ঢাকা ০৭:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬, ২৭ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম:
Logo জনপ্রতিনিধিদেরকে বাদ দিয়ে দলীয় লোক দিয়ে ত্রাণ বিতরণের নির্দেশ ইউএনও’র Logo ইউনুচ সরকারের ব্যয় বিতর্কে অনিশ্চয়তায় পাতাল মেট্রো রেল প্রকল্প Logo রাজপথে ফিরছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ.লীগ! Logo ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী পাইপলাইন-সুফল পাচ্ছে দেশ Logo জয়নুল আবদিন ফারুককে সতর্ক করল বিএনপি Logo সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হকের জামিন, বাধা নেই কারামুক্তিতে Logo নির্বাচিত সরকারের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিক করছে ভারত Logo জামিন পেলেন সাংবাদিক আনিস আলমগীর: কারামুক্তিতে নেই বাধা Logo ঘুষ চাওয়ার ঘটনা সামনে আসায় আইসিটি’র বিচারপ্রক্রিয়ার উপর আস্থা কমবে Logo অভিযোগ-প্রশ্নে জর্জরিত জুলাই হত্যার বিচার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল

কিছু কথা কিছু গল্প—কানিজ খাদিজা তিন্নি।

Iftekhar Ahamed
  • আপডেট সময় : ০৭:২৩:০১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ মার্চ ২০২২
  • / ১০৫৬ বার পড়া হয়েছে

কিছু কথা কিছু গল্প—কানিজ খাদিজা তিন্নি।

তরুণ কন্ঠশিল্পী কানিজ খাদিজা তিন্নি। চ্যানেল আই সেরা কন্ঠের মাধ্যমে অভিষেক তার। স্টেজ শো ও নিজের মৌলিক গানে অর্জন করেছেন বেশ জনপ্রিয়তা। আজকের আয়োজনে আমাদের সাথে আছেন কানিজ খাদিজা তিন্নি। চলুন কিছু কথা হয়ে যাক। সাথেই থাকুন।

জানঃ কেমন আছেন আপনি?

তিন্নিঃ আছি আল্লাহর রহমতে ভালো আছি। আল্লাহ অনেক অনেক ভালো রেখেছেন। আলহামদুলিল্লাহ। আপনি কেমন আছেন?

জানঃ আছি। গান বাজনা চলছে কেমন?

তিন্নিঃ মাঝখানে করোনার জন্য বেশ কিছুদিন গ্যাপ ছিলো। এই বছর থেকে খুব ব্যস্ততায় যাচ্ছে সময়। একদম বছরের শুরুর দিন থেকেই টেলিভিশন প্রোগ্রাম…………. উপভোগ করছি এমন ব্যস্ততাকে।

জানঃ গান শেখার প্রেরণা কোথায় পেলেন?

তিন্নিঃ আসলে শুরু থেকে আমার গান নিয়ে কিছু করতে হবে গান নিয়েই জীবন জীবিকার অন্বেষনে নামতে হবে এমন কোনো বিষয় মাথায় ছিলো না। গান শেখাটা হুট করে হয়েছে। সেটার একটা গল্প আছে৷ বলতে পারেন, হুট করে হয়ে গেছে।

জানঃ প্র্যাকটিকাল মিউজিকে আপনার শুরুটা কীভাবে হয়?

তিন্নিঃ প্র্যাকটিকাল মিউজিকে, যখন আমার বয়স চার, তখন আমার মা, আমরা নারায়ণগঞ্জে থাকি, আমাদের পাশের বাসার আন্টি, তিনি নারায়ণগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমির টিচার ছিলেন, উনার কাছে অনেক স্টুডেন্ট আসতো, তো সেটা দেখে আমার মায়ের ইচ্ছে করে আমাকে গান ও নাচ শেখাবে। কোনো না কোনোভাবে নাচ আর শেখা হয় নি। তারপর জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে ভর্তি হই। চার বছর শিখি, কোর্স সম্পন্ন করি। তারপর উচ্চাঙ্গসংগীতে লাভলু স্যারের কাছে শিখি। মায়া ঘোষ ম্যাডামের কাছে আমার হাতেখড়ি। এরপর বাসায় নানান গান প্র্যাক্টিস করতে থাকলাম, বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গান গাইতে থাকলাম। তারপর ২০১৭ সালে চ্যানেল আই সেরাকন্ঠের পরে একরকম প্রফেশনালি গান গাইতে শুরু করলাম। এভাবেই চলছে৷

জানঃ এ পর্যন্ত মোট কতোটি মৌলিক গান করেছেন?

