ঢাকা ০১:০৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬, ১৪ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নিকলীতে ফিসারীর মালিককে কেয়ারটেকার বলে ও বাবার মুক্তিযোদ্ধা সনদ নিয়ে কটাক্ষ করেছে এক ব্যবসায়ী

Doinik Astha
Doinik Astha
  • আপডেট সময় : ১০:৫৭:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৩
  • / ১০৪২ বার পড়া হয়েছে

আশরাফুল ইসলাম রাজন, (কিশোরগঞ্জ) কটিয়াদী প্রতিনিধি:কিশোরগঞ্জ জেলার নিকলী উপজেলার জারইতলা ইউনিয়নের ধারিশ্বরে যৌথ ব্যবসার ৭.০০ একর জায়গা কৃষকের কাছ থেকে ইজারা নেন ২ জন। গত ১০ এপ্রিল নয়াদিগন্ত পত্রিকায় এক মালিককে কেয়ারটেকার হিসেবে খবর প্রকাশ করায় এলাকার মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। এদিকে কোর্টে মামলা চলমান যার নম্বর ২২/২০২২ সন টাকা। মামলার আদেশক্রমে গত ৭ মাস যাবত নিকলী উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি)কে রিসিভার নিয়োগ করা হয়েছে। মাছ ক্রয় বিক্রয় করছেন কোর্ট থেকে নির্ধারিত রিসিভার সহকারী কমিশনার (ভূমি)। এরই মধ্যে একটি উদ্দেশ্য প্রনোদিত সংবাদ প্রকাশ হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণমান্য ব্যক্তিবর্গ। জানা যায়, উক্ত বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় সালিশী ও ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও পরে উপজেলা পরিষদে সমাধান হয়েছিল। পরে বিবাদীদের অসৌজন্যমূলক আচরণের কারণে ও সালিশী নির্ধারিত সম্পূর্ণ টাকা অংশীদার সৈয়দ আরফানকে ফেরত না দেয়ায় বর্তমানে কোর্টে মামলা চলমান। অন্যদিকে প্রকাশিত নিউজে বিবাদীর ভাই মানিক মিয়া সাক্ষাৎকারে সৈয়দ আরফানের পিতা বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ কেনু মিয়াকে হেয় করার জন্য মুক্তিযোদ্ধা সার্টিফিকেট নিয়ে প্রশ্নবিদ্ধকর মন্তব্য করায় আরফানের পিতা ৭২ বৎসরে পা রাখা বীর মুক্তিযোদ্ধা কেনু মিয়া মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়েছেন।

