ঢাকা ০৮:০৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম:
Logo গুইমারায় শহীদ জিয়া স্মৃতি সংসদের উদ্যোগে উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত Logo খাগড়াছড়িতে অতিঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলিতে সুষ্ঠু ভোট গ্রহণের দাবিতে ৪ প্রার্থীর সংবাদ সম্মেলন Logo মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে নিয়ে মিথ্যাচার কোনোভাবেই কাম্য নয়-মাহদী Logo ১৬ মাসে ৫৬০ হয়রানি, ১১৪৪ সাংবাদিক আক্রান্ত Logo ভোলায় প্রচারকে কেন্দ্র করে বিএনপি-জামায়াতের সংঘর্ষ Logo উখিয়ায় বিএনপি ছেড়ে ৫শ নেতাকর্মী জামায়াতে যোগদান Logo প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে তারেক রহমান: দ্য ইকোনমিস্ট Logo খাগড়াছড়ি প্রার্থীদের সাথে খাগড়াছড়িতে সেনা বাহীনির মতবিনিময় Logo খাগড়াছড়ি সংসদীয় আসনে ৬ প্রার্থীর বৈঠকের গুঞ্জন Logo খাগড়াছড়িতে ২০৪টি কেন্দ্রের মধ্যে ১৮৫টিকেই ঝুঁকিপূর্ণ

মহাসড়কের গাছ কাটছে চা বাগান কতৃপক্ষ

Astha DESK
  • আপডেট সময় : ০৫:৩৬:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ নভেম্বর ২০২৩
  • / ১০৭৪ বার পড়া হয়েছে

মহাসড়কের গাছ কাটছে চা বাগান কতৃপক্ষ

 

স্টাফ রিপোর্টারঃ

চট্টগ্রাম জেলার ফটিকছড়ির উত্তরে অবস্থিত রামগড় চা বাগানে নির্বিচারে গাছ কেটে বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে বাগান কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে।

অভিযোগ রয়েছে আজ বুধবার (১৫ নভেম্বর) বন বিভাগের অনুমতি ছাড়া বাগান ব্যবস্থাপক জয়নাল আবেদীনের নেতৃত্বে এসব গাছ কাটা হচ্ছে। খবর পেয়ে বনবিভাগের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গেলে জয়নাল আবেদীনের নেতৃত্বে শ্রমিকরা মারমুখী আচরণ করে।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, খাগড়াছড়ি-ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে অবস্থিত রামগড় চা বাগান। সড়কের পাশে অবস্থিত গাছ গুলো নির্বিচারে কাটছে বাগান কর্তৃপক্ষ। আজ বুধবার সকাল থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বাগানের ১নং গেইটের পাশে থাকা অন্তত ৩০টি মেহগনি ও ছায়াবৃক্ষ কেটে ট্রাক যোগে অন্যত্র নিয়ে যাওয়া হয়। গাছ কাটার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বাগান ব্যবস্থাপক জয়নাল আবেদীন ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চা বাগানের কয়েকজন কর্মচারী জানান, বাগান ব্যবস্থাপকের নির্দেশে তারা গাছ কাটছেন।

স্থানীয় সংবাদকর্মী রামগড় টুয়েন্টি ফোর টিভির প্রতিনিধি বেলায়েত হোসেন বলেন, সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে বাগান ব্যবস্থাপক তার সাথে মারমুখী আচরণ করে এবং তার ক্যামেরা ছিনিয়ে নেয়। সব ছবি এবং ভিড়িও ডিলেট করে তার ক্যামেরা ফেরত দেয়।

নারায়নহাট রেঞ্জ কর্মকর্তা ইলিয়াসুর রহমান বলেন, গাছ কাটার খবর পেয়ে আমিসহ বনবিভাগের ৩জন ঘটনাস্থলে যাই। গাছ কাটার কারণ জানতে চাইলে বাগান ব্যবস্থাপক জয়নাল আবেদীন আমাদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং তার নেতৃত্বে চা শ্রমিকরা আমাদের সাথে মারমুখী আচরণ করে।

তিনি আরও জানান, বাগান ব্যবস্থাপক জয়নাল আবেদীন আমাকে বলেন, গাছ গুলো সড়ক ও জনপথ বিভাগ কাটছে। পরবর্তীতে সড়ক ও জনপথ বিভাগের সাথে যোগাযোগ করলে তারা জানান চা বাগান কর্তৃপক্ষকে গাছ কাটার অনুমতি দেওয়া হয়নি। বনবিভাগের উপস্থিত কর্মকর্তাদের সামনেই কর্তনকৃত গাছ গুলো ট্রাকে করে বাগানের ভেতর নিয়ে যাওয়া হয়।

চট্টগ্রাম উত্তর বনবিভাগের বন সংরক্ষক কর্মকর্তা হারুনর রশিদ বলেন, বিনা অনুমতিতে গাছ কাটার সময় বাঁধা দেওয়ায় আমাদের ৩জন বিট কর্মকর্তাকে বাগান ব্যবস্থাপক লাঞ্চিত করেছেন।তার মারমুখী আচরণে কর্মকর্তারা পিছু হটে।

তিনি আরো জানান, এর আগেও বনবিভাগের একাধিক কর্মকর্তাদের সাথে তিনি উশৃঙ্খল আচরণ করেছেন। আমরা খবর পেয়েছি গাছ গুলো চা বাগানের ভেতরে আছে। প্রশাসনকে সাথে নিয়ে আমরা গাছ উদ্ধারে যাবো।

