ঢাকা ০১:৪০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম:
Logo পানছড়িতে অষ্টপ্রহার ব্যাপী মহানামযজ্ঞ ও সরস্বতী পূজা পরিদর্শনে বিএনপি Logo পানছড়িতে বিভিন্ন দলের শতাধিক নেতাকর্মী বিএনপিতে যোগদান Logo আপনারা থাকার কষ্ট করছেন, আমরা এখানে উঁচু উঁচু বিল্ডিং করে দিতে চাই Logo পানছড়িতে খালেদা জিয়ার স্বরণে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্টিত Logo ছয় মাসে ব্যাংক থেকে ৬০ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিলো সরকার Logo প্রাণ ফিরছে লোগাং ইউপি শহীদ জিয়া স্মৃতি সংসদে Logo পানছড়িতে ভারতীয় অবৈধ পন্য আটক Logo পানছড়িতে সড়ক নির্মাণে নিম্নমানের খোয়া-রাবিশ ব্যবহার Logo মুসাব্বির হত্যার প্রতিবাদে খাগড়াছড়িতে স্বেচ্ছাসেবক দলের বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ Logo অষ্টগ্রামে জলমহাল দখলকে কেন্দ্র করে অতর্কিত হামলা, ছাত্রদল সভাপতিসহ আহত ৬

দুই শিক্ষক দিয়ে চলছে ১২০ শিক্ষার্থীর প্রাথমিক বিদ্যালয়

Md Elias
  • আপডেট সময় : ০৭:০৬:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ মার্চ ২০২২
  • / ১০৫৮ বার পড়া হয়েছে
দুই শিক্ষক দিয়ে চলছে ১২০ শিক্ষার্থীর প্রাথমিক বিদ্যালয়
মোঃ মহাসিন মিয়া/দীঘিনালা প্রতিনিধিঃ
খাগড়াছড়ি  জেলার দীঘিনালায় দক্ষিণ রেংকার্য্যা শহীদ জব্বার নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন যাবৎ শিক্ষক সংকটের কারণে প্রাথমিক শিক্ষায় ব্যহত হচ্ছে বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত ১শ ২০ জন শিক্ষার্থীর।
জানা যায়, উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার মেরুং ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডেন অধীনস্থ দীঘিনালার সীমান্তবর্তী এলাকায় ১৯৮৯ সালে স্থাপিত হওয়ার পর ২০১৩ সালে জাতীয় করন করা হয় বিদ্যালয়টি। শুরু থেকে ৫জন শিক্ষকের কোটা থাকলেও বিদ্যালয়টিতে ৪জন শিক্ষক নিয়েই শিক্ষা কার্যক্রম চলতে থাকে।
বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে নির্ধারিত সংখ্যক শিক্ষক না থাকায় শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনায় হিমসিম খেতে হচ্ছে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এ.এম.এস.রেজাউল করিম ও সহকারী শিক্ষক আব্দুল হক ২ জনে বিদ্যালয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের পাঠদান করাচ্ছেন।
প্রধান শিক্ষক জানান, শুরু থেকে আমরা ৪জন শিক্ষক ছিলাম, দীর্ঘদিন আগে একজন (অবঃজনিত)কারনে চলে গেছেন, আরেক জন দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ সে যোগদানের সম্ভাবনা নেই। বর্তমানে আমি ও সহকারী শিক্ষক আব্দুল হক আমরা দু’জনেই শুরু থেকে এখন পর্যন্ত এ প্রতিষ্ঠানে আছি। দীর্ঘদিন যাবৎ নির্ধারিত সংখ্যক শিক্ষক না থাকায় ব্যহতের বিষয়টি একাধিকবার উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবর অবগত করা হয়েছে। ৫ জন শিক্ষকের জায়গায় বিদ্যালয়ের ১শ ২০ জন ছাত্র-ছাত্রীদের বর্তমান ২জন শিক্ষক দ্বারা পাঠদান করানো খুবই কষ্টকর৷ তাছাড়া আমার অফিসিয়াল কাজ থাকে তখন সহকারী শিক্ষক আব্দুল হকের একার পক্ষে অসম্ভব হয়ে পরে।
প্রধান শিক্ষক এ.এম.এস.রেজাউল করিম আরও জানান, পাশাপাশি আমাদের আরেকটি সমস্যা হলো, বিদ্যালয়ের সামনে বিদ্যালয়ের জায়গায় লংগদু জোনের আওতাধীন একটি আনসার ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। যার জন্য আমাদের বিদ্যালয়ের মাঠ এবং বিদ্যালয়ের নতুন ভবনের ব্যাপারে জায়গায় ব্যহত হচ্ছে। ক্যাম্প থেকে অল্প কিছু জায়গা ছেড়ে দিলে আমাদরর হয়ে যেত। আমরা লংগদু জোন অধিনায়ক বরাবর দরখাস্ত করেছি, সাবেক অধিনায়ক মহোদয় আমাদের আশ্বাসও দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে তাদের ইউনিট চলে যাবার পর আর কাজটি করা হয়নি।
বিদ্যালয় পাশ্ববর্তী সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে কম শিক্ষক দিয়ে পড়ানো হচ্ছে, এতে শিক্ষার্থীরা পরিপূর্ণ শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। বর্তমানে ২ জন শিক্ষক দিয়ে পাঠদান করানো খুবই কষ্ট। তাছাড়া প্রধান শিক্ষক রেজাউল করিম ও সহকারী শিক্ষক আব্দুল হক পাশ্ববর্তী এলাকার হওয়ায় তারা নিয়মিত বিদ্যালয়ের কার্যক্রম স্বাভাবিক রেখেছেন।
এবিষয়ে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে কম শিক্ষক থাকায় ছাত্র-ছাত্রীদের লেখাপড়ায় বিগ্ন ঘটছে। এবিষয়ে উপজেলা শিক্ষা অফিসার বরাবর অবগত করা হয়েছে।
এবিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ফাতেমা মেহের ইয়াসমিন জানান, বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকটের বিষয়ে অবগত হয়েছি। খুব সিগ্রই আমরা শিক্ষক প্রেরণের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবো।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার(ভারপ্রাপ্ত) সুস্মিতা ত্রিপুরা বলেন, এ বিষয়ে উর্ধতন কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলা হয়েছে। সিগ্রই শিক্ষক প্রেরণ করা হবে।

