ঢাকা ০৬:৪৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬, ২৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

খাগড়াছড়িতে র‌্যালী ও গঙ্গাদেবীর পুজোর মধ্যে দিয়ে বৈসাবী উৎসব শুরু

News Editor
  • আপডেট সময় : ০৩:২১:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ এপ্রিল ২০২১
  • / ১১৩৩ বার পড়া হয়েছে

খাগড়াছড়িতে র‌্যালী ও গঙ্গাদেবীর পুজোর মধ্যে দিয়ে বৈসাবী উৎসব শুরু

মোফাজ্জল হোসেন ইলিয়াছ, খাগড়াছড়িঃ খাগড়াছড়িতে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর গঙ্গাপূজার মধ্যদিয়ে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী বৈসাবী উৎসব। আজ সোমাবার ১২এপ্রিল সকালে সৃষ্টিকর্তার আর্শিবাদ প্রার্থনা করে চেঙ্গী নদীতে বালির তোপ বানিয়ে জল দেবীর উদ্দেশ্যে ফুল সাজিয়ে পুজোর মধ্য দিয়ে আজ থেকে শুরু হয়েছে চাকমাদের বিজু, মারমাদের সাংগ্রাই ও ত্রিপুরাদের বৈসুক উৎসব।

জেলা সদরসহ সকল উপজেলায় ক্ষুদ্র পরিসরে পৃথক পৃথক ভাবে গ্রামের তরুণ-তরুণীরা পুঁজা ও ফুল ভাসানোর মধ্যে দিয়ে বৈসাবি উৎসবের সূচনা করেন। করোনা পরিস্থিতির কারণে জাঁক জমক উৎসব না হলেও প্রতিটি গ্রামের লোকজন নিজ নিজ গ্রামের পাশদিয়ে বয়ে যাওয়া নদীতে জল দেবীর উদ্দেশ্যে ফুল ভাসনোর মধ্যে দিয়ে উৎসবের প্রথম দিন অতিবাহিত করেন।

সরকারের নির্দেশনা ও পাহাড়ের রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দের অনুরোধে সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে সকলে এই বিজু পালন করছে উপজাতীয় সম্প্রদায়ের মানুষ। প্রতিটি বাড়ীতে বাড়ীতে বৈসাবী উৎসব ঘরোয়া পরিবেশে পালন করছে বলে জানিয়েছেন পাহাড়ের অনেকেই। পার্বত্য অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী উৎসবের এই দিনটি ঘিরে আনন্দ উৎসবে মেতেছে পাহাড়ের মানুষ।

কিন্তু গত বছর থেকে শুরু হওয়া বৈশ্বিক মহামারী করোনা ভাইরাসের কারণে অন্যান্য উৎসবের আয়োজন না হলেও বৈসাবী উৎসব পালিত হচ্ছে সীমিত পরিসরে। ফুল বিঝু’র দিনে প্রতি গৃহস্থ বাড়ীর ছেলে-মেয়ে তথা বয়োবৃদ্ধ পুরুষ, মহিলা খুব ভোরে বা সকালে ঘুম থেকে উঠে ফুল সংগ্রহ করে ফুলসহ (ভাতজরা ফুল) বিভিন্ন ধরনের ফুল সংগ্রহ করে গৃহে আনে।

সে সব ফুলের কিছু অংশ দিয়ে নদীতে যায়। স্নান করে নিজেকে পরিশুদ্ধ করে নতুন নতুন কাপড় পরিধান করে নদীর পাড়ে বালুর স্তুপ বা নদীর পাড়ে মাটির স্তুপ করে তার উপরে কলা পাতা এবং তার উপরে ফুল দিয়ে পুরনো বছরের সমস্ত গ্লানি, দুঃখ-দুর্দশা, হিংসা ঘৃণা, মারামারি-হানাহানিকে বিদায় দিয়ে অনাাগত নতুন বছরের সুখ, শান্তি প্রার্থনাসহ সমস্ত হিংসা-ঘৃণা, মারামারি-হানাহানি, সমস্ত গ্লানি না পাওয়ার জন্য পরিশুদ্ধ হয়ে “মা গঙ্গা” থেকে প্রার্থনা করে।

এরপর গ্রামের বয়োবৃদ্ধদের বাড়ী বাড়ী গিয়ে স্নান করিয়ে আর্শীবাদ নেয়। অনেকেই আবার দল বেঁধে বৌদ্ধ বিহারে বুদ্ধ মূর্তিগুলো দুধসহ ফুলে পানি দিয়ে স্নান করিয়ে অনাগত নতুন বছরের সুখ শান্তি প্রার্থনসহ জগতের সকল প্রাণীর প্রতি হিতসুখসহ মঙ্গল কানা করে।আগামীকাল মঙ্গলবার মূলবিজু পালিত হবে। বুধবার গোজ্যেপোজ্যে দিন পালিত হবে যার যার ঘরে।

