ঢাকা ০৫:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল ২০২৬, ২৬ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

চাঁদার দাবিতে যুবদল নেতার হামলায় আহত বৃদ্ধের মৃত্যু

Astha DESK
  • আপডেট সময় : ০৪:১৩:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল ২০২৬
  • / ১০১৬ বার পড়া হয়েছে

চাঁদার দাবিতে যুবদল নেতার হামলায় আহত বৃদ্ধের মৃত্যু

আস্থা ডেস্কঃ

নোয়াখালী সদর উপজেলায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে চাঁদা না দেওয়ায় যুবদল নেতার হামলায় আহত বৃদ্ধ মোঃ আবদুল হাই (৭৫) মারা গেছেন।

আজ বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) বেলা ১১টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যায়।

এর আগে মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার নোয়ান্নই ইউনিয়নের ইসলামগঞ্জ মধ্য বাজারে হামলায় বৃদ্ধ আবদুল হাইসহ তিনজন আহত হন। বৃদ্ধ আবদুল হাইয়ের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তার ছোট ছেলে মোঃরসুমন।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, প্রায় এক বছর আগে আমার বাবা ইসলামগঞ্জ মধ্য বাজার এলাকায় স্থানীয় রেজাউল হকের কাছ থেকে ১.৩৮ শতাংশ জমি ক্রয় করে ভোগ করে আসছেন। সম্প্রতি আমরা ওই জমিতে দোকানঘর নির্মাণ করতে গেলে নোয়ান্নই ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক লিটন চৌধুরী বাধা দেন এবং জমিটি তার মামার বলে দাবি করেন।

এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে লিটন চৌধুরীকে জমির স্বপক্ষে কাগজপত্র দেখাতে বলা হলেও তিনি তা উপস্থাপন করতে পারেননি। পরে তাকে দুই মাস সময় দেওয়া হয়। এর মধ্যে তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে জমিতে কাজ করতে হলে তাকে সাড়ে তিন লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। কিন্তু আমার বাবা লিটন চৌধুরীকে চাঁদা দিতে অস্বীকার করেন।

ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পর গত মঙ্গলবার সকালে তারা জমিতে নির্মাণকাজ শুরু করলে লিটন চৌধুরীর নেতৃত্বে তার ভাই ইসমাইল ও সাদ্দামসহ ৮-১০ জনের একটি দল হামলা চালায়। এ সময় জমির মালিক মোঃ আবদুল হাইকে মারধর করে ব্রিজের ওপর থেকে খালে ফেলে দেওয়া হয়। হামলায় তার দুই ছেলেও আহত হন।

পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখান থেকে মঙ্গলবার রাতে গুরত্বর আহত আবদুল হাইকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে বুধবার (৮ এপ্রিল) ভোর রাতে ঢামেকে তাকে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে তিনি মারা যান।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে নোয়ান্নই ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক লিটন চৌধুরীর মুঠোফোনে একাধিকবার কল করলেও তার সাড়া মেলেনি। যার কারণে তার মন্তব্য জানা যায়নি।

তবে নোয়াখালী সদর উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক আবদুর রহিম রিজভী বলেন, আমাদের দলের পক্ষ থেকে সব ধরনের সালিশ বাণিজ্য ও চাঁদা দাবির বিষয়ে কঠিন হুঁশিয়ারি রয়েছে। নোয়ান্নই ইউনিয়নের ঘটনায় যুবদল নেতা লিটন চৌধুরীর বিরুদ্ধে যদি চাঁদা দাবির অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তাহলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সুধারাম মডেল থানার ওসি তৌহিদুল ইসলাম বৃদ্ধ আবদুল হাইয়ের মৃত্যুর বিষয়টি শুনেছেন বলে নিশ্চিত করে তিনি বলেন, এই বিষয়ে লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দৈনিক আস্থা/এমএইচ

ট্যাগস :

চাঁদার দাবিতে যুবদল নেতার হামলায় আহত বৃদ্ধের মৃত্যু

আপডেট সময় : ০৪:১৩:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল ২০২৬

চাঁদার দাবিতে যুবদল নেতার হামলায় আহত বৃদ্ধের মৃত্যু

আস্থা ডেস্কঃ

নোয়াখালী সদর উপজেলায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে চাঁদা না দেওয়ায় যুবদল নেতার হামলায় আহত বৃদ্ধ মোঃ আবদুল হাই (৭৫) মারা গেছেন।

আজ বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) বেলা ১১টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যায়।

এর আগে মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার নোয়ান্নই ইউনিয়নের ইসলামগঞ্জ মধ্য বাজারে হামলায় বৃদ্ধ আবদুল হাইসহ তিনজন আহত হন। বৃদ্ধ আবদুল হাইয়ের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তার ছোট ছেলে মোঃরসুমন।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, প্রায় এক বছর আগে আমার বাবা ইসলামগঞ্জ মধ্য বাজার এলাকায় স্থানীয় রেজাউল হকের কাছ থেকে ১.৩৮ শতাংশ জমি ক্রয় করে ভোগ করে আসছেন। সম্প্রতি আমরা ওই জমিতে দোকানঘর নির্মাণ করতে গেলে নোয়ান্নই ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক লিটন চৌধুরী বাধা দেন এবং জমিটি তার মামার বলে দাবি করেন।

এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে লিটন চৌধুরীকে জমির স্বপক্ষে কাগজপত্র দেখাতে বলা হলেও তিনি তা উপস্থাপন করতে পারেননি। পরে তাকে দুই মাস সময় দেওয়া হয়। এর মধ্যে তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে জমিতে কাজ করতে হলে তাকে সাড়ে তিন লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। কিন্তু আমার বাবা লিটন চৌধুরীকে চাঁদা দিতে অস্বীকার করেন।

ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পর গত মঙ্গলবার সকালে তারা জমিতে নির্মাণকাজ শুরু করলে লিটন চৌধুরীর নেতৃত্বে তার ভাই ইসমাইল ও সাদ্দামসহ ৮-১০ জনের একটি দল হামলা চালায়। এ সময় জমির মালিক মোঃ আবদুল হাইকে মারধর করে ব্রিজের ওপর থেকে খালে ফেলে দেওয়া হয়। হামলায় তার দুই ছেলেও আহত হন।

পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখান থেকে মঙ্গলবার রাতে গুরত্বর আহত আবদুল হাইকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে বুধবার (৮ এপ্রিল) ভোর রাতে ঢামেকে তাকে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে তিনি মারা যান।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে নোয়ান্নই ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক লিটন চৌধুরীর মুঠোফোনে একাধিকবার কল করলেও তার সাড়া মেলেনি। যার কারণে তার মন্তব্য জানা যায়নি।

তবে নোয়াখালী সদর উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক আবদুর রহিম রিজভী বলেন, আমাদের দলের পক্ষ থেকে সব ধরনের সালিশ বাণিজ্য ও চাঁদা দাবির বিষয়ে কঠিন হুঁশিয়ারি রয়েছে। নোয়ান্নই ইউনিয়নের ঘটনায় যুবদল নেতা লিটন চৌধুরীর বিরুদ্ধে যদি চাঁদা দাবির অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তাহলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সুধারাম মডেল থানার ওসি তৌহিদুল ইসলাম বৃদ্ধ আবদুল হাইয়ের মৃত্যুর বিষয়টি শুনেছেন বলে নিশ্চিত করে তিনি বলেন, এই বিষয়ে লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দৈনিক আস্থা/এমএইচ