ঢাকা ০৪:৪১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ মার্চ ২০২৬, ৯ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম:
Logo যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া চুক্তি বাস্তবায়নে কাজ করবে সরকার: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী Logo তারেক–মোদির ঈদ শুভেচ্ছা, পূর্বের বন্ধুত্বের সেতুবন্ধনে বাংলাদেশ Logo সামনে বাড়বে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম: মির্জা ফখরুল Logo ট্রাম্পের হরমুজ প্রণালি রক্ষার আহ্বানে সাড়া দিচ্ছে মিত্ররা Logo পাবনায় বিএনপির দুপক্ষের সংঘর্ষ, গুলিতে গৃহবধূ নিহত Logo ৯২ শতাংশ মার্কিন নাগরিক ইরান যুদ্ধ শেষের পক্ষে Logo পুলিশের সামনে সালিশে বিএনপি নেতার পিটুনিতে বৃদ্ধার মৃত্যু Logo এমপিও স্থগিত হতে পারে প্রতিষ্ঠান প্রধানদের Logo কৃষক কার্ড পাবে ১কোটি ৬৫লাখ কৃষক: মিলবে ১০ ধরনের সুবিধা Logo ইরানের উপর চাপিয়ে দেওয়া সংঘাতে বিমান শিল্পে ক্ষতি ৫৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি

পাবনায় বিএনপির দুপক্ষের সংঘর্ষ, গুলিতে গৃহবধূ নিহত

Astha DESK
  • আপডেট সময় : ১২:৫৬:৫৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ মার্চ ২০২৬
  • / ১০২৪ বার পড়া হয়েছে

পাবনায় বিএনপির দুপক্ষের সংঘর্ষ, গুলিতে গৃহবধূ নিহত

স্টাফ রিপোর্টারঃ

পাবনার সুজানগরে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিএনপির দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় গুলিতে চায়না খাতুন নামের এক গৃহবধূ নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১০ জন।

আজ সোমবার (২৩ মার্চ) সকাল ৮টার দিকে উপজেলার মানিকহাট ইউনিয়নের ভিটবিলা পশ্চিমপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত চায়না খাতুন (৪০) ওই গ্রামের শুকুর আলীর স্ত্রী।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এলাকার আধিপত্য বিস্তার নিয়ে হাটখালী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি রাফিউল ইসলাম রাজা গ্রুপের সঙ্গে মানিকহাট ইউনিয়নের ভিটবিলা গ্রামের বিএনপি সমর্থক ইসলাম প্রামাণিক গ্রুপের বিরোধ চলছিল। রোববার রাতে দুপক্ষের ছেলেদের মধ্যে মারামারি হয়। এ নিয়ে গত রাত থেকেই দুই গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল। আজ সকালে ইসলাম প্রামাণিক গ্রুপের লোকজন লাঠিসোঁটা নিয়ে এলাকায় জড়ো হয়।

এ সময় রাজা গ্রুপের লোকজন লাঠিসোঁটা অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তাদের ওপরে হামলা, গুলিবর্ষণ ও বাড়ি ভাঙচুর করে। গুলিতে গৃহবধূ চায়না খাতুন ঘটনাস্থলেই মারা যায়। এছাড়া গুরুতর আহত ১০ জনকে উদ্ধার করে সুজানগর উপজেলা হাসপাতালে ও পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ইসলাম প্রামাণিক বলেন, আমার ভাগনে ফরহাদকে রোববার রাতে ভিটবিলা বাজারে তাকে মারধর করে রাজা গ্রুপের লোকজন। আমি খবর পেয়ে সেখানে গিয়ে ঘটনা শুনি এবং মারামারি না করার অনুরোধ করি। কিন্তু তারা উল্টো আমার ওপরও হামলা করে। খবর পেয়ে আমার গ্রামের লোকজন জড়ো হয়ে সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নেয় মুরুব্বিদের সঙ্গে বসে আলোচনা করে এ বিষয়ে সমঝোতা করা হবে।

তিনি আরও বলেন, সকালে আমরা বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় রাজার গ্রুপের লোকজন লাঠিসোঁটা ও অস্ত্র নিয়ে অতর্কিত আমাদের গ্রামের লোকজনের ওপরে গুলি ও হামলা চালায়। এতে গুলিতে ঘটনাস্থলেই মারা গেছে চায়না খাতুন। আরও ৮ থেকে ১০ জন আহত হয়েছেন। তাদের হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

রাফিউল ইসলাম রাজা বলেন, ঘটনার বিষয়ে আমি কিছু জানি না। ঘটনার সময় আমি ঘটনাস্থলে ছিলাম না। আমার নাম জড়ানো ষড়যন্ত্রমূলক। গুলিবর্ষণ হয়েছে কি না বা গুলিতে চায়না খাতুন মারা গেছে কি না আমি জানি না। আমি শুনেছি চায়না খাতুন স্ট্রোক করে মারা গেছে।

স্থানীয় ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য হাবিবুর রহমান বলেন, দুপক্ষই বিএনপির সমর্থক। ভিটবিলা পশ্চিমপাড়া বাজার এলাকা ও পূর্বপাড়া এলাকার দুপক্ষের ছেলেদের মধ্যে গতরাতে ঝামেলা হয় শুনেছি। সেই ঘটনার পর পূর্বপাড়ার লোকদের (রাজা গ্রুপের) পশ্চিমপাড়া বাজারে যেতে দেবে না বলে ঘোষণা দেয় পশ্চিমপাড়া এলাকার (ইসলাম গ্রুপের) লোকজন।