তিন্নিঃ এ পর্যন্ত আফটার সেরাকণ্ঠ আমার ছয়টা মৌলিক গান বের হয়েছে। সামনে আরও আসবে।

জানঃ আমরা দেখি, আপনারা অনেক স্টেজ করেন। এটা ভালো কথা। কিন্তু অনেকটা সময় ধরেই স্টেজে আপনারা অন্য শিল্পীর গান করেন। নিজেদের মৌলিক গান করেন না খুব একটা। এর কারণ কী? এটা কী এক রকম দুর্বলতা না?

তিন্নিঃ প্রথমেই বলি, এটাকে আমার দুর্বলতা বলে মনে হয় না। গান তো গানই। স্টেজে দর্শকের আলাদা চাহিদা থাকে। সে অনুযায়ীই কাজ করতে হয়। আমার গান যা আর কেউ গায় নি তা আমার মৌলিক গান। আবার আমার গানটা যখন অন্য কেউ গাইবে তখন সেটা সে তার মতো করে গাইবে। এর মধ্যে কী হলো? সে আমাকে তার মাধ্যমে উপস্থাপন করলো। আমার শিল্পকে তুলে ধরলো। এটা তো বড় ব্যাপার। আর সব গান তো হিট হয় না। হিট গানই দর্শক চায় স্টেজে। এখন তো আবার ট্রেন্ডের ব্যাপার চলে এসেছে৷ যখন একটা গান হিট তখন সেই গানটাই গাইতে হয়, দর্শক চাহিদার উপর ভিত্তি করে। এমনই বিষয়গুলো। তবে দুর্বলতা মনে হয় না আমার কাছে।

জানঃ আর যদি মৌলিক গান থাকেও বেশ কিছু সেক্ষেত্রে দেখা যায় সেগুলো স্টেজে গাওয়ার উপযুক্ত না। এই ব্যাপারে আপনার কী মতামত?

তিন্নিঃ আপনার এই প্রশ্নটা আমার কাছে একটু জটিল মনে হচ্ছে। আমি এ ব্যাপারে আমার উত্তরের জায়গা খালি রাখতে চাই।

জানঃ ঠিক আছে। গান করছেন করতেন করবেন। আপনার আক্ষেপগুলো কী কী?

তিন্নিঃ আক্ষেপ বলতে কী ভাই, শিল্পীদের আপনি কখনো হ্যাপি দেখবেন না। ষোলো কলা পূর্ণ হলেও কোনো না কোনো আক্ষেপ থেকেই যায়। হ্যাপি থাকাটাই বেশী গুরুত্বপূর্ণ আমার কাছে। আমার আক্ষেপের ব্যাপারে বলতে গেলে বলবো, আমার আত্মসম্মানে যখন কেউ আঘাত দেয় তখন আমার ভালো লাগে না। আমার কাছে আমার আত্মসম্মানই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

জানঃ আপনার প্রিয় শিল্পী কে? কাকে আপনার আইডল মনে হয়?

তিন্নিঃ আমি আসলে সবার কাছ থেকেই শেখার চেষ্টা করি। সবাই আমার প্রিয়। আর সবচেয়ে ভালো লাগে রুনা লায়লা ম্যাডাম, শাহনাজ রহমতুল্লাহ ম্যাডাম, সাবিনা ইয়াসমিন ম্যাডামের গান। তারপর ইন্ডিয়ার লতাজী, শ্রেয়া ঘোষাল ম্যাডামদের খুব ভালোবাসি ও শ্রদ্ধা। আসলে তাদের কাছ থেকে শেখার তো কোনো শেষ নেই। শিখছি।

জানঃ সংগীতের পাশাপাশি আর কী করেন? পড়ালেখা কেমন চলছে?

তিন্নিঃ সংগীতের পাশাপাশি আমি একটা ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে মিউজিক টিচার হিসেবে আছি আর ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্যে সেন্ট্রাল উইমেনস কলেজে স্নাতক পড়ছি।

জানঃ গান করছেন, একজন মেয়ে হিসাবে পরিবারও সমাজ থেকে কোনো বাধা বিপত্তি আসে?

তিন্নিঃ আমার ক্ষেত্রে এমন হয় নি। আমার ফ্যামিলি খুবই সাপোর্টিভ।

জানঃ আপনার সবচেয়ে অপ্রিয় শিল্পী কে? কোন শিল্পীকে আপনি দুই চোখে দেখতে পারেন না?

