ঢাকা ০৯:৩৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম:
Logo পানছড়িতে অষ্টপ্রহার ব্যাপী মহানামযজ্ঞ ও সরস্বতী পূজা পরিদর্শনে বিএনপি Logo পানছড়িতে বিভিন্ন দলের শতাধিক নেতাকর্মী বিএনপিতে যোগদান Logo আপনারা থাকার কষ্ট করছেন, আমরা এখানে উঁচু উঁচু বিল্ডিং করে দিতে চাই Logo পানছড়িতে খালেদা জিয়ার স্বরণে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্টিত Logo ছয় মাসে ব্যাংক থেকে ৬০ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিলো সরকার Logo প্রাণ ফিরছে লোগাং ইউপি শহীদ জিয়া স্মৃতি সংসদে Logo পানছড়িতে ভারতীয় অবৈধ পন্য আটক Logo পানছড়িতে সড়ক নির্মাণে নিম্নমানের খোয়া-রাবিশ ব্যবহার Logo মুসাব্বির হত্যার প্রতিবাদে খাগড়াছড়িতে স্বেচ্ছাসেবক দলের বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ Logo অষ্টগ্রামে জলমহাল দখলকে কেন্দ্র করে অতর্কিত হামলা, ছাত্রদল সভাপতিসহ আহত ৬

চা বিক্রি করেই এতিম সন্তানদের মুখে ভাত তুলে দিতাম

Iftekhar Ahamed
  • আপডেট সময় : ০৭:৫৩:২৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৯ জানুয়ারী ২০২১
  • / ১০৬৭ বার পড়া হয়েছে

আলমডাঙ্গ রাজনীতির বিষয়য়ে দুই গ্রুপের দ্বন্দ্ব দুর্বৃত্তদের আগুনে দোকান পুড়ে ছাই!
জেলা প্রতিনিধি:

