ঢাকা ১১:৫৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

চিকিৎসক সনদ চুরি নিজের নাম বসিয়ে প্রতারণা

Iftekhar Ahamed
  • আপডেট সময় : ০৫:২০:০৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২১
  • / ১০৬৪ বার পড়া হয়েছে

অন্যের চিকিৎসক সনদ চুরি সেখানে নিজের নাম ও ছবি বসিয়ে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক সেজে রোগী দেখে আসছেন শেখ মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান (৫৬) নামে একজন প্রতারক। প্রতারণার বিষয়টি জানার পর প্রকৃত চিকিৎসক মো. ফজলুল হক (সৌরভ) আদালতে তার বিরুদ্ধে মামলা করেন।

চিকিৎসক ফজলুল হক বুধবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সারাবাংলাকে বলেন, ‘গত ২৫ বছর ধরে বগুড়া শহরের নামাজগড় এলাকায় হোমিও চিকিৎসাসেবা চালিয়ে আসছেন তিনি। ১৯৯৬ সালে তিনি রাজশাহী হোমিওপ্যাথি মেডিকেল কলেজ ও রাজশাহী হাসপাতাল থেকে ডিপ্লোমা ইন হোমিওপ্যাথিক মেডিসিন অ্যান্ড সার্জারি (ডিএইচএমএস) কোর্সটি সম্পন্ন করি। যার রেজিস্ট্রেশন নম্বর-১৩১২৪। সার্টিফিকেট প্রদানের তারিখ ৩১ অক্টোবর ২০০২।’

ফজলুল হক বলেন, ‘আমার ডাক্তারি সনদ নম্বর ও তার সনদ নম্বর একই। শুধুমাত্র নামের জায়গা ও ছবিতে পরিবর্তন।’

এরপর গত বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর বগুড়া সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলার করেন চিকিৎসক ফজলুল হক।

মামলার বিষয়ে জানতে চাইলে ফজলুল হক বলেন, ‘মামলা করার পর আদালত তার ভূয়া চেম্বারটি বন্ধ করলেও এখন তিনি বাসার ভেতরে রোগী দেখছেন। এছাড়া আদালতের নির্দেশনার পর সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে ফজলুল হকের হোমিও চেম্বার ও বাসায় হামলা করে ভাঙচুর চালান।’

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নামাজগড় এলাকায় শেখ মনিরুজ্জামান ভুয়া সনদ দিযে হোমিও চেম্বার চালালেও তার আড়ালে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত তিনি। ইয়াবা, ফেনসিডিলসহ নানা মাদক বিক্রিতে জড়িত থাকার তথ্য রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি বগুড়ার ডাক্তার সমিতি তার হোমিও মেডিকেল সার্টিফিকেট দেখতে চাইলে তিনি ঢাকায় পালিয়ে যান।

নামাজগড় এলাকার একজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘মনিরুজ্জামান একজন ভুয়া হোমিও চিকিৎসক। তার বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসার অভিযোগ রয়েছে। এলাকার সবাই জানে চিকিৎসার আড়ালে তিনি মাদক বিক্রি করেন। তার বাড়ি মুলত যশোরে। যশোরের অভয়নগর এলাকায় তিনি অসৎ উপায়ে অনেক মানুষের কাছ থেকে ব্যবসার কথা বলে টাকা আত্মসাৎ করেন। ১৯৯০ সালের দিকে একটি মামলায় কারাগারে যান তিনি। এরপর বের হলে এরপর অবস্থা বেগতিক দেখে তিনি এলাকা ছেড়ে শ্বশুরবাড়ি এলাকা বগুড়ায় চলে আসেন। বগুড়াতেও প্রথমে মাহবুব নামে একজনকে সঙ্গে নিয়ে একটি ভুয়া এনজিও খুলে অনেক মানুষের টাকা আত্মসাৎ করেছেন। মাহবুবের নামে মামলা হলেও মনিরুজ্জামানের নামে কোনো মামলা করেনি কেউ। কারণ মনিরুজ্জামান ছিলেন চতুর প্রকৃতির। তিনি যা করেছেন সবই মাহবুবের নামে। অথচ তিনি সব টাকা মেরে দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন মাহবুব।’

এ সব বিষয় খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন চিকিৎসক ফজলুল হকসহ নামাজগড় এলাকার বাসিন্দারা।

এ সব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত শেখ মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান সারাবাংলাকে বলেন, ‘মামলা হওয়ার পর আমি ডাক্তারি পেশা বন্ধ করে দিয়েছি। বাসাতেও রোগী দেখি না। এখন ঢাকায় থাকি আবার বগুড়াতেও থাকি। সনদটা আমার ভুয়া ছিল। এখন সেটি আর নেই। যে মামলা করেছিল তার সঙ্গে মীমাংসা হয়ে গেছে।’