তিনি আরও বলেন, আজ সকালে লাঠিসোঁটা নিয়ে পাহারা বসায় তারা এবং বাজারে যাওয়া পূর্বপাড়ার লোকদেরকে ফিরিয়ে দেয় পশ্চিমপাড়া লোকজন। পরে পূর্বপাড়ার লোকজন একজোট হয়ে অস্ত্র নিয়ে এসে পূর্বপাড়ার লোকদের ওপর হামলা চালায়।

সুজানগর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার সাদিক আহমেদ বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনাস্থল থেকে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ পাবনা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। কী বিষয় নিয়ে হামলার ঘটনা ঘটেছে, সে বিষয়ে তদন্ত চলছে।

দৈনিক আস্থা/এমএইচ

ট্যাগস :

পাবনায় বিএনপির দুপক্ষের সংঘর্ষ, গুলিতে গৃহবধূ নিহত

আপডেট সময় : ১২:৫৬:৫৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ মার্চ ২০২৬

পাবনায় বিএনপির দুপক্ষের সংঘর্ষ, গুলিতে গৃহবধূ নিহত

স্টাফ রিপোর্টারঃ

পাবনার সুজানগরে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিএনপির দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় গুলিতে চায়না খাতুন নামের এক গৃহবধূ নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১০ জন।

আজ সোমবার (২৩ মার্চ) সকাল ৮টার দিকে উপজেলার মানিকহাট ইউনিয়নের ভিটবিলা পশ্চিমপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত চায়না খাতুন (৪০) ওই গ্রামের শুকুর আলীর স্ত্রী।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এলাকার আধিপত্য বিস্তার নিয়ে হাটখালী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি রাফিউল ইসলাম রাজা গ্রুপের সঙ্গে মানিকহাট ইউনিয়নের ভিটবিলা গ্রামের বিএনপি সমর্থক ইসলাম প্রামাণিক গ্রুপের বিরোধ চলছিল। রোববার রাতে দুপক্ষের ছেলেদের মধ্যে মারামারি হয়। এ নিয়ে গত রাত থেকেই দুই গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল। আজ সকালে ইসলাম প্রামাণিক গ্রুপের লোকজন লাঠিসোঁটা নিয়ে এলাকায় জড়ো হয়।

এ সময় রাজা গ্রুপের লোকজন লাঠিসোঁটা অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তাদের ওপরে হামলা, গুলিবর্ষণ ও বাড়ি ভাঙচুর করে। গুলিতে গৃহবধূ চায়না খাতুন ঘটনাস্থলেই মারা যায়। এছাড়া গুরুতর আহত ১০ জনকে উদ্ধার করে সুজানগর উপজেলা হাসপাতালে ও পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ইসলাম প্রামাণিক বলেন, আমার ভাগনে ফরহাদকে রোববার রাতে ভিটবিলা বাজারে তাকে মারধর করে রাজা গ্রুপের লোকজন। আমি খবর পেয়ে সেখানে গিয়ে ঘটনা শুনি এবং মারামারি না করার অনুরোধ করি। কিন্তু তারা উল্টো আমার ওপরও হামলা করে। খবর পেয়ে আমার গ্রামের লোকজন জড়ো হয়ে সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নেয় মুরুব্বিদের সঙ্গে বসে আলোচনা করে এ বিষয়ে সমঝোতা করা হবে।

তিনি আরও বলেন, সকালে আমরা বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় রাজার গ্রুপের লোকজন লাঠিসোঁটা ও অস্ত্র নিয়ে অতর্কিত আমাদের গ্রামের লোকজনের ওপরে গুলি ও হামলা চালায়। এতে গুলিতে ঘটনাস্থলেই মারা গেছে চায়না খাতুন। আরও ৮ থেকে ১০ জন আহত হয়েছেন। তাদের হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

রাফিউল ইসলাম রাজা বলেন, ঘটনার বিষয়ে আমি কিছু জানি না। ঘটনার সময় আমি ঘটনাস্থলে ছিলাম না। আমার নাম জড়ানো ষড়যন্ত্রমূলক। গুলিবর্ষণ হয়েছে কি না বা গুলিতে চায়না খাতুন মারা গেছে কি না আমি জানি না। আমি শুনেছি চায়না খাতুন স্ট্রোক করে মারা গেছে।

স্থানীয় ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য হাবিবুর রহমান বলেন, দুপক্ষই বিএনপির সমর্থক। ভিটবিলা পশ্চিমপাড়া বাজার এলাকা ও পূর্বপাড়া এলাকার দুপক্ষের ছেলেদের মধ্যে গতরাতে ঝামেলা হয় শুনেছি। সেই ঘটনার পর পূর্বপাড়ার লোকদের (রাজা গ্রুপের) পশ্চিমপাড়া বাজারে যেতে দেবে না বলে ঘোষণা দেয় পশ্চিমপাড়া এলাকার (ইসলাম গ্রুপের) লোকজন।

তিনি আরও বলেন, আজ সকালে লাঠিসোঁটা নিয়ে পাহারা বসায় তারা এবং বাজারে যাওয়া পূর্বপাড়ার লোকদেরকে ফিরিয়ে দেয় পশ্চিমপাড়া লোকজন। পরে পূর্বপাড়ার লোকজন একজোট হয়ে অস্ত্র নিয়ে এসে পূর্বপাড়ার লোকদের ওপর হামলা চালায়।

সুজানগর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার সাদিক আহমেদ বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনাস্থল থেকে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ পাবনা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। কী বিষয় নিয়ে হামলার ঘটনা ঘটেছে, সে বিষয়ে তদন্ত চলছে।

দৈনিক আস্থা/এমএইচ