উপরোক্ত বিষয়টি সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, সৈয়দ আরফান যৌথভাবে ব্যবসা করার জন্য মাহবুবুল আলমকে সাথে নিয়ে ৭.০০ একর জায়গা কৃষকের কাছ থেকে বিভিন্ন মেয়াদে লীজ নেন। পরে মাটি খনন করে ফিসারীর বাধ নির্মাণ করেন। এক বৎসর পর হতে না হতেই মাহবুবের অতি লোভের কারণে ২ জনের মধ্যে মনোমালিন্য শুরু হয়। তা আস্তে আস্তে ঝগড়ার দিকে রূপ নেয়। এলাকার মুরুব্বীরা বিষয়টি শেষ করার চেষ্টা করে। ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ যৌথভাবে সিদ্ধান্ত নেয় ২ জনের মধ্যে একজন থাকবে অন্যজন তার নিজের অংশ ছেড়ে দিতে হবে। সালিশের শর্ত অনুযায়ী আরফানকে ১৬ লাখ টাকা দিয়ে তার ইনভেস্টের টাকা ফেরত দিতে হবে। দুই পক্ষ সালিশের সিদ্ধান্ত মেনে নিলে সুন্দরভাবে সমাধান হয়। তাৎক্ষণিকভাবে মাহবুব আরফানকে ৫ লাখ টাকা হস্তান্তর করে ৫ জন সালিশীর সম্মুখে। বাকী ১১ লাখ এক মাসের মধ্যে দিবে বলে অঙ্গীকার করে। এক মাস পেরুতেই মাহবুবের সুর পাল্টে যায়। এদিকে সালিশের সিদ্ধান্তক্রমে আরফান ফিসারী থেকে সরে আসায় মাহবুবের সুযোগ বেড়ে যায়। সালিশীদের কাছে ঘুরে নিরুপায় হয়ে বাধ্য হয়ে জজ কোর্টে একটি ঘোষণামূলক ডিক্রীর মামলা করে। উক্ত মামলা আদালত গ্রহণ করে এবং রিসিভারের মাধ্যমে ফিসারী পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু এই রিসিভার চলাকালীন সময় আরফান ও তার মুক্তিযোদ্ধা পরিবারকে সামাজিকভাবে হেয় করার জন্য নয়াদিগন্ত পত্রিকায় ১০ এপ্রিল প্রকাশিত উদ্দেশ্য প্রনোদিত নিউজটি আরও জটিল করে তোলে। নিউজের একটি কলামে বীর মুক্তিযোদ্ধাকে প্রশ্নবিদ্ধকর ও হেয়তা পূর্ণ বক্তব্য মন্তব্য করেন মানিক মিয়া। দায়িত্বশীল পরিচয় না দিয়ে নয়াদিগন্ত পত্রিকা সংবাদটি উদ্দেশ্য প্রনোদিতভাবে প্রকাশ করে। এতে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধারা।
বীর মুক্তিযোদ্ধা কেনু মিয়া বলেন, আমি মুক্তিযুদ্ধে গিয়েছিলাম সৈয়দ নজরুল ইসলামের উৎসাহে। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলাম এবং সেখান থেকে ফিরে আসে মুক্তিযুদ্ধে চলে গেলাম। স্বাধীনতার পরে ১৯৭৫ সালে ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে স্বপরিবারে হত্যা করায় আমি মুক্তিযুদ্ধের সনদ নেয়ার ইচ্ছা ছিল না। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসে বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারী ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হওয়ার পরে আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমার ডকুমেন্টগুলো জমা দিতে। বর্তমান রাষ্ট্রপতি অধীনেই আমি যুদ্ধ করেছি। তাই আমার সেক্টর কমান্ডার ও বিভিন্ন ইন্টারভিউ দেয়ার পরে বাংলাদেশ সরকার আমাকে মুক্তিযুদ্ধের সনদ দেয়। যার গেজেট নং- ৩৮৫৬। যুদ্ধকালীন সময়ে মুক্তিযুদ্ধের তালিকায় আমার নাম ছিল। আমার ছেলের সাথে ব্যবসা নিয়ে দ্বন্দ্ব থাকতেই পারে। কিন্তু এই দ্বন্দ্বের মাঝে আমাকে কটাক্ষ করে কেন বক্তব্য দিল আমি সুধী সমাজের কাছে এর বিচার চাই। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সরকার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে এর বিচার চাই। উদ্দেশ্য প্রনোদিতভাবে আমাকে কটাক্ষ করে সংবাদ প্রকাশ করায় উক্ত পত্রিকার সম্পাদক, উপজেলা প্রতিনিধি, বক্তব্য দানকারী এবং মাহবুবের এই কুরুচীপূর্ণ আচরণের বিচার চাই।

ট্যাগস :

নিকলীতে ফিসারীর মালিককে কেয়ারটেকার বলে ও বাবার মুক্তিযোদ্ধা সনদ নিয়ে কটাক্ষ করেছে এক ব্যবসায়ী

আপডেট সময় : ১০:৫৭:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৩

আশরাফুল ইসলাম রাজন, (কিশোরগঞ্জ) কটিয়াদী প্রতিনিধি:কিশোরগঞ্জ জেলার নিকলী উপজেলার জারইতলা ইউনিয়নের ধারিশ্বরে যৌথ ব্যবসার ৭.০০ একর জায়গা কৃষকের কাছ থেকে ইজারা নেন ২ জন। গত ১০ এপ্রিল নয়াদিগন্ত পত্রিকায় এক মালিককে কেয়ারটেকার হিসেবে খবর প্রকাশ করায় এলাকার মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। এদিকে কোর্টে মামলা চলমান যার নম্বর ২২/২০২২ সন টাকা। মামলার আদেশক্রমে গত ৭ মাস যাবত নিকলী উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি)কে রিসিভার নিয়োগ করা হয়েছে। মাছ ক্রয় বিক্রয় করছেন কোর্ট থেকে নির্ধারিত রিসিভার সহকারী কমিশনার (ভূমি)। এরই মধ্যে একটি উদ্দেশ্য প্রনোদিত সংবাদ প্রকাশ হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণমান্য ব্যক্তিবর্গ। জানা যায়, উক্ত বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় সালিশী ও ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও পরে উপজেলা পরিষদে সমাধান হয়েছিল। পরে বিবাদীদের অসৌজন্যমূলক আচরণের কারণে ও সালিশী নির্ধারিত সম্পূর্ণ টাকা অংশীদার সৈয়দ আরফানকে ফেরত না দেয়ায় বর্তমানে কোর্টে মামলা চলমান। অন্যদিকে প্রকাশিত নিউজে বিবাদীর ভাই মানিক মিয়া সাক্ষাৎকারে সৈয়দ আরফানের পিতা বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ কেনু মিয়াকে হেয় করার জন্য মুক্তিযোদ্ধা সার্টিফিকেট নিয়ে প্রশ্নবিদ্ধকর মন্তব্য করায় আরফানের পিতা ৭২ বৎসরে পা রাখা বীর মুক্তিযোদ্ধা কেনু মিয়া মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়েছেন।

