ঢাকা ০৭:৪৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ মার্চ ২০২৬, ৯ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম:
Logo ট্রাম্পের হামলা স্থগিতের পর ইরান জুড়ে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপক হামলা Logo নারায়ণগঞ্জে চাঁদা না দেওয়ায় গুঁড়িয়ে দিয়েছে বাড়ি Logo বড় হুমকির মুখে বৈশ্বিক অর্থনীতি: আইইএর প্রধান Logo যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া চুক্তি বাস্তবায়নে কাজ করবে সরকার: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী Logo তারেক–মোদির ঈদ শুভেচ্ছা, পূর্বের বন্ধুত্বের সেতুবন্ধনে বাংলাদেশ Logo সামনে বাড়বে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম: মির্জা ফখরুল Logo ট্রাম্পের হরমুজ প্রণালি রক্ষার আহ্বানে সাড়া দিচ্ছে মিত্ররা Logo পাবনায় বিএনপির দুপক্ষের সংঘর্ষ, গুলিতে গৃহবধূ নিহত Logo ৯২ শতাংশ মার্কিন নাগরিক ইরান যুদ্ধ শেষের পক্ষে Logo পুলিশের সামনে সালিশে বিএনপি নেতার পিটুনিতে বৃদ্ধার মৃত্যু

বড় হুমকির মুখে বৈশ্বিক অর্থনীতি: আইইএর প্রধান

Astha DESK
  • আপডেট সময় : ০৬:১৫:১০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ মার্চ ২০২৬
  • / ১০০৪ বার পড়া হয়েছে

বড় হুমকির মুখে বৈশ্বিক অর্থনীতি: আইইএর প্রধান

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ

সোমবার অস্ট্রেলিয়ার ক্যানবেরা প্রেস ক্লাবে বক্তব্য রাখেন আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার প্রধান ফাতিহ বিরোল। ছবি: রয়টার্স

ইরান যুদ্ধের জের ধরে সৃষ্ট জ্বালানি সংকট বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য বড় ধরনের হুমকি তৈরি করছে বলে সতর্ক করে দিয়েছেন আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) পরিচালক ফাতিহ বিরোল।

চলমান সংকটকে গত শতকের সত্তরের দশকের জ্বালানি সংকট ও ২০২২ সালে রাশিয়ার ইউক্রেন আগ্রাসনের প্রভাবের সঙ্গে তুলনা করে বিরোল বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে এই সংকট আসলে দুটি— একটি তেল সংকট, আরেকটি গ্যাস সংকট। সব মিলিয়ে একটি বড় সংকট ঘনিয়ে এসেছে।

সোমবার (২৩ মার্চ) সকালে অস্ট্রেলিয়ার ক্যানবেরায় ন্যাশনাল প্রেস ক্লাবে বক্তব্য দিতে গিয়ে জ্বালানি সংস্থার এই প্রধান এ কথা বলেন।

যে সংকট নিয়ে কথা হচ্ছে তার সূচনা গত ২৮ ফেব্রুয়ারি। সে দিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর ইরানের পালটা হামলায় শুরু হয় যুদ্ধ। তিন সপ্তাহের এ যুদ্ধে এরই মধ্যে সহস্রাধিক ইরানি নাগরিক নিহত হয়েছেন। সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ ইরানের নেতৃত্বস্থানীয় অনেকেও প্রাণ হারিয়েছেন।

জবাব হিসেবে ইসরায়েল ছাড়াও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইরান, যেসব দেশে মার্কিন ঘাঁটি রয়েছে। এ ছাড়া নিজেদের ছাড়া বাকি সব দেশের জাহাজের জন্য হরমুজ প্রণালি বন্ধ রেখেছে ইরান, যে নৌ রুট বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল পরিবহন করে থাকে। এতে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের সংকট শুরু হয়েছে।

আইইএ পরিচালক ফাতিহ বিরোল বলেন, ‘বৈশ্বিক অর্থনীতি আজ বড় ধরনের হুমকির মুখে। আমি আশা করি, যত দ্রুতসম্ভব এই সংকটের সমাধান হবে তবে এ পরিস্থিতি এভাবে চলতে থাকলে কোনো দেশই এর প্রভাব থেকে রেহাই পাবে না। তাই বৈশ্বিকভাবে সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।’

বিরোল জানান, চলমান সংঘাতে অঞ্চলের অন্তত ৪০টি জ্বালানি স্থাপনা ‘গুরুতর বা অত্যন্ত গুরুতরভাবে’ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি আরও বলেন, অতিরিক্ত মজুত তেল ছাড়ার বিষয়ে আইইএ এশিয়া ও ইউরোপের সরকারগুলোর সঙ্গে আলোচনা করছে।

