ঢাকা ০৮:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬, ২৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নওগাঁয় প্রভাবশালীদের দাপটে জমি হারাচ্ছেন গরিব কৃষক

Iftekhar Ahamed
  • আপডেট সময় : ০৮:৩০:৫৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৪
  • / ১০৬৯ বার পড়া হয়েছে

মো: এ কে নোমান, নওগাঁ:নওগাঁ সদর উপজেলার কীর্তিপুর ইউনিয়নের কুজাপাড়া গ্রামের দরিদ্র কৃষক কেরামত আলী নিজের ক্রয়কৃত জমি প্রভাবশালীদের দখলদারিত্বের কারণে হারাচ্ছেন। ২০২০ সালে পাশের গ্রামের আইয়ুব আলীর কাছ থেকে ১০ কাঠা জমি কিনলেও, সেই জমির দখল তিনি এখনও নিতে পারেননি। বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও জমি থেকে তাকে উচ্ছেদ করা হয়েছে এবং প্রভাবশালী প্রতিবেশীদের দ্বারা মামলা ও হামলার শিকার হচ্ছেন তিনি।

অভিযোগ রয়েছে, নওগাঁ কোর্টের পেশকার হাফিজুল ইসলামসহ বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী কেরামতের এই জমি জোর করে দখল করে রেখেছেন। জমি নিয়ে একাধিকবার গ্রাম্য শালিস হলেও কেরামতের পক্ষে রায় আসলেও বাস্তবে তার জমির দখল তিনি পাননি।

স্থানীয় সূত্র ও অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০২০ সালে কেরামত আলী (৬৫) কুজাপাড়া মৌজার ৩১৬, ৩৬১, এবং ৩৬৫ নম্বর দাগের ১০ কাঠা জমি ক্রয় করেন। এরপর থেকেই তার ওপর হামলা-মামলার খড়গ নেমে আসে। নওগাঁ কোর্টের পেশকার হাফিজুল ইসলাম এবং তার সহচর মেহেদী হাসান সুমনসহ অন্যান্যরা জমি দখল করে রেখে কেরামত আলীকে বিতাড়িত করেন। ২০২৩ সালে প্রভাবশালী গোষ্ঠী লাঠি-সোঁটা নিয়ে কেরামত আলীকে আক্রমণ করে জমি থেকে বের করে দেয়।

এই ঘটনায় কেরামত আলী গ্রাম্য মাতব্বরদের কাছে অভিযোগ করেন। একাধিক শালিস বৈঠকেও জমির বৈধ মালিক হিসেবে কেরামত আলীর স্বত্ব স্বীকৃত হয়। কিন্তু প্রভাবশালী পক্ষের অর্থ ও পেশিশক্তির কারণে শালিসের রায় কার্যকর হয়নি। বরং, উকিলের সহকারী মেহেদী হাসান তার বিরুদ্ধে দুইটি মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন, যার নম্বর যথাক্রমে ১১০সি/২০২৪ এবং ১৩৮/২০২৪।

উপায়ান্তর না দেখে কেরামত আলী কীর্তিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল হান্নানের শরণাপন্ন হন। চেয়ারম্যান ইউনিয়ন পরিষদে শালিস ডেকে পুনরায় কেরামতের পক্ষে রায় প্রদান করেন, কিন্তু সেটাও প্রভাবশালীরা অমান্য করে। এমনকি থানায় অভিযোগ করেও কেরামত আলী কোনো প্রতিকার পাননি।

এ বিষয়ে স্থানীয় মাতব্বর স্বপন আলী বলেন, “কেরামত আলীর জমি নিয়ে আমরা একাধিকবার শালিস করেছি। জমির বৈধ মালিক কেরামত হলেও, প্রভাবশালী ব্যক্তিরা তাকে মারধর করে জমি থেকে উচ্ছেদ করেছে। আমরা চেষ্টা করেও কোনো সমাধান আনতে পারিনি।”

কীর্তিপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ডাবলু বলেন, “কেরামত আলীর জমি নিয়ে শালিস হয়েছে এবং তাকে বৈধ মালিক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। কিন্তু তার জমির দখল নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না, কারণ প্রভাবশালীদের পেশিশক্তির বিরুদ্ধে আমরা দাঁড়াতে পারছি না।

এ বিষয়ে নওগাঁ সদর থানার সাব ইন্সপেক্টর রবিন্দ্রনাথ সরকারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, কেরামত আলীর অভিযোগ সম্পর্কে আমরা অবগত এবং বৈধ কাগজপত্র অনুযায়ী তার জমি বুঝিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছি। কিন্তু অপর পক্ষের অসহযোগিতার কারণে সেটি সম্ভব হয়নি।

ফলস্বরূপ, কেরামত আলী তার ক্রয়কৃত জমি ফিরে পেতে প্রভাবশালী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে এখনো সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন।

