ঢাকা ০৫:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম:
Logo গুইমারায় শহীদ জিয়া স্মৃতি সংসদের উদ্যোগে উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত Logo খাগড়াছড়িতে অতিঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলিতে সুষ্ঠু ভোট গ্রহণের দাবিতে ৪ প্রার্থীর সংবাদ সম্মেলন Logo মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে নিয়ে মিথ্যাচার কোনোভাবেই কাম্য নয়-মাহদী Logo ১৬ মাসে ৫৬০ হয়রানি, ১১৪৪ সাংবাদিক আক্রান্ত Logo ভোলায় প্রচারকে কেন্দ্র করে বিএনপি-জামায়াতের সংঘর্ষ Logo উখিয়ায় বিএনপি ছেড়ে ৫শ নেতাকর্মী জামায়াতে যোগদান Logo প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে তারেক রহমান: দ্য ইকোনমিস্ট Logo খাগড়াছড়ি প্রার্থীদের সাথে খাগড়াছড়িতে সেনা বাহীনির মতবিনিময় Logo খাগড়াছড়ি সংসদীয় আসনে ৬ প্রার্থীর বৈঠকের গুঞ্জন Logo খাগড়াছড়িতে ২০৪টি কেন্দ্রের মধ্যে ১৮৫টিকেই ঝুঁকিপূর্ণ

৬০ লাখ টাকা দেনমোহরে সেই সহকর্মীকে বিয়ে করলেন এসপি মোক্তার

Md Elias
  • আপডেট সময় : ০৯:৪৩:১১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ মার্চ ২০২২
  • / ১০৭৭ বার পড়া হয়েছে

৬০ লাখ টাকা দেনমোহরে সেই সহকর্মীকে বিয়ে করলেন এসপি মোক্তার

আস্থা ডেস্কঃ

ধর্ষণের অভিযোগে মামলা দায়েরকারী সেই নারী সহকর্মীকে (ভুক্তভোগী পুলিশ পরিদর্শক) বিয়ে করেছেন পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পুলিশ সুপার (এসপি) মোক্তার হোসেন। ৬০ লাখ টাকা দেনমোহরে এ বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। এজন্য ধর্ষণ মামলাটির আপসনামায় সই করেছেন বাদী।

আজ সোমবার (৭ মার্চ) ঢাকার ৭ নং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের ভারপ্রাপ্ত বিচারক হাবিবুর রহমান সিদ্দিকীর আদালতে বাদী ও আসামিপক্ষের আইনজীবীর পৃথক আবেদনে বিয়ে ও আপসের কথা জানানো হয়।

গত বছরের ১২ আগস্ট ঢাকার ৭ নং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোছা. কামরুন্নাহারের আদালতে এসপি মোক্তার হোসেনে এর বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে মামলাটি করেন তার সহকর্মী ওই পরিদর্শক। আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে আবেদনটি উত্তরা পূর্ব থানাকে মামলা হিসেবে (এফআইআর) গ্রহণ করার নির্দেশ দেন। মামলার সময় বাগেরহাট জেলার দায়িত্বে ছিলেন মোক্তার। মামলা নথিভুক্ত হওয়ার পর ‘ব্যক্তিগত কারণ’ দেখিয়ে ছুটিতে যান তিনি।

মামলাটির তদন্ত শেষে গত ৩০ জানুয়ারি মোক্তারকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) সিরিয়াস ক্রাইম স্কোয়াডের পরিদর্শক জসিম উদ্দিন। মামলায় সাক্ষী করা হয় ২০ জনকে। সোমবার ওই চার্জশিট গ্রহণের দিন ধার্য ছিল।

এদিন ঢাকার ৭ নং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে আত্মসর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন এসপি মোক্তার। আবেদনে আইনজীবী ৬০ লাখ টাকা দেনমোহরে বাদীর সঙ্গে মোক্তারের বিয়ে হয়েছে বলে জানান এবং আদালতে একটি নিকাহনামা দাখিল করেন। এসময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন মামলার বাদীও। পরে আদালত এসপি মোক্তারের জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন।

আবেদনে মোক্তারের আইনজীবী উল্লেখ করেন, গত ১৯ ডিসেম্বর একটি আপসনামা সম্পাদনপূর্বক বাদী ও বিবাদীর বিয়ে সম্পন্ন হয়। মামলার বাদী পরে মামলা চালাবেন না বলে আপসনামায় উল্লেখ করেন। আসামির বিরুদ্ধে কোথাও কোনো মামলা নেই বিধায় তিনি জামিন পেতে হকদার। আসামি তার পরিবারের একমাত্র উপার্জনশীল ব্যক্তি। মানবিক বিবেচনায় আসামির জামিনের প্রার্থনা করছি।

মামলার বাদী ওই নারী পরিদর্শকও আইনজীবীর মাধ্যমে একটি আবেদন দাখিল করেন আদালতে। আবেদনে উল্লেখ করা হয়, আপসনামা সম্পাদনপূর্বক বাদী ও বিবাদীর বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। বাদী আদালতে সাক্ষ্য দিতে ইচ্ছুক নন। সাক্ষীরাও আদালতে সাক্ষ্য দিতে ইচ্ছুক নন। সেজন্য বাদী মামলা চালাতে আগ্রহী নন, যা আদালতকে অবগত করা হলো।

