ঢাকা ০৭:৪৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬, ১৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম:
Logo খাগড়াছড়িতে জামায়াতের নির্বাচনী গণমিছিল শেষে সমাবেশে Logo পানছড়িতে অষ্টপ্রহার ব্যাপী মহানামযজ্ঞ ও সরস্বতী পূজা পরিদর্শনে বিএনপি Logo পানছড়িতে বিভিন্ন দলের শতাধিক নেতাকর্মী বিএনপিতে যোগদান Logo আপনারা থাকার কষ্ট করছেন, আমরা এখানে উঁচু উঁচু বিল্ডিং করে দিতে চাই Logo পানছড়িতে খালেদা জিয়ার স্বরণে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্টিত Logo ছয় মাসে ব্যাংক থেকে ৬০ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিলো সরকার Logo প্রাণ ফিরছে লোগাং ইউপি শহীদ জিয়া স্মৃতি সংসদে Logo পানছড়িতে ভারতীয় অবৈধ পন্য আটক Logo পানছড়িতে সড়ক নির্মাণে নিম্নমানের খোয়া-রাবিশ ব্যবহার Logo মুসাব্বির হত্যার প্রতিবাদে খাগড়াছড়িতে স্বেচ্ছাসেবক দলের বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ

রংপুরের মিঠাপুকুরে চাঞ্চল্যকর শিশু রহিমা ধর্ষণ ও হত্যাকারী রাজা গ্রেপ্তার

News Editor
  • আপডেট সময় : ০৭:৩৩:৪৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ জুন ২০২১
  • / ১০৮৯ বার পড়া হয়েছে

রংপুরের মিঠাপুকুরে চাঞ্চল্যকর শিশু রহিমা ধর্ষণ ও হত্যাকারী রাজা গ্রেপ্তার

রংপুর প্রতিনিধিঃ রংপুরের মিঠাপুকুরে চাঞ্চল্যকর শিশু রহিমা ধর্ষণ ও হত্যাকারী রাজা গ্রেপ্তার হয়েছে। ফরিদপুরের নগরকান্দা থানা এলাকা থেকে বৃহস্পতিবার রাতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এসময় হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত ব্লেড, কোদাল, বটি ও রক্তমাখা কাপড় উদ্ধার হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে স্বীকার করেছে, ধর্ষণের চেষ্টার সময় চিৎকার করায় শিশুটিকে শ্বাসরোধে এবং ব্লেড দিয়ে গলাকেটে হত্যা করে।

নিহত শিশু রহিমা খাতুন মিঠাপুকুর উপজেলার বালুয়া মাসিমপুর ইউনিয়নের বুজরুক সন্তোষপুর গাছুয়াপাড়া গ্রামের রবিউল ইসলামের মেয়ে এবং বুজরুক সন্তোষপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩য় শ্রেণীর ছাত্রী ছিল। রাজা মিয়া ঘরে ডেকে এনে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা করে। এসময় চিৎকার করায় হত্যার পর লাশ ঘরের মেঝে খুঁড়ে পুঁতে রাখে সে। পুলিশ জানায়, গত ২৬ মে শিশুটির নানাবাড়ির এক আত্বীয় মারা যায়। পরিবারের সদস্যরা দাফন কাজে সেখানে যায়।

শিশু রহিমা ও তার মা বাড়িতে ছিল। তার ফুফাতো ভাই শামিম মিয়ার ছেলে রাজা মিয়া (২৫) ছোটবেলা থেকে নানার বাড়িতে নানি হালিমার সাথে বসবাস করে। রংপুরের সহকারী পুলিশ সুপার কামরুজ্জামান বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার রাজা জানিয়েছে, ওই দিন দুপুরে মায়ের কাছে ১০ টাকা নিয়ে রহিমা দোকানে চিপস কিনে বাড়ি ফিরছিল। পথে রাজা মিয়া তাকে ১০ টাকা দিয়ে আরও একটি চিপস কিনে আনতে বলে। চিপস কিনে রাজার ঘরে দিতে যায় রহিমা। এরপর রাজা ঘরের দরজা বন্ধ করে দিয়ে শিশুটিকে ধর্ষণের চেষ্টা করে। ওই সময় শিশুটি চিৎকার দিলে রাজা তার গলা টিপে ধরে।

এতে শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ হয়ে যায়। এরপর মৃত্যু নিশ্চিত করার জন্য ব্লেড দিয়ে রহিমার গলা কাটে রাজা। মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর সে কোদাল ও বটি দিয়ে ঘরের মধ্যে গর্ত করে লাশ গর্তের মধ্যে পুঁতে ফেলে। গর্ত পানি দিয়ে লেপে তার ওপর ধানের বস্তা রেখে দেয়। এরপর সে হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত কোদাল পাশের বাড়িতে, বটি বেডের নিচে এবং রক্ত মোছার কাজে ব্যবহৃত কাঁথা ও লুংগি পুকুরে পুঁতে রাখে। এরপর সে হত্যাকান্ড আড়াল করার জন্য সবার সাথে শিশু রহিমাকে খুজতে থাকে।

