ঢাকা ১০:৪৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬, ১৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম:
Logo খাগড়াছড়িতে জামায়াতের নির্বাচনী গণমিছিল শেষে সমাবেশে Logo পানছড়িতে অষ্টপ্রহার ব্যাপী মহানামযজ্ঞ ও সরস্বতী পূজা পরিদর্শনে বিএনপি Logo পানছড়িতে বিভিন্ন দলের শতাধিক নেতাকর্মী বিএনপিতে যোগদান Logo আপনারা থাকার কষ্ট করছেন, আমরা এখানে উঁচু উঁচু বিল্ডিং করে দিতে চাই Logo পানছড়িতে খালেদা জিয়ার স্বরণে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্টিত Logo ছয় মাসে ব্যাংক থেকে ৬০ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিলো সরকার Logo প্রাণ ফিরছে লোগাং ইউপি শহীদ জিয়া স্মৃতি সংসদে Logo পানছড়িতে ভারতীয় অবৈধ পন্য আটক Logo পানছড়িতে সড়ক নির্মাণে নিম্নমানের খোয়া-রাবিশ ব্যবহার Logo মুসাব্বির হত্যার প্রতিবাদে খাগড়াছড়িতে স্বেচ্ছাসেবক দলের বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ

নেহার মোবাইলে মিললো বন্ধুদের কুকীর্তি ভয়ংকর সব তথ্য

Iftekhar Ahamed
  • আপডেট সময় : ০২:৩৫:১৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২১
  • / ১০৬৬ বার পড়া হয়েছে

অনলাইন ডেস্ক:

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ইউল্যাবের দ্বিতীয় বর্ষের এক ছাত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় তার বান্ধবী ফারজানা জামান নেহাকে গ্রেফতারের সময় তার কাছ থেকে একটি মোবাইল উদ্ধার করা হয়। আর ওই মোবাইল ফোনেই পাওয়া গেল ওই মৃত ছাত্রীসহ তার বন্ধুদের কুকীর্তি।

নেহার ফোন থেকে পাওয়া নানা ছবি ও তথ্য বিশ্লেষণ করে পুলিশের দাবি, পার্টি আয়োজন এবং তাতে অংশগ্রহণ করাই ছিল নেহা ও তার বন্ধুদের পেশা। ৩০ জানুয়ারি রাতে উত্তরায় যে পার্টি হয় তার আয়োজকও ছিল নেহা ও আরাফাত।

পুলিশ জানায়, মারা যাওয়া ছাত্রীর সঙ্গে গ্রেফতার রায়হানের প্রেমের সর্ম্পক ছিল। ঘটনার রাতেই দুইজনের শারীরিক সর্ম্পকও হয়। আর বিষাক্ত মদপানেই তার ও আরাফাতের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় দায়ের করা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার সব আসামি গ্রেফতার হয়েছে। সবগুলো ফরেনসিক রিপোর্ট পেলে পুলিশ মামলার চার্জশিট জমা দেবে বলেও জানানো হয়।

এর আগে রাজধানীর একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় ওই শিক্ষার্থীর বাবা বাদী হয়ে মোহাম্মদপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় ওই শিক্ষার্থীর বন্ধু মর্তুজা রায়হান চৌধুরীকে (২১) ধর্ষণকারী হিসেবে উল্লেখ করা হয়। অন্য চার আসামির মধ্যে তিন জন হলেন- নুহাত আলম তাফসির (২১), আরাফাত (২৮) ও নেহা (২৫)। আরেকজনের নাম জানা যায়নি। মামলায় অজ্ঞাত হিসেবে তাকে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশের হাতে গ্রেফতার মর্তুজা রাহয়ান চৌধুরী ও নুহাত আলম তাফসিরকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে।

জানা গেছে, রিমান্ডে রায়হান পুলিশকে জানিয়েছে ওই ছাত্রীর সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তাদের মাঝে প্রায়ই শারীরিক সম্পর্ক হতো। তাফসীরের বাসায় গিয়ে শারীরিক সম্পর্ক হয়। ওই রাতে তরুণী অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এদিকে ব্যাম্বু রেস্টুরেন্টের সিসি টিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে সেখানে তাদের অবস্থানের সত্যতা পেয়েছে পুলিশ। ওই রেস্টুরেন্টে বসে মদ পান করলেও তারা মদ বাইরে থেকে নিয়ে গিয়েছিল।

সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান অধ্যাপক সেলিম রেজা বলেন, ওই শিক্ষার্থীর শরীরে জোরপূর্বক ধর্ষণের আলামত পাওয়া যায়নি। খাবারে বিষক্রিয়ার ফলে তার মৃত্যু হতে পারে। আমরা আলামত সংগ্রহ করে ল্যাবে পরীক্ষার জন্য পাঠিয়েছি। রিপোর্ট এলে আমরা বিস্তারিত বলতে পারব। নেশাজাতীয় কিছু খাইয়ে অচেতনের পর তার সঙ্গে যৌন সম্পর্ক হয়েছে কিনা, তা পরীক্ষার জন্য আলামত পাঠানো হয়েছে।