আলমডাঙ্গা উপজেলার বেলগাছির মোল্লাপাড়ায় দুর্বৃত্তদের দেওয়া আগুনে পুড়ল অসহায় পরিবারের একমাত্র উপার্জনস্থল। গত বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। অত্র ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান ও আলমডাঙ্গা উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আমিরুল ইসলাম মন্টু ও বেলগাছি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান চঞ্চলের কর্মী-সমর্থকরা প্রায় সময়ই এই চায়ের দোকানে আড্ডা দিতো। মাঝেমধ্যেই তারা রাজনীতির নানা বিষয় নিয়ে দোকানের মাচালে (বসার স্থান) বসেই দ্বন্দ্বে জড়িয়ে তর্ক-বিতর্ক করতেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এরমধ্যেই রহস্যজনকভাবে দুর্বৃত্তদের দেওয়া আগুনে চায়ের দোকানটি পুড়ে ভস্মিভূত হলে গেলে স্থানীয়দের মনে নানা প্রশ্নের জন্ম দেয়। এ ঘটনার পর থেকেই আলমডাঙ্গা থানা-পুলিশ প্রকৃত দোষীদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রেখেছে।
জানা গেছে, বেলগাছি মোল্লাপাড়ার মৃত মনোয়ার হোসেনের স্ত্রী আরজু খাতুন তাঁর কিশোর দুই সন্তানকে নিয়ে মোল্লাপাড়া ব্রিজের নিকট একটি চা ও মুদি দোকান চালিয়ে সংসারের খরচ চালান। কিন্তু গত বৃহস্পতিবার রাতে কে বা কারা তাঁর দোকানে আগুন লাগিয়ে দেয়। আগুনে পুড়ে ছায় হয়ে যায় সংসার চালানোর একমাত্র অবলম্বন দোকানঘরসহ দোকানের সমস্ত মালামাল।
এবিষয়ে আরজু খাতুন জানান, ‘আমার স্বামী এই চায়ের দোকান চালিয়েই সংসার চালাত। আমার স্বামী দেড় মাস আগে মারা যায়। স্বামী হারিয়ে আমি আমার সন্তানদের নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়ি। অবশেষে আমার স্বামীর রেখে যাওয়া দোকানটি আবারও চালানের ব্যবস্থা করে আমার ছোট্ট ছোট্ট দুই সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে। এই দোকান চালিয়েই দোকানে যে টাকা লাভ হয়, তা দিয়েই খেয়ে-পরে কোনো হালে দিন যাচ্ছিল আমাদের। কিন্তু গত বৃহস্পতিবার রাতে কে বা কারা আমার দোকানে আগুন লাগিয়ে দেয়। আগুনে আমার দোকানসহ দোকানের সমস্ত মালামাল ও দোকানে থাকা টাকা-পয়সা আগুনে পুড়ে নষ্ট হয়ে গেছে। আমার সন্তানদের নিয়ে খেয়ে-পরে বাঁচার আর কোনো অবলম্বন রইল না আমার। কারো সাথে আমাদের কোনো ব্যক্তিগত শত্রুতা নেই। কিন্তু চায়ের দোকান হিসেবে দোকানে বিভিন্ন রাজনৈতিক মানুষজন আসত। দুই গ্রুপের মাঝে বাগবিতণ্ডা সৃষ্টি হতো। তাদেরই কেউ আমার দোকানে আগুন লাগিয়ে দিতে পার বলে আমি ধারণা করছি। এ আগুন জ্বালিয়ে তারা শুধু আমার দোকানকে জ্বালিয়ে দিল না, জ্বালিয়ে দিল আমার এতিম শিশুদের মুখের আহার যোগানোর একমাত্র সম্বলটুকু। আমি এ বিষয়ে থানায় অভিযোগ করব ও দোষীদের শাস্তির দাবি জানাই।’
এবিষয়ে দোকানের আশপাশে বসবাসরত সাধারণ মানুষ জানান, ‘হঠাৎ আমরা মধ্যরাতে দেখতে পাই ব্রিজের নিকট দাউদাউ করে আগুন জ্বলছে। আমরা আগুন দেখে হৈ চৈ শুরু করি ও ব্রিজের নিকট ছুটে এসে দেখি আরজু খাতুনের দোকানে দাও দাও করে আগুন জ্বলছে, আমরা আরজু খাতুনের বাড়িতে খবর পাঠায়। ওপাশের ক্যানেল থেকে পানির ব্যবস্থা করে আগুন নেভানো হয়। কিন্তু আগুন নেভাতে যতটা সময় লাগে, ততক্ষণ এই দোকান পুড়ে ছাই হয়ে যায়’
এবিষয়ে আলমডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আলমগীর কবির বলেন, ‘ঘটনাটি খুব দুঃখজনক। চায়ের দোকান পোড়ানোর ঘটনায় একটি অভিযোগ পেয়েছি। অপরাধীদের ধরতে অভিযান চলছে। তদন্তপূর্বক দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

ট্যাগস :

চা বিক্রি করেই এতিম সন্তানদের মুখে ভাত তুলে দিতাম

আপডেট সময় : ০৭:৫৩:২৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৯ জানুয়ারী ২০২১

আলমডাঙ্গ রাজনীতির বিষয়য়ে দুই গ্রুপের দ্বন্দ্ব দুর্বৃত্তদের আগুনে দোকান পুড়ে ছাই!
জেলা প্রতিনিধি:

