ঢাকা ০৫:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬, ১৬ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

দুর্ঘটনায় পঙ্গুত্ববরণ করা কাঠমিস্ত্রি জামাল অর্থের অভাবে চিকিৎসা করাতে পারছেন না

Doinik Astha
Doinik Astha
  • আপডেট সময় : ১২:২৩:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৩
  • / ১০৪৯ বার পড়া হয়েছে

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার দরিদ্র কাঠমিস্ত্রী জামাল মিয়া (৪০) দুর্ঘটনায় আহত হয়ে অর্থের অভাবে চিকিৎসা করাতে পারছেন না। আহত জামাল সিদলা ইউনিয়নের মেছেড়া গ্রামের মৃত আছর আলীর ছেলে।

তিনি চার সন্তানের জনক, স্ত্রীসহ ছয় জনের সংসারের একমাত্র উর্পাজনক্ষম ব্যক্তি জামাল মিয়া। ভিটে বাড়িই তার একমাত্র সম্বল। একরুমে একটি দু’চালা টিনের ঘরে গাদাগাদি করে সংসার পেতেছেন তিনি। পেশায় কাঠমিস্ত্রী জামাল শ্রম দিয়ে গতর খেটে মোটামুটি চলাচ্ছিল সংসার। কোনদিনই ভাবেননি, কারো কাছে হাত পাততে হবে। কিন্তু, ভাগ্যের লিখন না যায় খন্ডন গত ৮ জানুয়ারি বিকালে কাঠ কাটতে গিয়ে গাছ থেকে পড়ে গিয়ে দু’হাত ভেঙ্গে গেছে তার।

সেই সাথে মেরুদন্ড ও কোমড়ে ছোট লেগে ফেটে গিয়ে পঙ্গুত্ববরণ করে অচেতন হয়ে পড়লে স্বজনরা নিয়ে যায় ময়মনসিংহে চিকিৎসার জন্য। সেখানে দালালের খপ্পড়ে পড়ে চিকিৎসা হয় বেসরকারি এক প্রাইভেট হাসপাতালে। এভাবেই নিজের জমানো ও আত্মীয় স্বজনের কাছে থেকে ধার করা ৫০ হাজার টাকা পরীক্ষা-নিরিক্ষা ও ওষুধ কেনা বাবদ শেষ হয়ে সে এখন নিঃস্ব। ওষুধ ও নিজের সংসারের খাবার যোগাড় করতে কোন উপায় দেখছে না অসহায় এ পরিবারটি।

আহত জামাল মিয়া এখন পঙ্গুত্ববরণ করে হুইল চেয়ারেই একমাত্র সম্বল। দুর্ঘটনার শিকার অসহায় পরিবারটির সন্ধান পেয়ে তাদের বাড়িতে হাজির হলে এ প্রতিবেদককে পেয়ে মনের সব দুঃখের কথা ব্যক্ত করে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন জামাল মিয়া। তাঁর স্ত্রী নুসরাত জাহান (৩০) কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন, অভাবের তাড়নায় স্বামীর চিকিৎসা করানো দূরে থাক সংসারই এখন চলছে না।

জামালের বড় ছেলে এহসান হাবিব জিসান (১০) ও দ্বিতীয় ছেলে এনামুল হক রিসান (৭) কটিয়াদি উপজেলার বেতাল এলাকায় নানার বাড়িতে থেকে চতুর্থ ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ে। তৃতীয় ও চতুর্থ সন্তান দু’টি মেয়ে এর একজন জেরিন (৫) ও আরেকজন সানিয়া (২)। এ অবস্থায় চিকিৎসার জন্য মানবিক সহায়তা কামনা করেছে পরিবারটি। জনপ্রতিনিধি, উচ্চবিত্ত, মধ্যবিত্ত, সকল সহৃদয়বান ব্যক্তিদের কাছ থেকে আর্থিক সহায়তা করতে জামাল মিয়া অনুরোধ জানিয়েছেন। তার নিজস্ব ০১৪০২৯৪০০৫২ এই বিকাশ নম্বরে অর্থ সহায়তা পাঠাতে পারেন।