এ বিষয়ে ট্রাইব্যুনালের রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি আফরোজা ফারহানা আহম্মেদ অরেঞ্জ দৈনিক আস্থাকে বলেন, আজ এসপি মোক্তার আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন। বাদী ও বিবাদীর মধ্যে বিষয়টি নিয়ে আপস-মীমাংসা হয়েছে এবং তাদের মধ্যে বিয়ে হয়েছে বলেও আদালতে কাগজ দাখিল করেন মোক্তার। আদালত শুনানি শেষে তার জামিন মঞ্জুর করেন।

[irp]

ট্যাগস :

৬০ লাখ টাকা দেনমোহরে সেই সহকর্মীকে বিয়ে করলেন এসপি মোক্তার

আপডেট সময় : ০৯:৪৩:১১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ মার্চ ২০২২

৬০ লাখ টাকা দেনমোহরে সেই সহকর্মীকে বিয়ে করলেন এসপি মোক্তার

আস্থা ডেস্কঃ

ধর্ষণের অভিযোগে মামলা দায়েরকারী সেই নারী সহকর্মীকে (ভুক্তভোগী পুলিশ পরিদর্শক) বিয়ে করেছেন পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পুলিশ সুপার (এসপি) মোক্তার হোসেন। ৬০ লাখ টাকা দেনমোহরে এ বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। এজন্য ধর্ষণ মামলাটির আপসনামায় সই করেছেন বাদী।

আজ সোমবার (৭ মার্চ) ঢাকার ৭ নং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের ভারপ্রাপ্ত বিচারক হাবিবুর রহমান সিদ্দিকীর আদালতে বাদী ও আসামিপক্ষের আইনজীবীর পৃথক আবেদনে বিয়ে ও আপসের কথা জানানো হয়।

গত বছরের ১২ আগস্ট ঢাকার ৭ নং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোছা. কামরুন্নাহারের আদালতে এসপি মোক্তার হোসেনে এর বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে মামলাটি করেন তার সহকর্মী ওই পরিদর্শক। আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে আবেদনটি উত্তরা পূর্ব থানাকে মামলা হিসেবে (এফআইআর) গ্রহণ করার নির্দেশ দেন। মামলার সময় বাগেরহাট জেলার দায়িত্বে ছিলেন মোক্তার। মামলা নথিভুক্ত হওয়ার পর ‘ব্যক্তিগত কারণ’ দেখিয়ে ছুটিতে যান তিনি।

মামলাটির তদন্ত শেষে গত ৩০ জানুয়ারি মোক্তারকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) সিরিয়াস ক্রাইম স্কোয়াডের পরিদর্শক জসিম উদ্দিন। মামলায় সাক্ষী করা হয় ২০ জনকে। সোমবার ওই চার্জশিট গ্রহণের দিন ধার্য ছিল।

এদিন ঢাকার ৭ নং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে আত্মসর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন এসপি মোক্তার। আবেদনে আইনজীবী ৬০ লাখ টাকা দেনমোহরে বাদীর সঙ্গে মোক্তারের বিয়ে হয়েছে বলে জানান এবং আদালতে একটি নিকাহনামা দাখিল করেন। এসময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন মামলার বাদীও। পরে আদালত এসপি মোক্তারের জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন।

আবেদনে মোক্তারের আইনজীবী উল্লেখ করেন, গত ১৯ ডিসেম্বর একটি আপসনামা সম্পাদনপূর্বক বাদী ও বিবাদীর বিয়ে সম্পন্ন হয়। মামলার বাদী পরে মামলা চালাবেন না বলে আপসনামায় উল্লেখ করেন। আসামির বিরুদ্ধে কোথাও কোনো মামলা নেই বিধায় তিনি জামিন পেতে হকদার। আসামি তার পরিবারের একমাত্র উপার্জনশীল ব্যক্তি। মানবিক বিবেচনায় আসামির জামিনের প্রার্থনা করছি।

মামলার বাদী ওই নারী পরিদর্শকও আইনজীবীর মাধ্যমে একটি আবেদন দাখিল করেন আদালতে। আবেদনে উল্লেখ করা হয়, আপসনামা সম্পাদনপূর্বক বাদী ও বিবাদীর বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। বাদী আদালতে সাক্ষ্য দিতে ইচ্ছুক নন। সাক্ষীরাও আদালতে সাক্ষ্য দিতে ইচ্ছুক নন। সেজন্য বাদী মামলা চালাতে আগ্রহী নন, যা আদালতকে অবগত করা হলো।

এ বিষয়ে ট্রাইব্যুনালের রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি আফরোজা ফারহানা আহম্মেদ অরেঞ্জ দৈনিক আস্থাকে বলেন, আজ এসপি মোক্তার আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন। বাদী ও বিবাদীর মধ্যে বিষয়টি নিয়ে আপস-মীমাংসা হয়েছে এবং তাদের মধ্যে বিয়ে হয়েছে বলেও আদালতে কাগজ দাখিল করেন মোক্তার। আদালত শুনানি শেষে তার জামিন মঞ্জুর করেন।

[irp]