ঢাকা ০১:১১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম:
Logo শহীদ মিনারে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী Logo যেসব দেশে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হওয়ার পরও কার্যকর হয়নি Logo শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছে প্রধানমন্ত্রী Logo জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কমিটিতে বড় রদবদল Logo মেঘমল্লার বসুর আত্মহত্যার চেষ্টা, হাসপাতালে ভর্তি Logo একুশের প্রথম প্রহরে শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানাবেন জামায়াত আমীর Logo ভারতীয় স্পাইসজেটকে আকাশসীমা ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দিলো বাংলাদেশ Logo ঝটিকা মিছিল চলাকালে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ.লীগের ৮ কর্মী আটক Logo ইউনূস সরকারের শেষ সময়ের বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে বিতর্ক কেন? Logo প্রথম আলোয় হামলা: অন্তর্বর্তী সরকারের ব্যর্থতা-ফাওজুল কবীর

আল্লামা শামসুল ইসলামের জানাযায় লাখো মুসল্লির ঢল।

News Editor
  • আপডেট সময় : ০৯:০৬:৪৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২১
  • / ১০৮৩ বার পড়া হয়েছে

আল্লামা শামসুল ইসলামের জানাযায় লাখো মুসল্লির ঢল।

হুমায়ুন কবির, স্টাফ রিপোর্টার: লাখো মুসল্লির উপস্থিতে ঐতিহ্যবাহী ইসলামী বিদ্যাপীঠ আলজামিয়াতুল ইদদাদিয়ার প্রবীণ মুহাদ্দিস ও ঐতিহাসিক শহীদী মসজিদের খতিব আল্লামা শামসুল ইসলাম (রহ.) কে শেষ বিদায় জানিয়েছেন কিশোরগঞ্জের সর্বস্তরের মানুষ। মঙ্গলবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সকালে ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠে জানাযার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। দেশের জেলা উপজেলা থেকে তাঁর ছাত্র, ভক্ত ও ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা ছুটে আসেন প্রিয় শায়খ আল্লামা শামসুল ইসলাম (রহ.) কে একনজর দেখে শেষ বিদায় জানাতে।

সকাল ১০টা ২১ মিনিটে জানাযা শুরু হবার আগেই কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায় ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দান। আশেপাশের রাস্তাঘাট ও বাড়ি ঘরেও অসংখ্য মানুষকে জানাযার নামাজ আদায় করতে দেখা যায়। আশেপাশের রাস্তাঘাট ও বাড়ি ঘরেও অসংখ্য মানুষকে জানাযার নামাজ আদায় করতে দেখা যায়। শোকে স্তব্ধ হয়ে যায় পুরো শহর, জনস্রোতের কারনে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায় কিছু সময়ের জন্য।

জানাযা শুরু হবার পূর্বে আল্লামা শামসুল ইসলাম (রহ.) এর স্মৃতিচারন করে বক্তব্য রাখেন জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম এর ভারপ্রাপ্ত খতিব মাও. মিজানুর রহমান, আলজামিয়াতুল ইমদাদিয়ার মহাপরিচালক মাও. শাব্বির আহমাদ রশিদ, মাও.শফিকুর রহমান জালালাবাদী, মাওলানা ইমদাদুল্লাহ, মাওলানা হিফজুর রহমান খান, মাওলানা আজিজুল হক, মাও.শোয়াইব বিন আব্দুর রউফ, মাওলানা তৈয়ব, মাও.ড.খলিলুর রহমান খান, মাও.মাযহার শাহ, কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল মাসউদ, পৌরসভা মেয়র পারভেজ মিয়া, আল্লামা শামসুল ইসলাম রহ.’র ছেলে মাও. মুহাম্মদ, জামাতা মাও. আমিনুল ইসলাম মামুন, মাওলানা লুৎফুর রহমান, জেলা বিএনপির সভাপতি শরীফুল আলম, জেলা আওয়ামীলীগের ধর্ম সম্পাদক মাসুম খান প্রমুখ।