সড়ক ও জনপদ বিভাগের অত্র এলাকার দায়িত্বে নিয়োজিত প্রকৌশলী রোকন উদ্দিন জানান, চা বাগানকে গাছ কাটার অনুমতি দেওয়ার প্রশ্নই আসেনা।

ফটিকছড়ি উপজেলা কর্মকর্তা মোজাম্মেল হক বলেন, তিনি গতকাল যোগদান করেছেন। তদন্ত করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মদ আব্দুল মালেক বলেন, বিনা অনুমতিতে গাছ কাটা আইনত অপরাধ। এ বিষয়ে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ট্যাগস :

মহাসড়কের গাছ কাটছে চা বাগান কতৃপক্ষ

আপডেট সময় : ০৫:৩৬:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ নভেম্বর ২০২৩

মহাসড়কের গাছ কাটছে চা বাগান কতৃপক্ষ

 

স্টাফ রিপোর্টারঃ

চট্টগ্রাম জেলার ফটিকছড়ির উত্তরে অবস্থিত রামগড় চা বাগানে নির্বিচারে গাছ কেটে বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে বাগান কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে।

অভিযোগ রয়েছে আজ বুধবার (১৫ নভেম্বর) বন বিভাগের অনুমতি ছাড়া বাগান ব্যবস্থাপক জয়নাল আবেদীনের নেতৃত্বে এসব গাছ কাটা হচ্ছে। খবর পেয়ে বনবিভাগের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গেলে জয়নাল আবেদীনের নেতৃত্বে শ্রমিকরা মারমুখী আচরণ করে।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, খাগড়াছড়ি-ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে অবস্থিত রামগড় চা বাগান। সড়কের পাশে অবস্থিত গাছ গুলো নির্বিচারে কাটছে বাগান কর্তৃপক্ষ। আজ বুধবার সকাল থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বাগানের ১নং গেইটের পাশে থাকা অন্তত ৩০টি মেহগনি ও ছায়াবৃক্ষ কেটে ট্রাক যোগে অন্যত্র নিয়ে যাওয়া হয়। গাছ কাটার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বাগান ব্যবস্থাপক জয়নাল আবেদীন ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চা বাগানের কয়েকজন কর্মচারী জানান, বাগান ব্যবস্থাপকের নির্দেশে তারা গাছ কাটছেন।

স্থানীয় সংবাদকর্মী রামগড় টুয়েন্টি ফোর টিভির প্রতিনিধি বেলায়েত হোসেন বলেন, সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে বাগান ব্যবস্থাপক তার সাথে মারমুখী আচরণ করে এবং তার ক্যামেরা ছিনিয়ে নেয়। সব ছবি এবং ভিড়িও ডিলেট করে তার ক্যামেরা ফেরত দেয়।

নারায়নহাট রেঞ্জ কর্মকর্তা ইলিয়াসুর রহমান বলেন, গাছ কাটার খবর পেয়ে আমিসহ বনবিভাগের ৩জন ঘটনাস্থলে যাই। গাছ কাটার কারণ জানতে চাইলে বাগান ব্যবস্থাপক জয়নাল আবেদীন আমাদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং তার নেতৃত্বে চা শ্রমিকরা আমাদের সাথে মারমুখী আচরণ করে।

তিনি আরও জানান, বাগান ব্যবস্থাপক জয়নাল আবেদীন আমাকে বলেন, গাছ গুলো সড়ক ও জনপথ বিভাগ কাটছে। পরবর্তীতে সড়ক ও জনপথ বিভাগের সাথে যোগাযোগ করলে তারা জানান চা বাগান কর্তৃপক্ষকে গাছ কাটার অনুমতি দেওয়া হয়নি। বনবিভাগের উপস্থিত কর্মকর্তাদের সামনেই কর্তনকৃত গাছ গুলো ট্রাকে করে বাগানের ভেতর নিয়ে যাওয়া হয়।

চট্টগ্রাম উত্তর বনবিভাগের বন সংরক্ষক কর্মকর্তা হারুনর রশিদ বলেন, বিনা অনুমতিতে গাছ কাটার সময় বাঁধা দেওয়ায় আমাদের ৩জন বিট কর্মকর্তাকে বাগান ব্যবস্থাপক লাঞ্চিত করেছেন।তার মারমুখী আচরণে কর্মকর্তারা পিছু হটে।

তিনি আরো জানান, এর আগেও বনবিভাগের একাধিক কর্মকর্তাদের সাথে তিনি উশৃঙ্খল আচরণ করেছেন। আমরা খবর পেয়েছি গাছ গুলো চা বাগানের ভেতরে আছে। প্রশাসনকে সাথে নিয়ে আমরা গাছ উদ্ধারে যাবো।

সড়ক ও জনপদ বিভাগের অত্র এলাকার দায়িত্বে নিয়োজিত প্রকৌশলী রোকন উদ্দিন জানান, চা বাগানকে গাছ কাটার অনুমতি দেওয়ার প্রশ্নই আসেনা।

ফটিকছড়ি উপজেলা কর্মকর্তা মোজাম্মেল হক বলেন, তিনি গতকাল যোগদান করেছেন। তদন্ত করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মদ আব্দুল মালেক বলেন, বিনা অনুমতিতে গাছ কাটা আইনত অপরাধ। এ বিষয়ে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।