ঢাকা ০৫:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম:
Logo গুইমারায় শহীদ জিয়া স্মৃতি সংসদের উদ্যোগে উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত Logo খাগড়াছড়িতে অতিঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলিতে সুষ্ঠু ভোট গ্রহণের দাবিতে ৪ প্রার্থীর সংবাদ সম্মেলন Logo মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে নিয়ে মিথ্যাচার কোনোভাবেই কাম্য নয়-মাহদী Logo ১৬ মাসে ৫৬০ হয়রানি, ১১৪৪ সাংবাদিক আক্রান্ত Logo ভোলায় প্রচারকে কেন্দ্র করে বিএনপি-জামায়াতের সংঘর্ষ Logo উখিয়ায় বিএনপি ছেড়ে ৫শ নেতাকর্মী জামায়াতে যোগদান Logo প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে তারেক রহমান: দ্য ইকোনমিস্ট Logo খাগড়াছড়ি প্রার্থীদের সাথে খাগড়াছড়িতে সেনা বাহীনির মতবিনিময় Logo খাগড়াছড়ি সংসদীয় আসনে ৬ প্রার্থীর বৈঠকের গুঞ্জন Logo খাগড়াছড়িতে ২০৪টি কেন্দ্রের মধ্যে ১৮৫টিকেই ঝুঁকিপূর্ণ

টিকটক বাবুর, ৫ শতাধিক বাংলাদেশি নারী পাচার

Iftekhar Ahamed
  • আপডেট সময় : ০২:০৭:২৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ জুন ২০২১
  • / ১০৬৮ বার পড়া হয়েছে

একের পর এক তথ্যে চমকে যাচ্ছে ঢাকা মহানগর পুলিশ। বাংলাদেশ থেকে শয়ে শয়ে নারী ভারতে পাচার করার সময় কলকাতার একটি বাড়িকে সেফ হাউস বানিয়েছিল টিকটক বাবু ও তার সাগরেদরা। ঢাকা (Dhaka) থেকে কলকাতা (Kolkata) হয়ে বেঙ্গালুরু (Bengaluru) হয়ে আরব দুনিয়া পর্যন্ত তাদের জাল ছড়িয়ে।

আন্তর্জাতিক এই নারী পাচারকারী গোষ্ঠীর পাণ্ডা টিকটক বাবু এখন ভারতের বেঙ্গালুরু পুলিশের জালে বন্দি। পালাতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হয় সে ও সাগর নামে এক পাচারকারী। বেঙ্গালুরুতে টিকটক বাবুকে জেরা করে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঢাকায় ধরা পড়েছে এই চক্রের আরও কয়েকজন। এমনই জানাচ্ছে, র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)।

র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন জানান, টিকটক বাবুর পাচার চক্রের অন্যতম আশরাফুল ওরফে বস রাফিঢাকায় ধরা পড়েছে। তার বাড়ি ঝিনাইদহে।

টিকটক বাবু এক বাংলাদেশি কিশোরীকে ভারতে নিয়ে গিয়ে পতিতাপল্লীতে বিক্রি ও যৌন নির্যাতনের ভিডিও সূত্র ধরে ধরে পড়ে। বেঙ্গালুরু ও ঢাকা মহানগর পুলিশের মধ্যে এই মামলায় তথ্য বিনিময় হচ্ছে। সেই সূত্র ধরে জানা গিয়েছে, গত ৮ বছরে ৫০০ জনের বেশি বাংলাদেশি নারীকে ভারতে পাচার করা হয়েছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশ জানাচ্ছে, এই নারী পাচারকারী (women trafficking) চক্রের অন্যতম হোতা আশরাফুল মণ্ডল ওরফে ‘বস রাফি’ সহ চার সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। বছর তিরিশের ‘বস রাফি’র সঙ্গে এই নারী ও মানবপাচারকারী চক্রের সঙ্গে প্রায় ৫০ জন জড়িত।