তিন্নিঃ না না না। এমন কেউ আমার নেই। তবে আমার নিজের কাছেই নিজের গান মাঝে মাঝে অপ্রিয় মনে হয়। হা হা হা।

জানঃ আগামী দশ বছর পর নিজেকে কোথায় দেখতে চান?

তিন্নিঃ যদি বেঁচে থাকি তাহলে দশ বছর একজন সুখী পরিপূর্ণ মানুষ হিসেবেই দেখতে চাই নিজেকে। আর কিছু না। সুখী মানুষ হতে চাই, নিজের কাছে যেনো নিজেকে পরিপূর্ণ মনে হয়।

জানঃ আপনার শখের কাজ কোনগুলো?

তিন্নিঃ সবচেয়ে বেশী যেটা সেটা হচ্ছে ঘোরাঘুরি আর খাওয়া দাওয়া। শপিং করতেও ভালোবাসি।

জানঃ আমি মনে করি, গান তিন ধরণের। ১/ Song of listening
২/ Song of singing
৩/ Song of singing and listening

আপনি কী আমার সাথে একমত? যদি দ্বিমত পোষণ করে থাকেন তাহলে কারণগুলো কী?

তিন্নিঃ আমি আপনার সাথে একমত। তবে একটা বিষয় আমি যোগ করতে চাই যে, Song of feeling এরও খুব দরকার।

জানঃ বাংলাদেশকে নিয়ে আপনার প্রত্যাশা কেমন?

তিন্নিঃ বাংলাদেশকে নিয়ে প্রত্যাশা করার অনেক মানুষ আছে। আমি এই দায়িত্বটা নিতে চাই না। আমি এমন কোনো কাজ করবো না যাতে আমার দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট হবে৷ এইটুকুই। এর বেশী কিছু বলতে পারছি না।

জানঃ আপনি মনে করেন, শেষ নিঃশ্বাসের আগ পর্যন্ত গান নিয়েই থাকতে পারবেন?

তিন্নিঃ মোটেও না। আমি পারলে এখনই গানবাজনা বন্ধ করে দেই। আমি আসলে এতো পরিশ্রম করতে পারি না। যতোদিন তকদিরে আছে ততোদিন থাকবে। যখন থাকবে না তখন থাকবে না৷ শেষ নিঃশ্বাসের আগ পর্যন্ত গান বাজনা নিয়ে থাকতে পারবো কি না জানি না।

জানঃ আমরা একদম শেষ পর্যায়ে চলে এসেছি, দৈনিক আস্থার এই আয়োজন কেমন লাগলো?

তিন্নিঃ ভালো লেগেছে৷ আপনার প্রশ্নগুলো খুবই ইন্টারেস্টিং, গতানুগতিক ধারার বাহিরে।

জানঃ দৈনিক আস্থা ও আমার পক্ষ থেকে আপনার জন্য অনেক অনেক শুভকামনা।

[irp]

ট্যাগস :

কিছু কথা কিছু গল্প—কানিজ খাদিজা তিন্নি।

আপডেট সময় : ০৭:২৩:০১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ মার্চ ২০২২

কিছু কথা কিছু গল্প—কানিজ খাদিজা তিন্নি।

তরুণ কন্ঠশিল্পী কানিজ খাদিজা তিন্নি। চ্যানেল আই সেরা কন্ঠের মাধ্যমে অভিষেক তার। স্টেজ শো ও নিজের মৌলিক গানে অর্জন করেছেন বেশ জনপ্রিয়তা। আজকের আয়োজনে আমাদের সাথে আছেন কানিজ খাদিজা তিন্নি। চলুন কিছু কথা হয়ে যাক। সাথেই থাকুন।

জানঃ কেমন আছেন আপনি?

তিন্নিঃ আছি আল্লাহর রহমতে ভালো আছি। আল্লাহ অনেক অনেক ভালো রেখেছেন। আলহামদুলিল্লাহ। আপনি কেমন আছেন?

জানঃ আছি। গান বাজনা চলছে কেমন?

তিন্নিঃ মাঝখানে করোনার জন্য বেশ কিছুদিন গ্যাপ ছিলো। এই বছর থেকে খুব ব্যস্ততায় যাচ্ছে সময়। একদম বছরের শুরুর দিন থেকেই টেলিভিশন প্রোগ্রাম…………. উপভোগ করছি এমন ব্যস্ততাকে।

জানঃ গান শেখার প্রেরণা কোথায় পেলেন?

