ঢাকা ০৯:১৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৬, ২০ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

আমেরিকা-ইসরায়েলের নীল নকশা: পদত্যাগ করলেন জাতিসংঘের কূটনীতিক

Astha DESK
  • আপডেট সময় : ০৩:৪৩:০৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬
  • / ১০০৭ বার পড়া হয়েছে

আমেরিকা-ইসরায়েলের নীল নকশা: পদত্যাগ করলেন জাতিসংঘের কূটনীতিক

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ

আমেরিকা-ইসরায়েলের ভয়ঙ্কর নীল নকশা: কেন পদত্যাগ করলেন জাতিসংঘের শীর্ষ কূটনীতিক? কাঁপছে বিশ্ব!

বিশ্বশান্তি রক্ষার বদলে জাতিসংঘের ভেতর বসেই ছক কষা হচ্ছে কোটি কোটি নিরপরাধ মানুষকে পুড়িয়ে মারার? শুনতে অবিশ্বাস্য মনে হলেও এটাই এখন তেতো সত্য। বিশ্ব মোড়ল নামধারী আমেরিকা আর তাদের অবৈধ সন্তান ইসরায়েলের এক ভয়ঙ্কর পারমাণবিক ষড়যন্ত্র ফাঁস করে দিয়ে পদত্যাগ করেছেন জাতিসংঘের জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক মোহাম্মদ সাফা।

তার এই পদত্যাগ কেবল একটি চাকরি ছাড়ার ঘটনা নয়, বরং এটি হলো মানবতার পক্ষে এক বিশাল বিদ্রোহ!

দীর্ঘদিন ধরে ইরানকে দমানোর সব চেষ্টা যখন ব্যর্থ হয়েছে, যখন হিজবুল্লাহ আর হামাসের ধাওয়ায় ইসরায়েলি বাহিনী ইঁদুরের মতো গর্তে ঢুকে পড়ছে, তখন তারা বেছে নিয়েছে এক কাপুরুষোচিত পথ—পারমাণবিক হামলা!

মোহাম্মদ সাফা সাহসিকতার সাথে ফাঁস করেছেন যে, আমেরিকা এখন ইরানে পারমাণবিক হামলার চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছে। আর এই পৈশাচিক কাজে নির্লজ্জের মতো মদত দিচ্ছে খোদ জাতিসংঘ!

মোহাম্মদ সাফা ২০১৩ সাল থেকে জাতিসংঘের একটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্থার নির্বাহী পরিচালক ছিলেন। তার মতো একজন মানুষ যখন নিজের উজ্জ্বল ক্যারিয়ারকে লাথি মেরে পদত্যাগ করেন, তখন বুঝতে হবে বিপদ কতটা কাছাকাছি।

তিনি পরিষ্কার করে বলেছেন, তেহরান কোনো জনশূন্য মরুভূমি নয়। এখানে এক কোটির বেশি মানুষ থাকে। সেখানে শিশু আছে, পরিবার আছে।

তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, আমেরিকা বা ইসরায়েলের এই তথাকথিত ‘গণতন্ত্রের দেবতারা’ যদি ওয়াশিংটন বা লন্ডনে পারমাণবিক হামলা হতো, তবে কি চুপ থাকত? আজ কেন মুসলিম দেশ ইরানের বিরুদ্ধে এই বর্বরতার নীল নকশা করা হচ্ছে?

তিনি দেখেছেন, জাতিসংঘের ভেতর এক শক্তিশালী ‘জায়নবাদী লবি’ (Zionist Lobby) কাজ করছে। যারা প্রতিনিয়ত ইসরায়েলকে তাদের যুদ্ধাপরাধ থেকে বাঁচিয়ে দিচ্ছে। গাজায় হাজার হাজার শিশুকে যখন ইসরায়েল হত্যা করে, তখন এই আমেরিকা ভেটো দিয়ে তাদের রক্ষা করে। এখন তারা চাইছে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে তাদের আধিপত্য বজায় রাখতে ইরানকে পারমাণবিক ধুলোয় মিশিয়ে দিতে।

সাফা স্পষ্ট বলেছেন, জাতিসংঘের শীর্ষ কর্তারা আজ এই অশুভ শক্তির গোলামি করছেন। আন্তর্জাতিক আইন এখন কেবল দুর্বলদের জন্য, আর আমেরিকা-ইসরায়েলের মতো ‘সন্ত্রাসী’ রাষ্ট্রগুলোর জন্য আইন হচ্ছে কাগুজে বাঘ! অর্থাৎ জাতিসংঘ এখন আমেরিকার ‘পুতুল নাচ’ ঘর!