ট্যাগস :

নওগাঁয় প্রভাবশালীদের দাপটে জমি হারাচ্ছেন গরিব কৃষক

আপডেট সময় : ০৮:৩০:৫৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৪

মো: এ কে নোমান, নওগাঁ:নওগাঁ সদর উপজেলার কীর্তিপুর ইউনিয়নের কুজাপাড়া গ্রামের দরিদ্র কৃষক কেরামত আলী নিজের ক্রয়কৃত জমি প্রভাবশালীদের দখলদারিত্বের কারণে হারাচ্ছেন। ২০২০ সালে পাশের গ্রামের আইয়ুব আলীর কাছ থেকে ১০ কাঠা জমি কিনলেও, সেই জমির দখল তিনি এখনও নিতে পারেননি। বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও জমি থেকে তাকে উচ্ছেদ করা হয়েছে এবং প্রভাবশালী প্রতিবেশীদের দ্বারা মামলা ও হামলার শিকার হচ্ছেন তিনি।

অভিযোগ রয়েছে, নওগাঁ কোর্টের পেশকার হাফিজুল ইসলামসহ বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী কেরামতের এই জমি জোর করে দখল করে রেখেছেন। জমি নিয়ে একাধিকবার গ্রাম্য শালিস হলেও কেরামতের পক্ষে রায় আসলেও বাস্তবে তার জমির দখল তিনি পাননি।

স্থানীয় সূত্র ও অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০২০ সালে কেরামত আলী (৬৫) কুজাপাড়া মৌজার ৩১৬, ৩৬১, এবং ৩৬৫ নম্বর দাগের ১০ কাঠা জমি ক্রয় করেন। এরপর থেকেই তার ওপর হামলা-মামলার খড়গ নেমে আসে। নওগাঁ কোর্টের পেশকার হাফিজুল ইসলাম এবং তার সহচর মেহেদী হাসান সুমনসহ অন্যান্যরা জমি দখল করে রেখে কেরামত আলীকে বিতাড়িত করেন। ২০২৩ সালে প্রভাবশালী গোষ্ঠী লাঠি-সোঁটা নিয়ে কেরামত আলীকে আক্রমণ করে জমি থেকে বের করে দেয়।

এই ঘটনায় কেরামত আলী গ্রাম্য মাতব্বরদের কাছে অভিযোগ করেন। একাধিক শালিস বৈঠকেও জমির বৈধ মালিক হিসেবে কেরামত আলীর স্বত্ব স্বীকৃত হয়। কিন্তু প্রভাবশালী পক্ষের অর্থ ও পেশিশক্তির কারণে শালিসের রায় কার্যকর হয়নি। বরং, উকিলের সহকারী মেহেদী হাসান তার বিরুদ্ধে দুইটি মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন, যার নম্বর যথাক্রমে ১১০সি/২০২৪ এবং ১৩৮/২০২৪।

উপায়ান্তর না দেখে কেরামত আলী কীর্তিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল হান্নানের শরণাপন্ন হন। চেয়ারম্যান ইউনিয়ন পরিষদে শালিস ডেকে পুনরায় কেরামতের পক্ষে রায় প্রদান করেন, কিন্তু সেটাও প্রভাবশালীরা অমান্য করে। এমনকি থানায় অভিযোগ করেও কেরামত আলী কোনো প্রতিকার পাননি।

এ বিষয়ে স্থানীয় মাতব্বর স্বপন আলী বলেন, “কেরামত আলীর জমি নিয়ে আমরা একাধিকবার শালিস করেছি। জমির বৈধ মালিক কেরামত হলেও, প্রভাবশালী ব্যক্তিরা তাকে মারধর করে জমি থেকে উচ্ছেদ করেছে। আমরা চেষ্টা করেও কোনো সমাধান আনতে পারিনি।”

কীর্তিপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ডাবলু বলেন, “কেরামত আলীর জমি নিয়ে শালিস হয়েছে এবং তাকে বৈধ মালিক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। কিন্তু তার জমির দখল নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না, কারণ প্রভাবশালীদের পেশিশক্তির বিরুদ্ধে আমরা দাঁড়াতে পারছি না।

এ বিষয়ে নওগাঁ সদর থানার সাব ইন্সপেক্টর রবিন্দ্রনাথ সরকারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, কেরামত আলীর অভিযোগ সম্পর্কে আমরা অবগত এবং বৈধ কাগজপত্র অনুযায়ী তার জমি বুঝিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছি। কিন্তু অপর পক্ষের অসহযোগিতার কারণে সেটি সম্ভব হয়নি।

ফলস্বরূপ, কেরামত আলী তার ক্রয়কৃত জমি ফিরে পেতে প্রভাবশালী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে এখনো সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন।