ঢাকা ০৩:০৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ ডিসেম্বর ২০২৫, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম:
Logo কিশোরগঞ্জে হাতপাখা প্রতীকের সমর্থনে বর্ণাঢ্য মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা Logo খাগড়াছড়িতে রোকেয়া দিবসে “অদম্য নারী সম্মাননা” পেলো ৩ নারী Logo নাইক্ষ্যংছড়িতে মানববন্ধনে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার অভিযোগ Logo কিশোরগঞ্জে-১ আসনে কাস্তে প্রতীকের প্রার্থী এনামুল হকের সমর্থনে গণমিছিল  Logo পানছড়িতে পিসিসিপি’র শীতবস্ত্র বিতরণ Logo পানছড়িতে জামায়াত প্রার্থীর গনসংযোগ ও মতবিনিময় Logo পানছড়িতে বিজিবির অভিযানে ভারতীয় চোরাই পণ্য আটক Logo চাঁদা না দেওয়ায় বাড়ি নির্মাণে বাধা, ভূমি দখলচেষ্টা ও হত্যার হুমকির Logo ইকরা গার্মেন্টসের উদ্যোগে শীতার্তদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ Logo আবার মাইনাস তৎপরতায় ডিপ স্টেট: মাসুদ কামাল

‘মামুন ফিরে আসছে, আমার গর্ভের নষ্ট হওয়া সন্তান কী ফিরে আসবে?’

News Editor
  • আপডেট সময় : ০৮:১৪:০৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২০
  • / ১০৭০ বার পড়া হয়েছে

কোনোরকম অপরাধের সঙ্গে জড়িত না হয়েও অপহরণ আর খুনের মতো অভিযোগে গার্মেন্টসকর্মী তাসলিমাকে দেড় বছর কারাভোগ করতে হয়েছে। মুখোমুখি হতে হয়েছে পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদের। গর্ভে থাকা বাচ্চা নষ্টও হয়েছে। দিনের পর দিন হাজিরা দিতে হয়েছে আদালতে। এতোসব ঘটনা যাকে ঘিরে সেই মামুন গেলো বুধবার জীবিত ফিরে জানান, তিনি অপহরণের শিকার হননি। নিজ ইচ্ছায় বাড়ি ছেড়ে চলে গেছেন।

তাসলিমার মা বলেন, আমাদের বাড়ি চাঁদপুরের মতলবে। মামুন আর আমাগো বাড়ি পাশাপাশি। মামুন হারায়া যাওনের দুই বছর আগে মাইয়ারে ফোনে বিরক্ত করতো। তখন ওরা দুজনেই ছোট ছিল। তাসলিমার তখন ১৪-১৫ বছর হইব। আমরা না করে দিসি যাতে ওরে বিরক্ত না করে। যদি বিয়া করতে চায় তাইলে আলাদা হিসাব। কিন্তু এরপর থেকে আর কোনও যোগাযোগ নাই আমার মাইয়ার সাথে। মামলার পাঁচ মাস আগে আমার মাইয়ার বিয়া হয়। একদিন এলাকা দিয়া মাইয়া আর মাইয়ার জামাই যাইতাসিলো তখন আবুল কালাম, কালামের মাইয়া, কালামের বউ মিল্লা তাসলিমা আর ওর জামাইরে ইচ্ছামত মারলো। মারার সময় কইলো আমার মাইয়া নাকি মামুনরে মাইরা ফেলছে। ওই সময় তাসলিমার পেটে বাচ্চা। মাইরের চোটে মাইয়ার বাচ্চাও নষ্ট হইয়া গেছে তখন।

মামুনের বাপে পিটানের কয়েকদিন পর মতলব থানায় যায় আমাগো নামে মামলা করতে। কিন্তু পুলিশ মামলা নেয় নাই। দুই মাস পরে হেরা ফতুল্লা থানায় আইসা মামলা করছে। সেই মতলব থেইক্কা আমরা আইসা আইসা হাজিরা দিতাম। আমার মাইয়ারে রিমান্ডে নিয়ে ইচ্ছামতো মারছে। মাইয়া হাঁটতে পারতো না। এক বছরের বেশি সময় এই মামলায় জেল খাটছে। এই বিচার এখন কে করবো? ওর বাচ্চা ফিরায়া দিতে পারবো? এই ছয় বছরের অশান্তি ফিরায়া দিতে পারবো?

