ঢাকা ০১:৩৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল ২০২৬, ১৮ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশই হতে পারে বিশ্বের প্রথম সম্পূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ নিঃশেষ দেশ

Astha DESK
  • আপডেট সময় : ১০:৫৩:৪২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬
  • / ১০২৫ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশই হতে পারে বিশ্বের প্রথম সম্পূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ নিঃশেষ দেশ

স্টাফ রিপোর্টারঃ

বাংলাদেশই প্রথম দেশ হতে পারে যার জ্বালানি সরবরাহ সম্পূর্ণ নিঃশেষ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

কর্মস্থলে যাওয়ার জন্য সাজিদ আলীকে প্রতিদিন ২২ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হয়। কিন্তু তার মোটরবাইকের জন্য প্রয়োজনীয় অকটেন সংগ্রহ করতে এখন তাকে প্রতিদিন অন্তত দুই ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান অভিযানের জেরে বাংলাদেশের জ্বালানি তেলের মজুদ আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় সাজিদের মতো লাখো মানুষ এখন দিন-রাত পেট্রোল পাম্পগুলোর সামনে ভিড় করছেন।

৩৩ বছর বয়সী এই বে-সরকারি চাকুরিজীবী বলেন, যাতায়াতের জন্য এই মোটরসাইকেলই আমার একমাত্র ভরসা। কিন্তু অকটেন না পেলে আমি চলব কীভাবে?

তিনি আরও যোগ করেন, আমি ভাগ্যবান যে তেল পেয়েছি। আমার পেছনে থাকা ডজনখানেক চালককে খালি হাতে ফিরে যেতে হয়েছে কারণ পাম্পের তেল শেষ হয়ে গিয়েছিল। যানজটের জন্য পরিচিত ঢাকা শহরের রাস্তায় এখন যানবাহনের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।

ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি অধিকাংশ জাহাজের জন্য বন্ধ রয়েছে। এর ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম হু হু করে বাড়ছে।

উল্লেখ্য, এশিয়ার দেশগুলোর আমদানিকৃত অপরিশোধিত তেলের প্রায় ৯০ শতাংশই এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়।

সাড়ে ১৭ কোটি মানুষের বাংলাদেশ তার জ্বালানি চাহিদার প্রায় ৯৫ শতাংশই আমদানির মাধ্যমে পূরণ করে। মধ্যপ্রাচ্যের তেল রপ্তানিতে চরম বিঘ্ন ঘটায় দেশটিতে বর্তমানে যানবাহনের জ্বালানি রেশনিং এবং ডিজেল বিক্রিতে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।

রয়টার্সের তথ্যমতে, মোটরসাইকেল ও অন্যান্য যানবাহনের চালকরা সামান্য পরিমাণ জ্বালানির আশায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা, এমনকি সারারাত অপেক্ষা করছেন। অনেক ফিলিং স্টেশন তেল ফুরিয়ে যাওয়ায় বাঁশের ব্যারিকেড দিয়ে গেট বন্ধ করে দিয়েছে।

সরবরাহ সংকটের ভয়াবহতা এতটাই যে, জ্বালানি সরবরাহকারী মেশিনগুলো নীল প্লাস্টিকে মুড়িয়ে রাখা হয়েছে। রাজধানীর বাইরে সংকট আরও প্রকট। সেখানে প্লাস্টিকের বোতলে এক বা দুই লিটার তেল চড়া দামে বিক্রি হতে দেখা যাচ্ছে।

জ্বালানি তেলের ক্রমবর্ধমান দাম এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর প্রচণ্ড চাপের মুখে নবনির্বাচিত সরকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছে। বৈশ্বিক এই জ্বালানি সংকটে বাংলাদেশই প্রথম দেশ হতে পারে যার জ্বালানি সরবরাহ সম্পূর্ণ নিঃশেষ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত মাসের শেষ দিকে বাংলাদেশের ইস্টার্ন রিফাইনারিতে মাত্র ৮০ হাজার টন অপরিশোধিত তেল মজুদ ছিল, যা দিয়ে বড়জোর দুই সপ্তাহ চলা সম্ভব। ডিজেলের মজুদও প্রায় একই অবস্থায়। এই পরিস্থিতিতে ঢাকা এখন সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, নাইজেরিয়া, আজারবাইজান, কাজাখস্তান, অ্যাঙ্গোলা এবং অস্ট্রেলিয়া থেকে জ্বালানি আমদানির মাধ্যমে উৎস বহুমুখীকরণের চেষ্টা করছে।

এছাড়া ভারতের মতো বিশেষ সুবিধা চেয়ে রাশিয়ার কাছ থেকে ৬ লাখ মেট্রিক টন ডিজেল আমদানির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নিষেধাজ্ঞা ছাড়ের আবেদন করেছে বাংলাদেশ।