তিন্নিঃ আসলে শুরু থেকে আমার গান নিয়ে কিছু করতে হবে গান নিয়েই জীবন জীবিকার অন্বেষনে নামতে হবে এমন কোনো বিষয় মাথায় ছিলো না। গান শেখাটা হুট করে হয়েছে। সেটার একটা গল্প আছে৷ বলতে পারেন, হুট করে হয়ে গেছে।

জানঃ প্র্যাকটিকাল মিউজিকে আপনার শুরুটা কীভাবে হয়?

তিন্নিঃ প্র্যাকটিকাল মিউজিকে, যখন আমার বয়স চার, তখন আমার মা, আমরা নারায়ণগঞ্জে থাকি, আমাদের পাশের বাসার আন্টি, তিনি নারায়ণগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমির টিচার ছিলেন, উনার কাছে অনেক স্টুডেন্ট আসতো, তো সেটা দেখে আমার মায়ের ইচ্ছে করে আমাকে গান ও নাচ শেখাবে। কোনো না কোনোভাবে নাচ আর শেখা হয় নি। তারপর জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে ভর্তি হই। চার বছর শিখি, কোর্স সম্পন্ন করি। তারপর উচ্চাঙ্গসংগীতে লাভলু স্যারের কাছে শিখি। মায়া ঘোষ ম্যাডামের কাছে আমার হাতেখড়ি। এরপর বাসায় নানান গান প্র্যাক্টিস করতে থাকলাম, বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গান গাইতে থাকলাম। তারপর ২০১৭ সালে চ্যানেল আই সেরাকন্ঠের পরে একরকম প্রফেশনালি গান গাইতে শুরু করলাম। এভাবেই চলছে৷

জানঃ এ পর্যন্ত মোট কতোটি মৌলিক গান করেছেন?

তিন্নিঃ এ পর্যন্ত আফটার সেরাকণ্ঠ আমার ছয়টা মৌলিক গান বের হয়েছে। সামনে আরও আসবে।

জানঃ আমরা দেখি, আপনারা অনেক স্টেজ করেন। এটা ভালো কথা। কিন্তু অনেকটা সময় ধরেই স্টেজে আপনারা অন্য শিল্পীর গান করেন। নিজেদের মৌলিক গান করেন না খুব একটা। এর কারণ কী? এটা কী এক রকম দুর্বলতা না?

তিন্নিঃ প্রথমেই বলি, এটাকে আমার দুর্বলতা বলে মনে হয় না। গান তো গানই। স্টেজে দর্শকের আলাদা চাহিদা থাকে। সে অনুযায়ীই কাজ করতে হয়। আমার গান যা আর কেউ গায় নি তা আমার মৌলিক গান। আবার আমার গানটা যখন অন্য কেউ গাইবে তখন সেটা সে তার মতো করে গাইবে। এর মধ্যে কী হলো? সে আমাকে তার মাধ্যমে উপস্থাপন করলো। আমার শিল্পকে তুলে ধরলো। এটা তো বড় ব্যাপার। আর সব গান তো হিট হয় না। হিট গানই দর্শক চায় স্টেজে। এখন তো আবার ট্রেন্ডের ব্যাপার চলে এসেছে৷ যখন একটা গান হিট তখন সেই গানটাই গাইতে হয়, দর্শক চাহিদার উপর ভিত্তি করে। এমনই বিষয়গুলো। তবে দুর্বলতা মনে হয় না আমার কাছে।

জানঃ আর যদি মৌলিক গান থাকেও বেশ কিছু সেক্ষেত্রে দেখা যায় সেগুলো স্টেজে গাওয়ার উপযুক্ত না। এই ব্যাপারে আপনার কী মতামত?

তিন্নিঃ আপনার এই প্রশ্নটা আমার কাছে একটু জটিল মনে হচ্ছে। আমি এ ব্যাপারে আমার উত্তরের জায়গা খালি রাখতে চাই।

জানঃ ঠিক আছে। গান করছেন করতেন করবেন। আপনার আক্ষেপগুলো কী কী?

তিন্নিঃ আক্ষেপ বলতে কী ভাই, শিল্পীদের আপনি কখনো হ্যাপি দেখবেন না। ষোলো কলা পূর্ণ হলেও কোনো না কোনো আক্ষেপ থেকেই যায়। হ্যাপি থাকাটাই বেশী গুরুত্বপূর্ণ আমার কাছে। আমার আক্ষেপের ব্যাপারে বলতে গেলে বলবো, আমার আত্মসম্মানে যখন কেউ আঘাত দেয় তখন আমার ভালো লাগে না। আমার কাছে আমার আত্মসম্মানই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

জানঃ আপনার প্রিয় শিল্পী কে? কাকে আপনার আইডল মনে হয়?

