ঢাকা ০৫:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম:
Logo গুইমারায় শহীদ জিয়া স্মৃতি সংসদের উদ্যোগে উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত Logo খাগড়াছড়িতে অতিঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলিতে সুষ্ঠু ভোট গ্রহণের দাবিতে ৪ প্রার্থীর সংবাদ সম্মেলন Logo মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে নিয়ে মিথ্যাচার কোনোভাবেই কাম্য নয়-মাহদী Logo ১৬ মাসে ৫৬০ হয়রানি, ১১৪৪ সাংবাদিক আক্রান্ত Logo ভোলায় প্রচারকে কেন্দ্র করে বিএনপি-জামায়াতের সংঘর্ষ Logo উখিয়ায় বিএনপি ছেড়ে ৫শ নেতাকর্মী জামায়াতে যোগদান Logo প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে তারেক রহমান: দ্য ইকোনমিস্ট Logo খাগড়াছড়ি প্রার্থীদের সাথে খাগড়াছড়িতে সেনা বাহীনির মতবিনিময় Logo খাগড়াছড়ি সংসদীয় আসনে ৬ প্রার্থীর বৈঠকের গুঞ্জন Logo খাগড়াছড়িতে ২০৪টি কেন্দ্রের মধ্যে ১৮৫টিকেই ঝুঁকিপূর্ণ

রেসিডেন্সিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ কে শ্রেণিকক্ষে হত্যা করে দুই বন্ধু।

Iftekhar Ahamed
  • আপডেট সময় : ০৭:১৯:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ অগাস্ট ২০২১
  • / ১০৬৩ বার পড়া হয়েছে

রেসিডেন্সিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ কে শ্রেণিকক্ষে হত্যা করে দুই বন্ধু।

সাভার প্রতিনিধি ঢাকাঃ সোমবার ০৯ আগস্ট সাভারের রেসিডেন্সিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মিন্টু চন্দ্র বর্মণকে শ্রেণিকক্ষে হত্যার পর লাশ ছয় টুকরো করে পুঁতে রাখে দুই বন্ধু মোতালেব ও রবিউল। এ ঘটনায় তিনজনকে আটক করে র‌্যাব। স্কুল থেকে লাশের পাঁচটি অংশ উদ্ধার করেছে র‌্যাব।

মাথা আশকোনার একটি ডোবা থেকে উদ্ধার করে বেলা সাড়ে ১১টা থেকে আশুলিয়ার নরসিংহপুর এলাকার রূপায়ন স্বপ্ন নিবাস আবাসনের সাভার রেসিডেন্সিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের আঙিনা থেকে পুঁতে রাখা লাশের পাঁচ টুকরো উদ্ধার করে র‌্যাব। এর আগে গত ১৩ জুলাই মঙ্গলবার আশুলিয়ার নরসিংহপুর সংলগ্ন বেরন এলাকার রূপায়ন মাঠের নিজ বাসা স্বপ্ন নিবাস থেকেই নিখোঁজ হন মিন্টু চন্দ্র বর্মণ। নিখোঁজ মিন্টু চন্দ্র বর্মণ লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার টংভাঙ্গা ইউনিয়নের বাড়াইপাড়া গ্রামের শর্ত বর্মণের ছেলে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত ১৩ জুলাই মঙ্গলবার আশুলিয়ার জামগড়া সংলগ্ন বেরন এলাকার রূপায়ন মাঠের নিজ বাসা স্বপ্ন নিবাস থেকে নিখোঁজ হন মিন্টু চন্দ্র বর্মণ। এরপর থেকে তার ব্যবহৃত মুঠোফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। সাত দিন বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ করে অবশেষে ২২ জুলাই আশুলিয়া থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করে মিন্টুর ছোট ভাই দীপক চন্দ্র বর্মণ। পরে ৯ আগস্ট ছায়া তদন্ত করে তিনজনকে আটক করে লাশের অবস্থান শনাক্ত করে র‌্যাব। বেলা সাড়ে ১১টা থেকে অভিযান পরিচালনা করে লাশের পাঁচ টুকরো উদ্ধার করা হয়।

নিহতের ভাই দীপক চন্দ্র বর্মণ বলে, তার ভাই মিন্টু চন্দ্র বর্মণ দুই বন্ধু মিলে দুই বছর আগে সাভারে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চালু করে। যার নাম দেন সাভার রেসিডেন্সিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ। যার অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করে মিন্টু। কিন্তু হঠাৎ ভাই উধাও হয়ে যায়। আজ শুনি ভাইয়ের বন্ধুরাই তাকে হত্যা করে। আমি উপযুক্ত শাস্তি দাবি করছি। স্কুলের এক শিক্ষার্থী সনেকা বেগম বলে, মিন্টু স্যার অনেক ভালো ছিল।

তিনি অনেক ভদ্র ছিলেন। মোতালেব ও রবিউল স্যারও অনেক ভালো ছিলেন। তারা এই কাজ করতে পারেন এটা বিশ্বাসই হচ্ছে না। র‌্যাব সদর দফতরের মিডিয়া উইংয়ের কমান্ডার মঈন খান সংবাদ সম্মেলনে বলেন, প্রথমে ৭ জুলাই মিন্টুকে হত্যার পরিকল্পনা করে। পরে ১৩ জুলাই স্কুলটিতে কোচিং পরবর্তী সময়ে ১০৬ নম্বরে মিন্টুকে ডেকে নিয়ে যায় বাদশা ও মোতালেব। এ সময় মিন্টুর মাথায় হাতুড়ি দিয়ে বাদশা আঘাত করে। পরে ছয় টুকরো করে মাথা রাজধানীর আশকোনার একটি ডোবায় ফেলে দেয়। বাকি পাঁচ টুকরো স্কুলের আঙিনায় পুঁতে রাখে তারা। তিনি আরও বলেন, মিন্টু বর্মণের সুনাম ও খুব ভালো শিক্ষক হওয়ায় পেশাগত হিংসা শুরু করে তারা। এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানের লভ্যাংশ নিয়েও তাদের মধ্যে মনোমালিন্য হয়।

