ঢাকা ০১:২৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চার বছরেও বাস্তবায়ন হয়নি হাইকোর্টের নির্দেশ

Astha DESK
  • আপডেট সময় : ১২:৩৫:৩৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
  • / ১০১৭ বার পড়া হয়েছে

চার বছরেও বাস্তবায়ন হয়নি হাইকোর্টের নির্দেশ

স্টাফ রিপোর্টারঃ

এক রিটের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২২ সালের ১৩ নভেম্বর দেশের সব জেলার অবৈধ ইটভাটা বন্ধের নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে ইটভাটার জ্বালানি হিসেবে কাঠের ব্যবহার ৭ দিনের মধ্যে বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে প্রায় ৪ বছর পার হলেও সেই নির্দেশনা বাস্তবায়ন হয়নি।

পরিবেশবাদী ও মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) পক্ষে আইনজীবী মনজিল মোরসেদ এই রিট দায়ের করেছিলেন।

আইনজীবি মনজিল মোরসেদ বলেন, ২০২২ সালে দেশের সব অবৈধ ইটভাটা বন্ধের বিষয়ে আমরা জনস্বার্থে রিট দায়ের করার পর থেকেই আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়নে ধারাবাহিকভাবে কার্যক্রম শুরু হয়েছিল। প্রতি বছর ইটভাটার সিজন শুরু হলে এবং গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে আমরা জেলা ধরে ধরে আদালতে গিয়েছি, নতুন নির্দেশ এনেছি এবং নির্দেশ পালন না করলে আদালত অবমাননার অভিযোগও এনেছি।

এর ভিত্তিতে প্রশাসনের পক্ষ থেকেও কতগুলো অবৈধ ইটভাটা ভাঙা হচ্ছে তার নিয়মিত অগ্রগতি প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করা হচ্ছিল। তবে ২০২৪ সালের আগস্টের পর দেশে প্রশাসনিক স্থবিরতা দেখা দেওয়ায় এবং প্রশাসন অকার্যকর হয়ে পড়ায় ওই সময়ে এ বিষয়টি নিয়ে আমরা আর আদালতে যাইনি। কারণ প্রশাসন অকার্যকর থাকলে তারা প্রতিবেদন কোথা থেকে দেবে।

বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর আমরা ফের আদালতে আমাদের কার্যক্রম ও শুনানি শুরু করেছি। এরই মধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রামের অবৈধ ইটভাটাগুলোর বিষয়ে আদালতের নতুন আদেশ এসেছে। পাশাপাশি সারা দেশের যেসব অবৈধ ইটভাটার লাইসেন্স বা পরিবেশগত ছাড়পত্র নেই, সেগুলো বন্ধ ও ভাঙার বিষয়ে আমরা আদালতে আবেদন দাখিল করেছি।

আদালত খোলার পর সেগুলোর ওপর শুনানি শেষে নতুন করে নির্দেশনা দেওয়া হবে এবং আগে কতগুলো ভাটা ভাঙা হয়েছে সেই পেন্ডিং প্রতিবেদনগুলো দাখিল করতে বলা হবে।

পরিবেশ অধিদপ্তরের মনিটরিং অ্যান্ড এনফোর্সমেন্ট শাখার পরিচালক মোঃ মাহবুব জামিল বলেন, ‘সামনে যেহেতু শুষ্ক মৌসুম আসছে এবং ইটভাটাগুলো মূলত এই সময়েই চালিত হয়, তাই অবৈধ ইটভাটাগুলোর একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। আমাদের জেলা কার্যালয়গুলোতে এরই মধ্যে এ বিষয়ে কঠোর নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘পরিবেশ অধিদপ্তরের স্পষ্ট সিদ্ধান্ত রয়েছে যে, সব ধরনের অবৈধ ইটভাটা, বিশেষ করে কাঠ পোড়ানো (উড বার্ন), ড্রাম চিমনি ও ফিক্সড চিমনি ব্যবহারকারী ইটভাটাগুলোকে এবার কোনোভাবেই চলতে দেওয়া হবে না। সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে এবং খুব অল্প সময়ের মধ্যেই দেশজুড়ে জোরদার অভিযান শুরু হবে।