প্রবীণ মুহাদ্দিস আল্লামা শামসুল ইসলাম (রহ.) এর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ, রাষ্ট্রপতির বড় ছেলে কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ রেজওয়ান আহাম্মদ তৌফিক, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারি মশিউর রহমান হুমায়ুন ও স্থানীয় সাংসদ ডা:সৈয়দা জাকিয়া নূর লিপি। উল্লেখ্য, প্রায় ১৯ দিন আইসিইউতে থাকার পর সোমবার (৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ২টা ৫ মিনিটে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন তিনি। এর আগে গত ১৯ জানুয়ারি তাঁকে প্রথমে কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি ঘটলে তাঁকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়।

ঢাকায় প্রথমে আজগর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ও পরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে তাকে ভর্তি করা হয়। সেখানেই শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। আল্লামা শামসুল ইসলাম (রহ.) ছিলেন একজন বিচক্ষণ ও বর্ষীয়ান আলেমদ্বীন। বিদগ্ধ আলেম আল্লামা শামসুল ইসলামের হাদীস শাস্ত্রের উপর বিশেষ দক্ষতা থাকায় আল জামিয়াতুল ইমদাদিয়ায় ১৯৮৩ সাল থেকে এ পর্যন্ত অত্যন্ত সুনামের সাথে সিনিয়র মুহাদ্দিসের দ্বায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।

দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ওয়াজ মাহফিলের মাধ্যমে দ্বীনের প্রচারে তাঁর ভূমিকা রয়েছে।আল্লামা শামসুল ইসলাম রহ. এর তাফসির শাস্ত্রে অসাধারণ দক্ষতা থাকায় ১৯৮৬ সাল থেকে ঐতিহাসিক শহীদী মসজিদে প্রতি শনিবার সন্ধ্যায় কোরাআনে পাকের তাফসির করে আসছিলেন। তার তাফসির শুনে হাজার হাজার মহিলা ও পুরুষ দ্বীনের পথে ফিরে এসেছেন। তাঁর মৃত্যুতে কিশোরগঞ্জসহ সারা দেশ আলেমসমাজে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। আল্লামা শামসুল ইসলাম (রহ.) এর আত্মার মাগফিরাতের জন্য দেশবাসীর কাছে পরিবারের পক্ষ থেকে দোয়া চেয়েছেন।

ট্যাগস :

আল্লামা শামসুল ইসলামের জানাযায় লাখো মুসল্লির ঢল।

আপডেট সময় : ০৯:০৬:৪৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২১

আল্লামা শামসুল ইসলামের জানাযায় লাখো মুসল্লির ঢল।

হুমায়ুন কবির, স্টাফ রিপোর্টার: লাখো মুসল্লির উপস্থিতে ঐতিহ্যবাহী ইসলামী বিদ্যাপীঠ আলজামিয়াতুল ইদদাদিয়ার প্রবীণ মুহাদ্দিস ও ঐতিহাসিক শহীদী মসজিদের খতিব আল্লামা শামসুল ইসলাম (রহ.) কে শেষ বিদায় জানিয়েছেন কিশোরগঞ্জের সর্বস্তরের মানুষ। মঙ্গলবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সকালে ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠে জানাযার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। দেশের জেলা উপজেলা থেকে তাঁর ছাত্র, ভক্ত ও ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা ছুটে আসেন প্রিয় শায়খ আল্লামা শামসুল ইসলাম (রহ.) কে একনজর দেখে শেষ বিদায় জানাতে।

