ঢাকা ০৩:১৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬, ২৯ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

প্রকাশক দীপন হত্যা মামলায় আটজনের মৃত্যুদণ্ড

Iftekhar Ahamed
  • আপডেট সময় : ০৮:১০:১১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২১
  • / ১০৮৯ বার পড়া হয়েছে

জেলা প্রতিনিধি:

প্রকাশক ফয়সল আরেফিন দীপন হত্যা মামলার আসামি নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন-আনসার আল ইসলামের আট সদস্যের ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আদালত। আজ বুধবার ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহাম্মদ মজিবুর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন।

 

জাগৃতি প্রকাশনীর স্বত্তাধিকারী প্রকাশক ও লেখক ফয়সাল আরেফিন দীপন হত্যা মামলায় ছয় আসামিকে বুধবার বেলা ১১টা ২০ মিনিটে ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।  বাকি দুই আসামি চাকুরিচ্যুত মেজর  জিয়া ও আকরাম হোসেন পলাতক রয়েছেন।

দুপুর ১২টার দিকে ৬ আসামির উপস্থিতিতে বিচারক মোহাম্মদ মজিবুর রহমান ৫৩ পৃষ্ঠার বিস্তারিত রায় পড়া শুরু করেন।  রায়ে আট আসামির ফাঁসির আদেশ হয়েছে।  একই সাথে প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা দিতে হবে। রয়ের পর্যবেক্ষণ অংশে বলা হয়েছে, আনসার আল ইসলামের সাংগঠনিক তৎপরতা বিস্তার করতেই দীপনকে হত্যা করা হয়।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অন্যরা হলেন- মইনুল হাসান শামীম ওরফে সিফাত সামির, আবদুস সবুর ওরফে আবদুস সামাদ, খাইরুল ইসলাম ওরফে জামিল রিফাত, আবু সিদ্দিক সোহেল ওরফে সাকিব সাজিদ, মোজাম্মেল হুসাইন ওরফে সায়মন, শেখ আবদুল্লাহ ওরফে জুবায়ের ও আকরাম হোসেন ওরফে হাসিব। আসামিদের মধ্যে জিয়া ও আকরাম পলাতক রয়েছেন।

আলোচিত এই হত্যা মামলার আসামি নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন- আনসার আল ইসলামের আট সদস্য। আসামিদের মধ্যে জিয়া ও আকরাম হোসেন পলাতক। গত ২৩শে ডিসেম্বর এ মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। মামলায় চার্জশিটভুক্ত ২৬ সাক্ষীর মধ্যে ২১ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেছেন আদালত।

আরও পড়ুন:সাতক্ষীরার বোমা হামলা মামলায় ৮ জনের ১৩ বছর করে কারাদণ্ড

নিহত দীপনের বাবা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক এ বিষয়ে বলেছেন, “আমি হিংসা-প্রতিহিংসা বুঝি না। তবে দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করার জন্য বিচার হওয়া দরকার। যারা এই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত তাদের শাস্তি হওয়া উচিত।”

পুলিশের তদন্ত বলছে, একের পর এক লেখক-ব্লগার-প্রকাশক-অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট হত্যার মূলহোতা আনসার আল ইসলামের সামরিক কমান্ডারের দায়িত্বে থাকা বরখাস্ত মেজর জিয়া। তার কোন সন্ধান পাচ্ছে না গোয়েন্দারা।

উল্লেখ্য, লেখক-ব্লগার-অনলাইন অ্যাক্টিভিস্টদের উপর ধরাবাহিক হামলার সময় ২০১৫ সালের ৩১শে অক্টোবর রাজধানীর আজিজ সুপার মার্কেটে জাগৃতি প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী ফয়সল আরেফিন দীপন ও লালমাটিয়ায় শুদ্ধস্বর প্রকাশনীর মালিক আহমেদুর রশীদ টুটুলকে হত্যার জন্য দুটি আলাদা দল পাঠায় জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলাম। এসময় দীপনকে কুপিয়ে হত্যা করে তারা, আর আহত হলেও প্রাণে বেঁচে যান টুটুল।

তিন বছর তদন্ত করে দীপন হত্যা মামলায় আদালতে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। জঙ্গিদের হাতে নিহত আরেক বিজ্ঞান লেখক অভিজিৎ রায়ের বই প্রকাশ করাই দীপন হত্যার কারণ বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়। বরখাস্ত মেজর সৈয়দ জিয়াউল হক জিয়াসহ দুই আসামিকে পলাতক দেখিয়ে আট জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে আদালত।

