ঢাকা ০৩:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬, ২২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম:
Logo মান্দায় মিথ্যা সংবাদের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন Logo অপরাধমুক্ত ফুলবাড়িয়া গড়তে তথ্য দিয়ে পুলিশকে সহায়তা করুন-নবাগত ওসি Logo যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে উদ্বেগের কিছু নেই: বাণিজ্যমন্ত্রী Logo সিভিল প্রশাসনের সঙ্গে কাজ করবে সেনাবাহিনী: উপদেষ্টা Logo বাণিজ্য চুক্তির অগ্রগতিতে আজ ঢাকায় আসছেন ব্রেন্ডান লিঞ্চ Logo সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা জরুরি Logo সরকারি চাকরি জন্য স্ত্রীর চাঁপ: অভিমানের স্বামীর আত্মহত্যা Logo অগ্রণী ব্যাংকের ১ হাজার কোটি সাত্তার গ্রুপের পকেটে Logo শক্তি প্রয়োগ করে নৌ অবরোধ ভাঙ্গার প্রস্তুতি নিচ্ছে তেহরান Logo আতঙ্কে ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দল

মিয়ানমারের মানচিত্রে আবারও সেন্টমার্টিন,রাষ্ট্রদূতকে তলব

News Editor
  • আপডেট সময় : ০৭:১০:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২০
  • / ১১৬৩ বার পড়া হয়েছে

দুইবছরের মাথায় সেন্টমার্টিনকে আবারও নিজেদের দাবি করেছে মিয়ানমার। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাইট কোপর নিকাসে (https://www.copernicus.eu/en) দেখানো হচ্ছে বাংলাদেশের সীমানা ও ইকোনোমিক জুনের বাইরে অবস্থান এই প্রবাল দ্বীপের। এই কোপারনিকাস সাইটের স্লোগান ইউরোপের চোখে বিশ্বদর্শন। মানুষের তথ্য জানার অধিকারকে সম্মান দেখানোর কথা বলা হলেও এবার ভুল তথ্য উপস্থান করলো তারা। বাংলাদেশের সেন্টমার্টিনকে তারা দেখাচ্ছে মিয়ানমারের ভূমি হিসেবে।

এদিকে, মিয়ানমার জনগণের তথ্য প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে সুইজার‍ল্যান্ডের অর্থায়নে তৈরির উদ্যোগ গ্রহণ করা হয় ওয়ানম্যাপ মিয়ানমার প্রকল্প। গত কয়েক বছর এ সাইটটি সবার জন্য উন্মুক্ত থাকলেও হঠাৎ সেটি অকার্যকর দেখাচ্ছে।

বিষয়টি নজরে আসার পর মিয়ানমার রাষ্ট্রদূতকে তলব করে বাংলাদেশ। এর আগে ২০১৮ সালের অক্টোবরেও মিয়ামনার একই কাজ করেছিল। সে সময় রাষ্ট্রদূত উ লুইন ও’র হাতে একটি কূটনৈতিক চিঠি ধরিয়ে দেয় বাংলাদেশ। যাতে সেন্টমার্টিন যে বাংলাদেশের অংশ তার পুঙ্খানুপুঙ্খ প্রমাণ রয়েছে।

পাশাপাশি ওই চিঠিতে মিয়ানমারের এমন আপত্তিকর কাজের জবাবও চাওয়া হয়। পরে বাংলাদেশের প্রতিবাদের পর জাতিসংঘে চিঠি দিয়ে ক্ষমা চায় মিয়ানমার। সেন্টমার্টিন ১৯ শতকেরও আগ থেকে তৎকালীন ভারতবর্ষ পরে পাকিস্তান এবং বর্তমানে বাংলাদেশের অংশ। কখনই এটি মিয়ানমারের অংশ ছিল না।

কোরাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন বা এর সাথে সংলগ্ন ছেঁড়াদ্বীপের মালিকানা নিয়ে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে কোনো অনিষ্পন্ন বিরোধ নেই। বাংলাদেশের সমুদ্রসীমা নিয়ে যে বিরোধ ছিল সেটি আন্তর্জাতিক আদালতে নিষ্পত্তি হয়ে গেছে কয়েক বছর আগেই। আদালতের রায়ে দুই দেশের সমুদ্রসীমা স্পষ্ট করে টানা হয়েছে।

বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণের ভূখণ্ড টেকনাফ থেকে ৯ কিলোমিটারের মতো দক্ষিণে অবস্থিত সেন্টমার্টিন দ্বীপটি স্থানীয়দের কাছে নারিকেল জিঞ্জিরা বা দারুচিনি দ্বীপ হিসেবে পরিচিত। ২৫০ বছর আগে আরব নাবিকেরা প্রথম এ দ্বীপে বসবাস করেন। তারা এর নাম দেন ‘জাজিরা’। ব্রিটিশ শাসনের সময় এর নাম দেয়া হয় সেন্টমার্টিন দ্বীপ।

প্রায় ৫০০০ বছর আগে টেকনাফের মূল ভূমির অংশ ছিল জায়গাটি। কিন্তু ধীরে ধীরে এটি সমুদ্রের নিচে চলে যায়। এরপর প্রায় ৪৫০ বছর আগে বর্তমান সেন্টমার্টিন দ্বীপের দক্ষিণ পাড়া জেগে ওঠে। এর ১০০ বছর উত্তর পাড়া এবং পরবর্তী ১০০ বছরের মধ্যে বাকি অংশ জেগে ওঠে।

ব্রিটিশ শাসনামলে ১৯০০ সালে ভূমি জরিপের সময় এ দ্বীপটিকে ব্রিটিশ ভারতের অন্তর্ভুক্ত করে নেয়া হয়। সে সময়টিতে বার্মা ব্রিটিশ শাসনের আওতায় ছিল। কিন্তু তারপরও সেন্টমার্টিন দ্বীপকে বার্মার অন্তর্ভুক্ত না করে ব্রিটিশ-ভারতের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল।

এর আগে ১৮২৪ থেকে ১৮২৬ সালে ব্রিটিশদের সাথে বর্মী রাজার যে যুদ্ধ হয় তাতে বিতর্কের ইস্যুগুলোর মধ্যে এ দ্বীপের মালিকানাও একটি ছিল। সেন্টমার্টিন দ্বীপের আয়তন আট বর্গকিলোমিটারের মতো। এর সাথে সংলগ্ন ছেঁড়াদ্বীপটির মিয়ানমারের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় উপকূল থেকে দূরত্ব মাত্র আট কিলোমিটার। ভাটির সময় দু’টি দ্বীপ এক হলেও জোয়ারের সময় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

মিয়ানমারের মানচিত্রে আবারও সেন্টমার্টিন,রাষ্ট্রদূতকে তলব

আপডেট সময় : ০৭:১০:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২০

দুইবছরের মাথায় সেন্টমার্টিনকে আবারও নিজেদের দাবি করেছে মিয়ানমার। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাইট কোপর নিকাসে (https://www.copernicus.eu/en) দেখানো হচ্ছে বাংলাদেশের সীমানা ও ইকোনোমিক জুনের বাইরে অবস্থান এই প্রবাল দ্বীপের। এই কোপারনিকাস সাইটের স্লোগান ইউরোপের চোখে বিশ্বদর্শন। মানুষের তথ্য জানার অধিকারকে সম্মান দেখানোর কথা বলা হলেও এবার ভুল তথ্য উপস্থান করলো তারা। বাংলাদেশের সেন্টমার্টিনকে তারা দেখাচ্ছে মিয়ানমারের ভূমি হিসেবে।

এদিকে, মিয়ানমার জনগণের তথ্য প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে সুইজার‍ল্যান্ডের অর্থায়নে তৈরির উদ্যোগ গ্রহণ করা হয় ওয়ানম্যাপ মিয়ানমার প্রকল্প। গত কয়েক বছর এ সাইটটি সবার জন্য উন্মুক্ত থাকলেও হঠাৎ সেটি অকার্যকর দেখাচ্ছে।

