প্রথম ভ্রাতৃ হত্যাকাণ্ড: প্রদীপ লাল ও কুসুম প্রিয় হত্যাকাণ্ড ২৮ বছর
- আপডেট সময় : ১০:১১:১৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ এপ্রিল ২০২৬
- / ১০২০ বার পড়া হয়েছে
প্রথম ভ্রাতৃ হত্যাকাণ্ড: প্রদীপ লাল ও কুসুম প্রিয় হত্যাকাণ্ড ২৮ বছর
আস্থা ডেস্কঃ
পার্বত্য চুক্তির পর আজ প্রথম ভ্রাতৃ হত্যাকাণ্ড! আজকের এই দিনে চুক্তি বিরোধী নেতা প্রদীপ লাল চাকমা ও ৩নং পানছড়ি সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কুসুম প্রিয় চাকমা হত্যাকান্ডের দিন। অর্থাৎ ১৯৯৮ সালের ৪ এপ্রিল খাগড়াছড়ি জেলা সদর থেকে ফেরার পথে পানছড়ি উপজেলার লতিবান (বেকারীর পাশে) সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের হাতে দু’জন হত্যাকান্ডের স্বীকার হয়।
প্রদীপ লাল চাকমা ছিলেন পাহাড়ি গণ পরিষদের পানছড়ি থানা শাখার সভাপতি। এবং তৎসময়ে কুসুম প্রিয় চাকমা ছিলেন, নব নির্বাচিত ইউপি চেয়ারম্যান ও পাহাড়ি গণপরিষদের পানছড়ি থানা শাখার নেতা। তিনি জনসংহতি সমিতির মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিপুল ভোটে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে ছিলেন। এমন হত্যাকান্ডের ২৮ বছরেও খুনিরা রয়েছে এখনো ধরা ছোঁয়ার বাইরে।
জানা যায়, সে দিন (৪ এপ্রিল/৯৮) কুসুম প্রিয় চাকমা ও প্রদীপ লাল চাকমাকে জেএসএস সভাপতি সন্তু লারমা ডেকে পাঠালে তাঁরা তাঁর সাথে সাক্ষাত করতে খাগড়াছড়ি সার্কিট হাউজে গিয়ে ছিলেন। তবে তাদের মধ্যে কী কথা হয়েছিলো তা জানা সম্ভব হয়নি।
সন্তু লারমার সাথে স্বাক্ষাত শেষে কুসুম প্রিয় ও প্রদীপ লাল চাকমা সার্কিট হাউজ থেকে বেরিয়ে গাড়িতে করে পানছড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন। তাঁরা লতিবান এলাকায় পৌঁছলে আগে থেকে সেখানে ওঁৎ পেতে থাকা সন্ত্রাসীরা তাদের ওপর হামলা চালায় এবং গাড়ি থেকে নামিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও সিগেটের আগুনের ছেঁকা দিয়ে নির্মমভাবে তাদেরকে হত্যা করে।
প্রসঙ্গত, পার্বত্য চুক্তির পূর্বে ১৯৯৫ সালের ১৫ জুন ধুধুকছড়ায় প্রকাশ্য বক্তৃতাদানকালে জনসংহতি সমিতির সভাপতি সন্তু লারমা তিন সংগঠনের গণতান্ত্রিক কার্যক্রম নিয়ে বিষোদগার করেন।
সন্তু লারমা সে দিন ‘জঙ্গী আন্দোলন করে স্বায়ত্তশাসন আদায় করা যায় না’ বলে মন্তব্য করলে সমাবেশস্থলেই প্রদীপ লাল চাকমা দাঁড়িয়ে সন্তু লারমার কাছে জানতে চান ‘তাহলে কীভাবে আন্দোলন করা?
কিন্তু সন্তু লারমা তার প্রশ্নের কোন উত্তর না দিয়ে সন্তু লারমার সহযোগি এক উচ্চ পদস্থ কেন্দ্রীয় নেতা ‘পরে আলোচনা করবো’ বলে দ্রুত তারা সমাবেশস্থল ত্যাগ করেন। পরে প্রদীপ লাল চাকমা তার প্রশ্নের উত্তর না দেয়ার ক্ষোভ জানিয়ে বিভিন্ন সময় সমালোচনা করেন।
১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর জনসংহতি সমিতি তথা সন্তু লারমা শান্তি চুক্তির দিকে অগ্রসর হয়। অপর দিকে কুসুম প্রিয় চাকমা ও প্রদীপ লাল চাকমা পূর্ণস্বায়ত্তশাসনের পক্ষাবলম্বন করেন এবং সরকারের সাথে জেএসএস-এর চুক্তির বিরোধীতা করেন।
দৈনিক আস্থা/এমএইচ



