এদিকে অতিরিক্ত মদপানে ওই শিক্ষার্থীর আরেক বন্ধু আরাফাত রাজধানীর সিটি জেনারেল হাসপাতালে মারা গেছে। চিকিৎসকরা আরাফাতের মৃত্যুর কারণ হিসেবে ‘অতিরিক্ত মদ্যপান’ উল্লেখ করেছে। মৃত্যুর পরপরই বিষয়টি পুলিশকে না জানিয়ে তার মরদেহ দাফন করা হয়েছে। ইতিমধ্যে এই ঘটনার রহস্য জানতে আরাফাতের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে পুলিশ। প্রয়োজনে কবর থেকে তার মরদেহ উত্তোলনের আবেদন করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ট্যাগস :

নেহার মোবাইলে মিললো বন্ধুদের কুকীর্তি ভয়ংকর সব তথ্য

আপডেট সময় : ০২:৩৫:১৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২১

অনলাইন ডেস্ক:

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ইউল্যাবের দ্বিতীয় বর্ষের এক ছাত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় তার বান্ধবী ফারজানা জামান নেহাকে গ্রেফতারের সময় তার কাছ থেকে একটি মোবাইল উদ্ধার করা হয়। আর ওই মোবাইল ফোনেই পাওয়া গেল ওই মৃত ছাত্রীসহ তার বন্ধুদের কুকীর্তি।

নেহার ফোন থেকে পাওয়া নানা ছবি ও তথ্য বিশ্লেষণ করে পুলিশের দাবি, পার্টি আয়োজন এবং তাতে অংশগ্রহণ করাই ছিল নেহা ও তার বন্ধুদের পেশা। ৩০ জানুয়ারি রাতে উত্তরায় যে পার্টি হয় তার আয়োজকও ছিল নেহা ও আরাফাত।

পুলিশ জানায়, মারা যাওয়া ছাত্রীর সঙ্গে গ্রেফতার রায়হানের প্রেমের সর্ম্পক ছিল। ঘটনার রাতেই দুইজনের শারীরিক সর্ম্পকও হয়। আর বিষাক্ত মদপানেই তার ও আরাফাতের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় দায়ের করা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার সব আসামি গ্রেফতার হয়েছে। সবগুলো ফরেনসিক রিপোর্ট পেলে পুলিশ মামলার চার্জশিট জমা দেবে বলেও জানানো হয়।

এর আগে রাজধানীর একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় ওই শিক্ষার্থীর বাবা বাদী হয়ে মোহাম্মদপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় ওই শিক্ষার্থীর বন্ধু মর্তুজা রায়হান চৌধুরীকে (২১) ধর্ষণকারী হিসেবে উল্লেখ করা হয়। অন্য চার আসামির মধ্যে তিন জন হলেন- নুহাত আলম তাফসির (২১), আরাফাত (২৮) ও নেহা (২৫)। আরেকজনের নাম জানা যায়নি। মামলায় অজ্ঞাত হিসেবে তাকে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশের হাতে গ্রেফতার মর্তুজা রাহয়ান চৌধুরী ও নুহাত আলম তাফসিরকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে।

জানা গেছে, রিমান্ডে রায়হান পুলিশকে জানিয়েছে ওই ছাত্রীর সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তাদের মাঝে প্রায়ই শারীরিক সম্পর্ক হতো। তাফসীরের বাসায় গিয়ে শারীরিক সম্পর্ক হয়। ওই রাতে তরুণী অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এদিকে ব্যাম্বু রেস্টুরেন্টের সিসি টিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে সেখানে তাদের অবস্থানের সত্যতা পেয়েছে পুলিশ। ওই রেস্টুরেন্টে বসে মদ পান করলেও তারা মদ বাইরে থেকে নিয়ে গিয়েছিল।

সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান অধ্যাপক সেলিম রেজা বলেন, ওই শিক্ষার্থীর শরীরে জোরপূর্বক ধর্ষণের আলামত পাওয়া যায়নি। খাবারে বিষক্রিয়ার ফলে তার মৃত্যু হতে পারে। আমরা আলামত সংগ্রহ করে ল্যাবে পরীক্ষার জন্য পাঠিয়েছি। রিপোর্ট এলে আমরা বিস্তারিত বলতে পারব। নেশাজাতীয় কিছু খাইয়ে অচেতনের পর তার সঙ্গে যৌন সম্পর্ক হয়েছে কিনা, তা পরীক্ষার জন্য আলামত পাঠানো হয়েছে।

এদিকে অতিরিক্ত মদপানে ওই শিক্ষার্থীর আরেক বন্ধু আরাফাত রাজধানীর সিটি জেনারেল হাসপাতালে মারা গেছে। চিকিৎসকরা আরাফাতের মৃত্যুর কারণ হিসেবে ‘অতিরিক্ত মদ্যপান’ উল্লেখ করেছে। মৃত্যুর পরপরই বিষয়টি পুলিশকে না জানিয়ে তার মরদেহ দাফন করা হয়েছে। ইতিমধ্যে এই ঘটনার রহস্য জানতে আরাফাতের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে পুলিশ। প্রয়োজনে কবর থেকে তার মরদেহ উত্তোলনের আবেদন করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।