নির্বাচিত সরকারের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিক করছে ভারত
- আপডেট সময় : ০৩:০৫:৩৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬
- / ১০২৬ বার পড়া হয়েছে
নির্বাচিত সরকারের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিক করছে ভারত
স্টাফ রিপোর্টারঃ
গত কয়েক মাস ধরেই নির্বাচিত সরকারের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ইঙ্গিত দিয়ে ছিল ভারত। এ অবস্থায় নতুন সরকার আসার পরপরই ভারত সফর করেছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উচ্চ পর্যায়ের এক কর্মকর্তা। এই সফর দু-দেশের বরফ গলার আভাস দিয়েছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য প্রিন্টের অনলাইন সংস্করণে এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদন বলছে, সংবাদ মাধ্যমের আড়ালে থাকা বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) প্রধান মেজর জেনারেল মোহাম্মদ কায়সার রশিদ চৌধুরী নয়া দিল্লি সফরে ভারত ও বাংলাদেশের শীতল সম্পর্ক আবার স্বাভাবিক করতে নতুন পদক্ষেপ হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রতিবেদনে বলছে, বাংলাদেশে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার দুই সপ্তাহের মধ্যেই ডিজিএফআই প্রধান নয়াদিল্লি সফর করেন এবং ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা–রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস উইং (র)–এর প্রধান পরাগ জৈন এবং তার ভারতীয় লেফটেন্যান্ট জেনারেল আর.এস. রমনসহ অন্যান্যদের সাথে দেখা করেন। গণমাধ্যমের কাছে গোপন রাখা হয় ওই সফর।
২০২৪ সালের আগস্টে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতির পর এটিই এমন প্রথম বৈঠক।
বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, ডিজিএফআই প্রধান দুই কর্মকর্তার সাথে দেখা করেছেন এবং ১৮ মাসেরও বেশি সময় ধরে স্থগিত থাকা যোগাযোগের চ্যানেল গুলো খোলার পাশাপাশি অন্যের প্রতি শত্রুভাবাপন্ন স্বার্থসম্পন্ন ব্যক্তিদের দ্বারা কোনও দেশকে ব্যবহার না করার বিষয়ে একটি সমঝোতা হয়েছে।
গত ১৭ ফেব্রুয়ারি নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শপথ গ্রহণ করেন। এ অবস্থায় মেজর জেনারেল মোহাম্মদ কায়সার রশিদ চৌধুরীর ঢাকা থেকে নয়াদিল্লি সফর ছিল গুরুত্বপূর্ণ। সশস্ত্র বাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের রদবদলের অংশ হিসেবে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি ডিজিএফআই প্রধান করা হয়।
প্রতিবেদন বলছে, শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে বেশ কয়েকটি যোগাযোগ মাধ্যম স্থগিত হয়ে যায়। নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের আগ পর্যন্ত দুই দেশের মধ্যে কথোপকথন মূলত জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার (এনএসএ) কার্যালয়ের মাধ্যমে পরিচালিত হতো।
প্রিন্ট লিখেছে, বাংলাদেশের সাবেক জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান তারেক রহমানের মন্ত্রিসভায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে রয়েছেন, যা নতুন প্রধানমন্ত্রীর অধীনে পররাষ্ট্রনীতির ধারাবাহিকতার লক্ষণ।
মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন শাসনামলে নয়াদিল্লি ও ঢাকার মধ্যে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক তিক্ত হয়ে পড়লেও খলিলুর রহমান এবং ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল যোগাযোগে ছিলেন।
প্রতিবেদন বলছে, ডিজিএফআই প্রধানের ভারত সফর আপাতদৃষ্টিতে চিকিৎসার কারণে হলেও নয়াদিল্লিতে নিরাপত্তা উদ্বেগের মধ্যে তাৎপর্যপূর্ণ। এটি বাংলাদেশে শান্তি ও স্থিতিশীলতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
প্রিন্ট লিখেছে, ভারত গত কয়েক মাস ধরে তারেক রহমানের বিএনপির সাথে কাজ করার এবং সম্পর্ক স্বাভাবিক করার জন্য আগ্রহের ইঙ্গিত দিয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর গত ৩১ ডিসেম্বর ঢাকায় তারেক রহমানের সাথে দেখা করেন এবং প্রায় আধ ঘণ্টা ধরে বৈঠক করেন। তিনি তারেক রহমানে প্রয়াত মা সাবেক প্রধানন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোকপত্রও দেন।
মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় ভেঙে পড়া সম্পর্ককে স্বাভাবিক করার আরও একটি অভিপ্রায়ের ইঙ্গিত হিসেবে নয়াদিল্লি গত মাসে তারেক রহমানের শপথ অনুষ্ঠানে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা এবং পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্রিকেও পাঠিয়েছিলেন।
প্রতিবেদন বলছে, ১৯৯৬ সালের ভারত-বাংলাদেশ গঙ্গা পানি চুক্তি, ২০২৬ সালের ডিসেম্বরে শেষ হতে চলেছে। এ নিয়ে আলোচনা উভয় পক্ষের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে। এ ছাড়া গত বছর উভয় দেশ কর্তৃক আরোপিত বেশ কয়েকটি অর্থনৈতিক বিধিনিষেধও বহাল রয়েছে।
গত বছরের ডিসেম্বরে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদি হত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত দুই ব্যক্তি– ফয়সাল করিম মাসুদ এবং আলমগীর হোসেনকে সম্প্রতি ভারতে গ্রেপ্তারের খবর প্রকাশ্যে এসেছে। বাংলাদেশের পক্ষে বলা হচ্ছে, তাদের ফিরিয়ে আনার জন্য বাংলাদেশ ভারতের সাথে কূটনৈতিকভাবে যোগাযোগ করবে।
প্রিন্ট লিখেছে, হাদির মৃত্যুর পর গত বছরের শেষের দিকে বাংলাদেশে সহিংস বিক্ষোভ শুরু হয়, ওই বিক্ষোভকারীদের ক্ষোভের কেন্দ্রবিন্দু ছিল ভারত।
দৈনিক আস্থা/এমএইচ


