আলমডাঙ্গা উপজেলার বেলগাছির মোল্লাপাড়ায় দুর্বৃত্তদের দেওয়া আগুনে পুড়ল অসহায় পরিবারের একমাত্র উপার্জনস্থল। গত বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। অত্র ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান ও আলমডাঙ্গা উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আমিরুল ইসলাম মন্টু ও বেলগাছি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান চঞ্চলের কর্মী-সমর্থকরা প্রায় সময়ই এই চায়ের দোকানে আড্ডা দিতো। মাঝেমধ্যেই তারা রাজনীতির নানা বিষয় নিয়ে দোকানের মাচালে (বসার স্থান) বসেই দ্বন্দ্বে জড়িয়ে তর্ক-বিতর্ক করতেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এরমধ্যেই রহস্যজনকভাবে দুর্বৃত্তদের দেওয়া আগুনে চায়ের দোকানটি পুড়ে ভস্মিভূত হলে গেলে স্থানীয়দের মনে নানা প্রশ্নের জন্ম দেয়। এ ঘটনার পর থেকেই আলমডাঙ্গা থানা-পুলিশ প্রকৃত দোষীদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রেখেছে।
জানা গেছে, বেলগাছি মোল্লাপাড়ার মৃত মনোয়ার হোসেনের স্ত্রী আরজু খাতুন তাঁর কিশোর দুই সন্তানকে নিয়ে মোল্লাপাড়া ব্রিজের নিকট একটি চা ও মুদি দোকান চালিয়ে সংসারের খরচ চালান। কিন্তু গত বৃহস্পতিবার রাতে কে বা কারা তাঁর দোকানে আগুন লাগিয়ে দেয়। আগুনে পুড়ে ছায় হয়ে যায় সংসার চালানোর একমাত্র অবলম্বন দোকানঘরসহ দোকানের সমস্ত মালামাল।
এবিষয়ে আরজু খাতুন জানান, ‘আমার স্বামী এই চায়ের দোকান চালিয়েই সংসার চালাত। আমার স্বামী দেড় মাস আগে মারা যায়। স্বামী হারিয়ে আমি আমার সন্তানদের নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়ি। অবশেষে আমার স্বামীর রেখে যাওয়া দোকানটি আবারও চালানের ব্যবস্থা করে আমার ছোট্ট ছোট্ট দুই সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে। এই দোকান চালিয়েই দোকানে যে টাকা লাভ হয়, তা দিয়েই খেয়ে-পরে কোনো হালে দিন যাচ্ছিল আমাদের। কিন্তু গত বৃহস্পতিবার রাতে কে বা কারা আমার দোকানে আগুন লাগিয়ে দেয়। আগুনে আমার দোকানসহ দোকানের সমস্ত মালামাল ও দোকানে থাকা টাকা-পয়সা আগুনে পুড়ে নষ্ট হয়ে গেছে। আমার সন্তানদের নিয়ে খেয়ে-পরে বাঁচার আর কোনো অবলম্বন রইল না আমার। কারো সাথে আমাদের কোনো ব্যক্তিগত শত্রুতা নেই। কিন্তু চায়ের দোকান হিসেবে দোকানে বিভিন্ন রাজনৈতিক মানুষজন আসত। দুই গ্রুপের মাঝে বাগবিতণ্ডা সৃষ্টি হতো। তাদেরই কেউ আমার দোকানে আগুন লাগিয়ে দিতে পার বলে আমি ধারণা করছি। এ আগুন জ্বালিয়ে তারা শুধু আমার দোকানকে জ্বালিয়ে দিল না, জ্বালিয়ে দিল আমার এতিম শিশুদের মুখের আহার যোগানোর একমাত্র সম্বলটুকু। আমি এ বিষয়ে থানায় অভিযোগ করব ও দোষীদের শাস্তির দাবি জানাই।’
এবিষয়ে দোকানের আশপাশে বসবাসরত সাধারণ মানুষ জানান, ‘হঠাৎ আমরা মধ্যরাতে দেখতে পাই ব্রিজের নিকট দাউদাউ করে আগুন জ্বলছে। আমরা আগুন দেখে হৈ চৈ শুরু করি ও ব্রিজের নিকট ছুটে এসে দেখি আরজু খাতুনের দোকানে দাও দাও করে আগুন জ্বলছে, আমরা আরজু খাতুনের বাড়িতে খবর পাঠায়। ওপাশের ক্যানেল থেকে পানির ব্যবস্থা করে আগুন নেভানো হয়। কিন্তু আগুন নেভাতে যতটা সময় লাগে, ততক্ষণ এই দোকান পুড়ে ছাই হয়ে যায়’
এবিষয়ে আলমডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আলমগীর কবির বলেন, ‘ঘটনাটি খুব দুঃখজনক। চায়ের দোকান পোড়ানোর ঘটনায় একটি অভিযোগ পেয়েছি। অপরাধীদের ধরতে অভিযান চলছে। তদন্তপূর্বক দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’