ওই দিন রাত সাড়ে ১১ টার দিকে সে বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। পরদিন সকাল ৮ টায় তার ঘরের মেঝে খুঁড়ে লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের মা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ ঘটনার দিনই হত্যাকারী রাজার নানী হালিমাকে গ্রেপ্তার করে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ ফরিদপুর জেলার নগরকান্দা উপজেলা সদর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে। তার তথ্য অনুযায়ী পুলিশ হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত ব্লেড তার গর্ত থেকে, বটি বেডের নিচ থেকে, কোদাল পাশের মাহবুলের বাড়ি থেকে এবং মেঝের রক্ত মোছার কাজে ব্যবহৃত লুংগি ও কাথা পাশের বাড়ির পুকুর থেকে উদ্ধার করা হয়।

[irp]

ট্যাগস :

রংপুরের মিঠাপুকুরে চাঞ্চল্যকর শিশু রহিমা ধর্ষণ ও হত্যাকারী রাজা গ্রেপ্তার

আপডেট সময় : ০৭:৩৩:৪৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ জুন ২০২১

রংপুরের মিঠাপুকুরে চাঞ্চল্যকর শিশু রহিমা ধর্ষণ ও হত্যাকারী রাজা গ্রেপ্তার

রংপুর প্রতিনিধিঃ রংপুরের মিঠাপুকুরে চাঞ্চল্যকর শিশু রহিমা ধর্ষণ ও হত্যাকারী রাজা গ্রেপ্তার হয়েছে। ফরিদপুরের নগরকান্দা থানা এলাকা থেকে বৃহস্পতিবার রাতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এসময় হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত ব্লেড, কোদাল, বটি ও রক্তমাখা কাপড় উদ্ধার হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে স্বীকার করেছে, ধর্ষণের চেষ্টার সময় চিৎকার করায় শিশুটিকে শ্বাসরোধে এবং ব্লেড দিয়ে গলাকেটে হত্যা করে।

নিহত শিশু রহিমা খাতুন মিঠাপুকুর উপজেলার বালুয়া মাসিমপুর ইউনিয়নের বুজরুক সন্তোষপুর গাছুয়াপাড়া গ্রামের রবিউল ইসলামের মেয়ে এবং বুজরুক সন্তোষপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩য় শ্রেণীর ছাত্রী ছিল। রাজা মিয়া ঘরে ডেকে এনে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা করে। এসময় চিৎকার করায় হত্যার পর লাশ ঘরের মেঝে খুঁড়ে পুঁতে রাখে সে। পুলিশ জানায়, গত ২৬ মে শিশুটির নানাবাড়ির এক আত্বীয় মারা যায়। পরিবারের সদস্যরা দাফন কাজে সেখানে যায়।

শিশু রহিমা ও তার মা বাড়িতে ছিল। তার ফুফাতো ভাই শামিম মিয়ার ছেলে রাজা মিয়া (২৫) ছোটবেলা থেকে নানার বাড়িতে নানি হালিমার সাথে বসবাস করে। রংপুরের সহকারী পুলিশ সুপার কামরুজ্জামান বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার রাজা জানিয়েছে, ওই দিন দুপুরে মায়ের কাছে ১০ টাকা নিয়ে রহিমা দোকানে চিপস কিনে বাড়ি ফিরছিল। পথে রাজা মিয়া তাকে ১০ টাকা দিয়ে আরও একটি চিপস কিনে আনতে বলে। চিপস কিনে রাজার ঘরে দিতে যায় রহিমা। এরপর রাজা ঘরের দরজা বন্ধ করে দিয়ে শিশুটিকে ধর্ষণের চেষ্টা করে। ওই সময় শিশুটি চিৎকার দিলে রাজা তার গলা টিপে ধরে।

এতে শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ হয়ে যায়। এরপর মৃত্যু নিশ্চিত করার জন্য ব্লেড দিয়ে রহিমার গলা কাটে রাজা। মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর সে কোদাল ও বটি দিয়ে ঘরের মধ্যে গর্ত করে লাশ গর্তের মধ্যে পুঁতে ফেলে। গর্ত পানি দিয়ে লেপে তার ওপর ধানের বস্তা রেখে দেয়। এরপর সে হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত কোদাল পাশের বাড়িতে, বটি বেডের নিচে এবং রক্ত মোছার কাজে ব্যবহৃত কাঁথা ও লুংগি পুকুরে পুঁতে রাখে। এরপর সে হত্যাকান্ড আড়াল করার জন্য সবার সাথে শিশু রহিমাকে খুজতে থাকে।

ওই দিন রাত সাড়ে ১১ টার দিকে সে বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। পরদিন সকাল ৮ টায় তার ঘরের মেঝে খুঁড়ে লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের মা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ ঘটনার দিনই হত্যাকারী রাজার নানী হালিমাকে গ্রেপ্তার করে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ ফরিদপুর জেলার নগরকান্দা উপজেলা সদর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে। তার তথ্য অনুযায়ী পুলিশ হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত ব্লেড তার গর্ত থেকে, বটি বেডের নিচ থেকে, কোদাল পাশের মাহবুলের বাড়ি থেকে এবং মেঝের রক্ত মোছার কাজে ব্যবহৃত লুংগি ও কাথা পাশের বাড়ির পুকুর থেকে উদ্ধার করা হয়।

[irp]