ঢাকা ১১:০৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বড় ব্যবধানে হেরেছে চরমোনাই পীরের ৩ ভাই

Astha DESK
  • আপডেট সময় : ০৯:৪৭:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / ১০০১ বার পড়া হয়েছে

বড় ব্যবধানে হেরেছে চরমোনাই পীরের ৩ ভাই

স্টাফ রিপোর্টারঃ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চরমোনাই পীরের দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ২৫৩ আসনে প্রার্থী দিলেও জিতেছে মাত্র একটিতে। এছাড়া কোনো আসনেই তেমন প্রতিদ্বন্দ্বিতাও গড়ে তুলতে পারেনি তাদের প্রার্থীরা। এমনকি প্রায় সব আসনে জামানত হারিয়েছেন হাতপাখা প্রতীকের কাণ্ডারিরা।

নির্বাচনে প্রার্থী হননি চরমোনাই পীর ও দলের আমির সৈয়দ রেজাউল করীম। তবে ভোটযুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছিলেন তার তিন ভাই। তারা সবাই বিপুল ভোটের ব্যবধানে হেরেছেন।

চরমোনাই পীরের ভাই ও দলের জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির সৈয়দ ফয়জুল করীম বরিশাল-৫ (সদর-সিটি করপোরেশন) আসনে দ্বিতীয় হলেও বরিশাল-৬ (বাকেরগঞ্জ) আসনে তৃতীয় হয়েছেন। বরিশাল-৫ আসনে তিনি পেয়েছেন ৯৩ হাজার ৫২৮ ভোট। অন্যদিকে ১ লাখ ৩১ হাজার ৪৩১ ভোট পেয়ে আসনটিতে জয়ী হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী মজিবর রহমান সরোয়ার।

বরিশাল-৬ আসনে ফয়জুল করীম তৃতীয় হয়েছেন। এখানে বিএনপির প্রার্থী আবুল হোসেন খান ৮১ হাজার ৮৭ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের প্রার্থী মো. মাহমুদুন্নবী পেয়েছেন ৫৪ হাজার ৫৩৩ ভোট। আর হাতপাখা প্রতীকের ফয়জুল করীম পেয়েছেন ২৮ হাজার ৮২৩ ভোট।

বরিশাল-৪ (হিজলা-মেহেন্দীগঞ্জ) আসনে প্রার্থী ছিলেন চরমোনাই পীরের আরেক ভাই সৈয়দ ইছহাক মুহাম্মদ আবুল খায়ের। তিনি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সহকারী মহাসচিব এবং বাংলাদেশ কোরআন শিক্ষা বোর্ডের নির্বাহী চেয়ারম্যান।

প্রাপ্ত ফল অনুযায়ী, সৈয়দ ইছহাক পেয়েছেন ৩৬ হাজার ৭৫৩ ভোট। একই আসনে বিএনপির প্রার্থী রাজীব আহসান পেয়েছেন ১ লাখ ২৮ হাজার ৩২২ ভোট এবং জামায়াতের প্রার্থী মোহাম্মদ আবদুল জব্বার পেয়েছেন ৭৪ হাজার ৬৮৪ ভোট।

পীরের আরেক ভাই মাওলানা সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ ঢাকা-৪ আসনে প্রার্থী ছিলেন। তিনি ইসলামী আন্দোলনের প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং চরমোনাই আহছানাবাদ রশীদিয়া কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ। এ আসনে মোট ভোট পড়েছে ৪৫ শতাংশ। জামায়াতের প্রার্থী সৈয়দ জয়নুল আবেদীন ৭৭ হাজার ৩৬৭ ভোট পেয়ে এ আসনে জয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী তানভীর আহমেদ পেয়েছেন ৭৪ হাজার ৪৪৭ ভোট। আর হাতপাখা প্রতীকে মোসাদ্দেক বিল্লাহ পেয়েছেন মাত্র ৬ হাজার ৫১৮ ভোট। এতে তার জামানতও রক্ষা হয়নি।

ভোটের ফলাফল ঘোষণার পর ফয়জুল করীম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া স্ট্যাটাসে বরিশাল-৫ আসনে নিজের প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যা তুলে ধরে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

এবারের নির্বাচনে বরিশাল বিভাগের কয়েকটি আসনে আলোচনায় ছিলেন ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীরা। তাদের মধ্যে পিরোজপুর-৩ (মঠবাড়িয়া) আসনে এই দলে যোগদান করেন সাবেক সংসদ সদস্য রুস্তম আলী ফরাজী, পটুয়াখালী-৪ (কলাপাড়া-রাঙ্গাবালী) আসনে বিএনপি থেকে যোগদানকারী সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ও বরগুনা-১ (সদর-আমতলী-তালতলী) আসনে মাওলানা অলি উল্লাহ।

তবে তাদের মধ্যে বরগুনা-১ আসনের অলি উল্লাহ ছাড়া সবাই হেরেছেন। পটুয়াখালী-৪ আসনে বিএনপির এ বি এম মোশাররফ হোসেন ১ লাখ ২৪ হাজার ১৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। মোস্তাফিজুর রহমান পেয়েছেন ৭০ হাজার ১২৭ ভোট।

অপরদিকে পিরোজপুর-৩ আসনে বিএনপির রুহুল আমীন দুলাল ৬৩ হাজার ৭৯১ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। এখানে এনসিপির প্রার্থী শামীম হামিদী (শাপলা কলি) ৩৬ হাজার ৬১৬ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় এবং রুস্তম আলী ফরাজী (হাতপাখা) ৩৫ হাজার ৯৬৮ ভোট পেয়ে তৃতীয় হয়েছেন।

১৯৮৭ সালে দলটি প্রতিষ্ঠার পর এই প্রথম জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পেল ইসলামী আন্দোলন।