তিন্নিঃ আমি আসলে সবার কাছ থেকেই শেখার চেষ্টা করি। সবাই আমার প্রিয়। আর সবচেয়ে ভালো লাগে রুনা লায়লা ম্যাডাম, শাহনাজ রহমতুল্লাহ ম্যাডাম, সাবিনা ইয়াসমিন ম্যাডামের গান। তারপর ইন্ডিয়ার লতাজী, শ্রেয়া ঘোষাল ম্যাডামদের খুব ভালোবাসি ও শ্রদ্ধা। আসলে তাদের কাছ থেকে শেখার তো কোনো শেষ নেই। শিখছি।

জানঃ সংগীতের পাশাপাশি আর কী করেন? পড়ালেখা কেমন চলছে?

তিন্নিঃ সংগীতের পাশাপাশি আমি একটা ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে মিউজিক টিচার হিসেবে আছি আর ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্যে সেন্ট্রাল উইমেনস কলেজে স্নাতক পড়ছি।

জানঃ গান করছেন, একজন মেয়ে হিসাবে পরিবারও সমাজ থেকে কোনো বাধা বিপত্তি আসে?

তিন্নিঃ আমার ক্ষেত্রে এমন হয় নি। আমার ফ্যামিলি খুবই সাপোর্টিভ।

জানঃ আপনার সবচেয়ে অপ্রিয় শিল্পী কে? কোন শিল্পীকে আপনি দুই চোখে দেখতে পারেন না?

তিন্নিঃ না না না। এমন কেউ আমার নেই। তবে আমার নিজের কাছেই নিজের গান মাঝে মাঝে অপ্রিয় মনে হয়। হা হা হা।

জানঃ আগামী দশ বছর পর নিজেকে কোথায় দেখতে চান?

তিন্নিঃ যদি বেঁচে থাকি তাহলে দশ বছর একজন সুখী পরিপূর্ণ মানুষ হিসেবেই দেখতে চাই নিজেকে। আর কিছু না। সুখী মানুষ হতে চাই, নিজের কাছে যেনো নিজেকে পরিপূর্ণ মনে হয়।

জানঃ আপনার শখের কাজ কোনগুলো?

তিন্নিঃ সবচেয়ে বেশী যেটা সেটা হচ্ছে ঘোরাঘুরি আর খাওয়া দাওয়া। শপিং করতেও ভালোবাসি।

জানঃ আমি মনে করি, গান তিন ধরণের। ১/ Song of listening
২/ Song of singing
৩/ Song of singing and listening

আপনি কী আমার সাথে একমত? যদি দ্বিমত পোষণ করে থাকেন তাহলে কারণগুলো কী?

তিন্নিঃ আমি আপনার সাথে একমত। তবে একটা বিষয় আমি যোগ করতে চাই যে, Song of feeling এরও খুব দরকার।

জানঃ বাংলাদেশকে নিয়ে আপনার প্রত্যাশা কেমন?

তিন্নিঃ বাংলাদেশকে নিয়ে প্রত্যাশা করার অনেক মানুষ আছে। আমি এই দায়িত্বটা নিতে চাই না। আমি এমন কোনো কাজ করবো না যাতে আমার দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট হবে৷ এইটুকুই। এর বেশী কিছু বলতে পারছি না।

জানঃ আপনি মনে করেন, শেষ নিঃশ্বাসের আগ পর্যন্ত গান নিয়েই থাকতে পারবেন?

তিন্নিঃ মোটেও না। আমি পারলে এখনই গানবাজনা বন্ধ করে দেই। আমি আসলে এতো পরিশ্রম করতে পারি না। যতোদিন তকদিরে আছে ততোদিন থাকবে। যখন থাকবে না তখন থাকবে না৷ শেষ নিঃশ্বাসের আগ পর্যন্ত গান বাজনা নিয়ে থাকতে পারবো কি না জানি না।

জানঃ আমরা একদম শেষ পর্যায়ে চলে এসেছি, দৈনিক আস্থার এই আয়োজন কেমন লাগলো?

তিন্নিঃ ভালো লেগেছে৷ আপনার প্রশ্নগুলো খুবই ইন্টারেস্টিং, গতানুগতিক ধারার বাহিরে।

জানঃ দৈনিক আস্থা ও আমার পক্ষ থেকে আপনার জন্য অনেক অনেক শুভকামনা।

[irp]