ট্যাগস :

চিকিৎসক সনদ চুরি নিজের নাম বসিয়ে প্রতারণা

আপডেট সময় : ০৫:২০:০৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২১

অন্যের চিকিৎসক সনদ চুরি সেখানে নিজের নাম ও ছবি বসিয়ে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক সেজে রোগী দেখে আসছেন শেখ মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান (৫৬) নামে একজন প্রতারক। প্রতারণার বিষয়টি জানার পর প্রকৃত চিকিৎসক মো. ফজলুল হক (সৌরভ) আদালতে তার বিরুদ্ধে মামলা করেন।

চিকিৎসক ফজলুল হক বুধবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সারাবাংলাকে বলেন, ‘গত ২৫ বছর ধরে বগুড়া শহরের নামাজগড় এলাকায় হোমিও চিকিৎসাসেবা চালিয়ে আসছেন তিনি। ১৯৯৬ সালে তিনি রাজশাহী হোমিওপ্যাথি মেডিকেল কলেজ ও রাজশাহী হাসপাতাল থেকে ডিপ্লোমা ইন হোমিওপ্যাথিক মেডিসিন অ্যান্ড সার্জারি (ডিএইচএমএস) কোর্সটি সম্পন্ন করি। যার রেজিস্ট্রেশন নম্বর-১৩১২৪। সার্টিফিকেট প্রদানের তারিখ ৩১ অক্টোবর ২০০২।’

ফজলুল হক বলেন, ‘আমার ডাক্তারি সনদ নম্বর ও তার সনদ নম্বর একই। শুধুমাত্র নামের জায়গা ও ছবিতে পরিবর্তন।’

এরপর গত বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর বগুড়া সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলার করেন চিকিৎসক ফজলুল হক।

মামলার বিষয়ে জানতে চাইলে ফজলুল হক বলেন, ‘মামলা করার পর আদালত তার ভূয়া চেম্বারটি বন্ধ করলেও এখন তিনি বাসার ভেতরে রোগী দেখছেন। এছাড়া আদালতের নির্দেশনার পর সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে ফজলুল হকের হোমিও চেম্বার ও বাসায় হামলা করে ভাঙচুর চালান।’

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নামাজগড় এলাকায় শেখ মনিরুজ্জামান ভুয়া সনদ দিযে হোমিও চেম্বার চালালেও তার আড়ালে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত তিনি। ইয়াবা, ফেনসিডিলসহ নানা মাদক বিক্রিতে জড়িত থাকার তথ্য রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি বগুড়ার ডাক্তার সমিতি তার হোমিও মেডিকেল সার্টিফিকেট দেখতে চাইলে তিনি ঢাকায় পালিয়ে যান।

নামাজগড় এলাকার একজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘মনিরুজ্জামান একজন ভুয়া হোমিও চিকিৎসক। তার বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসার অভিযোগ রয়েছে। এলাকার সবাই জানে চিকিৎসার আড়ালে তিনি মাদক বিক্রি করেন। তার বাড়ি মুলত যশোরে। যশোরের অভয়নগর এলাকায় তিনি অসৎ উপায়ে অনেক মানুষের কাছ থেকে ব্যবসার কথা বলে টাকা আত্মসাৎ করেন। ১৯৯০ সালের দিকে একটি মামলায় কারাগারে যান তিনি। এরপর বের হলে এরপর অবস্থা বেগতিক দেখে তিনি এলাকা ছেড়ে শ্বশুরবাড়ি এলাকা বগুড়ায় চলে আসেন। বগুড়াতেও প্রথমে মাহবুব নামে একজনকে সঙ্গে নিয়ে একটি ভুয়া এনজিও খুলে অনেক মানুষের টাকা আত্মসাৎ করেছেন। মাহবুবের নামে মামলা হলেও মনিরুজ্জামানের নামে কোনো মামলা করেনি কেউ। কারণ মনিরুজ্জামান ছিলেন চতুর প্রকৃতির। তিনি যা করেছেন সবই মাহবুবের নামে। অথচ তিনি সব টাকা মেরে দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন মাহবুব।’

এ সব বিষয় খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন চিকিৎসক ফজলুল হকসহ নামাজগড় এলাকার বাসিন্দারা।

এ সব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত শেখ মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান সারাবাংলাকে বলেন, ‘মামলা হওয়ার পর আমি ডাক্তারি পেশা বন্ধ করে দিয়েছি। বাসাতেও রোগী দেখি না। এখন ঢাকায় থাকি আবার বগুড়াতেও থাকি। সনদটা আমার ভুয়া ছিল। এখন সেটি আর নেই। যে মামলা করেছিল তার সঙ্গে মীমাংসা হয়ে গেছে।’