তুরস্ককে নিষেধাজ্ঞার হুমকি দিল ইইউ

প্রসঙ্গত, মামুন ২০১৪ সালে নিখোঁজ হলেও দুই বছর পর ফতুল্লা মডেল থানায় মামুনের বাবা আবুল কালাম অপহরণের মামলা করেন। তিনি মামলার এজাহারে উল্লেখ করেন, তাসলিমার সঙ্গে তার ছেলে মামুনের প্রেম ছিল। তাসলিমার ভাই তা মেনে নেয়নি। তারা মামুনকে অপহরণ করে আটকে রাখে।

এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মিজান এক আসামির রিমান্ড শেষে আদালতে জবাবন্দি রেকর্ড করা আবেদনে একজন সাক্ষীর বরাত দিয়ে উল্লেখ করেন, তদন্তকালে জানা গেছে আসামিরা ভিকটিমকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে মরদেহ নদীতে ফেলে দেয়।

বুধবার আসামিদের জামিনের আবেদনের প্রস্তুতি নিয়েছিলেন আইনজীবী। ওই দিন পুলিশের মৃত সেই মামুন আদালতপাড়ায় জীবিত হাজির হলে বিষ্মিত হয় বিবাদীপক্ষ আর আইনজীবী। এর মধ্যে দিয়ে নারায়ণগঞ্জে জন্ম নেয় আরেকটি জিসামনিকাণ্ড।

‘মামুন ফিরে আসছে, আমার গর্ভের নষ্ট হওয়া সন্তান কী ফিরে আসবে?’

আপডেট সময় : ০৮:১৪:০৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২০

কোনোরকম অপরাধের সঙ্গে জড়িত না হয়েও অপহরণ আর খুনের মতো অভিযোগে গার্মেন্টসকর্মী তাসলিমাকে দেড় বছর কারাভোগ করতে হয়েছে। মুখোমুখি হতে হয়েছে পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদের। গর্ভে থাকা বাচ্চা নষ্টও হয়েছে। দিনের পর দিন হাজিরা দিতে হয়েছে আদালতে। এতোসব ঘটনা যাকে ঘিরে সেই মামুন গেলো বুধবার জীবিত ফিরে জানান, তিনি অপহরণের শিকার হননি। নিজ ইচ্ছায় বাড়ি ছেড়ে চলে গেছেন।

তাসলিমার মা বলেন, আমাদের বাড়ি চাঁদপুরের মতলবে। মামুন আর আমাগো বাড়ি পাশাপাশি। মামুন হারায়া যাওনের দুই বছর আগে মাইয়ারে ফোনে বিরক্ত করতো। তখন ওরা দুজনেই ছোট ছিল। তাসলিমার তখন ১৪-১৫ বছর হইব। আমরা না করে দিসি যাতে ওরে বিরক্ত না করে। যদি বিয়া করতে চায় তাইলে আলাদা হিসাব। কিন্তু এরপর থেকে আর কোনও যোগাযোগ নাই আমার মাইয়ার সাথে। মামলার পাঁচ মাস আগে আমার মাইয়ার বিয়া হয়। একদিন এলাকা দিয়া মাইয়া আর মাইয়ার জামাই যাইতাসিলো তখন আবুল কালাম, কালামের মাইয়া, কালামের বউ মিল্লা তাসলিমা আর ওর জামাইরে ইচ্ছামত মারলো। মারার সময় কইলো আমার মাইয়া নাকি মামুনরে মাইরা ফেলছে। ওই সময় তাসলিমার পেটে বাচ্চা। মাইরের চোটে মাইয়ার বাচ্চাও নষ্ট হইয়া গেছে তখন।

মামুনের বাপে পিটানের কয়েকদিন পর মতলব থানায় যায় আমাগো নামে মামলা করতে। কিন্তু পুলিশ মামলা নেয় নাই। দুই মাস পরে হেরা ফতুল্লা থানায় আইসা মামলা করছে। সেই মতলব থেইক্কা আমরা আইসা আইসা হাজিরা দিতাম। আমার মাইয়ারে রিমান্ডে নিয়ে ইচ্ছামতো মারছে। মাইয়া হাঁটতে পারতো না। এক বছরের বেশি সময় এই মামলায় জেল খাটছে। এই বিচার এখন কে করবো? ওর বাচ্চা ফিরায়া দিতে পারবো? এই ছয় বছরের অশান্তি ফিরায়া দিতে পারবো?

তুরস্ককে নিষেধাজ্ঞার হুমকি দিল ইইউ

প্রসঙ্গত, মামুন ২০১৪ সালে নিখোঁজ হলেও দুই বছর পর ফতুল্লা মডেল থানায় মামুনের বাবা আবুল কালাম অপহরণের মামলা করেন। তিনি মামলার এজাহারে উল্লেখ করেন, তাসলিমার সঙ্গে তার ছেলে মামুনের প্রেম ছিল। তাসলিমার ভাই তা মেনে নেয়নি। তারা মামুনকে অপহরণ করে আটকে রাখে।

এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মিজান এক আসামির রিমান্ড শেষে আদালতে জবাবন্দি রেকর্ড করা আবেদনে একজন সাক্ষীর বরাত দিয়ে উল্লেখ করেন, তদন্তকালে জানা গেছে আসামিরা ভিকটিমকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে মরদেহ নদীতে ফেলে দেয়।

বুধবার আসামিদের জামিনের আবেদনের প্রস্তুতি নিয়েছিলেন আইনজীবী। ওই দিন পুলিশের মৃত সেই মামুন আদালতপাড়ায় জীবিত হাজির হলে বিষ্মিত হয় বিবাদীপক্ষ আর আইনজীবী। এর মধ্যে দিয়ে নারায়ণগঞ্জে জন্ম নেয় আরেকটি জিসামনিকাণ্ড।