আজ ইরানকে লক্ষ্য করা হচ্ছে, কারণ তারা মাথা নত করতে জানে না। তারা এই সাম্রাজ্যবাদী শক্তির চোখের ওপর চোখ রেখে কথা বলে। ইসরায়েল নামক সেই ক্যান্সারটি এখন পুরো বিশ্বের জন্য বিষফোঁড়া হয়ে দাঁড়িয়েছে। মোহাম্মদ সাফা নিজের জীবন ও ক্যারিয়ার তুচ্ছ করে এই সত্যটা সামনে এনেছেন। যাতে আপনি-আমি সচেতন হই।

তিনি বারবার আহ্বান জানিয়েছেন—মানুষকে রাস্তায় নামতে হবে। এই পৈশাচিক ‘নিউক্লিয়ার উইন্টার’ বা পারমাণবিক শীতকাল ঠেকানোর একমাত্র উপায় হলো বিশ্বব্যাপী জনরোষ।

জুলুমবাজরা কখনো স্থায়ী হতে পারে না। আমেরিকা আর ইসরায়েল যত বড় মরণাস্ত্রের ভয়ই দেখাক না কেন, সত্যের জয় হবেই। মোহাম্মদ সাফার এই আত্মত্যাগ বৃথা যাবে না। যারা গাজায় রক্ত ঝরিয়েছে, যারা লেবাননকে ধ্বংস করেছে, তারা এখন ইরানের দিকে হাত বাড়াচ্ছে। কিন্তু এবার তারা হয়তো এমন এক আগুনের মুখোমুখি হবে যা তাদের পুরো সাম্রাজ্যকে জ্বালিয়ে ছাই করে দেবে।

দৈনিক আস্থা/এমএইচ

ট্যাগস :

আমেরিকা-ইসরায়েলের নীল নকশা: পদত্যাগ করলেন জাতিসংঘের কূটনীতিক

আপডেট সময় : ০৩:৪৩:০৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬

আমেরিকা-ইসরায়েলের নীল নকশা: পদত্যাগ করলেন জাতিসংঘের কূটনীতিক

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ

আমেরিকা-ইসরায়েলের ভয়ঙ্কর নীল নকশা: কেন পদত্যাগ করলেন জাতিসংঘের শীর্ষ কূটনীতিক? কাঁপছে বিশ্ব!

বিশ্বশান্তি রক্ষার বদলে জাতিসংঘের ভেতর বসেই ছক কষা হচ্ছে কোটি কোটি নিরপরাধ মানুষকে পুড়িয়ে মারার? শুনতে অবিশ্বাস্য মনে হলেও এটাই এখন তেতো সত্য। বিশ্ব মোড়ল নামধারী আমেরিকা আর তাদের অবৈধ সন্তান ইসরায়েলের এক ভয়ঙ্কর পারমাণবিক ষড়যন্ত্র ফাঁস করে দিয়ে পদত্যাগ করেছেন জাতিসংঘের জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক মোহাম্মদ সাফা।

তার এই পদত্যাগ কেবল একটি চাকরি ছাড়ার ঘটনা নয়, বরং এটি হলো মানবতার পক্ষে এক বিশাল বিদ্রোহ!

দীর্ঘদিন ধরে ইরানকে দমানোর সব চেষ্টা যখন ব্যর্থ হয়েছে, যখন হিজবুল্লাহ আর হামাসের ধাওয়ায় ইসরায়েলি বাহিনী ইঁদুরের মতো গর্তে ঢুকে পড়ছে, তখন তারা বেছে নিয়েছে এক কাপুরুষোচিত পথ—পারমাণবিক হামলা!