[irp]

ট্যাগস :

দুই শিক্ষক দিয়ে চলছে ১২০ শিক্ষার্থীর প্রাথমিক বিদ্যালয়

আপডেট সময় : ০৭:০৬:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ মার্চ ২০২২
দুই শিক্ষক দিয়ে চলছে ১২০ শিক্ষার্থীর প্রাথমিক বিদ্যালয়
মোঃ মহাসিন মিয়া/দীঘিনালা প্রতিনিধিঃ
খাগড়াছড়ি  জেলার দীঘিনালায় দক্ষিণ রেংকার্য্যা শহীদ জব্বার নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন যাবৎ শিক্ষক সংকটের কারণে প্রাথমিক শিক্ষায় ব্যহত হচ্ছে বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত ১শ ২০ জন শিক্ষার্থীর।
জানা যায়, উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার মেরুং ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডেন অধীনস্থ দীঘিনালার সীমান্তবর্তী এলাকায় ১৯৮৯ সালে স্থাপিত হওয়ার পর ২০১৩ সালে জাতীয় করন করা হয় বিদ্যালয়টি। শুরু থেকে ৫জন শিক্ষকের কোটা থাকলেও বিদ্যালয়টিতে ৪জন শিক্ষক নিয়েই শিক্ষা কার্যক্রম চলতে থাকে।
বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে নির্ধারিত সংখ্যক শিক্ষক না থাকায় শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনায় হিমসিম খেতে হচ্ছে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এ.এম.এস.রেজাউল করিম ও সহকারী শিক্ষক আব্দুল হক ২ জনে বিদ্যালয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের পাঠদান করাচ্ছেন।
প্রধান শিক্ষক জানান, শুরু থেকে আমরা ৪জন শিক্ষক ছিলাম, দীর্ঘদিন আগে একজন (অবঃজনিত)কারনে চলে গেছেন, আরেক জন দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ সে যোগদানের সম্ভাবনা নেই। বর্তমানে আমি ও সহকারী শিক্ষক আব্দুল হক আমরা দু’জনেই শুরু থেকে এখন পর্যন্ত এ প্রতিষ্ঠানে আছি। দীর্ঘদিন যাবৎ নির্ধারিত সংখ্যক শিক্ষক না থাকায় ব্যহতের বিষয়টি একাধিকবার উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবর অবগত করা হয়েছে। ৫ জন শিক্ষকের জায়গায় বিদ্যালয়ের ১শ ২০ জন ছাত্র-ছাত্রীদের বর্তমান ২জন শিক্ষক দ্বারা পাঠদান করানো খুবই কষ্টকর৷ তাছাড়া আমার অফিসিয়াল কাজ থাকে তখন সহকারী শিক্ষক আব্দুল হকের একার পক্ষে অসম্ভব হয়ে পরে।
প্রধান শিক্ষক এ.এম.এস.রেজাউল করিম আরও জানান, পাশাপাশি আমাদের আরেকটি সমস্যা হলো, বিদ্যালয়ের সামনে বিদ্যালয়ের জায়গায় লংগদু জোনের আওতাধীন একটি আনসার ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। যার জন্য আমাদের বিদ্যালয়ের মাঠ এবং বিদ্যালয়ের নতুন ভবনের ব্যাপারে জায়গায় ব্যহত হচ্ছে। ক্যাম্প থেকে অল্প কিছু জায়গা ছেড়ে দিলে আমাদরর হয়ে যেত। আমরা লংগদু জোন অধিনায়ক বরাবর দরখাস্ত করেছি, সাবেক অধিনায়ক মহোদয় আমাদের আশ্বাসও দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে তাদের ইউনিট চলে যাবার পর আর কাজটি করা হয়নি।
বিদ্যালয় পাশ্ববর্তী সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে কম শিক্ষক দিয়ে পড়ানো হচ্ছে, এতে শিক্ষার্থীরা পরিপূর্ণ শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। বর্তমানে ২ জন শিক্ষক দিয়ে পাঠদান করানো খুবই কষ্ট। তাছাড়া প্রধান শিক্ষক রেজাউল করিম ও সহকারী শিক্ষক আব্দুল হক পাশ্ববর্তী এলাকার হওয়ায় তারা নিয়মিত বিদ্যালয়ের কার্যক্রম স্বাভাবিক রেখেছেন।
এবিষয়ে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে কম শিক্ষক থাকায় ছাত্র-ছাত্রীদের লেখাপড়ায় বিগ্ন ঘটছে। এবিষয়ে উপজেলা শিক্ষা অফিসার বরাবর অবগত করা হয়েছে।
এবিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ফাতেমা মেহের ইয়াসমিন জানান, বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকটের বিষয়ে অবগত হয়েছি। খুব সিগ্রই আমরা শিক্ষক প্রেরণের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবো।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার(ভারপ্রাপ্ত) সুস্মিতা ত্রিপুরা বলেন, এ বিষয়ে উর্ধতন কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলা হয়েছে। সিগ্রই শিক্ষক প্রেরণ করা হবে।

[irp]