি, চট্টগ্রাম-৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরীকে জামিনে মুক্তি দিতে তার পরিবারের কাছে এক কোটি টাকা চেয়েছিলেন সদ্য পদত্যাগ করা প্রসিকিউটর মো. সাইমুম রেজা তালুকদার।
বিষয়টি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে ইফতেখারুজ্জামান বলেন, এটি বেশি উদ্বেগের বিষয়। কারণ, এর ফলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের অধীন বিচারপ্রক্রিয়ার ওপর মানুষের আস্থার সংকট দেখা দিতে পারে। এমন দুর্নীতির চর্চা প্রকৃত অপরাধীদের যথাযথ জবাব দিহির সম্ভাবনাকেও ক্ষতিগ্রস্ত করবে বলেও মত প্রকাশ করেন তিনি।
এ ঘটনা নিয়ে বর্তমান আইনমন্ত্রী এবং সাবেক ও বর্তমান চিফ প্রসিকিউটরের দৃশ্যমান নমনীয়তা, বিশেষ করে যথাযথ কঠোর অবস্থান না নেওয়াও প্রশ্ন উঠে বলে উল্লেখ করেন ইফতেখারুজ্জামান। তিনি বলেন, বিশেষ করে এমন এক সময়ে, যখন নতুন একটি সরকার ব্যাপক প্রচারণার মাধ্যমে দুর্নীতি বিরোধী অবস্থান ও ন্যায়বিচারের অঙ্গীকার নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে। তাদের এমন উদাসীনতা উচ্চপর্যায়ে অপরাধের দায়মুক্তি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তোলে।
ইফতেখারুজ্জামান বলেন, অভিযুক্ত প্রসিকিউটরের পদত্যাগ যথেষ্ট নয়। অভিযোগের যথাযথ ও সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া জরুরি, যাতে যোগসাজশমূলক দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত প্রত্যেকের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া যায়। তিনি সতর্ক করেছেন, সরকারের দুর্নীতিবিরোধী প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন ব্যাহত হলে তা দেশের জনগণের আস্থা নষ্ট করবে এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ও দুর্নীতিবাজ মহলকে সুবিধা দেবে।
ঘটনার পর চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে একটি রুদ্ধদ্বার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু করা হবে। তবে ইফতেখারুজ্জামান এ তদন্তকে যথেষ্ট মনে করছেন না এবং সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে শক্তিশালী বার্তা দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা বলেছেন।
ইফতেখারুজ্জামান বলেন, শিক্ষকতায় ফিরে যাওয়ার কারণ দেখিয়ে অভিযুক্ত প্রসিকিউটরের পদত্যাগ করার মধ্য দিয়ে এ ঘটনার ইতি টানা যাবে না। তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলো অবশ্যই যথাযথভাবে তদন্ত করা উচিত, যাতে এ যোগসাজশমূলক দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত প্রত্যেকের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক জবাবদিহি নিশ্চিত করা যায়।
কর্তৃত্ববাদ পরবর্তী সময় থেকে শুরু করে সরকার গঠনের পর গত দুই সপ্তাহে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠন এবং বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠন যেভাবে ‘এবার আমাদের পালা’ চর্চার ক্রমবর্ধমান উদাহরণ সৃষ্টি করছেন, তা নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে সরকারের জন্য আত্মঘাতী হবে বলে সতর্ক করেছেন ইফতেখারুজ্জামান।
তিনি বলেন, এটা নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকারের কোনো কিছুই সঠিক বাস্তবায়ন সম্ভব হবে না। দেশবাসী হতাশ হবেন। লাভবান হবে চোর তান্ত্রিক মহলসহ সরকারের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ।
আস্থা/এমএইচ



