ট্যাগস :

বড় ব্যবধানে হেরেছে চরমোনাই পীরের ৩ ভাই

আপডেট সময় : ০৯:৪৭:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বড় ব্যবধানে হেরেছে চরমোনাই পীরের ৩ ভাই

স্টাফ রিপোর্টারঃ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চরমোনাই পীরের দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ২৫৩ আসনে প্রার্থী দিলেও জিতেছে মাত্র একটিতে। এছাড়া কোনো আসনেই তেমন প্রতিদ্বন্দ্বিতাও গড়ে তুলতে পারেনি তাদের প্রার্থীরা। এমনকি প্রায় সব আসনে জামানত হারিয়েছেন হাতপাখা প্রতীকের কাণ্ডারিরা।

নির্বাচনে প্রার্থী হননি চরমোনাই পীর ও দলের আমির সৈয়দ রেজাউল করীম। তবে ভোটযুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছিলেন তার তিন ভাই। তারা সবাই বিপুল ভোটের ব্যবধানে হেরেছেন।

চরমোনাই পীরের ভাই ও দলের জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির সৈয়দ ফয়জুল করীম বরিশাল-৫ (সদর-সিটি করপোরেশন) আসনে দ্বিতীয় হলেও বরিশাল-৬ (বাকেরগঞ্জ) আসনে তৃতীয় হয়েছেন। বরিশাল-৫ আসনে তিনি পেয়েছেন ৯৩ হাজার ৫২৮ ভোট। অন্যদিকে ১ লাখ ৩১ হাজার ৪৩১ ভোট পেয়ে আসনটিতে জয়ী হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী মজিবর রহমান সরোয়ার।

বরিশাল-৬ আসনে ফয়জুল করীম তৃতীয় হয়েছেন। এখানে বিএনপির প্রার্থী আবুল হোসেন খান ৮১ হাজার ৮৭ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের প্রার্থী মো. মাহমুদুন্নবী পেয়েছেন ৫৪ হাজার ৫৩৩ ভোট। আর হাতপাখা প্রতীকের ফয়জুল করীম পেয়েছেন ২৮ হাজার ৮২৩ ভোট।

বরিশাল-৪ (হিজলা-মেহেন্দীগঞ্জ) আসনে প্রার্থী ছিলেন চরমোনাই পীরের আরেক ভাই সৈয়দ ইছহাক মুহাম্মদ আবুল খায়ের। তিনি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সহকারী মহাসচিব এবং বাংলাদেশ কোরআন শিক্ষা বোর্ডের নির্বাহী চেয়ারম্যান।

প্রাপ্ত ফল অনুযায়ী, সৈয়দ ইছহাক পেয়েছেন ৩৬ হাজার ৭৫৩ ভোট। একই আসনে বিএনপির প্রার্থী রাজীব আহসান পেয়েছেন ১ লাখ ২৮ হাজার ৩২২ ভোট এবং জামায়াতের প্রার্থী মোহাম্মদ আবদুল জব্বার পেয়েছেন ৭৪ হাজার ৬৮৪ ভোট।

পীরের আরেক ভাই মাওলানা সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ ঢাকা-৪ আসনে প্রার্থী ছিলেন। তিনি ইসলামী আন্দোলনের প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং চরমোনাই আহছানাবাদ রশীদিয়া কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ। এ আসনে মোট ভোট পড়েছে ৪৫ শতাংশ। জামায়াতের প্রার্থী সৈয়দ জয়নুল আবেদীন ৭৭ হাজার ৩৬৭ ভোট পেয়ে এ আসনে জয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী তানভীর আহমেদ পেয়েছেন ৭৪ হাজার ৪৪৭ ভোট। আর হাতপাখা প্রতীকে মোসাদ্দেক বিল্লাহ পেয়েছেন মাত্র ৬ হাজার ৫১৮ ভোট। এতে তার জামানতও রক্ষা হয়নি।

ভোটের ফলাফল ঘোষণার পর ফয়জুল করীম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া স্ট্যাটাসে বরিশাল-৫ আসনে নিজের প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যা তুলে ধরে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

এবারের নির্বাচনে বরিশাল বিভাগের কয়েকটি আসনে আলোচনায় ছিলেন ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীরা। তাদের মধ্যে পিরোজপুর-৩ (মঠবাড়িয়া) আসনে এই দলে যোগদান করেন সাবেক সংসদ সদস্য রুস্তম আলী ফরাজী, পটুয়াখালী-৪ (কলাপাড়া-রাঙ্গাবালী) আসনে বিএনপি থেকে যোগদানকারী সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ও বরগুনা-১ (সদর-আমতলী-তালতলী) আসনে মাওলানা অলি উল্লাহ।

তবে তাদের মধ্যে বরগুনা-১ আসনের অলি উল্লাহ ছাড়া সবাই হেরেছেন। পটুয়াখালী-৪ আসনে বিএনপির এ বি এম মোশাররফ হোসেন ১ লাখ ২৪ হাজার ১৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। মোস্তাফিজুর রহমান পেয়েছেন ৭০ হাজার ১২৭ ভোট।

অপরদিকে পিরোজপুর-৩ আসনে বিএনপির রুহুল আমীন দুলাল ৬৩ হাজার ৭৯১ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। এখানে এনসিপির প্রার্থী শামীম হামিদী (শাপলা কলি) ৩৬ হাজার ৬১৬ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় এবং রুস্তম আলী ফরাজী (হাতপাখা) ৩৫ হাজার ৯৬৮ ভোট পেয়ে তৃতীয় হয়েছেন।

১৯৮৭ সালে দলটি প্রতিষ্ঠার পর এই প্রথম জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পেল ইসলামী আন্দোলন।