মিষ্টি মেয়ে মন্দিরার মিষ্টি কথা।
- আপডেট সময় : ০৯:১১:৩২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ এপ্রিল ২০২১
- / ১০৫৭ বার পড়া হয়েছে
মিষ্টি মেয়ে মন্দিরার মিষ্টি কথা।
মন্দিরা চক্রবর্তী। খুব সুন্দর একটি নাম, খুব মিষ্টি একটি নাম। এই নামের মেয়েটির রূপ যেমন মায়াবী তেমনি মায়াবী তার অভিনয় তার গুণ। চ্যানেল আই সেরা নাচিয়ে’র সেকেন্ড রানার আপ এবং বেশ কিছু নাটকে অভিনয় করে বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন। অভিনয় করেছেন জনপ্রিয় অভিনেতা আফরান নিশো এবং মোশাররফ করিমের সাথেও! তো এরই ধারাবাহিকতায় দৈনিক আস্থা’র আয়োজনে মিষ্টি মেয়ের মিষ্টি মুখের কিছু মিষ্টি কথা শোনা যাক।
জানঃ কেমন আছেন অভিনেত্রী সাহেবা?
মন্দিরাঃ এই তো, মোটামুটি। আপনি?
জানঃ মোটামুটি কেনো?
মন্দিরাঃ আসলে আমি খুব ঘুরতে ভালোবাসি, আনন্দ করতে ভালোবাসি। এখন করোনার কারণে ঘরবন্দী হয়ে সে সব তো আর পারছি না তাই মোটামুটি।
জানঃ ও আচ্ছা। দিনকাল চলছে কেমন?
মন্দিরাঃ ভালো না ভাইয়া। সবাই গৃহবন্দী হয়ে আছি। আর প্রতিদিনই কতো প্রিয় মানুষের মৃত্যু সংবাদ আসছে। কাজ করতে পারছি না নাটকে। এ সব মিলিয়ে খুব একটা ভালো না।
জানঃ মন্দিরা চক্রবর্তী এই নামটা কে রাখে?
মন্দিরাঃ এটা অনেক বড় ঘটনা। আমি একটু ছোট করে বলি। আমার মায়ের খুব ইচ্ছা ছিলো একটি মেয়ের। আমার মা আবার মনসা মন্দিরের ভক্ত ছিলো। তো আমি যখন হই তখন আমার মা আমাকে সেই মন্দিরে নিয়ে গিয়েছিলো। তখন মন্দিরের ঠাকুর মশাই আমার নাম রাখে মন্দিরা।
জানঃ ও আচ্ছা। অভিনয় চলছে কেমন?
মন্দিরাঃ আপাতত ব্রেকেই আছি ভাইয়া। করোনা টরোনা সব মিলিয়ে কোনো কাজ হচ্ছে না এখন। তো ব্রেকেই আছি।
জানঃ শুনলাম মোশাররফ করিমের সাথে একটা নাটক করেছেন। অভিজ্ঞতাগুলো কেমন?
মন্দিরাঃ হ্যাঁ। একটা ধারাবাহিক নাটকে অভিনয় করেছি। নাটকটির নাম শুকনো পাতার নূপুর। নাটকটি চ্যানেল আই থেকে আসে। আর মোশাররফ করিম ভাই খুব হেল্পফুল। এতো বড় একজন মানুষ আমাকে এতো ভালোভাবে সব কিছু বুঝিয়ে দিয়েছে—এটা মনে রাখার মতো একটা বিষয়।

[irp]
জানঃ আপনি তো চ্যানেল আই সেরা নাচিয়ে’র সেকেন্ড রানার আপ আমরা জানি। এক্সপেরিয়েন্স কেমন?
মন্দিরাঃ খুবই ভালো। মূলত এর মাধ্যমেই আমার মিডিয়াতে আসা। ওটার পর থেকেই মানুষ আমাকে চিনে। সাত মাসের একটা জার্নি ছিলো। খুলনা জেলা থেকে আমিই প্রথম ছিলাম। অনেক কিছু শিখতে পেরেছি। খুব ভালো ও শিক্ষনীয় অভিজ্ঞতা পেয়েছি।
জানঃ সামনে ঈদ। তো ঈদকে সামনে রেখে কোনো পরিকল্পনা আছে কী?
