পৃথিবীর কোনো শক্তি ধ্বংস করতে পারবে না ইরানের মিসাইল ঘাটি
- আপডেট সময় : ১১:২০:৪৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬
- / ৯৯৯ বার পড়া হয়েছে
পৃথিবীর কোনো শক্তি ধ্বংস করতে পারবে না
ইরানের মিসাইল ঘাটি
আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ
Compressive Strength (কম্প্রেসিভ স্ট্রেংথ) বা সংকোচন শক্তি হলো কোনো উপাদানের (যেমন- কংক্রিট, ইট, ইস্পাত) ওপর চাপ বা ভার প্রয়োগ করলে তা ভেঙে বা চূর্ণ-বিচূর্ণ না হয়ে সর্বোচ্চ যে পরিমাণ চাপ সহ্য করতে পারে। এটি মূলত কোনো বস্তুকে দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া বা আকার সংকুচিত হওয়া থেকে রক্ষা করার ক্ষমতা।
কার্যকারিতা: এটি পদার্থের ওপরের দিকের চাপ সহ্য করার ক্ষমতা পরিমাপ করে।
ব্যবহার: সাধারণত নির্মাণ শিল্পে কংক্রিটের গুণমান বা স্থায়িত্ব যাচাই করতে এই পরীক্ষা করা হয়।
পরিমাপ: এটি সাধারণত পাউন্ড পার স্কয়ার ইঞ্চি (পিএসআই) বা মেগাপাস্কাল (এমপিএ) এককে পরিমাপ করা হয় ।
উদাহরণ: একটি কংক্রিটের ব্লক তৈরির পর কত ভার সহ্য করতে পারবে, তা এর কম্প্রেসিভ স্ট্রেংথের ওপর নির্ভর করে।
মধ্যপ্রাচ্যের ঐতিহাসিক নগরী ইয়াজদ-এ অবস্থিত এক প্রাচীন গ্রানাইট নির্মিত দুর্গ নতুন করে আলোচনায় এসেছে। শতাব্দী প্রাচীন এই স্থাপনা তার অদম্য স্থায়িত্ব ও প্রতিরোধ ক্ষমতার জন্য গবেষক ও ইতিহাসবিদদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
ইয়াজদের গ্রানাইট দুর্গ কেন এটি ধ্বংস করা অসম্ভব:-
প্রতিরক্ষার প্রথম স্তর: ভূতাত্ত্বিক গঠন
ইরানের ইয়াজদ মিসাইল ঘাঁটি—যার দাপ্তরিক নাম “ইমাম হোসেন বেস”—এটি কেবল কোনো সাধারণ বাঙ্কার নয়। এটি শিরকুহ গ্রানাইট কেটে তৈরি করা হয়েছে, যা পৃথিবীর অন্যতম কঠিন শিলা। এর সংকুচিত শক্তি (Compressive Strength) ২৫,০০০ থেকে ৪০,০০০ পিএমআই।
একটি তুলনা:
সাধারণ রিইনফোর্সড কনক্রিট: ৫,০০০ পিএসআই। আল্ট্রা-হাই-স্ট্রেন্থ কনক্রিট: ৩০,০০০ পিএসআই। ইয়াজদ গ্রানাইট: ২৫,০০০–৪০,০০০ পিএসআই। আমেরিকার সবচেয়ে শক্তিশালী বাঙ্কার-বাস্টার বোমা জিবিইউ-৫৭ এমওপি এই ধরণের শিলা মাত্র ৬ থেকে ১০ মিটার পর্যন্ত ভেদ করতে পারে। অথচ এই ঘাঁটির মূল অংশগুলো মাটির ৫শ মিটারেরও বেশি গভীরে অবস্থিত। গাণিতিক হিসাব খুব সহজ: এটি ড্যামেজ জোনের চেয়ে ১২ গুণ বেশি গভীরে।
৪৪০ মিটারের ‘ডেড জোন’ ভূপৃষ্ঠ এবং ভূগর্ভস্থ স্থাপনার মাঝখানে ৪৪০ মিটার নিরেট গ্রানাইট রয়েছে। কোনো বোমার বিস্ফোরণ শক্তি মূল স্থাপনায় পৌঁছানোর আগেই এই বিশাল স্তরে বিলীন হয়ে যায়। কোনো বিমান হামলা এই স্তর ভেদ করে ড্যামেজ করা প্রায় অসম্ভব।
মিসাইল সাবওয়ে: স্বয়ংক্রিয় রেল ব্যবস্থা
পাহাড়ের অভ্যন্তরে একটি স্বয়ংক্রিয় রেল সিস্টেম রয়েছে যা অ্যাসেম্বলি হল, গোলাবারুদ ডিপো এবং পাহাড়ের বিভিন্ন দিকে থাকা ৩ থেকে ১০টি নির্গমন পথকে (Exits) সংযুক্ত করে।
কার্যপ্রণালী:
১. লঞ্চার রেলপথে এক্সিটের দিকে এগিয়ে যায়। ২. ভূপৃষ্ঠে উঠে আসে। ৩. মিসাইল ফায়ার করে। ৪. তাৎক্ষণিকভাবে ভূগর্ভে ফিরে যায়।
৫. আর্মার্ড এয়ারলকের মাধ্যমে প্রবেশপথ সিল করে দেওয়া হয়।
এই পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হতে পাল্টা হামলার জন্য প্রয়োজনীয় সময়ের চেয়েও কম সময় লাগে। ২০ মার্চ, ২০২৬-এর পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, বোমা হামলার পরেও এই সিস্টেমটি সচল রয়েছে।
প্রযুক্তির উৎস: কারা সাহায্য করেছে?
চীন: কেমিক্যাল রুট (এসটি-৮নেটওয়ার্ক) এবং সামান তেজারাত পারমানের মাধ্যমে সলিড ফুয়েল সরবরাহ।
উত্তর কোরিয়া: হেরেনকনেখ্ট (Herrenknecht) এবং ওয়ার্থ/সেল টানেল বোরিং মেশিন (টিবিএম), যা উত্তর কোরিয়ার মধ্যস্থতায় কেনা হয়েছে।
মিশ্র নেটওয়ার্ক: সংবেদনশীল কাঁচামাল এবং ইন্ডাস্ট্রিয়াল কেমিক্যাল পারচিন কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজের (পিসিআই) মাধ্যমে আনা হয়েছে।
মূল নির্মাণ: টানেল নির্মাণ ও ড্রিলিংয়ের প্রধান কাজ করেছে আইআরজিসি (আইআরজিসি) এবং তাদের সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলো।
যদি প্রবেশের পথগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তবে ভেতর থেকে অতি-শক্তিশালী কনক্রিট দিয়ে দ্রুত তা সিল করে দেওয়া হয়। ভূপৃষ্ঠের সংস্পর্শ ছাড়াই কয়েক ঘণ্টার মধ্যে প্রতিটি প্রবেশপথ মেরামত করা সম্ভব।
বিমান হামলা ভূপৃষ্ঠে থাকা মোবাইল লঞ্চার গুলোকে অকেজো করতে পারলেও, ৫শ মিটার গভীর গ্রানাইটের নিচে থাকা মূল শক্তি ধ্বংস করতে পারবে না। দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে নির্মিত এই ঘাঁটিটি ২০২৬ সালে এসে ইরানের কৌশলগত টিকে থাকার গ্যারান্টি হয়ে দাঁড়িয়েছে। যতদিন এটি টিকে আছে, ইরান যখন খুশি এবং যেখান থেকে খুশি মিসাইল ছুড়তে সক্ষম।
দৈনিক আস্থা/এমএইচ
























