ঢাকা ০৪:২০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬, ১২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম:
Logo খাগড়াছড়িতে জামায়াতের নির্বাচনী গণমিছিল শেষে সমাবেশে Logo পানছড়িতে অষ্টপ্রহার ব্যাপী মহানামযজ্ঞ ও সরস্বতী পূজা পরিদর্শনে বিএনপি Logo পানছড়িতে বিভিন্ন দলের শতাধিক নেতাকর্মী বিএনপিতে যোগদান Logo আপনারা থাকার কষ্ট করছেন, আমরা এখানে উঁচু উঁচু বিল্ডিং করে দিতে চাই Logo পানছড়িতে খালেদা জিয়ার স্বরণে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্টিত Logo ছয় মাসে ব্যাংক থেকে ৬০ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিলো সরকার Logo প্রাণ ফিরছে লোগাং ইউপি শহীদ জিয়া স্মৃতি সংসদে Logo পানছড়িতে ভারতীয় অবৈধ পন্য আটক Logo পানছড়িতে সড়ক নির্মাণে নিম্নমানের খোয়া-রাবিশ ব্যবহার Logo মুসাব্বির হত্যার প্রতিবাদে খাগড়াছড়িতে স্বেচ্ছাসেবক দলের বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ

নাঈম হত্যা মামলায় মূল পরিকল্পনাকারী স্বামী-স্ত্রী আটক

Astha DESK
  • আপডেট সময় : ০৭:৩৬:২৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৩
  • / ১০৫২ বার পড়া হয়েছে

নাঈম হত্যা মামলায় মূল পরিকল্পনাকারী স্বামী-স্ত্রী আটক

 

মোঃ জয়নাল আবেদীন জয়/জয়পুরহাট প্রতিনিধিঃ

জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার ধরঞ্জীতে গ্রামে লাউ গাছের নিচে মাটি খুড়তে গিয়ে নাঈম নামে এক যুবকের হাড়গোড় উদ্ধারের ঘটনায় হত্যাকারী স্বামী-স্ত্রীকে বগুড়া সদর উপজেলার পীরগাছা এলাকা থেকে আটক করেছে র‍্যাব।

আজ বুধবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাতে র‍্যাব-৫ ও র‍্যাব-১২ যৌথ অভিযানে তাদের আটক করা হয়।

আটককৃরা হলো, বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার গোপিনাথপুর গ্রামের মোজাম্মেল আলীর ছেলে রেজ্জাকুল ও তার স্ত্রী সাবিনা খাতুন। তারা পাঁচবিবির ধরঞ্জী গ্রামে ভাড়া বাসায় থাকতেন।

জয়পুরহাট র‍্যাব ক্যাম্পের ভারপ্রাপ্ত কোম্পানি কমান্ডার রফিকুল ইসলাম বলেন, গত ২২ এপ্রিল ঈদের দিন সন্ধ্যায় পাঁচবিবি উপজেলার ধরঞ্জী গ্রামের মাসুদ রানার ছেলে নাঈম বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। এরপর তাকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি।

পরে ২৫ এপ্রিল থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন নাঈমের পরিবার। এরপর গত ৯ সেপ্টেম্বর ধরঞ্জী গ্রামের সামছুল ইসলামের বাড়িতে রাজমিস্ত্রীরা নতুন টয়লেট নির্মাণের জন্য মাটি খনন করতে গেলে দুর্গন্ধ বের হলে পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ এসে সেখানের মাটি খুঁড়ে একটি প্যান্ট ও মাথার খুলিসহ হাড় উদ্ধার করে। এ ঘটনায় নাঈমের মা ১০ সেপ্টেম্বর বাড়ির মালিকসহ তিনজনের নামে মামলা করেন।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, সাবিনার সঙ্গে নাঈমের পরকীয়া সম্পর্ক ছিল। সেই পরকীয়া সম্পর্কের জেরে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী নাঈমকে হত্যা করে লাশ মাটি চাপা দেয় তারা।

পাঁচবিবি থানার ওসি জাহিদুল হক বলেন, লাশের প্যান্ট, বেল্ট দেখে পরিচয় নিশ্চিত হয়ে নিহতের মা গোলাপী বানু বাদী হয়ে থানায় হত্যা মামলা করেছেন। মামলায় পরকীয়ার জেরে হত্যার হয়েছে বলে উল্লেখ রয়েছে। ঘটনার পর বাড়ির মালিক সামছুল ইসলামকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল। পরে তাকে আটক দেখানো হয়েছে। সামছুলের বাড়ির ভাড়াটিয়া এক দম্পতি রেজ্জাকুল ওরফে রাজ্জাক ও তার স্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন পলাতক ছিলেন। তাদেরকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ভাড়াটিয়া রাজ্জাকের স্ত্রী সাবিনার সঙ্গে পরকীয়ার কারণে নাঈম হোসেনকে হত্যার পর লাশ গুম করতে মাটি খুঁড়ে পুতে রাখা হয়। আসামীদের বুধবার আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং রিমান্ড চাওয়া হবে।

