ঢাকা ০২:২৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম:
Logo পানছড়িতে খালেদা জিয়ার স্বরণে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্টিত Logo ছয় মাসে ব্যাংক থেকে ৬০ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিলো সরকার Logo প্রাণ ফিরছে লোগাং ইউপি শহীদ জিয়া স্মৃতি সংসদে Logo পানছড়িতে ভারতীয় অবৈধ পন্য আটক Logo পানছড়িতে সড়ক নির্মাণে নিম্নমানের খোয়া-রাবিশ ব্যবহার Logo মুসাব্বির হত্যার প্রতিবাদে খাগড়াছড়িতে স্বেচ্ছাসেবক দলের বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ Logo অষ্টগ্রামে জলমহাল দখলকে কেন্দ্র করে অতর্কিত হামলা, ছাত্রদল সভাপতিসহ আহত ৬ Logo পানছড়িতে খালেদা জিয়ার স্বরণে স্বেচ্ছাসেবক দলের আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্টিত Logo ঘরে-বাইরে নিরাপত্তাহীনতা, সারাদেশে বাধাহীন ‘মব’-২০২৫ Logo সড়ক পাশে ফেলে যাওয়া দুই শিশুর বাবার বাড়ি খাগড়াছড়ি

লকডাউনে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে নলছিটির বস্ত্র ব্যবসায়ীরা

Iftekhar Ahamed
  • আপডেট সময় : ০৬:১৮:১০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২১
  • / ১০৬৪ বার পড়া হয়েছে

আমির হোমেন, বিশেষ প্রতিনিধিঃ

করোনার ভয়াবহতা রাতের আধারের মতো সমাজের প্রতিটি জায়গায়কে গ্রাস করে যাচ্ছে। এখন নিজের অস্তিত্ব ধরে রাখার জন্য সবাইকে তার সর্বোচ্চ শক্তিকে কাজে লাগাতে হচ্ছে।

এ যেন বেঁচে থাকার জন্য মরনপন যুদ্ধ। বৈশ্বিক এ মহামারীর প্রভাব পড়েছে প্রতিটা ব্যবসার সাথে জরিত তৃনমূল মানুষদের উপর। বস্ত্র ব্যবসায়ীরা সাধারনত বছরের বাকি এগারো মাসের থেকে বেশ কয়েকগুন বেশি বিক্রি করে থাকেন ইদকে সামনে রেখে রমযান মাসের দিনগুলোতে।

কারন ইদে প্রতিটা মানুষই তার প্রিয়জনকে নতুন পোশাক কিনে দিতে পছন্দ করেন। মুসলিম সমাজে রমজান মাসের দানকে আরও অধিক গুরুত্ব দেওয়া হয় তাই এসময় অনেকেই দান হিসেবে বন্ত্র সামগ্রী প্রদান করে থাকেন।

নলছিটি উপজেলা শহরে ছোট বড় মিলিয়ে প্রায় শতাধিক বস্ত্রবিতানের দোকান রয়েছে। করোনার কারনে মানুষের আর্থিক অনটনে এমনিতেই তারা ব্যবসায়িক মন্দার মধ্যে আছেন। অনেকে বুক আশায় বেধে ছিলেন যে সামনের রমজানে হয়তো তাদের ব্যবসায়িক ক্ষতি কিছুটা হলেও পুষিয়ে নিতে পারবেন।

তবে হঠাৎ করোনার প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় সরকারের পক্ষ থেকে কঠোর বিধিনিষেধসহ লকডাউন দেয়া হয়েছে। প্রশাসনের কর্তারা লকডাউন কার্যকরে কঠোর অবস্থানে আছেন। দোকান খুললেই গুনতে হচ্ছে মোটা অংকের জরিমানা,এছাড়া ক্রেতার সংখ্যা নেই বললেই চলে।

এ ব্যাপারে নলছিটির ষ্টেশন রোডে অবস্থিত মেসার্স সততা ক্লোথ স্টোরের পরিচালক মো. রিয়াজ হোসেন জানান, বিগত বছরগুলোতে শবে বরাতের পর থেকেই প্রতিদিন বিশ হাজার টাকা বা তার বেশি টাকার বস্ত্র বিক্রি করতাম। কিন্তু এবারে লকডাউন থাকায় দোকানই খুলতে পারছি না।

