ঢাকা ০৬:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৬, ২০ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মাদ্রাসার নামে ত্রাণের চাল লোপাট করেছে বিএনপি নেতা

Astha DESK
  • আপডেট সময় : ০৪:১৩:৩৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬
  • / ১০০২ বার পড়া হয়েছে

মাদ্রাসার নামে ত্রাণের চাল লোপাট করেছে বিএনপি নেতা

আস্থা ডেস্কঃ

যশোরের মনিরামপুরে দুটি মাদ্রাসার নাম ব্যবহার করে সরকারি বরাদ্দের ২ টন চাল আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে দেবিদাসপুর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি পরিচয়দানকারী মোদাচ্ছের গাজী বিরুদ্ধে।

অভিযোগ উঠেছে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সম্রাট হোসেনের সুপারিশ করা তালিকার ভিত্তিতে জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয় ‘বাকোশপোল বালক বালিকা এতিমখানা’ ও ‘বাকোশপোল হাফিজিখানা’ নামে দুটি প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে দুই টন জিআর (জেনারেল রিলিফ) চাল বরাদ্দ দেয়।

তবে অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এই নামে এলাকায় কোনো প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব নেই। মূলত ‘বাকোশপোল বাগে জান্নাত মহিলা কওমী মাদ্রাসা’ এবং ‘বাকোশপোল এমদাদুল উলুম কওমী মাদ্রাসার’ নাম আংশিক পরিবর্তন করে এই জালিয়াতি করা হয়েছে।

বাকোশপোল বাগে জান্নাত মহিলা মাদ্রাসার শিক্ষক আব্দুল্লাহ দাবি করেন, তাকে অফিসে নিয়ে কৌশলে কাগজে সই করিয়ে নেওয়া হয়। পরে চাল বরাদ্দ হলে তাকে চাল না দিয়ে মাত্র পাঁচ হাজার টাকা দেওয়ার চেষ্টা করেন মোদাচ্ছের।

এমদাদুল উলুম কওমী মাদ্রাসার প্রধান মফিজুর রহমান জানান, মোদাচ্ছের তাদের কমিটির কেউ নন। অথচ তাকে সভাপতি দেখিয়ে চাল উত্তোলন করা হয়েছে।

অভিযুক্ত মোদাচ্ছের গাজী চাল উত্তোলনের কথা স্বীকার করে বলেন, পরিচিত একজনের মাধ্যমে আবেদন করে দুই টন চাল পেয়েছি। সেই চাল বিক্রি করে ৭০ হাজার টাকা পেয়েছি, মাদ্রাসা প্রধানদের বরাদ্দ বুঝিয়ে দিয়েছি।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) সেলিম খান বলেন, ‘২০২৬ সালে জিআরের সাত টন চাল মনিরামপুরের সাতটি প্রতিষ্ঠানে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। আমি কয়েক দিন অসুস্থ ছিলাম। এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না। আমাকে না জানিয়ে অফিস সহকারী বোরহান উদ্দিন তালিকাটি জেলায় পাঠিয়েছে।

মনিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সম্রাট হোসেন ছুটিতে থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা শেখ আব্দুল কাদের বলেন, জেনারেল রিলিফ (জিআর) চাল বরাদ্দের জন্য উপজেলা থেকে ইউএনও স্বাক্ষরিত তালিকা জেলায় পাঠানো হয়। সেই তালিকার ভিত্তিতে চাহিদা অনুযায়ী বরাদ্দ দেওয়া হয়।

মনিরামপুর থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান মিন্টু বলেন, মোদাচ্ছের গাজী বিএনপির রাজনীতি করেন। তার দলীয় পদ যাচাই করা হচ্ছে। চাল আত্মসাতের মতো অনৈতিক কাজে জড়িত থাকার প্রমাণ মিললে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দৈনিক আস্থা/এমএইচ

ট্যাগস :

মাদ্রাসার নামে ত্রাণের চাল লোপাট করেছে বিএনপি নেতা

আপডেট সময় : ০৪:১৩:৩৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬

মাদ্রাসার নামে ত্রাণের চাল লোপাট করেছে বিএনপি নেতা

আস্থা ডেস্কঃ

যশোরের মনিরামপুরে দুটি মাদ্রাসার নাম ব্যবহার করে সরকারি বরাদ্দের ২ টন চাল আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে দেবিদাসপুর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি পরিচয়দানকারী মোদাচ্ছের গাজী বিরুদ্ধে।

অভিযোগ উঠেছে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সম্রাট হোসেনের সুপারিশ করা তালিকার ভিত্তিতে জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয় ‘বাকোশপোল বালক বালিকা এতিমখানা’ ও ‘বাকোশপোল হাফিজিখানা’ নামে দুটি প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে দুই টন জিআর (জেনারেল রিলিফ) চাল বরাদ্দ দেয়।

তবে অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এই নামে এলাকায় কোনো প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব নেই। মূলত ‘বাকোশপোল বাগে জান্নাত মহিলা কওমী মাদ্রাসা’ এবং ‘বাকোশপোল এমদাদুল উলুম কওমী মাদ্রাসার’ নাম আংশিক পরিবর্তন করে এই জালিয়াতি করা হয়েছে।

বাকোশপোল বাগে জান্নাত মহিলা মাদ্রাসার শিক্ষক আব্দুল্লাহ দাবি করেন, তাকে অফিসে নিয়ে কৌশলে কাগজে সই করিয়ে নেওয়া হয়। পরে চাল বরাদ্দ হলে তাকে চাল না দিয়ে মাত্র পাঁচ হাজার টাকা দেওয়ার চেষ্টা করেন মোদাচ্ছের।

এমদাদুল উলুম কওমী মাদ্রাসার প্রধান মফিজুর রহমান জানান, মোদাচ্ছের তাদের কমিটির কেউ নন। অথচ তাকে সভাপতি দেখিয়ে চাল উত্তোলন করা হয়েছে।

অভিযুক্ত মোদাচ্ছের গাজী চাল উত্তোলনের কথা স্বীকার করে বলেন, পরিচিত একজনের মাধ্যমে আবেদন করে দুই টন চাল পেয়েছি। সেই চাল বিক্রি করে ৭০ হাজার টাকা পেয়েছি, মাদ্রাসা প্রধানদের বরাদ্দ বুঝিয়ে দিয়েছি।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) সেলিম খান বলেন, ‘২০২৬ সালে জিআরের সাত টন চাল মনিরামপুরের সাতটি প্রতিষ্ঠানে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। আমি কয়েক দিন অসুস্থ ছিলাম। এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না। আমাকে না জানিয়ে অফিস সহকারী বোরহান উদ্দিন তালিকাটি জেলায় পাঠিয়েছে।

মনিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সম্রাট হোসেন ছুটিতে থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা শেখ আব্দুল কাদের বলেন, জেনারেল রিলিফ (জিআর) চাল বরাদ্দের জন্য উপজেলা থেকে ইউএনও স্বাক্ষরিত তালিকা জেলায় পাঠানো হয়। সেই তালিকার ভিত্তিতে চাহিদা অনুযায়ী বরাদ্দ দেওয়া হয়।

মনিরামপুর থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান মিন্টু বলেন, মোদাচ্ছের গাজী বিএনপির রাজনীতি করেন। তার দলীয় পদ যাচাই করা হচ্ছে। চাল আত্মসাতের মতো অনৈতিক কাজে জড়িত থাকার প্রমাণ মিললে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দৈনিক আস্থা/এমএইচ