রায়হান জামান,স্টাফ রিপোর্টার/আস্থা

ট্যাগস :

দুর্ঘটনায় পঙ্গুত্ববরণ করা কাঠমিস্ত্রি জামাল অর্থের অভাবে চিকিৎসা করাতে পারছেন না

আপডেট সময় : ১২:২৩:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৩

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার দরিদ্র কাঠমিস্ত্রী জামাল মিয়া (৪০) দুর্ঘটনায় আহত হয়ে অর্থের অভাবে চিকিৎসা করাতে পারছেন না। আহত জামাল সিদলা ইউনিয়নের মেছেড়া গ্রামের মৃত আছর আলীর ছেলে।

তিনি চার সন্তানের জনক, স্ত্রীসহ ছয় জনের সংসারের একমাত্র উর্পাজনক্ষম ব্যক্তি জামাল মিয়া। ভিটে বাড়িই তার একমাত্র সম্বল। একরুমে একটি দু’চালা টিনের ঘরে গাদাগাদি করে সংসার পেতেছেন তিনি। পেশায় কাঠমিস্ত্রী জামাল শ্রম দিয়ে গতর খেটে মোটামুটি চলাচ্ছিল সংসার। কোনদিনই ভাবেননি, কারো কাছে হাত পাততে হবে। কিন্তু, ভাগ্যের লিখন না যায় খন্ডন গত ৮ জানুয়ারি বিকালে কাঠ কাটতে গিয়ে গাছ থেকে পড়ে গিয়ে দু’হাত ভেঙ্গে গেছে তার।

সেই সাথে মেরুদন্ড ও কোমড়ে ছোট লেগে ফেটে গিয়ে পঙ্গুত্ববরণ করে অচেতন হয়ে পড়লে স্বজনরা নিয়ে যায় ময়মনসিংহে চিকিৎসার জন্য। সেখানে দালালের খপ্পড়ে পড়ে চিকিৎসা হয় বেসরকারি এক প্রাইভেট হাসপাতালে। এভাবেই নিজের জমানো ও আত্মীয় স্বজনের কাছে থেকে ধার করা ৫০ হাজার টাকা পরীক্ষা-নিরিক্ষা ও ওষুধ কেনা বাবদ শেষ হয়ে সে এখন নিঃস্ব। ওষুধ ও নিজের সংসারের খাবার যোগাড় করতে কোন উপায় দেখছে না অসহায় এ পরিবারটি।

আহত জামাল মিয়া এখন পঙ্গুত্ববরণ করে হুইল চেয়ারেই একমাত্র সম্বল। দুর্ঘটনার শিকার অসহায় পরিবারটির সন্ধান পেয়ে তাদের বাড়িতে হাজির হলে এ প্রতিবেদককে পেয়ে মনের সব দুঃখের কথা ব্যক্ত করে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন জামাল মিয়া। তাঁর স্ত্রী নুসরাত জাহান (৩০) কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন, অভাবের তাড়নায় স্বামীর চিকিৎসা করানো দূরে থাক সংসারই এখন চলছে না।

জামালের বড় ছেলে এহসান হাবিব জিসান (১০) ও দ্বিতীয় ছেলে এনামুল হক রিসান (৭) কটিয়াদি উপজেলার বেতাল এলাকায় নানার বাড়িতে থেকে চতুর্থ ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ে। তৃতীয় ও চতুর্থ সন্তান দু’টি মেয়ে এর একজন জেরিন (৫) ও আরেকজন সানিয়া (২)। এ অবস্থায় চিকিৎসার জন্য মানবিক সহায়তা কামনা করেছে পরিবারটি। জনপ্রতিনিধি, উচ্চবিত্ত, মধ্যবিত্ত, সকল সহৃদয়বান ব্যক্তিদের কাছ থেকে আর্থিক সহায়তা করতে জামাল মিয়া অনুরোধ জানিয়েছেন। তার নিজস্ব ০১৪০২৯৪০০৫২ এই বিকাশ নম্বরে অর্থ সহায়তা পাঠাতে পারেন।

রায়হান জামান,স্টাফ রিপোর্টার/আস্থা