মন্দিরাঃ তিনটা নাটকের কথা আছে। কিন্তু করোনা পরিস্থিতি তো ভালো না। দেখি কী হয়।
জানঃ কোন ধরনের নাটক,মিউজিক ভিডিও—সর্বোপরি কোন ধরনের কাজ করতে ভালোবাসেন?
মন্দিরাঃ এক কথায় মানসম্মত।
[irp]
জানঃ এটা আমি জানি। আপনার সব নাটকই মানসম্মত। কোন ধরনের নাটক দেখতে ভালোবাসেন?
মন্দিরাঃ বললামই তো। মানসম্মত। আমি গল্পটাকে আগে প্রাধান্য দেই। জানঃ Dance শেখার অনুপ্রেরণা কার কাছ থেকে পেলেন? মন্দিরাঃ দিদা বাবা মা। মূলক মামা’র থেকেই। মামা’র খুব ইচ্ছা ছিলো আমাকে Dancer বানাবে। তো এভাবেই নাচের ক্লাসে নিয়ে যেতো নিয়ে আসতো। এভাবেই Dance শেখা।
জানঃ শুনেছি আপনি একজন Dance teacher এই ব্যাপারে কিছু বলুন।

[irp]
মন্দিরাঃ আমি যখন Dance শিখতাম তখন থেকেই এটার শুরু। আমি যখন ক্লাস সেভেনে পড়তাম তখন থেকেই শেখাই। আসলে তখন আমি নাচ শিখতাম ও অনেক অনুষ্ঠানে Dance করতাম,তো অনেক ছেলে মেয়ের বাবা মা আমাকে এসে বলতো, আমার বাচ্চাটাকে একটু শেখাও না। এভাবেই আসা হয় শিক্ষকতায়। পরে একটা একাডেমি খুলে ফেলি। আমার একাডেমির নাম নৃত্য মঞ্জরী ডান্স একাডেমী।
জানঃ আপনার পরিবার সম্পর্কে বলুন। কে কে আছেন? কাকে সবচেয়ে আপন মনে হয়?
মন্দিরাঃ আমার পরিবারে আমি আমার বড় দুই ভাই মা বাবা মামা। মামা আমাদের সাথেই থাকেন। আসলে আমাদের ফ্যামিলিটা ভেরি ফ্রেন্ডলি। ওই যে থাকে না, কড়া শাসন, বকাঝকা। এগুলো আমার ফ্যামিলিতে একদমই নেই। সবাই ফ্রেন্ডের মতো। আর মা আমার সবচেয়ে আপন। আর আমার ভাবী আছেন, খুবই প্রিয় একজন মানুষ আমার। মন খুলে কথা বলতে পারার একটা জায়গা।
জানঃ অভিনয়ের ক্ষেত্রে কে আপনার আইডল?
মন্দিরাঃ জয়া আহসান আপু।
জানঃ আর Dance এর বেলায় কে আপনার আইডল?
মন্দিরাঃ রিয়া আপু।
জানঃ কোথায় পড়াশোনা করছেন এখন?
মন্দিরাঃ এখন শান্তা মরিয়ম ইউনিভার্সিটিতে পড়ছি ফ্যাশন ডিজাইনিংয়ের ওপর অনার্স থার্ড ইয়ারে।
জানঃ আপনার পরিবার সম্পর্কে বলুন। কে কে আছেন? কাকে সবচেয়ে আপন মনে হয়?
