যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সি ও নিউইয়র্ক যখন আইডা পরবর্তী বন্যায় বিপর্যস্ত ও জর্জরিত তখন দাউ দাউ আগুনে জ্বলছে আরেক অঙ্গরাজ্য ক্যালিফোর্নিয়ার বনাঞ্চল। বাতাসের তীব্রতার কারণে আগুন নেভাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। পুড়ে গেছে হাজার খানেক স্থাপনা। এরই মধ্যে বাসিন্দাদের নিরাপদে সরে যাওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
ভয়াবহ দাবানলে পুড়ছে ক্যালিফোর্নিয়ার ইকো সামিটের বনাঞ্চল। আগুন ছড়িয়ে পড়েছে পর্যটন নগরী লেক টাহোতেও। এতে অন্তত ৭০০ ঘরবাড়ি এবং বিভিন্ন স্থাপনা পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। হুমকির মুখে পড়েছে ৩৩ হাজারেরও বেশি বাড়িঘর। টানা দুই সপ্তাহের মতো ক্যালিফোর্নিয়াতে জ্বলছে এই আগুন। এদিকে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এরই মধ্যে জরুরি অবস্থা জারি করেছেন অঙ্গরাজ্যটিতে।
এদিকে ক্যালিফোর্নিয়া সীমান্তবর্তী নেভাডাও পুড়ছে। অন্তত ১০ হাজারের বেশি মানুষ ঝুঁকিতে রয়েছেন। তাদেরকেও নিরাপদ আশ্রয়ে নেয়ার নির্দেশনা জারি করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। আগুন নিয়ন্ত্রণে দিনরাত এক করে কাজ করে চলেছেন ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা। তবে আবহাওয়া দপ্তর বলছে, আরও কয়েক দিন এমন পরিস্থিতি বিরাজ করতে পারে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক ও নিউজার্সিতে আকস্মিক বন্যায় অন্তত ৪৫ জন মারা গেছে। স্থানীয় সময় বুধবার রাতে প্রচণ্ড বৃষ্টির কারণে দেশটির পূর্ব উপকূলে ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যা দেখা দেয়। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে নিউইয়র্ক ও নিউজার্সি অঙ্গরাজ্যে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন হাজারো বাংলাদেশি।
মাত্র ছয় ঘণ্টার বৃষ্টি। বুধবার রাতের আধারে ভয়াবহ দুর্যোগ নেমে আসে যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলে। নিউইয়র্কের সাবওয়ে, বিমানবন্দর, রাস্তাঘাট, বাড়িঘর, সবকিছু পানিতে তলিয়ে যায়। একই পরিস্থিতি পার্শ্ববর্তী অঙ্গরাজ্য নিউজার্সিতেও। আকস্মিক বন্যায় নিউইয়র্ক, নিউজার্সি, কানেকটিকাট, পেনসিলভেনিয়া, মেরিল্যান্ড ও ভার্জিনিয়ায় প্রাণ হারিয়েছেন অনেকে। দুটি অঙ্গরাজ্যে জারি করা হয়েছে জরুরি অবস্থা। দেশটির ইতিহাসে অন্তত আড়াইশ’ বছরে এমন বন্যা পরিস্থিতি দেখেনি কেউ।
একজন ভুক্তভোগী বলেন, আমরা কেউ কোনোদিন এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হইনি। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে এমন পরিস্থিতি আরও সৃষ্টি হতে পারে।
আরেকজন প্রবাসী বাংলাদেশি বলেন, আমার বাসার বেসমেন্টে কোমর পর্যন্ত পানি ছিল। আমার সবকিছু নষ্ট হয়ে গেছে।
উত্তর আমেরিকায় সবচেয়ে বেশিসংখ্যক বাংলাদেশি বসবাস করেন পূর্ব উপকূলীয় অঞ্চলে। আকস্মিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এসব এলাকার হাজার হাজার বাংলাদেশিও।
হারিকেন আইডার প্রভাবে সৃষ্ট বন্যায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর। গত রোববার লুইজিয়ানায় আঘাত হানা শক্তিশালী চার মাত্রার হারিকেনটি দুর্বল হয়ে বুধবার রাতে যুক্তরাষ্ট্র অতিক্রম করে।
বৃহস্পতিবার ভোর থেকেই স্বাভাবিক হয়েছে আবহাওয়া। কিন্তু বুধবার রাতে কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টি-তাণ্ডবের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে গা শিউরে উঠছে অনেকের।
নিউইয়র্কের প্রায় সাবওয়ে লাইন বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। রাস্তাঘাট থেকে জরুরি পরিবহন ছাড়া অন্যান্য পরিবহন চলতে দেওয়া হচ্ছে না। নিউজার্সি এবং নিউইয়র্ক থেকে অনেক ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।
বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।