এর আগে চলতি মাসের শুরুতে আইইএর সদস্য দেশগুলো বৈশ্বিক অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি মোকাবিলায় কৌশলগত মজুত থেকে রেকর্ড ৪০ কোটি (৪০০ মিলিয়ন) ব্যারেল তেল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

বিরোল বলেন, প্রয়োজন হলে অবশ্যই আমরা তা করব। আমরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করব, বাজার বিশ্লেষণ করব এবং সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে সে অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেব।

দৈনিক আস্থা/এমএইচ

ট্যাগস :

বড় হুমকির মুখে বৈশ্বিক অর্থনীতি: আইইএর প্রধান

আপডেট সময় : ০৬:১৫:১০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ মার্চ ২০২৬

বড় হুমকির মুখে বৈশ্বিক অর্থনীতি: আইইএর প্রধান

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ

সোমবার অস্ট্রেলিয়ার ক্যানবেরা প্রেস ক্লাবে বক্তব্য রাখেন আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার প্রধান ফাতিহ বিরোল। ছবি: রয়টার্স

ইরান যুদ্ধের জের ধরে সৃষ্ট জ্বালানি সংকট বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য বড় ধরনের হুমকি তৈরি করছে বলে সতর্ক করে দিয়েছেন আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) পরিচালক ফাতিহ বিরোল।

চলমান সংকটকে গত শতকের সত্তরের দশকের জ্বালানি সংকট ও ২০২২ সালে রাশিয়ার ইউক্রেন আগ্রাসনের প্রভাবের সঙ্গে তুলনা করে বিরোল বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে এই সংকট আসলে দুটি— একটি তেল সংকট, আরেকটি গ্যাস সংকট। সব মিলিয়ে একটি বড় সংকট ঘনিয়ে এসেছে।

সোমবার (২৩ মার্চ) সকালে অস্ট্রেলিয়ার ক্যানবেরায় ন্যাশনাল প্রেস ক্লাবে বক্তব্য দিতে গিয়ে জ্বালানি সংস্থার এই প্রধান এ কথা বলেন।

যে সংকট নিয়ে কথা হচ্ছে তার সূচনা গত ২৮ ফেব্রুয়ারি। সে দিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর ইরানের পালটা হামলায় শুরু হয় যুদ্ধ। তিন সপ্তাহের এ যুদ্ধে এরই মধ্যে সহস্রাধিক ইরানি নাগরিক নিহত হয়েছেন। সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ ইরানের নেতৃত্বস্থানীয় অনেকেও প্রাণ হারিয়েছেন।

জবাব হিসেবে ইসরায়েল ছাড়াও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইরান, যেসব দেশে মার্কিন ঘাঁটি রয়েছে। এ ছাড়া নিজেদের ছাড়া বাকি সব দেশের জাহাজের জন্য হরমুজ প্রণালি বন্ধ রেখেছে ইরান, যে নৌ রুট বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল পরিবহন করে থাকে। এতে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের সংকট শুরু হয়েছে।

আইইএ পরিচালক ফাতিহ বিরোল বলেন, ‘বৈশ্বিক অর্থনীতি আজ বড় ধরনের হুমকির মুখে। আমি আশা করি, যত দ্রুতসম্ভব এই সংকটের সমাধান হবে তবে এ পরিস্থিতি এভাবে চলতে থাকলে কোনো দেশই এর প্রভাব থেকে রেহাই পাবে না। তাই বৈশ্বিকভাবে সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।’

বিরোল জানান, চলমান সংঘাতে অঞ্চলের অন্তত ৪০টি জ্বালানি স্থাপনা ‘গুরুতর বা অত্যন্ত গুরুতরভাবে’ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি আরও বলেন, অতিরিক্ত মজুত তেল ছাড়ার বিষয়ে আইইএ এশিয়া ও ইউরোপের সরকারগুলোর সঙ্গে আলোচনা করছে।

এর আগে চলতি মাসের শুরুতে আইইএর সদস্য দেশগুলো বৈশ্বিক অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি মোকাবিলায় কৌশলগত মজুত থেকে রেকর্ড ৪০ কোটি (৪০০ মিলিয়ন) ব্যারেল তেল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

বিরোল বলেন, প্রয়োজন হলে অবশ্যই আমরা তা করব। আমরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করব, বাজার বিশ্লেষণ করব এবং সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে সে অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেব।

দৈনিক আস্থা/এমএইচ