ঢাকার মগবাজারের বাসিন্দা রিফাতুল ইসলাম হৃদয় ওরফে টিকটক বাবু দীর্ঘ সময় ধরে আন্তর্জাতিক নারী পাচারকারী চক্রের পাণ্ডা। বাংলাদেশ থেকে ভারত, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, ওমান সহ বিভিন্ন দেশে কিশোরী, তরুনী পাচার করত। সম্প্রতি টিকটক বাবুর কয়েকজন সাগরেদ ও দুই মহিলা কে গ্রেফতার করে বেঙ্গালুরু পুলিশ। তাদের নিয়ে তদন্ত অভিযান চলার ফাঁকে পালাতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হয় টিকটক বাবু ও আরেক সাগরেদ সাগর। যে ভিডিওতে টিকটক বাবুকে নারী নির্যাতন করতে দেখা গিয়েছে সেটি দেখে তদন্ত শুরু হয়। পরে জানা যায় নির্যাতিতা কিশোরগঞ্জের বাসিন্দা। তাকে ফুঁসলিয়ে ভারতে নিয়ে গিয়েছে টিকটক বাবু। এই পাচারকারীরা ভারতের কেরল ও কর্নাটকের মধ্যে বিভিন্ন হোটেলে নারী পাচার করে। তদন্তে নেমে ঢাকা মহানগর পুলিশ বিভিন্ন তথ্য দেয় বেঙ্গালুরু পুলিশকে।

ঢাকায় , টিকটক বাবুর সাগরেদ আশরাফুল মণ্ডল ওরফে বস রাফি। আট বছর আগে থেকে ভারতে নিয়মিত যাতায়াত ছিল তার। প্রথমে বেঙ্গালুরুতে ট্যাক্সি চালাত। পরে হোটেলে রিসোর্ট কর্মচারী এবং কাপড়ের ব্যবসা করত। দু’বছর আগে টিকটক বাবুর সঙ্গে রাফির পরিচয় হয়। এরপর প্রায় ৫০০ তরুণীকে ভারতে পাচার করে তারা।

তদন্তে উঠে এসেছে, উচ্চ বেতনে চাকরির লোভ দেখিয়ে ভারতে নারী পাচার করত টিকটক বাবু ও বস রাফি। সোশ্যাল সাইটে গ্রুপ খুলে বিভিন্ন বয়সের তরুণীদের সঙ্গে যোগাযোগ করত তারা।

তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, বাংলাদেশি তরুণীদের ভারতে পাচারের পর প্রথমে সীমান্তের যশোরে একটি গোপন ডেরায় তোলা হতো। সেখান থেকে কলকাতায় পাঠিয়ে একটি সেফ হাউসে রাখা হতো।

র‌্যাব কর্মকর্তা কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, সুযোগ বুঝে কলকাতা থেকে বেঙ্গালুরু পাঠানো হতো। বেঙ্গালুরু পৌঁছানোর পর রাফি তাদের গ্রহণ করে বিভিন্ন সেফ হাউজে নিয়ে রাখত। সেখানেই মাদকাসক্তে অভ্যস্তকরণ এবং নির্যাতনের মাধ্যমে যৌন পেশায় বাধ্য করানো হতো নারীদের।

[irp]

ট্যাগস :

টিকটক বাবুর, ৫ শতাধিক বাংলাদেশি নারী পাচার

আপডেট সময় : ০২:০৭:২৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ জুন ২০২১

একের পর এক তথ্যে চমকে যাচ্ছে ঢাকা মহানগর পুলিশ। বাংলাদেশ থেকে শয়ে শয়ে নারী ভারতে পাচার করার সময় কলকাতার একটি বাড়িকে সেফ হাউস বানিয়েছিল টিকটক বাবু ও তার সাগরেদরা। ঢাকা (Dhaka) থেকে কলকাতা (Kolkata) হয়ে বেঙ্গালুরু (Bengaluru) হয়ে আরব দুনিয়া পর্যন্ত তাদের জাল ছড়িয়ে।

আন্তর্জাতিক এই নারী পাচারকারী গোষ্ঠীর পাণ্ডা টিকটক বাবু এখন ভারতের বেঙ্গালুরু পুলিশের জালে বন্দি। পালাতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হয় সে ও সাগর নামে এক পাচারকারী। বেঙ্গালুরুতে টিকটক বাবুকে জেরা করে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঢাকায় ধরা পড়েছে এই চক্রের আরও কয়েকজন। এমনই জানাচ্ছে, র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)।

র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন জানান, টিকটক বাবুর পাচার চক্রের অন্যতম আশরাফুল ওরফে বস রাফিঢাকায় ধরা পড়েছে। তার বাড়ি ঝিনাইদহে।