গত বছরও একই অবস্থা হয়েছে পুরো রমজান মাস দোকান বন্ধ ছিল তাই এভাবে চলতে থাকলে ব্যবসা গুটিয়ে নেওয়া ছাড়া আর কোন উপায় থাকবে না।

এক হিসেবে দেখা গেছে নলছিটিতে রযজান জুড়ে শুধু বস্ত্র ব্যবসায়ীরা প্রতিদিন ১৫ লাখ টাকার আর্থিক লেনদেন করে থাকেন যা পুরো রমজান মাসের হিসেবে কয়েক কোটি টাকার এক বিশাল অংক। এই লেনদেন নলছিটি উপজেলার গ্রামীন অর্থনীতিতে এক বিশাল বুস্ট হিসেবে কাজ করে। এক কথায় বলা যায় এখানের লোকাল অর্থনীতি এর অবদান অপরিসীম।

নলছিটি বস্ত্র ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি ও রমনি বস্ত্রালয়ের পরিচালক মো. নেওয়াজ হোসাইন বলেন, করোনা মহামারিতে সরকারের গৃহিত পদক্ষেপের সাথে আমারও একমত কারন সবার আগে জীবন বাচাঁনো জরুরী কিন্তু সরকারের উচিত ছিল আমরা যারা খুচরা ব্যবসায়ী আছি তাদেরকে একটি সিস্টেমের মধ্য থেকে সীমিত পরিসরে পন্য বিক্রি করার সুযোগ তৈরি করে দেওয়া।

তিনি আরও বলেন অনেক ক্ষেত্রেই সীমিত পরিসরে অনেক কাজ চলছে শুধু আমাদের বেলায় নেই। এছাড়া খুচরা বস্ত্র ব্যবসায়ীদের কোন ধরনের সরকারী প্রনোদনা দেওয়া হচ্ছে না বা দিলেও নলছিটির কোন বন্ত্র ব্যবসায়ী তা পাচ্ছেন না। যদিও আমরা করোনা বিস্তার রোধে দেওয়া লকডাউনে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্থ্য হচ্ছি।

এ ব্যাপারে নলছিটি উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুম্পা সিকদার বলেন,সরকারি নির্দেশনা অবশ্যই সবাইকে মেনে চলতে হবে। তারা দোকান খুলতে পারছেন না এটা তাদের জন্য এই সময়ে অনেক বড় ধরনের ব্যবসায়িক ক্ষতি। সরকারি প্রনোদনা যদি আসে আমি অবশ্যই তাদেরকে সহায়তা করার চেষ্টা করবো।

ট্যাগস :

লকডাউনে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে নলছিটির বস্ত্র ব্যবসায়ীরা

আপডেট সময় : ০৬:১৮:১০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২১

আমির হোমেন, বিশেষ প্রতিনিধিঃ

করোনার ভয়াবহতা রাতের আধারের মতো সমাজের প্রতিটি জায়গায়কে গ্রাস করে যাচ্ছে। এখন নিজের অস্তিত্ব ধরে রাখার জন্য সবাইকে তার সর্বোচ্চ শক্তিকে কাজে লাগাতে হচ্ছে।

এ যেন বেঁচে থাকার জন্য মরনপন যুদ্ধ। বৈশ্বিক এ মহামারীর প্রভাব পড়েছে প্রতিটা ব্যবসার সাথে জরিত তৃনমূল মানুষদের উপর। বস্ত্র ব্যবসায়ীরা সাধারনত বছরের বাকি এগারো মাসের থেকে বেশ কয়েকগুন বেশি বিক্রি করে থাকেন ইদকে সামনে রেখে রমযান মাসের দিনগুলোতে।

কারন ইদে প্রতিটা মানুষই তার প্রিয়জনকে নতুন পোশাক কিনে দিতে পছন্দ করেন। মুসলিম সমাজে রমজান মাসের দানকে আরও অধিক গুরুত্ব দেওয়া হয় তাই এসময় অনেকেই দান হিসেবে বন্ত্র সামগ্রী প্রদান করে থাকেন।

