ঢাকা ০৮:২১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬, ২৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

জন্মদিনে শিল্পী বিশ্বাস এর শিল্প কথা

News Editor
  • আপডেট সময় : ১১:১৫:২৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২১
  • / ১১৮৫ বার পড়া হয়েছে

জন্মদিনে শিল্পী বিশ্বাস এর শিল্প কথা

সিয়াম সরকার জান, বিনোদন প্রতিনিধিঃ

শিল্পী বিশ্বাস। একটি পরিচিত নাম সারা বাংলাদেশে। দেশের কনসার্ট প্রেমিরা কে না জানে এই নাম! সবাই জানে। এরই ধারাবাহিকতায় আজকের দৈনিক আস্থা’র আয়োজনে একটু আলাপ। সাথেই থাকুন।

জানঃ কেমন আছেন আপা?

শিল্পীঃ এই তো ভাই আছি সব মিলিয়ে কিছুটা ভালো কিছুটা খারাপ।

জানঃ করোনার এই দুঃসময়ে কেমন যাচ্ছে দিনকাল?

শিল্পীঃ খুবই খারাপ। একের পর এক পরিচিত মুখগুলো চলে যাচ্ছে কিছু না বলেই চিরতরে। ভালোলাগে না কিছুই। আমাদের প্রধান কাজই হলো গান শুনিয়ে মানুষকে আনন্দ দেয়া–এটাই এখন করতে পারছি না মনের মতো। এই কিছুদিন আগে মুজিব শতবর্ষের প্রোগ্রাম করলাম। ভালোই চলছিলো সব কিছু কিন্তু হঠাৎ সব এলোমেলো হয়ে গেলো। রাশিয়ায় যাবার কথা ছিলো আমার দল নিয়ে সেটাও বাতিল হয়ে গেলো। তো সব  মিলিয়ে আমরা খুবই ক্ষতিগ্রস্ত। সবাই তো আসলে শিল্পীর হাসি মুখটাই বড় করে দেখে কিন্তু এর অন্তরালে যে কষ্ট তা তো আর দেখে না রে ভাই।

জানঃ কী করার আপা, এটাই তো বাস্তবতা।  যা হোক, গান বাজনা চলছে কেমন? ঈদে কী নতুন কোনো গানের পরিকল্পনা আছে?

শিল্পীঃ কিছুক্ষণ আগেই প্র্যাক্টিস থেকে উঠলাম। বাসাতেই বন্দী এখন গান বাজনা। আর ঈদে কিছু মৌলিক গান আসবে।

জানঃ স্টেজ শো বেশী করেন। কোন ধরনের কনসার্ট বেশী করা হয়?

শিল্পীঃ সব ধরনের কনসার্ট করি। কর্পোরেট লেভেল থেকে শুরু করে সব। আমি শিল্পী। গান গেয়ে মানুষের মন ভালো করাই আমার কাজ তো এখানে আমি কোনো বাছবিচার করি না। সবাই মানুষ, সবাইকেই গান শোনাতে পছন্দ করি, সবার ভালোবাসা নিয়েই বেঁচে থাকতে চাই ভাই। আর এখনো আমি অনেক কনসার্ট কোনো রকম সম্মানী ছাড়াই করি শিল্পীর দায়বদ্ধতা থেকে। ভালো লাগে। এখনো আমরা শুধু হারমোনিয়াম আর তবলা দিয়েই গান গেয়ে মানুষকে দোলা দিতে পারি৷  এই যোগ্যতাটুকু ভগবান দিয়েছেন। এটাই বড় কথা।

জানঃ আপা। এখন একটু পারিবারিক প্রসঙ্গে আসি। আপনার পরিবার সম্পর্কে একটু বলুন।

শিল্পীঃ আমার হাসবেন্ড রতন ঘোষ গানেরই মানুষ। তবলা প্লেয়ার। একটা মেয়ে আছে নাম Angle! ও ক্লাস এইটে পড়ে।  ও গান শিখছে। ইচ্ছে শিল্পী হবে। এই-ই পরিবার। সবাই ভাবেরই মানুষ গানেরই মানুষ গানেরই পরিবার ভাই।

জানঃ মিউজিক ইন্ডাস্ট্রি নিয়ে ও বাংলাদেশকে নিয়ে আপনার আশা কেমন?