মন্দিরাঃ আমার পরিবারে আমি আমার বড় দুই ভাই মা বাবা মামা। মামা আমাদের সাথেই থাকেন। আসলে আমাদের ফ্যামিলিটা ভেরি ফ্রেন্ডলি। ওই যে থাকে না, কড়া শাসন, বকাঝকা। এগুলো আমার ফ্যামিলিতে একদমই নেই। সবাই ফ্রেন্ডের মতো। আর মা আমার সবচেয়ে আপন।

[irp]
জানঃ আপনার জীবনের সবচেয়ে আনন্দঘন মুহূর্ত কোনটি?
মন্দিরাঃ আমার জীবনের সবচেয়ে আনন্দঘন মুহূর্ত হলো যখন আমার বড় দাদার বেবী হয়েছিলো তখন। আমি বাচ্চাটাকে কোলে নিয়ে ফিল করি যে, এটাই আমার জীবেনর সবচেয়ে হ্যাপি মোমেন্ট।
জানঃ আপনার জীবনে জঘন্য বিষয় কী?
মন্দিরাঃ আমি খুব রাগী৷ আবার সহজে রেগে যাই না। তো একবার যদি রেগে যাই তাহলে খুব খারাপ অবস্থা হয়। তো ওটাই আমার জীবনের সবচেয়ে খারাপ মুহূর্ত।
জানঃ আপনার প্রিয় কাজগুলো কী কী?
মন্দিরাঃ ঘোরাঘুরি করা শপিং করা আড্ডা দেয়া সাজুগুজু করা—এগুলোই।
জানঃ ঢাকার কোন জায়গা আপনার সবচেয়ে ভালোলাগে?
মন্দিরাঃ আমি তো থাকি গুলশান দুই এ। তো এই জায়গাও ভালোই লাগে। তবে সবচেয়ে পছন্দের জায়গা হচ্ছে আমার পুরান ঢাকা। ওখানে আমার নানির বাড়ি। খুব ভালোলাগে জায়গাটা।
জানঃ আমারও প্রিয় এলাকা সেটা। বই পড়তে ভালোবাসেন? কোন লেখককে ভালোলাগে?
মন্দিরাঃ হ্যাঁ। বই পড়তে ভালোবাসি। আমি অনেক গল্প কবিতা উপন্যাস পড়ি। আর আমার সবচেয়ে বেশী প্রিয় লেখক হলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
জানঃ বাংলাদেশের কোন রাজনৈতিক দল সাপোর্ট করেন।
মন্দিরাঃ কোনোটাই না৷ তবে বঙ্গবন্ধুকে ভালোবাসি। উনার মতো নেতা পৃথিবীতে একজনই আছেন।
জানঃ আচ্ছা । এখন একটু অন্যরকম ব্যাপার হয়ে যাক। আপা এতোক্ষণ তো শুধু আমিই আপনাকে প্রশ্ন করে যাচ্ছি আর আপনি উত্তর দিয়ে যাচ্ছেন। এখন আপনি আমাকে গুনে গুনে তিনটা প্রশ্ন করেন। দেখি উত্তর দিতে পারি কি না?
মন্দিরাঃ হা হা হা। ঠিক আছে। প্রথম প্রশ্ন, আপনি যদি কখনো অনেক বড় সেলিব্রিটি হন তখন কী করবেন?
জানঃ আমি যদি সেলিব্রিটি হই তাহলে আমি দেশের প্রতিটি জেলায় প্রতিটি উপজেলায় প্রতিটি স্কুলে সংস্কৃতি চর্চাটাকে আরও জোরদার করার উদ্যোগ নিবো।
মন্দিরাঃ আচ্ছা। দ্বিতীয় প্রশ্ন, আপনি কী হতে চান?
জানঃ আমি একজন ক্ষমতাশীল সংস্কৃতিকর্মী হতে চাই এক কথায়।
মন্দিরাঃ তৃতীয় প্রশ্ন, বাংলাদেশে যা কিছু ঘটছে সেগুলোর মধ্যে আপনার সবচেয়ে খারাপ লাগে কোনটা? যেটা হওয়া উচিত না বলে আপনি মনে করেন।
জানঃ সাম্প্রদায়িক উষ্কানিমূলক কর্মকাণ্ড ও সংস্কৃতি-বিরোধীতা।
মন্দিরাঃ হয়েছে তিনটা প্রশ্ন, এবার বলেন।
জানঃ হুম। আমাদের এই বাংলাদেশে অনেক সুবিধাহারা মানুষ আছে। তো এদের জন্য কী ব্যক্তিগতভাবে বা নিজ উদ্যোগে কিছু করা হয়?