সকাল ১০টা ২১ মিনিটে জানাযা শুরু হবার আগেই কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায় ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দান। আশেপাশের রাস্তাঘাট ও বাড়ি ঘরেও অসংখ্য মানুষকে জানাযার নামাজ আদায় করতে দেখা যায়। আশেপাশের রাস্তাঘাট ও বাড়ি ঘরেও অসংখ্য মানুষকে জানাযার নামাজ আদায় করতে দেখা যায়। শোকে স্তব্ধ হয়ে যায় পুরো শহর, জনস্রোতের কারনে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায় কিছু সময়ের জন্য।

জানাযা শুরু হবার পূর্বে আল্লামা শামসুল ইসলাম (রহ.) এর স্মৃতিচারন করে বক্তব্য রাখেন জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম এর ভারপ্রাপ্ত খতিব মাও. মিজানুর রহমান, আলজামিয়াতুল ইমদাদিয়ার মহাপরিচালক মাও. শাব্বির আহমাদ রশিদ, মাও.শফিকুর রহমান জালালাবাদী, মাওলানা ইমদাদুল্লাহ, মাওলানা হিফজুর রহমান খান, মাওলানা আজিজুল হক, মাও.শোয়াইব বিন আব্দুর রউফ, মাওলানা তৈয়ব, মাও.ড.খলিলুর রহমান খান, মাও.মাযহার শাহ, কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল মাসউদ, পৌরসভা মেয়র পারভেজ মিয়া, আল্লামা শামসুল ইসলাম রহ.’র ছেলে মাও. মুহাম্মদ, জামাতা মাও. আমিনুল ইসলাম মামুন, মাওলানা লুৎফুর রহমান, জেলা বিএনপির সভাপতি শরীফুল আলম, জেলা আওয়ামীলীগের ধর্ম সম্পাদক মাসুম খান প্রমুখ।

প্রবীণ মুহাদ্দিস আল্লামা শামসুল ইসলাম (রহ.) এর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ, রাষ্ট্রপতির বড় ছেলে কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ রেজওয়ান আহাম্মদ তৌফিক, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারি মশিউর রহমান হুমায়ুন ও স্থানীয় সাংসদ ডা:সৈয়দা জাকিয়া নূর লিপি। উল্লেখ্য, প্রায় ১৯ দিন আইসিইউতে থাকার পর সোমবার (৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ২টা ৫ মিনিটে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন তিনি। এর আগে গত ১৯ জানুয়ারি তাঁকে প্রথমে কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি ঘটলে তাঁকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়।

ঢাকায় প্রথমে আজগর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ও পরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে তাকে ভর্তি করা হয়। সেখানেই শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। আল্লামা শামসুল ইসলাম (রহ.) ছিলেন একজন বিচক্ষণ ও বর্ষীয়ান আলেমদ্বীন। বিদগ্ধ আলেম আল্লামা শামসুল ইসলামের হাদীস শাস্ত্রের উপর বিশেষ দক্ষতা থাকায় আল জামিয়াতুল ইমদাদিয়ায় ১৯৮৩ সাল থেকে এ পর্যন্ত অত্যন্ত সুনামের সাথে সিনিয়র মুহাদ্দিসের দ্বায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।

দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ওয়াজ মাহফিলের মাধ্যমে দ্বীনের প্রচারে তাঁর ভূমিকা রয়েছে।আল্লামা শামসুল ইসলাম রহ. এর তাফসির শাস্ত্রে অসাধারণ দক্ষতা থাকায় ১৯৮৬ সাল থেকে ঐতিহাসিক শহীদী মসজিদে প্রতি শনিবার সন্ধ্যায় কোরাআনে পাকের তাফসির করে আসছিলেন। তার তাফসির শুনে হাজার হাজার মহিলা ও পুরুষ দ্বীনের পথে ফিরে এসেছেন। তাঁর মৃত্যুতে কিশোরগঞ্জসহ সারা দেশ আলেমসমাজে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। আল্লামা শামসুল ইসলাম (রহ.) এর আত্মার মাগফিরাতের জন্য দেশবাসীর কাছে পরিবারের পক্ষ থেকে দোয়া চেয়েছেন।