টিকটক বাবু এক বাংলাদেশি কিশোরীকে ভারতে নিয়ে গিয়ে পতিতাপল্লীতে বিক্রি ও যৌন নির্যাতনের ভিডিও সূত্র ধরে ধরে পড়ে। বেঙ্গালুরু ও ঢাকা মহানগর পুলিশের মধ্যে এই মামলায় তথ্য বিনিময় হচ্ছে। সেই সূত্র ধরে জানা গিয়েছে, গত ৮ বছরে ৫০০ জনের বেশি বাংলাদেশি নারীকে ভারতে পাচার করা হয়েছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশ জানাচ্ছে, এই নারী পাচারকারী (women trafficking) চক্রের অন্যতম হোতা আশরাফুল মণ্ডল ওরফে ‘বস রাফি’ সহ চার সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। বছর তিরিশের ‘বস রাফি’র সঙ্গে এই নারী ও মানবপাচারকারী চক্রের সঙ্গে প্রায় ৫০ জন জড়িত।

ঢাকার মগবাজারের বাসিন্দা রিফাতুল ইসলাম হৃদয় ওরফে টিকটক বাবু দীর্ঘ সময় ধরে আন্তর্জাতিক নারী পাচারকারী চক্রের পাণ্ডা। বাংলাদেশ থেকে ভারত, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, ওমান সহ বিভিন্ন দেশে কিশোরী, তরুনী পাচার করত। সম্প্রতি টিকটক বাবুর কয়েকজন সাগরেদ ও দুই মহিলা কে গ্রেফতার করে বেঙ্গালুরু পুলিশ। তাদের নিয়ে তদন্ত অভিযান চলার ফাঁকে পালাতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হয় টিকটক বাবু ও আরেক সাগরেদ সাগর। যে ভিডিওতে টিকটক বাবুকে নারী নির্যাতন করতে দেখা গিয়েছে সেটি দেখে তদন্ত শুরু হয়। পরে জানা যায় নির্যাতিতা কিশোরগঞ্জের বাসিন্দা। তাকে ফুঁসলিয়ে ভারতে নিয়ে গিয়েছে টিকটক বাবু। এই পাচারকারীরা ভারতের কেরল ও কর্নাটকের মধ্যে বিভিন্ন হোটেলে নারী পাচার করে। তদন্তে নেমে ঢাকা মহানগর পুলিশ বিভিন্ন তথ্য দেয় বেঙ্গালুরু পুলিশকে।

ঢাকায় , টিকটক বাবুর সাগরেদ আশরাফুল মণ্ডল ওরফে বস রাফি। আট বছর আগে থেকে ভারতে নিয়মিত যাতায়াত ছিল তার। প্রথমে বেঙ্গালুরুতে ট্যাক্সি চালাত। পরে হোটেলে রিসোর্ট কর্মচারী এবং কাপড়ের ব্যবসা করত। দু’বছর আগে টিকটক বাবুর সঙ্গে রাফির পরিচয় হয়। এরপর প্রায় ৫০০ তরুণীকে ভারতে পাচার করে তারা।

তদন্তে উঠে এসেছে, উচ্চ বেতনে চাকরির লোভ দেখিয়ে ভারতে নারী পাচার করত টিকটক বাবু ও বস রাফি। সোশ্যাল সাইটে গ্রুপ খুলে বিভিন্ন বয়সের তরুণীদের সঙ্গে যোগাযোগ করত তারা।

তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, বাংলাদেশি তরুণীদের ভারতে পাচারের পর প্রথমে সীমান্তের যশোরে একটি গোপন ডেরায় তোলা হতো। সেখান থেকে কলকাতায় পাঠিয়ে একটি সেফ হাউসে রাখা হতো।

র‌্যাব কর্মকর্তা কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, সুযোগ বুঝে কলকাতা থেকে বেঙ্গালুরু পাঠানো হতো। বেঙ্গালুরু পৌঁছানোর পর রাফি তাদের গ্রহণ করে বিভিন্ন সেফ হাউজে নিয়ে রাখত। সেখানেই মাদকাসক্তে অভ্যস্তকরণ এবং নির্যাতনের মাধ্যমে যৌন পেশায় বাধ্য করানো হতো নারীদের।

[irp]