ফরিদপুরে দুই শিশুকে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতনের অভিযোগ
- আপডেট সময় : ০৩:৫৪:২২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ জুন ২০২৩
- / ১০৫২ বার পড়া হয়েছে
ফরিদপুরে দুই শিশুকে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতনের অভিযোগ
ফরিদপুর প্রতিনিধিঃ
স্থানীয় প্রভাবশালী মেম্বরের স্যালোমেশিন চুরির অভিযোগে মধ্যেযুগীয় কায়দায় দুটি শিশুর উপর চালানো হয়েছে অমানবিক নির্যাতন। শিশু নির্যাতনের সেই দৃশ্য ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কে বা কারা ছেড়ে দেয়। মুহূর্তের মধ্যে ঘটনাটি ভাইরাল হয়ে উঠে। নড়েচড়ে বসে পুলিশ প্রশাসন। ধতব্য অপরাধে একজনকে আটক করে আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ। চরম অসহায় ও ভয়ে তটস্থ শিশু দুটির পরিবার। কোন অভিযোগ করার সাহস পাচ্ছে না তারা।
চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার গুনবহা ইউনিয়নের চাপলডাঙ্গা গ্রামে।
এদিকে শিশু নির্যাতনের অপরাধে স্থানীয় ইউপি সদস্যের ভাই নজরুল শেখকে পুলিশ আটক করে বৃহস্পতিবার ফরিদপুর আদালতে পাঠিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার গুনবহা ইউনিয়নের চাপলডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা ৮ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য নাজমুল শেখের বড় ভাই নজরুল শেখের একটি টিউবয়েল সম্প্রতি চুরি হয়। ঘটনার জের ধরে ইউপি সদস্য নাজমুল শেখ, তার ভাই নজরুল শেখ ও একই গ্রামের হাসান খন্দকার স্যালোমেশিনের টিউবওয়েল চুরির অপবাদে নয় বছরের শিশু সুমন শেখ ও সৌরভ আলীকে গত ৬জুন দুপুরে পথের থেকে ধরে নিয়ে দুই শিশুর পায়ে শিকল বেঁধে দেয়। একটি পর্যায়ে স্থানীয় নাজমুল মেম্বরের উত্যপ্ত ধানের চাতালে কাঠের বাটাম ও বাঁশের লাঠি দিয়ে বেধড়ক পিটানো হয় শিশুদের।
সুমন শেখ ইউনিয়নের চাপলডাঙ্গা গ্রামের খাঁ পাড়ার মিন্টু শেখের ছেলে। তিনি পেশায় একজন রিক্সা চালক। গ্রামের বাড়িতেই দাদাদাদির সাথে বসবাস করে শিশু সুমন।অপর শিশু সৌরব আলী মুক্তারপুর গ্রামের কৃষক আলীবর শেখের ছেলে।
শিশু সুমন শেখের চাচা মিরাজ শেখ জানান, নাজমুল মেম্বারের ভাইয়ের স্যালোমেশিনের টিউবওয়েল চুরির ঘটনায় রাস্তা থেকে সুমন ও সৌরভকে ধরে নিয়ে দুপুরে তীব্র রোদে পায়ে শেকল বেঁধে গরমচাতালের মেঝেতে খালি গায়ে শুইয়ে রেখে নির্যাতন করা হয়। অমানবিক নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে এবং ভয়ে চুরির কথা স্বীকার করেছে বলে তিনি জানান। তিনি আরও বলেন খবর পেয়ে আমার বাবা সিরাজ সেখ ও সৌরভের বাবা আলিবর শেখ গিয়ে শিশু দুটিকে নির্যাতনের কবল থেকে উদ্ধার করে। মেম্বারের ভাই প্রভাবশালী। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়ে কিছু করা যাবে না। তাই অভিযোগ দেয়নি বলেও জানান তিনি।
শিশু সুমন শেখ জানায়, জাম বিক্রির জন্য বোয়ালমারী বাজারে যাচ্ছিলাম। এসময় আমাকে নাজমুল মেম্বারের ভাই নজরুল ভ্যান থেকে নামিয়ে তাদের বাড়ির ধানের চাতালে নিয়ে পায়ে শিকল বেঁধে শুয়িয়ে রাখে। আমার পায়ে তলায় ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে নির্যাতন চালায় তারা। এক পর্যায়ে আমাদের দুইজনের গলায় ফাড়া বাঁশ দিয়ে চেপে ধরে রাখে। ভয়ে আমরা দুইজনই চুরির কথা স্বীকার করতে বাধ্য হই।
নির্যাতনকারী ইউপি সদস্য মোঃ নাজমুল শেখের (০১৯৫০৫৭৫৮৫০) মুঠোফোনে একাধিকবার চেষ্টা করেও ফোনটি বন্ধ পাওয়ায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। অপর নির্যাতনকারী চাপলডাঙ্গা গ্রামের হাসান খন্দকারের বাড়িতে গিয়ে না পাওয়ায় তার মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে সাংবাদিকদের কথা শুনে তিনি ফোনটি কেটে দেন।
এ ব্যাপারে গুনবহা ইউপি চেয়ারম্যান অ্যাড. সিরাজুল ইসলাম জানান, কিছুদিন ধরেই ওই এলাকার কিছু বাড়ি ও মাঠ থেকে টিউবয়েল হারিয়ে যাচ্ছে। গ্রামের মানুষের মুখে জানতে পারি নাজমুল মেম্বরের ভাইয়ের একটি টিউবয়েল চুরি হয়। ওই ছেলে দুটিই এ ঘটনা ঘটিয়েছে এবং তাদের কাছ থেকে টিউবয়েলের হাতল উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে শিশুর অবিভাবকরা শাসন করে নিয়ে তাদের ফিরিয়ে নেয়।
বোয়ালমারী থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ আব্দুল ওহাব সাংবাদিকদের বলেন, এ ঘটনায় একজনকে আটক করা হয় কিন্তু কারো কোন অভিযোগ না থাকায় মামলা হয়নি। শিশুদের অভিভাবকদের কোন অভিযোগ না থাকায় ধর্তব্য অপরাধ সংঘঠিতর দায়ে আটককৃত ব্যক্তিকে বৃহস্পতিবার ফরিদপুর আদালতে পাঠানো হয়েছে। তবে থানায় অভিযোগ করলে অবশ্যই আইনের আওতায় আনা হবে।




