শিল্পীঃ মিউজিক ইন্ডাস্ট্রি নিয়ে আমার আশা এটুকুই যে ভালো ও মানসম্মত গান করতে হবে। আগে ভালো গান মানুষ নিতো এখনও নেয়– এটা ভুলে গেলে চলবে না। মাটির গান করতে হবে। যেমন আমার আর এফ এ সুমন ভাইয়ের “বন্ধু রে তোর বুকের ভিতর” গানটি সবাই পছন্দ করে,  বড় থেকে ছোট সবাই। গানটির ভিউ হয়েছে ইউটিউবে ছাব্বিশ মিলিয়নেরও বেশী। তো এটা তো ফটকা মার্কা গান না তাহলে কেনো এতো মানুষ দেখলো? এখানেই বিবেচনা করতে হবে আবার নতুন করে।  আর দেশের মানুষের কাছে আমার একটাই চাওয়া যে, আপনারা বাংলা গান শুনুন। বাংলা গান শুনুন। বাংলা গান শুনুন।  আর আমরা শিল্পী, আমাদের হাসি মুখটাই শুধু দেখলে চলবে না, আমাদের দিকেও একটু নজর দিতে হবে সরকারি ও কর্পোরেট লেভেল থেকে। আমি চাই বাংলাদেশে চলমান সাম্প্রদায়িক উষ্কানিমূলক কাজ বন্ধ হয়ে যাক চিরতরে। ধর্মীয় বাড়াবাড়ি আর না হোক। আমরা মানুষ এটাই আমাদের সবচেয়ে বড় পরিচয়। সবার রক্তই লাল—এই বিষয়টা অন্তরে খোদাই করলেই পৃথিবীটা হবে সম্প্রীতিময়। এটুকুই চাওয়া।

জানঃ আমারও। তো আপা আমরা শেষের দিকে প্রায়। আজকের এই আয়োজন কেমন লাগলো?

শিল্পীঃ আপনি ও দৈনিক আস্থা আমাকে এভাবে সম্মান করলেন — আমি এককথায়, খুবই কৃতজ্ঞ। ধন্যবাদ দৈনিক আস্থা’কে ও বিশেষ করে আপনাকে ভাই। আর আমি আবারও বলছি, বাংলা গান শুনুন।

জানঃ আপনাকেও ধন্যবাদ আপা।

আস্থা/এস.এস

ট্যাগস :

জন্মদিনে শিল্পী বিশ্বাস এর শিল্প কথা

আপডেট সময় : ১১:১৫:২৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২১

জন্মদিনে শিল্পী বিশ্বাস এর শিল্প কথা

সিয়াম সরকার জান, বিনোদন প্রতিনিধিঃ

শিল্পী বিশ্বাস। একটি পরিচিত নাম সারা বাংলাদেশে। দেশের কনসার্ট প্রেমিরা কে না জানে এই নাম! সবাই জানে। এরই ধারাবাহিকতায় আজকের দৈনিক আস্থা’র আয়োজনে একটু আলাপ। সাথেই থাকুন।

জানঃ কেমন আছেন আপা?

শিল্পীঃ এই তো ভাই আছি সব মিলিয়ে কিছুটা ভালো কিছুটা খারাপ।

জানঃ করোনার এই দুঃসময়ে কেমন যাচ্ছে দিনকাল?

শিল্পীঃ খুবই খারাপ। একের পর এক পরিচিত মুখগুলো চলে যাচ্ছে কিছু না বলেই চিরতরে। ভালোলাগে না কিছুই। আমাদের প্রধান কাজই হলো গান শুনিয়ে মানুষকে আনন্দ দেয়া–এটাই এখন করতে পারছি না মনের মতো। এই কিছুদিন আগে মুজিব শতবর্ষের প্রোগ্রাম করলাম। ভালোই চলছিলো সব কিছু কিন্তু হঠাৎ সব এলোমেলো হয়ে গেলো। রাশিয়ায় যাবার কথা ছিলো আমার দল নিয়ে সেটাও বাতিল হয়ে গেলো। তো সব  মিলিয়ে আমরা খুবই ক্ষতিগ্রস্ত। সবাই তো আসলে শিল্পীর হাসি মুখটাই বড় করে দেখে কিন্তু এর অন্তরালে যে কষ্ট তা তো আর দেখে না রে ভাই।

জানঃ কী করার আপা, এটাই তো বাস্তবতা।  যা হোক, গান বাজনা চলছে কেমন? ঈদে কী নতুন কোনো গানের পরিকল্পনা আছে?