ট্যাগস :

খাগড়াছড়িতে র‌্যালী ও গঙ্গাদেবীর পুজোর মধ্যে দিয়ে বৈসাবী উৎসব শুরু

আপডেট সময় : ০৩:২১:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ এপ্রিল ২০২১

খাগড়াছড়িতে র‌্যালী ও গঙ্গাদেবীর পুজোর মধ্যে দিয়ে বৈসাবী উৎসব শুরু

মোফাজ্জল হোসেন ইলিয়াছ, খাগড়াছড়িঃ খাগড়াছড়িতে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর গঙ্গাপূজার মধ্যদিয়ে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী বৈসাবী উৎসব। আজ সোমাবার ১২এপ্রিল সকালে সৃষ্টিকর্তার আর্শিবাদ প্রার্থনা করে চেঙ্গী নদীতে বালির তোপ বানিয়ে জল দেবীর উদ্দেশ্যে ফুল সাজিয়ে পুজোর মধ্য দিয়ে আজ থেকে শুরু হয়েছে চাকমাদের বিজু, মারমাদের সাংগ্রাই ও ত্রিপুরাদের বৈসুক উৎসব।

জেলা সদরসহ সকল উপজেলায় ক্ষুদ্র পরিসরে পৃথক পৃথক ভাবে গ্রামের তরুণ-তরুণীরা পুঁজা ও ফুল ভাসানোর মধ্যে দিয়ে বৈসাবি উৎসবের সূচনা করেন। করোনা পরিস্থিতির কারণে জাঁক জমক উৎসব না হলেও প্রতিটি গ্রামের লোকজন নিজ নিজ গ্রামের পাশদিয়ে বয়ে যাওয়া নদীতে জল দেবীর উদ্দেশ্যে ফুল ভাসনোর মধ্যে দিয়ে উৎসবের প্রথম দিন অতিবাহিত করেন।

সরকারের নির্দেশনা ও পাহাড়ের রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দের অনুরোধে সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে সকলে এই বিজু পালন করছে উপজাতীয় সম্প্রদায়ের মানুষ। প্রতিটি বাড়ীতে বাড়ীতে বৈসাবী উৎসব ঘরোয়া পরিবেশে পালন করছে বলে জানিয়েছেন পাহাড়ের অনেকেই। পার্বত্য অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী উৎসবের এই দিনটি ঘিরে আনন্দ উৎসবে মেতেছে পাহাড়ের মানুষ।

কিন্তু গত বছর থেকে শুরু হওয়া বৈশ্বিক মহামারী করোনা ভাইরাসের কারণে অন্যান্য উৎসবের আয়োজন না হলেও বৈসাবী উৎসব পালিত হচ্ছে সীমিত পরিসরে। ফুল বিঝু’র দিনে প্রতি গৃহস্থ বাড়ীর ছেলে-মেয়ে তথা বয়োবৃদ্ধ পুরুষ, মহিলা খুব ভোরে বা সকালে ঘুম থেকে উঠে ফুল সংগ্রহ করে ফুলসহ (ভাতজরা ফুল) বিভিন্ন ধরনের ফুল সংগ্রহ করে গৃহে আনে।

সে সব ফুলের কিছু অংশ দিয়ে নদীতে যায়। স্নান করে নিজেকে পরিশুদ্ধ করে নতুন নতুন কাপড় পরিধান করে নদীর পাড়ে বালুর স্তুপ বা নদীর পাড়ে মাটির স্তুপ করে তার উপরে কলা পাতা এবং তার উপরে ফুল দিয়ে পুরনো বছরের সমস্ত গ্লানি, দুঃখ-দুর্দশা, হিংসা ঘৃণা, মারামারি-হানাহানিকে বিদায় দিয়ে অনাাগত নতুন বছরের সুখ, শান্তি প্রার্থনাসহ সমস্ত হিংসা-ঘৃণা, মারামারি-হানাহানি, সমস্ত গ্লানি না পাওয়ার জন্য পরিশুদ্ধ হয়ে “মা গঙ্গা” থেকে প্রার্থনা করে।

এরপর গ্রামের বয়োবৃদ্ধদের বাড়ী বাড়ী গিয়ে স্নান করিয়ে আর্শীবাদ নেয়। অনেকেই আবার দল বেঁধে বৌদ্ধ বিহারে বুদ্ধ মূর্তিগুলো দুধসহ ফুলে পানি দিয়ে স্নান করিয়ে অনাগত নতুন বছরের সুখ শান্তি প্রার্থনসহ জগতের সকল প্রাণীর প্রতি হিতসুখসহ মঙ্গল কানা করে।আগামীকাল মঙ্গলবার মূলবিজু পালিত হবে। বুধবার গোজ্যেপোজ্যে দিন পালিত হবে যার যার ঘরে।