মন্দিরাঃ হ্যাঁ। আমি আর আমার মা একটা বৃদ্ধাশ্রমের সাথে যুক্ত আছি। তো আমরা আমাদের সাধ্য সেই সব বাবা মায়েদের জন্য কিছু করার চেষ্টা করি।
জানঃ কিছুদিন আগে আপনি Youth Bangla Cultural Foundation আয়োজিত এক উদ্যোক্তা উৎসবে যোগ দিয়েছিলেন। তো নান্দনিক এই আয়োজন সম্পর্কে একটু বলুন আপা।
মন্দিরাঃ খুব ভালো একটা আয়োজন ছিলো। আমি গিয়েছিলাম সব দিনই। আসলে আমরা নারীরা যে অনেক কিছু করে দেখাতে পারি—আয়োজনটা ছিলো তারই বহিঃপ্রকাশ। এমন আয়োজন আরও হওয়া উচিত। আর মুনা আপুরই আয়োজনে ছিলো ফেস্টিভ্যালটা। এমন আয়োজন আরও হওয়া উচিত বলে আমি মনে করি।

[irp]
জানঃ বাংলাদেশ নিয়ে আপনার কেমন প্রত্যাশা?
মন্দিরাঃ আমার দেশ আরও এগিয়ে যাক। এমন একটা অবস্থানে যাক যাতে বাইরের দেশের কেউ আমার দেশকে ছোট করে দেখতে না পারে।
জানঃ আপনি অসাম্প্রদায়িকমনা একজন মানুষ আমরা জানি। আপা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নিয়ে দর্শকদের কিছু বলুন।
মন্দিরাঃ এটা একটা আদর্শ। আমরা সবাই মানুষ। তো আমাদের এই আদর্শ লালন করা উচিত। আর আমাদের মুরুব্বিদের এ ব্যাপারে একটু দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করা উচিত। কারণ তাদের কাছ থেকেই তো আমরা শিখি, তাই না?
জানঃ যদি আপনাকে দেশের প্রধানমন্ত্রী করা হয় তাহলে কী কী করবেন?
মন্দিরাঃ সবার আগেই তৃণমূল মানুষদের নিয়ে কাজ করবো। তারা ভালো থাকলেই আমরা ভালো থাকবো, সবাই ভালো থাকবে।
জানঃ আপা আমরা শেষ পর্যায়ে চলে এসেছি। দৈনিক আস্হা’র এই আয়োজন আপনার কাছে কেমন লাগলো?
মন্দিরাঃ খুবই ভালো। ধন্যবাদ দৈনিক আস্থা’কে এমন আয়োজন করার জন্য। আর আপনাকেও ধন্যবাদ। এটাই আমার প্রথম সাক্ষাৎকার। তো খুবই আনন্দিত আমি।
জানঃ আপা এবার শেষেরও শেষ একটা প্রশ্ন করি?
মন্দিরাঃ হুম শিওর।
জানঃ আপা আমাকে আপনার কেমন লাগলো?
মন্দিরাঃ খুব বেশি পরিচয় নেই আপনার সাথে তবে আপনার কথাবার্তা ও ম্যাসেজ লেখার ধরণ অনুযায়ী বলবো, আপনি নিতান্তই একজন ভদ্র ছেলে।
জানঃ খায়ছে রে। আপা একদম শেষে চলে আসলাম। আপনাকে অনেক অনেক অনেক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ আমার ও দৈনিক আস্থা’র পক্ষ থেকেও।
মন্দিরাঃ আপনাকেও ভাইয়া। ভালো থাকবেন।
[irp]

