শিল্পীঃ কিছুক্ষণ আগেই প্র্যাক্টিস থেকে উঠলাম। বাসাতেই বন্দী এখন গান বাজনা। আর ঈদে কিছু মৌলিক গান আসবে।

জানঃ স্টেজ শো বেশী করেন। কোন ধরনের কনসার্ট বেশী করা হয়?

শিল্পীঃ সব ধরনের কনসার্ট করি। কর্পোরেট লেভেল থেকে শুরু করে সব। আমি শিল্পী। গান গেয়ে মানুষের মন ভালো করাই আমার কাজ তো এখানে আমি কোনো বাছবিচার করি না। সবাই মানুষ, সবাইকেই গান শোনাতে পছন্দ করি, সবার ভালোবাসা নিয়েই বেঁচে থাকতে চাই ভাই। আর এখনো আমি অনেক কনসার্ট কোনো রকম সম্মানী ছাড়াই করি শিল্পীর দায়বদ্ধতা থেকে। ভালো লাগে। এখনো আমরা শুধু হারমোনিয়াম আর তবলা দিয়েই গান গেয়ে মানুষকে দোলা দিতে পারি৷  এই যোগ্যতাটুকু ভগবান দিয়েছেন। এটাই বড় কথা।

জানঃ আপা। এখন একটু পারিবারিক প্রসঙ্গে আসি। আপনার পরিবার সম্পর্কে একটু বলুন।

শিল্পীঃ আমার হাসবেন্ড রতন ঘোষ গানেরই মানুষ। তবলা প্লেয়ার। একটা মেয়ে আছে নাম Angle! ও ক্লাস এইটে পড়ে।  ও গান শিখছে। ইচ্ছে শিল্পী হবে। এই-ই পরিবার। সবাই ভাবেরই মানুষ গানেরই মানুষ গানেরই পরিবার ভাই।

জানঃ মিউজিক ইন্ডাস্ট্রি নিয়ে ও বাংলাদেশকে নিয়ে আপনার আশা কেমন?

শিল্পীঃ মিউজিক ইন্ডাস্ট্রি নিয়ে আমার আশা এটুকুই যে ভালো ও মানসম্মত গান করতে হবে। আগে ভালো গান মানুষ নিতো এখনও নেয়– এটা ভুলে গেলে চলবে না। মাটির গান করতে হবে। যেমন আমার আর এফ এ সুমন ভাইয়ের “বন্ধু রে তোর বুকের ভিতর” গানটি সবাই পছন্দ করে,  বড় থেকে ছোট সবাই। গানটির ভিউ হয়েছে ইউটিউবে ছাব্বিশ মিলিয়নেরও বেশী। তো এটা তো ফটকা মার্কা গান না তাহলে কেনো এতো মানুষ দেখলো? এখানেই বিবেচনা করতে হবে আবার নতুন করে।  আর দেশের মানুষের কাছে আমার একটাই চাওয়া যে, আপনারা বাংলা গান শুনুন। বাংলা গান শুনুন। বাংলা গান শুনুন।  আর আমরা শিল্পী, আমাদের হাসি মুখটাই শুধু দেখলে চলবে না, আমাদের দিকেও একটু নজর দিতে হবে সরকারি ও কর্পোরেট লেভেল থেকে। আমি চাই বাংলাদেশে চলমান সাম্প্রদায়িক উষ্কানিমূলক কাজ বন্ধ হয়ে যাক চিরতরে। ধর্মীয় বাড়াবাড়ি আর না হোক। আমরা মানুষ এটাই আমাদের সবচেয়ে বড় পরিচয়। সবার রক্তই লাল—এই বিষয়টা অন্তরে খোদাই করলেই পৃথিবীটা হবে সম্প্রীতিময়। এটুকুই চাওয়া।

জানঃ আমারও। তো আপা আমরা শেষের দিকে প্রায়। আজকের এই আয়োজন কেমন লাগলো?

শিল্পীঃ আপনি ও দৈনিক আস্থা আমাকে এভাবে সম্মান করলেন — আমি এককথায়, খুবই কৃতজ্ঞ। ধন্যবাদ দৈনিক আস্থা’কে ও বিশেষ করে আপনাকে ভাই। আর আমি আবারও বলছি, বাংলা গান শুনুন।

জানঃ আপনাকেও ধন্যবাদ আপা।

আস্থা/এস.এস