ট্যাগস :

প্রকাশক দীপন হত্যা মামলায় আটজনের মৃত্যুদণ্ড

আপডেট সময় : ০৮:১০:১১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২১

জেলা প্রতিনিধি:

প্রকাশক ফয়সল আরেফিন দীপন হত্যা মামলার আসামি নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন-আনসার আল ইসলামের আট সদস্যের ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আদালত। আজ বুধবার ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহাম্মদ মজিবুর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন।

 

জাগৃতি প্রকাশনীর স্বত্তাধিকারী প্রকাশক ও লেখক ফয়সাল আরেফিন দীপন হত্যা মামলায় ছয় আসামিকে বুধবার বেলা ১১টা ২০ মিনিটে ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।  বাকি দুই আসামি চাকুরিচ্যুত মেজর  জিয়া ও আকরাম হোসেন পলাতক রয়েছেন।

দুপুর ১২টার দিকে ৬ আসামির উপস্থিতিতে বিচারক মোহাম্মদ মজিবুর রহমান ৫৩ পৃষ্ঠার বিস্তারিত রায় পড়া শুরু করেন।  রায়ে আট আসামির ফাঁসির আদেশ হয়েছে।  একই সাথে প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা দিতে হবে। রয়ের পর্যবেক্ষণ অংশে বলা হয়েছে, আনসার আল ইসলামের সাংগঠনিক তৎপরতা বিস্তার করতেই দীপনকে হত্যা করা হয়।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অন্যরা হলেন- মইনুল হাসান শামীম ওরফে সিফাত সামির, আবদুস সবুর ওরফে আবদুস সামাদ, খাইরুল ইসলাম ওরফে জামিল রিফাত, আবু সিদ্দিক সোহেল ওরফে সাকিব সাজিদ, মোজাম্মেল হুসাইন ওরফে সায়মন, শেখ আবদুল্লাহ ওরফে জুবায়ের ও আকরাম হোসেন ওরফে হাসিব। আসামিদের মধ্যে জিয়া ও আকরাম পলাতক রয়েছেন।

আলোচিত এই হত্যা মামলার আসামি নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন- আনসার আল ইসলামের আট সদস্য। আসামিদের মধ্যে জিয়া ও আকরাম হোসেন পলাতক। গত ২৩শে ডিসেম্বর এ মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। মামলায় চার্জশিটভুক্ত ২৬ সাক্ষীর মধ্যে ২১ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেছেন আদালত।

আরও পড়ুন:সাতক্ষীরার বোমা হামলা মামলায় ৮ জনের ১৩ বছর করে কারাদণ্ড

নিহত দীপনের বাবা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক এ বিষয়ে বলেছেন, “আমি হিংসা-প্রতিহিংসা বুঝি না। তবে দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করার জন্য বিচার হওয়া দরকার। যারা এই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত তাদের শাস্তি হওয়া উচিত।”

পুলিশের তদন্ত বলছে, একের পর এক লেখক-ব্লগার-প্রকাশক-অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট হত্যার মূলহোতা আনসার আল ইসলামের সামরিক কমান্ডারের দায়িত্বে থাকা বরখাস্ত মেজর জিয়া। তার কোন সন্ধান পাচ্ছে না গোয়েন্দারা।

উল্লেখ্য, লেখক-ব্লগার-অনলাইন অ্যাক্টিভিস্টদের উপর ধরাবাহিক হামলার সময় ২০১৫ সালের ৩১শে অক্টোবর রাজধানীর আজিজ সুপার মার্কেটে জাগৃতি প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী ফয়সল আরেফিন দীপন ও লালমাটিয়ায় শুদ্ধস্বর প্রকাশনীর মালিক আহমেদুর রশীদ টুটুলকে হত্যার জন্য দুটি আলাদা দল পাঠায় জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলাম। এসময় দীপনকে কুপিয়ে হত্যা করে তারা, আর আহত হলেও প্রাণে বেঁচে যান টুটুল।

তিন বছর তদন্ত করে দীপন হত্যা মামলায় আদালতে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। জঙ্গিদের হাতে নিহত আরেক বিজ্ঞান লেখক অভিজিৎ রায়ের বই প্রকাশ করাই দীপন হত্যার কারণ বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়। বরখাস্ত মেজর সৈয়দ জিয়াউল হক জিয়াসহ দুই আসামিকে পলাতক দেখিয়ে আট জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে আদালত।