ঢাকা ০৯:৪৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৪ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম:
Logo বিএনপি প্রার্থীকে সমর্থন, জামায়াতের বিরুদ্ধে ‘জিহাদ’-হেফাজত আমির Logo নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের ১৩ নেতাকর্মী খালাস Logo যুবদলের অর্ধশতাধিক নেতাকর্মীর জামায়াতে যোগদান Logo ভোটের দিন দেশে আসতে পারছেন না আনসারী Logo মাগুরায় জামায়াতের ৫ নেতাকর্মী আটক Logo সাউন্ড গ্রেনেড জলকামান দিয়ে সরকারি কর্মচারীদের সরাল পুলিশ Logo কোন যোগ্যতায় নাহিদ ইসলাম জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন—জাহেদ উর রহমান Logo গুইমারায় শহীদ জিয়া স্মৃতি সংসদের উদ্যোগে উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত Logo খাগড়াছড়িতে অতিঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলিতে সুষ্ঠু ভোট গ্রহণের দাবিতে ৪ প্রার্থীর সংবাদ সম্মেলন Logo মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে নিয়ে মিথ্যাচার কোনোভাবেই কাম্য নয়-মাহদী

কুমিল্লায় খাল দখলে ভুমিদস্যুরা

Astha DESK
  • আপডেট সময় : ০২:৪৬:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জুন ২০২৩
  • / ১০৪৬ বার পড়া হয়েছে

কুমিল্লায় খাল দখলে ভুমিদস্যুরা

 

কুমিল্লা প্রতিনিধিঃ

কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার কোম্পানিগঞ্জ থেকে গাজিরহাট বাজার পর্যন্ত ১৮ কিলোমিটার প্রবাহিত খালটি দখল ও দূষণে অস্তিত্ব হারাচ্ছে। খালের দৈর্ঘ্য-প্রস্থ সমানতালেই দখল করে গড়ে ওঠেছে ছোটবড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। উপজেলার ৫টি ইউনিয়ন ঘেঁষে প্রবাহিত খালটির নামের দিক থেকে কয়েকটি পরিচিতি রয়েছে। এটিকে কেউ বলেন ডিসি খাল, কেউ বলেন মুরাদনগর-নবীনগর খাল আবার অনেকেই বলে থাকেন উত্তর-দক্ষিণ বাঙ্গরা বাজার খাল।

 

এক সময় খালের পানির ব্যাপক প্রবাহ ছিল। আশপাশের ক্ষেতের চাষাবাদে ব্যবহার হতো খালের পানি। কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় আর দখলদারদের থাবায় দিন দিন সংকুচিত হতে থাকে খালটি। খালের দুইপাড়ে এখন দোকান আর দোকান। প্রভাবশালীরা খাল দখল করে দোকানঘর গড়ে তা ভাড়া দিচ্ছেন। আবার অগ্রিম হিসেবে নিচ্ছেন লাখ লাখ টাকা। খালের কোন কোন অংশে দখল করে ঘরবাড়িও নির্মাণ করা হয়েছে। কেবল দখলই নয়, আশপাশের মানুষ আর দখলদারদের ফেলা বর্জ্যে দূষণের মাত্রা ছাড়িয়েছে খালটি।

 

প্রায় এক দশক ধরে চলছে দখলের প্রতিযোগিতা। ইতোমধ্যে খালের দু’পাড়ের প্রায় আশি শতাংশ দখল হয়ে গেছে। কোম্পানীগঞ্জ, বাখরনগর, টনকি, চাপিতলা, দক্ষিণ বাঙ্গরা, দৌলতপুর, করইবাড়ী, পীর কাশিমপুর ও গাজিরহাটের কৃষকরা জানান, এই খালের পানি দিয়ে তারা ইরি-বোরো আবাদ করেছেন। খালটি পর্যায়ক্রমে দখল হয়ে যাওয়ায় এখন বাধ্য হয়ে কৃষকরা পুকুর-ডোবা বা ভুগর্ভস্থ পানি উত্তোলন করে চাষাবাদের কাজ সারছেন।

 

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে ও সরেজমিনে দেখা গেছে, খালের বিভিন্ন এলাকা দিয়ে প্রবাহিত খালের অংশ দখল করে দোকান ও বাড়িঘর, কালভার্ট নির্মাণ করা হয়েছে। কোথাও কোথাও খালটি আংশিক ভরাট করা হয়েছে। আবার কোথাও কোথাও পুরোপুরি দখল হয়ে গেছে। খালের ওপর নির্মিত একটি দোকানের ভাড়াটিয়া মাসুদ আলম বলেন, মাস দুয়েক আগে মাসিক চার হাজার টাকা ভাড়ায় দোকানটি নিয়েছেন।

 