বিষয়টি নজরে আসার পর মিয়ানমার রাষ্ট্রদূতকে তলব করে বাংলাদেশ। এর আগে ২০১৮ সালের অক্টোবরেও মিয়ামনার একই কাজ করেছিল। সে সময় রাষ্ট্রদূত উ লুইন ও’র হাতে একটি কূটনৈতিক চিঠি ধরিয়ে দেয় বাংলাদেশ। যাতে সেন্টমার্টিন যে বাংলাদেশের অংশ তার পুঙ্খানুপুঙ্খ প্রমাণ রয়েছে।

পাশাপাশি ওই চিঠিতে মিয়ানমারের এমন আপত্তিকর কাজের জবাবও চাওয়া হয়। পরে বাংলাদেশের প্রতিবাদের পর জাতিসংঘে চিঠি দিয়ে ক্ষমা চায় মিয়ানমার। সেন্টমার্টিন ১৯ শতকেরও আগ থেকে তৎকালীন ভারতবর্ষ পরে পাকিস্তান এবং বর্তমানে বাংলাদেশের অংশ। কখনই এটি মিয়ানমারের অংশ ছিল না।

কোরাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন বা এর সাথে সংলগ্ন ছেঁড়াদ্বীপের মালিকানা নিয়ে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে কোনো অনিষ্পন্ন বিরোধ নেই। বাংলাদেশের সমুদ্রসীমা নিয়ে যে বিরোধ ছিল সেটি আন্তর্জাতিক আদালতে নিষ্পত্তি হয়ে গেছে কয়েক বছর আগেই। আদালতের রায়ে দুই দেশের সমুদ্রসীমা স্পষ্ট করে টানা হয়েছে।

বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণের ভূখণ্ড টেকনাফ থেকে ৯ কিলোমিটারের মতো দক্ষিণে অবস্থিত সেন্টমার্টিন দ্বীপটি স্থানীয়দের কাছে নারিকেল জিঞ্জিরা বা দারুচিনি দ্বীপ হিসেবে পরিচিত। ২৫০ বছর আগে আরব নাবিকেরা প্রথম এ দ্বীপে বসবাস করেন। তারা এর নাম দেন ‘জাজিরা’। ব্রিটিশ শাসনের সময় এর নাম দেয়া হয় সেন্টমার্টিন দ্বীপ।

প্রায় ৫০০০ বছর আগে টেকনাফের মূল ভূমির অংশ ছিল জায়গাটি। কিন্তু ধীরে ধীরে এটি সমুদ্রের নিচে চলে যায়। এরপর প্রায় ৪৫০ বছর আগে বর্তমান সেন্টমার্টিন দ্বীপের দক্ষিণ পাড়া জেগে ওঠে। এর ১০০ বছর উত্তর পাড়া এবং পরবর্তী ১০০ বছরের মধ্যে বাকি অংশ জেগে ওঠে।

ব্রিটিশ শাসনামলে ১৯০০ সালে ভূমি জরিপের সময় এ দ্বীপটিকে ব্রিটিশ ভারতের অন্তর্ভুক্ত করে নেয়া হয়। সে সময়টিতে বার্মা ব্রিটিশ শাসনের আওতায় ছিল। কিন্তু তারপরও সেন্টমার্টিন দ্বীপকে বার্মার অন্তর্ভুক্ত না করে ব্রিটিশ-ভারতের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল।

এর আগে ১৮২৪ থেকে ১৮২৬ সালে ব্রিটিশদের সাথে বর্মী রাজার যে যুদ্ধ হয় তাতে বিতর্কের ইস্যুগুলোর মধ্যে এ দ্বীপের মালিকানাও একটি ছিল। সেন্টমার্টিন দ্বীপের আয়তন আট বর্গকিলোমিটারের মতো। এর সাথে সংলগ্ন ছেঁড়াদ্বীপটির মিয়ানমারের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় উপকূল থেকে দূরত্ব মাত্র আট কিলোমিটার। ভাটির সময় দু’টি দ্বীপ এক হলেও জোয়ারের সময় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।