মোহাম্মদ সাফা সাহসিকতার সাথে ফাঁস করেছেন যে, আমেরিকা এখন ইরানে পারমাণবিক হামলার চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছে। আর এই পৈশাচিক কাজে নির্লজ্জের মতো মদত দিচ্ছে খোদ জাতিসংঘ!

মোহাম্মদ সাফা ২০১৩ সাল থেকে জাতিসংঘের একটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্থার নির্বাহী পরিচালক ছিলেন। তার মতো একজন মানুষ যখন নিজের উজ্জ্বল ক্যারিয়ারকে লাথি মেরে পদত্যাগ করেন, তখন বুঝতে হবে বিপদ কতটা কাছাকাছি।

তিনি পরিষ্কার করে বলেছেন, তেহরান কোনো জনশূন্য মরুভূমি নয়। এখানে এক কোটির বেশি মানুষ থাকে। সেখানে শিশু আছে, পরিবার আছে।

তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, আমেরিকা বা ইসরায়েলের এই তথাকথিত ‘গণতন্ত্রের দেবতারা’ যদি ওয়াশিংটন বা লন্ডনে পারমাণবিক হামলা হতো, তবে কি চুপ থাকত? আজ কেন মুসলিম দেশ ইরানের বিরুদ্ধে এই বর্বরতার নীল নকশা করা হচ্ছে?

তিনি দেখেছেন, জাতিসংঘের ভেতর এক শক্তিশালী ‘জায়নবাদী লবি’ (Zionist Lobby) কাজ করছে। যারা প্রতিনিয়ত ইসরায়েলকে তাদের যুদ্ধাপরাধ থেকে বাঁচিয়ে দিচ্ছে। গাজায় হাজার হাজার শিশুকে যখন ইসরায়েল হত্যা করে, তখন এই আমেরিকা ভেটো দিয়ে তাদের রক্ষা করে। এখন তারা চাইছে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে তাদের আধিপত্য বজায় রাখতে ইরানকে পারমাণবিক ধুলোয় মিশিয়ে দিতে।

সাফা স্পষ্ট বলেছেন, জাতিসংঘের শীর্ষ কর্তারা আজ এই অশুভ শক্তির গোলামি করছেন। আন্তর্জাতিক আইন এখন কেবল দুর্বলদের জন্য, আর আমেরিকা-ইসরায়েলের মতো ‘সন্ত্রাসী’ রাষ্ট্রগুলোর জন্য আইন হচ্ছে কাগুজে বাঘ! অর্থাৎ জাতিসংঘ এখন আমেরিকার ‘পুতুল নাচ’ ঘর!

আজ ইরানকে লক্ষ্য করা হচ্ছে, কারণ তারা মাথা নত করতে জানে না। তারা এই সাম্রাজ্যবাদী শক্তির চোখের ওপর চোখ রেখে কথা বলে। ইসরায়েল নামক সেই ক্যান্সারটি এখন পুরো বিশ্বের জন্য বিষফোঁড়া হয়ে দাঁড়িয়েছে। মোহাম্মদ সাফা নিজের জীবন ও ক্যারিয়ার তুচ্ছ করে এই সত্যটা সামনে এনেছেন। যাতে আপনি-আমি সচেতন হই।

তিনি বারবার আহ্বান জানিয়েছেন—মানুষকে রাস্তায় নামতে হবে। এই পৈশাচিক ‘নিউক্লিয়ার উইন্টার’ বা পারমাণবিক শীতকাল ঠেকানোর একমাত্র উপায় হলো বিশ্বব্যাপী জনরোষ।

জুলুমবাজরা কখনো স্থায়ী হতে পারে না। আমেরিকা আর ইসরায়েল যত বড় মরণাস্ত্রের ভয়ই দেখাক না কেন, সত্যের জয় হবেই। মোহাম্মদ সাফার এই আত্মত্যাগ বৃথা যাবে না। যারা গাজায় রক্ত ঝরিয়েছে, যারা লেবাননকে ধ্বংস করেছে, তারা এখন ইরানের দিকে হাত বাড়াচ্ছে। কিন্তু এবার তারা হয়তো এমন এক আগুনের মুখোমুখি হবে যা তাদের পুরো সাম্রাজ্যকে জ্বালিয়ে ছাই করে দেবে।

দৈনিক আস্থা/এমএইচ