ঢাকা ০৬:১১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬, ২৭ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম:
Logo জনপ্রতিনিধিদেরকে বাদ দিয়ে দলীয় লোক দিয়ে ত্রাণ বিতরণের নির্দেশ ইউএনও’র Logo ইউনুচ সরকারের ব্যয় বিতর্কে অনিশ্চয়তায় পাতাল মেট্রো রেল প্রকল্প Logo রাজপথে ফিরছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ.লীগ! Logo ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী পাইপলাইন-সুফল পাচ্ছে দেশ Logo জয়নুল আবদিন ফারুককে সতর্ক করল বিএনপি Logo সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হকের জামিন, বাধা নেই কারামুক্তিতে Logo নির্বাচিত সরকারের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিক করছে ভারত Logo জামিন পেলেন সাংবাদিক আনিস আলমগীর: কারামুক্তিতে নেই বাধা Logo ঘুষ চাওয়ার ঘটনা সামনে আসায় আইসিটি’র বিচারপ্রক্রিয়ার উপর আস্থা কমবে Logo অভিযোগ-প্রশ্নে জর্জরিত জুলাই হত্যার বিচার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল

ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী পাইপলাইন-সুফল পাচ্ছে দেশ

Astha DESK
  • আপডেট সময় : ০৩:৪৭:২০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬
  • / ১০১৭ বার পড়া হয়েছে

ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী পাইপলাইন-সুফল পাচ্ছে দেশ

​নিজস্ব প্রতিবেদক:

ঢাকা ভারত-বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অন্যতম বড় প্রকল্প ‘ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী পাইপলাইন’ বর্তমানে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার এক শক্তিশালী স্তম্ভে পরিণত হয়েছে। ভারতের শিলিগুড়ির নুমালিগড় রিফাইনারি থেকে বাংলাদেশের দিনাজপুরের পার্বতীপুর পর্যন্ত বিস্তৃত এই ১৩১.৫ কিলোমিটার দীর্ঘ পাইপলাইনটি উদ্বোধনের পর থেকেই নিয়মিত তেল সরবরাহ নিশ্চিত করছে।

অপবাদ ও বাস্তবতাঃ-এই প্রকল্পটির নির্মাণাধীন সময়ে তৎকালীন বিরোধী দল বিএনপি ও তাদের মিত্রদের পক্ষ থেকে তীব্র সমালোচনা করা হয়েছিল। রাজনৈতিক মহলে অভিযোগ তোলা হয়েছিল যে, এই চুক্তির মাধ্যমে ‘দেশ বিক্রি’ করে দেওয়া হচ্ছে এবং এটি জাতীয় স্বার্থবিরোধী। তবে বর্তমান সময়ে এসে দেখা যাচ্ছে, এই পাইপলাইনের মাধ্যমেই অত্যন্ত সাশ্রয়ী ও দ্রুততম সময়ে ডিজেল আমদানি করা সম্ভব হচ্ছে।

​প্রকল্প সংশ্লিষ্ট তথ্যমতে, এই পাইপলাইনের মাধ্যমে বছরে প্রায় ১ মিলিয়ন মেট্রিক টন ডিজেল আমদানির সক্ষমতা রয়েছে। যা উত্তরাঞ্চলের ১৬টি জেলায় জ্বালানি সরবরাহকে আরও স্থিতিশীল করে তুলেছে।

প্রকল্পের গুরুত্বঃ-

সাশ্রয়ী পরিবহনঃ-আগে রেল ওয়াগনের মাধ্যমে ভারত থেকে তেল আনতে যে সময় ও খরচ হতো, পাইপলাইনের মাধ্যমে তা বহুগুণ কমে এসেছে।

জ্বালানি নিরাপত্তাঃ-আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা থাকলেও প্রতিবেশী দেশ থেকে সরাসরি পাইপলাইনে তেল আসা দেশের জ্বালানি মজুতকে আরও শক্তিশালী করেছে।

অবকাঠামোগত উন্নয়নঃ-এটি তৎকালীন শেখ হাসিনা সরকারের গৃহীত দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে।

​রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ ও বর্তমান প্রেক্ষাপট
​তৎকালীন সময় ওঠা ‘দেশ বিক্রির’ অভিযোগগুলো এখন ফিকে হয়ে আসছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তখন যে অভিযোগগুলো তোলা হয়েছিল তার কোনোটিরই সুনির্দিষ্ট প্রমাণ বা চুক্তিতে কোনো ক্ষতিকর ধারা খুঁজে পাওয়া যায়নি। বর্তমানে বিএনপি ক্ষমতায় থাকার পরও এই অবকাঠামোর প্রয়োজনীয়তা এবং উপযোগিতা একইভাবে বজায় রয়েছে।