পারিবাড়িক সূত্রে জানা যায় চলতি বছরের ২২ এপ্রিল রাত ৮টার দিকে ধরঞ্জী বাজারে যাওয়ার কথা বলে বাইরে বের হয়ে বাড়ি ফেরেননি। অনেক খোঁজাখুঁজি করে তাকে না পেয়ে ওই মাসের ২৫ এপ্রিল পাঁচবিবি থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তার মামা ওহেদুল ইসলাম। জিডির পর নিখোঁজ নাঈমের সন্ধানে পুলিশ তৎপর থাকলেও তার সন্ধান পাওয়া যায়নি। অবশেষে সাড়ে চার মাস পর তার লাশ পাওয়া যায়।

ট্যাগস :

নাঈম হত্যা মামলায় মূল পরিকল্পনাকারী স্বামী-স্ত্রী আটক

আপডেট সময় : ০৭:৩৬:২৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৩

নাঈম হত্যা মামলায় মূল পরিকল্পনাকারী স্বামী-স্ত্রী আটক

 

মোঃ জয়নাল আবেদীন জয়/জয়পুরহাট প্রতিনিধিঃ

জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার ধরঞ্জীতে গ্রামে লাউ গাছের নিচে মাটি খুড়তে গিয়ে নাঈম নামে এক যুবকের হাড়গোড় উদ্ধারের ঘটনায় হত্যাকারী স্বামী-স্ত্রীকে বগুড়া সদর উপজেলার পীরগাছা এলাকা থেকে আটক করেছে র‍্যাব।

আজ বুধবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাতে র‍্যাব-৫ ও র‍্যাব-১২ যৌথ অভিযানে তাদের আটক করা হয়।

আটককৃরা হলো, বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার গোপিনাথপুর গ্রামের মোজাম্মেল আলীর ছেলে রেজ্জাকুল ও তার স্ত্রী সাবিনা খাতুন। তারা পাঁচবিবির ধরঞ্জী গ্রামে ভাড়া বাসায় থাকতেন।

জয়পুরহাট র‍্যাব ক্যাম্পের ভারপ্রাপ্ত কোম্পানি কমান্ডার রফিকুল ইসলাম বলেন, গত ২২ এপ্রিল ঈদের দিন সন্ধ্যায় পাঁচবিবি উপজেলার ধরঞ্জী গ্রামের মাসুদ রানার ছেলে নাঈম বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। এরপর তাকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি।

পরে ২৫ এপ্রিল থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন নাঈমের পরিবার। এরপর গত ৯ সেপ্টেম্বর ধরঞ্জী গ্রামের সামছুল ইসলামের বাড়িতে রাজমিস্ত্রীরা নতুন টয়লেট নির্মাণের জন্য মাটি খনন করতে গেলে দুর্গন্ধ বের হলে পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ এসে সেখানের মাটি খুঁড়ে একটি প্যান্ট ও মাথার খুলিসহ হাড় উদ্ধার করে। এ ঘটনায় নাঈমের মা ১০ সেপ্টেম্বর বাড়ির মালিকসহ তিনজনের নামে মামলা করেন।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, সাবিনার সঙ্গে নাঈমের পরকীয়া সম্পর্ক ছিল। সেই পরকীয়া সম্পর্কের জেরে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী নাঈমকে হত্যা করে লাশ মাটি চাপা দেয় তারা।

পাঁচবিবি থানার ওসি জাহিদুল হক বলেন, লাশের প্যান্ট, বেল্ট দেখে পরিচয় নিশ্চিত হয়ে নিহতের মা গোলাপী বানু বাদী হয়ে থানায় হত্যা মামলা করেছেন। মামলায় পরকীয়ার জেরে হত্যার হয়েছে বলে উল্লেখ রয়েছে। ঘটনার পর বাড়ির মালিক সামছুল ইসলামকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল। পরে তাকে আটক দেখানো হয়েছে। সামছুলের বাড়ির ভাড়াটিয়া এক দম্পতি রেজ্জাকুল ওরফে রাজ্জাক ও তার স্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন পলাতক ছিলেন। তাদেরকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ভাড়াটিয়া রাজ্জাকের স্ত্রী সাবিনার সঙ্গে পরকীয়ার কারণে নাঈম হোসেনকে হত্যার পর লাশ গুম করতে মাটি খুঁড়ে পুতে রাখা হয়। আসামীদের বুধবার আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং রিমান্ড চাওয়া হবে।

পারিবাড়িক সূত্রে জানা যায় চলতি বছরের ২২ এপ্রিল রাত ৮টার দিকে ধরঞ্জী বাজারে যাওয়ার কথা বলে বাইরে বের হয়ে বাড়ি ফেরেননি। অনেক খোঁজাখুঁজি করে তাকে না পেয়ে ওই মাসের ২৫ এপ্রিল পাঁচবিবি থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তার মামা ওহেদুল ইসলাম। জিডির পর নিখোঁজ নাঈমের সন্ধানে পুলিশ তৎপর থাকলেও তার সন্ধান পাওয়া যায়নি। অবশেষে সাড়ে চার মাস পর তার লাশ পাওয়া যায়।