আমলাতান্ত্রিক রাজনীতির কারণে আ.লীগের করুন দশা
- আপডেট সময় : ১০:২৮:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ এপ্রিল ২০২৬
- / ১০১৫ বার পড়া হয়েছে
আমলাতান্ত্রিক রাজনীতির কারণে আ.লীগের করুন দশা
স্টাফ রিপোর্টারঃ
আওয়ামী লীগের রাজনীতির ভেতরে কিছু আমলাতান্ত্রিক রাজনীতির কারণে আজকে সংগঠনটির করুন দশা। তার মধ্যে অন্যতম এই আলাউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী নাসিম!
১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসলে প্রটোকল অফিসার হিসেবে নিয়োগ পাওয়া নাসিম আঙুল ফুলে কলা গাছ হয়ে যায়! তার বাবা রাজাকার হলেও সে হয়ে উঠে আওয়ামী রাজনীতির ভিতরে এক বটগাছ। আওয়ামী লীগের রাজনীতির ধ্বংসের ষড়যন্ত্র ছিলো এদের হাত ধরেই, শেখ হাসিনার বাহিরে গিয়ে শেখ রেহানা আপাকে দিয়ে আরেকটি গ্রুপ দাড় করানোর জন্য এই নাসিম ছিলো সর্বোচ্চ মরিয়া।
জামাত শিবিরকে আওয়ামী লীগের ঠিকাদারি দিয়ে এই নাসিম আওয়ামী লীগের ত্যাগী নেতা/কর্মীদের হত্যার নীল নকশা করতেন যার অন্যতম ছিলো ফেনী জেলার ফুলগাজী উপজেলার চেয়ারম্যান একরাম চৌধুরী। তাকে শেখ হাসিনা নিজের সন্তানের মতো দেখতেন।
একরাম চৌধুরীকে হত্যার মাধ্যমে ফেনী জেলার একক নিয়ন্ত্রণ নেন এই নাসিম। ওসি প্রদীপসহ অনেকেই নাসিমের লোক ছিলো সরাসরি যারা আওয়ামী লীগের নাম ব্যবহার করে আওয়ামী লীগকে বিতর্কিত করেছে।
গত দেড় দশক আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে পরশুরাম ফুলগাজী ছাগলনাইয়া বর্ডার দিয়ে ভারত থেকে চোরাই পথে মাদক, অবৈধ চিনি, নিয়োগ ও বদলি বাণিজ্য, টেন্ডারবাজি, ঘুষ-চাঁদাবাজির মাধ্যমে হাজার হাজার কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন।
কানাডাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অর্থ পাচার করেছেন নাসিম। ঢাকায় মদের ব্যবসা এবং ফেনীতে অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে স্বর্গরাজ্য গড়েন। তার নানান অপকর্ম ও দুর্নীতির খবর প্রচারিত হওয়ায় নড়ে চড়ে বসে দুর্নীতি দমন কমিশন দুদক।
অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল অবৈধ সম্পদ অর্জন করায় ২ অক্টোবর তার বিরুদ্ধে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয় দুদক এবং সত্যতা পেয়ে তার স্ব-পরিবারকে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেয় দুদক। নারী পাচার থেকে শুরু করে নারী কেলেঙ্কারির অভিযোগসহ শতশত অভিযোগ জমা আছে এই নাসিমের বিরুদ্ধে। গুলশানে সবচেয়ে বিলাসবহুল মদের বার এই নাসিমের।
নেত্রীর এক সময় প্রটোকল অফিসার ছিল সেই সুবাধে নিজেকে আওয়ামী লীগের হর্তাকর্তা ভেবে ৫ আগস্টের আগেই ভারতে পালিয়ে গিয়ে আওয়ামী লীগের অফিস করেন। সেই অফিসে বসে গ্রুপিংয়ের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের এই নাজুক অবস্থাকে আরো খারাপ পর্যায়ে নিয়ে যাচ্ছেন।
শোনা যাচ্ছে ১ লক্ষ ২০ হাজার রুপি বিদ্যুৎ বিল বকেয়া রেখে অফিস বন্ধ করে দিয়েছে নাসিম। ভারতেও আওয়ামী লীগের দুর্নাম ছড়াচ্ছে। এই নাসিমদের কারণে দলের দুঃসময়েও আওয়ামী লীগের ভেতরে কোন্দল চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে।
শিবিরের কর্মীদের সাথে এবং জামাতের সাথে এই নাসিমের নিবিড় যোগাযোগ রয়েছে, এনসিপির প্রধান কার্যালয় এই নাসিমের মালিকানাধীন বিল্ডিংয়ে করা হয়।
সারা বাংলাদেশের ৩০০ এমপির মধ্যে সবার বাড়িঘর পুড়িয়ে দেওয়া হলেও নাসিমের বাড়ি ছিলো অক্ষত, একটা ইটের টুকরো কেউ মারেনি। জামাত বিএনপিকে ঠিকাদারির সুযোগ দেওয়া এবং ভেতরে ভেতরে তাদের সাথে আতাত করে চলা নাসিম আওয়ামী লীগের ভেতরের বড় ষড়যন্ত্রকারী।
দৈনিক আস্থা/এমএইচ



