সমালোচকদের প্রতি এখন সাধারণ জনগণের প্রশ্ন—যদি সত্যিই দেশের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ হওয়ার মতো কোনো চুক্তি থেকে থাকে, তবে ক্ষমতায় থাকাবস্থায় তা প্রকাশ বা সংশোধন করতে এখন আর কোনো বাধা নেই।

​সবশেষে, রাজনৈতিক বক্তব্য আর মাঠপর্যায়ের বাস্তবতার যে বিস্তর ফারাক থাকে, সচল এই মৈত্রী পাইপলাইন তারই এক বাস্তব প্রমাণ।

আস্থা/এমএইচ

ট্যাগস :

ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী পাইপলাইন-সুফল পাচ্ছে দেশ

আপডেট সময় : ০৩:৪৭:২০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬

ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী পাইপলাইন-সুফল পাচ্ছে দেশ

​নিজস্ব প্রতিবেদক:

ঢাকা ভারত-বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অন্যতম বড় প্রকল্প ‘ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী পাইপলাইন’ বর্তমানে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার এক শক্তিশালী স্তম্ভে পরিণত হয়েছে। ভারতের শিলিগুড়ির নুমালিগড় রিফাইনারি থেকে বাংলাদেশের দিনাজপুরের পার্বতীপুর পর্যন্ত বিস্তৃত এই ১৩১.৫ কিলোমিটার দীর্ঘ পাইপলাইনটি উদ্বোধনের পর থেকেই নিয়মিত তেল সরবরাহ নিশ্চিত করছে।

অপবাদ ও বাস্তবতাঃ-এই প্রকল্পটির নির্মাণাধীন সময়ে তৎকালীন বিরোধী দল বিএনপি ও তাদের মিত্রদের পক্ষ থেকে তীব্র সমালোচনা করা হয়েছিল। রাজনৈতিক মহলে অভিযোগ তোলা হয়েছিল যে, এই চুক্তির মাধ্যমে ‘দেশ বিক্রি’ করে দেওয়া হচ্ছে এবং এটি জাতীয় স্বার্থবিরোধী। তবে বর্তমান সময়ে এসে দেখা যাচ্ছে, এই পাইপলাইনের মাধ্যমেই অত্যন্ত সাশ্রয়ী ও দ্রুততম সময়ে ডিজেল আমদানি করা সম্ভব হচ্ছে।

​প্রকল্প সংশ্লিষ্ট তথ্যমতে, এই পাইপলাইনের মাধ্যমে বছরে প্রায় ১ মিলিয়ন মেট্রিক টন ডিজেল আমদানির সক্ষমতা রয়েছে। যা উত্তরাঞ্চলের ১৬টি জেলায় জ্বালানি সরবরাহকে আরও স্থিতিশীল করে তুলেছে।

প্রকল্পের গুরুত্বঃ-

সাশ্রয়ী পরিবহনঃ-আগে রেল ওয়াগনের মাধ্যমে ভারত থেকে তেল আনতে যে সময় ও খরচ হতো, পাইপলাইনের মাধ্যমে তা বহুগুণ কমে এসেছে।

জ্বালানি নিরাপত্তাঃ-আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা থাকলেও প্রতিবেশী দেশ থেকে সরাসরি পাইপলাইনে তেল আসা দেশের জ্বালানি মজুতকে আরও শক্তিশালী করেছে।

অবকাঠামোগত উন্নয়নঃ-এটি তৎকালীন শেখ হাসিনা সরকারের গৃহীত দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে।

​রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ ও বর্তমান প্রেক্ষাপট
​তৎকালীন সময় ওঠা ‘দেশ বিক্রির’ অভিযোগগুলো এখন ফিকে হয়ে আসছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তখন যে অভিযোগগুলো তোলা হয়েছিল তার কোনোটিরই সুনির্দিষ্ট প্রমাণ বা চুক্তিতে কোনো ক্ষতিকর ধারা খুঁজে পাওয়া যায়নি। বর্তমানে বিএনপি ক্ষমতায় থাকার পরও এই অবকাঠামোর প্রয়োজনীয়তা এবং উপযোগিতা একইভাবে বজায় রয়েছে।

সমালোচকদের প্রতি এখন সাধারণ জনগণের প্রশ্ন—যদি সত্যিই দেশের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ হওয়ার মতো কোনো চুক্তি থেকে থাকে, তবে ক্ষমতায় থাকাবস্থায় তা প্রকাশ বা সংশোধন করতে এখন আর কোনো বাধা নেই।

​সবশেষে, রাজনৈতিক বক্তব্য আর মাঠপর্যায়ের বাস্তবতার যে বিস্তর ফারাক থাকে, সচল এই মৈত্রী পাইপলাইন তারই এক বাস্তব প্রমাণ।

আস্থা/এমএইচ