আস্থা/এমএইচ

ট্যাগস :

চার বছরেও বাস্তবায়ন হয়নি হাইকোর্টের নির্দেশ

আপডেট সময় : ১২:৩৫:৩৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

চার বছরেও বাস্তবায়ন হয়নি হাইকোর্টের নির্দেশ

স্টাফ রিপোর্টারঃ

এক রিটের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২২ সালের ১৩ নভেম্বর দেশের সব জেলার অবৈধ ইটভাটা বন্ধের নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে ইটভাটার জ্বালানি হিসেবে কাঠের ব্যবহার ৭ দিনের মধ্যে বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে প্রায় ৪ বছর পার হলেও সেই নির্দেশনা বাস্তবায়ন হয়নি।

পরিবেশবাদী ও মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) পক্ষে আইনজীবী মনজিল মোরসেদ এই রিট দায়ের করেছিলেন।

আইনজীবি মনজিল মোরসেদ বলেন, ২০২২ সালে দেশের সব অবৈধ ইটভাটা বন্ধের বিষয়ে আমরা জনস্বার্থে রিট দায়ের করার পর থেকেই আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়নে ধারাবাহিকভাবে কার্যক্রম শুরু হয়েছিল। প্রতি বছর ইটভাটার সিজন শুরু হলে এবং গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে আমরা জেলা ধরে ধরে আদালতে গিয়েছি, নতুন নির্দেশ এনেছি এবং নির্দেশ পালন না করলে আদালত অবমাননার অভিযোগও এনেছি।

এর ভিত্তিতে প্রশাসনের পক্ষ থেকেও কতগুলো অবৈধ ইটভাটা ভাঙা হচ্ছে তার নিয়মিত অগ্রগতি প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করা হচ্ছিল। তবে ২০২৪ সালের আগস্টের পর দেশে প্রশাসনিক স্থবিরতা দেখা দেওয়ায় এবং প্রশাসন অকার্যকর হয়ে পড়ায় ওই সময়ে এ বিষয়টি নিয়ে আমরা আর আদালতে যাইনি। কারণ প্রশাসন অকার্যকর থাকলে তারা প্রতিবেদন কোথা থেকে দেবে।

বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর আমরা ফের আদালতে আমাদের কার্যক্রম ও শুনানি শুরু করেছি। এরই মধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রামের অবৈধ ইটভাটাগুলোর বিষয়ে আদালতের নতুন আদেশ এসেছে। পাশাপাশি সারা দেশের যেসব অবৈধ ইটভাটার লাইসেন্স বা পরিবেশগত ছাড়পত্র নেই, সেগুলো বন্ধ ও ভাঙার বিষয়ে আমরা আদালতে আবেদন দাখিল করেছি।

আদালত খোলার পর সেগুলোর ওপর শুনানি শেষে নতুন করে নির্দেশনা দেওয়া হবে এবং আগে কতগুলো ভাটা ভাঙা হয়েছে সেই পেন্ডিং প্রতিবেদনগুলো দাখিল করতে বলা হবে।

পরিবেশ অধিদপ্তরের মনিটরিং অ্যান্ড এনফোর্সমেন্ট শাখার পরিচালক মোঃ মাহবুব জামিল বলেন, ‘সামনে যেহেতু শুষ্ক মৌসুম আসছে এবং ইটভাটাগুলো মূলত এই সময়েই চালিত হয়, তাই অবৈধ ইটভাটাগুলোর একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। আমাদের জেলা কার্যালয়গুলোতে এরই মধ্যে এ বিষয়ে কঠোর নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘পরিবেশ অধিদপ্তরের স্পষ্ট সিদ্ধান্ত রয়েছে যে, সব ধরনের অবৈধ ইটভাটা, বিশেষ করে কাঠ পোড়ানো (উড বার্ন), ড্রাম চিমনি ও ফিক্সড চিমনি ব্যবহারকারী ইটভাটাগুলোকে এবার কোনোভাবেই চলতে দেওয়া হবে না। সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে এবং খুব অল্প সময়ের মধ্যেই দেশজুড়ে জোরদার অভিযান শুরু হবে।

আস্থা/এমএইচ