এক লাঠির বাড়িতে কি ১০ হাজার টাকা ভাতা নিতে হবে?’ তারেক
- আপডেট সময় : ০১:৫৫:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬
- / ১০০২ বার পড়া হয়েছে
এক লাঠির বাড়িতে কি ১০ হাজার টাকা ভাতা নিতে হবে?’ তারেক
আস্থা ডেস্কঃ
জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের ‘জুলাই যোদ্ধা’ সনদ প্রদান এবং এর ভিত্তিতে মাসিক ভাতা ও পেনশনের দাবির তীব্র সমালোচনা করেছেন আম জনতা দল পার্টির সদস্য সচিব মোঃ তারেক রহমান।
এই ধরনের দাবিকে শহীদ ও পঙ্গুত্ব বরণকারীদের ত্যাগের সঙ্গে ‘প্রহসন’ হিসেবে অভিহিত করে তিনি বলেন, সামান্য আঘাত বা ব্যানার ধরা ব্যক্তিদের জন্য রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে অনৈতিক সুবিধা নেওয়া কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।
সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে তারেক রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “পায়ের নখ একটা উষ্ঠা খেয়ে উঠে গেছে, তার জন্য প্রতি মাসে ১০ হাজার টাকা ভাতা নিতে হবে? আমি ব্যানার ধরেছিলাম বলে আমারে বানায়ে দিছে যোদ্ধা! দিস ইজ স্লোগান, আমি হলাম যোদ্ধা। কিন্তু এই পরিচয়ে ভাতা বা পেনশন চাওয়ার মানে কী?”
তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, “জুলাই সনদ নিয়ে এমন এক পরিস্থিতি তৈরি করা হচ্ছে যেখানে আদালত, সংবিধান বা সংসদ কোনো প্রশ্ন করতে পারবে না। এটা কি মুক্তিযুদ্ধের চেয়েও বড় কিছু হয়ে গেল? মানে দুই-একটা লাঠির বাড়ি খাইছে বলে মাসে ১০ হাজার টাকা নিতে হবে? জনগণের ট্যাক্সের টাকায় এই ধরনের ভাগ-বাটোয়ারা মানা যায় না।”
প্রকৃত ত্যাগের মূল্যায়ন করার আহ্বান জানিয়ে আম জনতা দল পার্টির এই নেতা বলেন, “যিনি পঙ্গু হয়েছেন তাকে ১০ গুণ বেশি দিন, যারা শহীদ হয়েছেন তাদের পরিবারকে আজীবন সহায়তা করুন। কিন্তু যারা সুস্থ-স্বাভাবিক, তাদের কোনো ভাতার প্রয়োজন নেই। আমি নিজে পিঠে স্প্লিন্টার নিয়ে ঘুরছি, কিন্তু আমি দেশের জন্য কাজ করেছি, ভাতার জন্য নয়।”
ভবিষ্যৎ রাজনীতির প্রেক্ষাপট টেনে তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, “আজ আপনারা জুলাই সনদ বানাচ্ছেন, কাল যদি অন্য কোনো সরকার বা আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে এই সনদ বাতিল করে দেয়, তবে এর স্থায়িত্ব কোথায়? এমন কিছু করবেন না যা সর্বজনীন নয় এবং যা ভবিষ্যতে বাতিলের সম্ভাবনা থাকে।”
তারেক রহমানের এই কড়া বক্তব্য রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে আন্দোলনের সুফলভোগীদের একটি অংশের অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার প্রচেষ্টাকে তিনি যেভাবে ‘ধুয়ে দিয়েছেন’, তা সাধারণ মানুষের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।
অনেকেই মনে করছেন, গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে পুঁজি করে এক শ্রেণির মানুষের সুবিধাভোগী হয়ে ওঠার যে প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, তার বিরুদ্ধে এটি একটি সময়োপযোগী হুঙ্কার।
দৈনিক আস্থা/এমএইচ



