দৈনিক আস্থা/এমএইচ

ট্যাগস :

বাংলাদেশই হতে পারে বিশ্বের প্রথম সম্পূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ নিঃশেষ দেশ

আপডেট সময় : ১০:৫৩:৪২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬

বাংলাদেশই হতে পারে বিশ্বের প্রথম সম্পূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ নিঃশেষ দেশ

স্টাফ রিপোর্টারঃ

বাংলাদেশই প্রথম দেশ হতে পারে যার জ্বালানি সরবরাহ সম্পূর্ণ নিঃশেষ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

কর্মস্থলে যাওয়ার জন্য সাজিদ আলীকে প্রতিদিন ২২ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হয়। কিন্তু তার মোটরবাইকের জন্য প্রয়োজনীয় অকটেন সংগ্রহ করতে এখন তাকে প্রতিদিন অন্তত দুই ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান অভিযানের জেরে বাংলাদেশের জ্বালানি তেলের মজুদ আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় সাজিদের মতো লাখো মানুষ এখন দিন-রাত পেট্রোল পাম্পগুলোর সামনে ভিড় করছেন।

৩৩ বছর বয়সী এই বে-সরকারি চাকুরিজীবী বলেন, যাতায়াতের জন্য এই মোটরসাইকেলই আমার একমাত্র ভরসা। কিন্তু অকটেন না পেলে আমি চলব কীভাবে?

তিনি আরও যোগ করেন, আমি ভাগ্যবান যে তেল পেয়েছি। আমার পেছনে থাকা ডজনখানেক চালককে খালি হাতে ফিরে যেতে হয়েছে কারণ পাম্পের তেল শেষ হয়ে গিয়েছিল। যানজটের জন্য পরিচিত ঢাকা শহরের রাস্তায় এখন যানবাহনের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।

ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি অধিকাংশ জাহাজের জন্য বন্ধ রয়েছে। এর ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম হু হু করে বাড়ছে।

উল্লেখ্য, এশিয়ার দেশগুলোর আমদানিকৃত অপরিশোধিত তেলের প্রায় ৯০ শতাংশই এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়।

সাড়ে ১৭ কোটি মানুষের বাংলাদেশ তার জ্বালানি চাহিদার প্রায় ৯৫ শতাংশই আমদানির মাধ্যমে পূরণ করে। মধ্যপ্রাচ্যের তেল রপ্তানিতে চরম বিঘ্ন ঘটায় দেশটিতে বর্তমানে যানবাহনের জ্বালানি রেশনিং এবং ডিজেল বিক্রিতে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।

রয়টার্সের তথ্যমতে, মোটরসাইকেল ও অন্যান্য যানবাহনের চালকরা সামান্য পরিমাণ জ্বালানির আশায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা, এমনকি সারারাত অপেক্ষা করছেন। অনেক ফিলিং স্টেশন তেল ফুরিয়ে যাওয়ায় বাঁশের ব্যারিকেড দিয়ে গেট বন্ধ করে দিয়েছে।

সরবরাহ সংকটের ভয়াবহতা এতটাই যে, জ্বালানি সরবরাহকারী মেশিনগুলো নীল প্লাস্টিকে মুড়িয়ে রাখা হয়েছে। রাজধানীর বাইরে সংকট আরও প্রকট। সেখানে প্লাস্টিকের বোতলে এক বা দুই লিটার তেল চড়া দামে বিক্রি হতে দেখা যাচ্ছে।

জ্বালানি তেলের ক্রমবর্ধমান দাম এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর প্রচণ্ড চাপের মুখে নবনির্বাচিত সরকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছে। বৈশ্বিক এই জ্বালানি সংকটে বাংলাদেশই প্রথম দেশ হতে পারে যার জ্বালানি সরবরাহ সম্পূর্ণ নিঃশেষ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত মাসের শেষ দিকে বাংলাদেশের ইস্টার্ন রিফাইনারিতে মাত্র ৮০ হাজার টন অপরিশোধিত তেল মজুদ ছিল, যা দিয়ে বড়জোর দুই সপ্তাহ চলা সম্ভব। ডিজেলের মজুদও প্রায় একই অবস্থায়। এই পরিস্থিতিতে ঢাকা এখন সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, নাইজেরিয়া, আজারবাইজান, কাজাখস্তান, অ্যাঙ্গোলা এবং অস্ট্রেলিয়া থেকে জ্বালানি আমদানির মাধ্যমে উৎস বহুমুখীকরণের চেষ্টা করছে।

এছাড়া ভারতের মতো বিশেষ সুবিধা চেয়ে রাশিয়ার কাছ থেকে ৬ লাখ মেট্রিক টন ডিজেল আমদানির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নিষেধাজ্ঞা ছাড়ের আবেদন করেছে বাংলাদেশ।

দৈনিক আস্থা/এমএইচ