নলছিটি উপজেলা শহরে ছোট বড় মিলিয়ে প্রায় শতাধিক বস্ত্রবিতানের দোকান রয়েছে। করোনার কারনে মানুষের আর্থিক অনটনে এমনিতেই তারা ব্যবসায়িক মন্দার মধ্যে আছেন। অনেকে বুক আশায় বেধে ছিলেন যে সামনের রমজানে হয়তো তাদের ব্যবসায়িক ক্ষতি কিছুটা হলেও পুষিয়ে নিতে পারবেন।

তবে হঠাৎ করোনার প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় সরকারের পক্ষ থেকে কঠোর বিধিনিষেধসহ লকডাউন দেয়া হয়েছে। প্রশাসনের কর্তারা লকডাউন কার্যকরে কঠোর অবস্থানে আছেন। দোকান খুললেই গুনতে হচ্ছে মোটা অংকের জরিমানা,এছাড়া ক্রেতার সংখ্যা নেই বললেই চলে।

এ ব্যাপারে নলছিটির ষ্টেশন রোডে অবস্থিত মেসার্স সততা ক্লোথ স্টোরের পরিচালক মো. রিয়াজ হোসেন জানান, বিগত বছরগুলোতে শবে বরাতের পর থেকেই প্রতিদিন বিশ হাজার টাকা বা তার বেশি টাকার বস্ত্র বিক্রি করতাম। কিন্তু এবারে লকডাউন থাকায় দোকানই খুলতে পারছি না।

গত বছরও একই অবস্থা হয়েছে পুরো রমজান মাস দোকান বন্ধ ছিল তাই এভাবে চলতে থাকলে ব্যবসা গুটিয়ে নেওয়া ছাড়া আর কোন উপায় থাকবে না।

এক হিসেবে দেখা গেছে নলছিটিতে রযজান জুড়ে শুধু বস্ত্র ব্যবসায়ীরা প্রতিদিন ১৫ লাখ টাকার আর্থিক লেনদেন করে থাকেন যা পুরো রমজান মাসের হিসেবে কয়েক কোটি টাকার এক বিশাল অংক। এই লেনদেন নলছিটি উপজেলার গ্রামীন অর্থনীতিতে এক বিশাল বুস্ট হিসেবে কাজ করে। এক কথায় বলা যায় এখানের লোকাল অর্থনীতি এর অবদান অপরিসীম।

নলছিটি বস্ত্র ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি ও রমনি বস্ত্রালয়ের পরিচালক মো. নেওয়াজ হোসাইন বলেন, করোনা মহামারিতে সরকারের গৃহিত পদক্ষেপের সাথে আমারও একমত কারন সবার আগে জীবন বাচাঁনো জরুরী কিন্তু সরকারের উচিত ছিল আমরা যারা খুচরা ব্যবসায়ী আছি তাদেরকে একটি সিস্টেমের মধ্য থেকে সীমিত পরিসরে পন্য বিক্রি করার সুযোগ তৈরি করে দেওয়া।

তিনি আরও বলেন অনেক ক্ষেত্রেই সীমিত পরিসরে অনেক কাজ চলছে শুধু আমাদের বেলায় নেই। এছাড়া খুচরা বস্ত্র ব্যবসায়ীদের কোন ধরনের সরকারী প্রনোদনা দেওয়া হচ্ছে না বা দিলেও নলছিটির কোন বন্ত্র ব্যবসায়ী তা পাচ্ছেন না। যদিও আমরা করোনা বিস্তার রোধে দেওয়া লকডাউনে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্থ্য হচ্ছি।

এ ব্যাপারে নলছিটি উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুম্পা সিকদার বলেন,সরকারি নির্দেশনা অবশ্যই সবাইকে মেনে চলতে হবে। তারা দোকান খুলতে পারছেন না এটা তাদের জন্য এই সময়ে অনেক বড় ধরনের ব্যবসায়িক ক্ষতি। সরকারি প্রনোদনা যদি আসে আমি অবশ্যই তাদেরকে সহায়তা করার চেষ্টা করবো।