উপরোক্ত বিষয়টি সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, সৈয়দ আরফান যৌথভাবে ব্যবসা করার জন্য মাহবুবুল আলমকে সাথে নিয়ে ৭.০০ একর জায়গা কৃষকের কাছ থেকে বিভিন্ন মেয়াদে লীজ নেন। পরে মাটি খনন করে ফিসারীর বাধ নির্মাণ করেন। এক বৎসর পর হতে না হতেই মাহবুবের অতি লোভের কারণে ২ জনের মধ্যে মনোমালিন্য শুরু হয়। তা আস্তে আস্তে ঝগড়ার দিকে রূপ নেয়। এলাকার মুরুব্বীরা বিষয়টি শেষ করার চেষ্টা করে। ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ যৌথভাবে সিদ্ধান্ত নেয় ২ জনের মধ্যে একজন থাকবে অন্যজন তার নিজের অংশ ছেড়ে দিতে হবে। সালিশের শর্ত অনুযায়ী আরফানকে ১৬ লাখ টাকা দিয়ে তার ইনভেস্টের টাকা ফেরত দিতে হবে। দুই পক্ষ সালিশের সিদ্ধান্ত মেনে নিলে সুন্দরভাবে সমাধান হয়। তাৎক্ষণিকভাবে মাহবুব আরফানকে ৫ লাখ টাকা হস্তান্তর করে ৫ জন সালিশীর সম্মুখে। বাকী ১১ লাখ এক মাসের মধ্যে দিবে বলে অঙ্গীকার করে। এক মাস পেরুতেই মাহবুবের সুর পাল্টে যায়। এদিকে সালিশের সিদ্ধান্তক্রমে আরফান ফিসারী থেকে সরে আসায় মাহবুবের সুযোগ বেড়ে যায়। সালিশীদের কাছে ঘুরে নিরুপায় হয়ে বাধ্য হয়ে জজ কোর্টে একটি ঘোষণামূলক ডিক্রীর মামলা করে। উক্ত মামলা আদালত গ্রহণ করে এবং রিসিভারের মাধ্যমে ফিসারী পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু এই রিসিভার চলাকালীন সময় আরফান ও তার মুক্তিযোদ্ধা পরিবারকে সামাজিকভাবে হেয় করার জন্য নয়াদিগন্ত পত্রিকায় ১০ এপ্রিল প্রকাশিত উদ্দেশ্য প্রনোদিত নিউজটি আরও জটিল করে তোলে। নিউজের একটি কলামে বীর মুক্তিযোদ্ধাকে প্রশ্নবিদ্ধকর ও হেয়তা পূর্ণ বক্তব্য মন্তব্য করেন মানিক মিয়া। দায়িত্বশীল পরিচয় না দিয়ে নয়াদিগন্ত পত্রিকা সংবাদটি উদ্দেশ্য প্রনোদিতভাবে প্রকাশ করে। এতে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধারা।
বীর মুক্তিযোদ্ধা কেনু মিয়া বলেন, আমি মুক্তিযুদ্ধে গিয়েছিলাম সৈয়দ নজরুল ইসলামের উৎসাহে। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলাম এবং সেখান থেকে ফিরে আসে মুক্তিযুদ্ধে চলে গেলাম। স্বাধীনতার পরে ১৯৭৫ সালে ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে স্বপরিবারে হত্যা করায় আমি মুক্তিযুদ্ধের সনদ নেয়ার ইচ্ছা ছিল না। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসে বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারী ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হওয়ার পরে আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমার ডকুমেন্টগুলো জমা দিতে। বর্তমান রাষ্ট্রপতি অধীনেই আমি যুদ্ধ করেছি। তাই আমার সেক্টর কমান্ডার ও বিভিন্ন ইন্টারভিউ দেয়ার পরে বাংলাদেশ সরকার আমাকে মুক্তিযুদ্ধের সনদ দেয়। যার গেজেট নং- ৩৮৫৬। যুদ্ধকালীন সময়ে মুক্তিযুদ্ধের তালিকায় আমার নাম ছিল। আমার ছেলের সাথে ব্যবসা নিয়ে দ্বন্দ্ব থাকতেই পারে। কিন্তু এই দ্বন্দ্বের মাঝে আমাকে কটাক্ষ করে কেন বক্তব্য দিল আমি সুধী সমাজের কাছে এর বিচার চাই। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সরকার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে এর বিচার চাই। উদ্দেশ্য প্রনোদিতভাবে আমাকে কটাক্ষ করে সংবাদ প্রকাশ করায় উক্ত পত্রিকার সম্পাদক, উপজেলা প্রতিনিধি, বক্তব্য দানকারী এবং মাহবুবের এই কুরুচীপূর্ণ আচরণের বিচার চাই।