উপজেলার যেসব বাজারের পাশ দিয়ে খালটি বয়ে গেছে ওইসব বাজার কমিটির সভাপতিরা জানান, স্থানীয় প্রশাসন বিষয়টির দিকে নজর দেয় না। প্রত্যেক এলাকার বাজারের খালের অংশের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্ত পর্যন্ত দোকান আর দোকান। আমরা বাধা দিলেও দখলদাররা আমলে নেয় না।

 

মুরাদনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আলাউদ্দিন ভূঁইয়া জনি বলেন, খবর নিয়ে জানতে পেরেছি, দখল দুষণের শিকার হয়েছে খালটি। শিগগিরই খালটি উদ্ধারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ট্যাগস :

কুমিল্লায় খাল দখলে ভুমিদস্যুরা

আপডেট সময় : ০২:৪৬:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জুন ২০২৩

কুমিল্লায় খাল দখলে ভুমিদস্যুরা

 

কুমিল্লা প্রতিনিধিঃ

কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার কোম্পানিগঞ্জ থেকে গাজিরহাট বাজার পর্যন্ত ১৮ কিলোমিটার প্রবাহিত খালটি দখল ও দূষণে অস্তিত্ব হারাচ্ছে। খালের দৈর্ঘ্য-প্রস্থ সমানতালেই দখল করে গড়ে ওঠেছে ছোটবড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। উপজেলার ৫টি ইউনিয়ন ঘেঁষে প্রবাহিত খালটির নামের দিক থেকে কয়েকটি পরিচিতি রয়েছে। এটিকে কেউ বলেন ডিসি খাল, কেউ বলেন মুরাদনগর-নবীনগর খাল আবার অনেকেই বলে থাকেন উত্তর-দক্ষিণ বাঙ্গরা বাজার খাল।

 

এক সময় খালের পানির ব্যাপক প্রবাহ ছিল। আশপাশের ক্ষেতের চাষাবাদে ব্যবহার হতো খালের পানি। কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় আর দখলদারদের থাবায় দিন দিন সংকুচিত হতে থাকে খালটি। খালের দুইপাড়ে এখন দোকান আর দোকান। প্রভাবশালীরা খাল দখল করে দোকানঘর গড়ে তা ভাড়া দিচ্ছেন। আবার অগ্রিম হিসেবে নিচ্ছেন লাখ লাখ টাকা। খালের কোন কোন অংশে দখল করে ঘরবাড়িও নির্মাণ করা হয়েছে। কেবল দখলই নয়, আশপাশের মানুষ আর দখলদারদের ফেলা বর্জ্যে দূষণের মাত্রা ছাড়িয়েছে খালটি।

 

প্রায় এক দশক ধরে চলছে দখলের প্রতিযোগিতা। ইতোমধ্যে খালের দু’পাড়ের প্রায় আশি শতাংশ দখল হয়ে গেছে। কোম্পানীগঞ্জ, বাখরনগর, টনকি, চাপিতলা, দক্ষিণ বাঙ্গরা, দৌলতপুর, করইবাড়ী, পীর কাশিমপুর ও গাজিরহাটের কৃষকরা জানান, এই খালের পানি দিয়ে তারা ইরি-বোরো আবাদ করেছেন। খালটি পর্যায়ক্রমে দখল হয়ে যাওয়ায় এখন বাধ্য হয়ে কৃষকরা পুকুর-ডোবা বা ভুগর্ভস্থ পানি উত্তোলন করে চাষাবাদের কাজ সারছেন।

 

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে ও সরেজমিনে দেখা গেছে, খালের বিভিন্ন এলাকা দিয়ে প্রবাহিত খালের অংশ দখল করে দোকান ও বাড়িঘর, কালভার্ট নির্মাণ করা হয়েছে। কোথাও কোথাও খালটি আংশিক ভরাট করা হয়েছে। আবার কোথাও কোথাও পুরোপুরি দখল হয়ে গেছে। খালের ওপর নির্মিত একটি দোকানের ভাড়াটিয়া মাসুদ আলম বলেন, মাস দুয়েক আগে মাসিক চার হাজার টাকা ভাড়ায় দোকানটি নিয়েছেন।

 

উপজেলার যেসব বাজারের পাশ দিয়ে খালটি বয়ে গেছে ওইসব বাজার কমিটির সভাপতিরা জানান, স্থানীয় প্রশাসন বিষয়টির দিকে নজর দেয় না। প্রত্যেক এলাকার বাজারের খালের অংশের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্ত পর্যন্ত দোকান আর দোকান। আমরা বাধা দিলেও দখলদাররা আমলে নেয় না।

 

মুরাদনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আলাউদ্দিন ভূঁইয়া জনি বলেন, খবর নিয়ে জানতে পেরেছি, দখল দুষণের শিকার হয়েছে খালটি। শিগগিরই খালটি উদ্ধারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।