বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়ায় ভরাট ও দখল হয়ে গেছে অধিকাংশ খাল
- আপডেট সময় : ১১:১৫:৪০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬
- / ১০১১ বার পড়া হয়েছে
বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়ায় ভরাট ও দখল হয়ে গেছে অধিকাংশ খাল
স্টাফ রিপোর্টারঃ
কুমিল্লার শস্যভান্ডার বুড়িচং ও ব্রাহ্মণপাড়ায়
ভরাট ও দখল হয়ে গেছে অধিকাংশ খাল। কৃষি জমিতে ভালো ফলন পাওয়ার জন্য দুই উপজেলার খালগুলো দ্রুত খনন করা প্রয়োজন। অন্যথায় সামান্য বৃষ্টি হলেই পানি জমাট বেঁধে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়। খাল ও নালাগুলো ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানির প্রবাহ স্থানে স্থানে বাঁধাগ্রস্থ হয়।
সূত্রে জানা যায়, বুড়িচং উপজেলার একটি পৌরসভা ও ৮ টি ইউনিয়নে ২শ ৩টি ছোট-বড় খাল রয়েছে। যার অধিকাংশই অবৈধ দখল, ভরাট ও অযত্নে হারিয়ে গেছে। যার ফলে স্থানীয় কৃষি ও জীববৈচিত্র্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। বুড়িচং পৌরসভার প্রধান খাললটি ময়লা আর্বজনা ফেলে ভরাট করে ফেলায় পয়াতের জলার পানি সঠিক ভাবে নিঃস্কাশন হতে পারে না।
তা ছাড়া রাজাপুর, বাকশীমুল,পীরযাত্রাপুর, ষোলনল, ময়নামতি, মোকাম, ভারেল্লা উত্তর ও দক্ষিণ ইউনিয়নে প্রভাবশালীরা খাল ভরাট করে ঘরবাড়ি ও রাস্তা নির্মাণ করায় পানিপ্রবাহ বন্ধ হয়ে জলাবদ্ধতা ও সেচ সংকটের সৃষ্টি হয়েছে। খালের পানি শুকিয়ে যাওয়ায় হাজার হাজার কৃষক সেচ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে। খাল ভরাট করে বাড়িঘর, দোকানপাট ও রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে। খাল ও জলাশয় উদ্ধারের দাবিতে সচেতন নাগরিক ফোরাম মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান করেছে। এর প্রেক্ষিতে প্রশাসন ভারেল্লা উত্তর ইউনিয়নসহ বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ দখল উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করছে।
দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার মাধ্যমে এই খালগুলো পুনঃখনন ও দখলমুক্ত করা না হলে এলাকাটি স্থায়ী জলাবদ্ধতা ও খরা পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে পারে। অপর দিকে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার অধিকাংশ সরকারি খাল অবৈধ দখল, মাটি ভরাট ও পলি জমে ভরাট হয়ে গেছে, যা স্থানীয় কৃষি ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থায় চরম ভোগান্তি সৃষ্টি করছে।
ইতিমধ্যে এমপি হাজী জসিম উদ্দিন ভরাট ও দখলকৃত খাল উদ্ধারের ঘোষণা দিয়েছেন। ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার অবৈধ দখল ও ভরাটকৃত উপজেলার বিভিন্ন এলাকায়, যেমন- চান্দলা ও মাধবপুর ইউনিয়নের, অনেক খালের অংশ দখল করে পুকুর, ঘরবাড়ি এবং রেস্টুরেন্ট নির্মাণ করা হয়েছে।
খালগুলো ভরাট হওয়ার কারণে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, ফলে স্থানীয় কৃষকরা সেচ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এবং জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। বড়ধুশিয়া দক্ষিণ বাজার এলাকায় প্রশাসন বেদখল হওয়া কিছু স্থানে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেছে এবং ১ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা করেছে।
দৈনিক আস্থা/এমএইচ


