এর জের ধরেই তাকে হত্যা করে তারা। এরপর থেকেই রবিউল পলাতক ছিল। গতকাল রাতে রবিউলকে আব্দুল্লাপুর থেকে, তার ভাগ্নে বাদশাকে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ থেকে আর মোতালেবকে আশকোনা থেকে গ্রেফতার করা হয়। পরে রবিউলের দেওয়া তথ্য মতে, স্কুলের আঙিনা থেকে মিন্টুর শরীরের পাঁচটি অংশ উদ্ধার করা হয়।

[irp]

ট্যাগস :

রেসিডেন্সিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ কে শ্রেণিকক্ষে হত্যা করে দুই বন্ধু।

আপডেট সময় : ০৭:১৯:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ অগাস্ট ২০২১

রেসিডেন্সিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ কে শ্রেণিকক্ষে হত্যা করে দুই বন্ধু।

সাভার প্রতিনিধি ঢাকাঃ সোমবার ০৯ আগস্ট সাভারের রেসিডেন্সিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মিন্টু চন্দ্র বর্মণকে শ্রেণিকক্ষে হত্যার পর লাশ ছয় টুকরো করে পুঁতে রাখে দুই বন্ধু মোতালেব ও রবিউল। এ ঘটনায় তিনজনকে আটক করে র‌্যাব। স্কুল থেকে লাশের পাঁচটি অংশ উদ্ধার করেছে র‌্যাব।

মাথা আশকোনার একটি ডোবা থেকে উদ্ধার করে বেলা সাড়ে ১১টা থেকে আশুলিয়ার নরসিংহপুর এলাকার রূপায়ন স্বপ্ন নিবাস আবাসনের সাভার রেসিডেন্সিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের আঙিনা থেকে পুঁতে রাখা লাশের পাঁচ টুকরো উদ্ধার করে র‌্যাব। এর আগে গত ১৩ জুলাই মঙ্গলবার আশুলিয়ার নরসিংহপুর সংলগ্ন বেরন এলাকার রূপায়ন মাঠের নিজ বাসা স্বপ্ন নিবাস থেকেই নিখোঁজ হন মিন্টু চন্দ্র বর্মণ। নিখোঁজ মিন্টু চন্দ্র বর্মণ লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার টংভাঙ্গা ইউনিয়নের বাড়াইপাড়া গ্রামের শর্ত বর্মণের ছেলে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত ১৩ জুলাই মঙ্গলবার আশুলিয়ার জামগড়া সংলগ্ন বেরন এলাকার রূপায়ন মাঠের নিজ বাসা স্বপ্ন নিবাস থেকে নিখোঁজ হন মিন্টু চন্দ্র বর্মণ। এরপর থেকে তার ব্যবহৃত মুঠোফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। সাত দিন বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ করে অবশেষে ২২ জুলাই আশুলিয়া থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করে মিন্টুর ছোট ভাই দীপক চন্দ্র বর্মণ। পরে ৯ আগস্ট ছায়া তদন্ত করে তিনজনকে আটক করে লাশের অবস্থান শনাক্ত করে র‌্যাব। বেলা সাড়ে ১১টা থেকে অভিযান পরিচালনা করে লাশের পাঁচ টুকরো উদ্ধার করা হয়।

নিহতের ভাই দীপক চন্দ্র বর্মণ বলে, তার ভাই মিন্টু চন্দ্র বর্মণ দুই বন্ধু মিলে দুই বছর আগে সাভারে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চালু করে। যার নাম দেন সাভার রেসিডেন্সিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ। যার অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করে মিন্টু। কিন্তু হঠাৎ ভাই উধাও হয়ে যায়। আজ শুনি ভাইয়ের বন্ধুরাই তাকে হত্যা করে। আমি উপযুক্ত শাস্তি দাবি করছি। স্কুলের এক শিক্ষার্থী সনেকা বেগম বলে, মিন্টু স্যার অনেক ভালো ছিল।

তিনি অনেক ভদ্র ছিলেন। মোতালেব ও রবিউল স্যারও অনেক ভালো ছিলেন। তারা এই কাজ করতে পারেন এটা বিশ্বাসই হচ্ছে না। র‌্যাব সদর দফতরের মিডিয়া উইংয়ের কমান্ডার মঈন খান সংবাদ সম্মেলনে বলেন, প্রথমে ৭ জুলাই মিন্টুকে হত্যার পরিকল্পনা করে। পরে ১৩ জুলাই স্কুলটিতে কোচিং পরবর্তী সময়ে ১০৬ নম্বরে মিন্টুকে ডেকে নিয়ে যায় বাদশা ও মোতালেব। এ সময় মিন্টুর মাথায় হাতুড়ি দিয়ে বাদশা আঘাত করে। পরে ছয় টুকরো করে মাথা রাজধানীর আশকোনার একটি ডোবায় ফেলে দেয়। বাকি পাঁচ টুকরো স্কুলের আঙিনায় পুঁতে রাখে তারা। তিনি আরও বলেন, মিন্টু বর্মণের সুনাম ও খুব ভালো শিক্ষক হওয়ায় পেশাগত হিংসা শুরু করে তারা। এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানের লভ্যাংশ নিয়েও তাদের মধ্যে মনোমালিন্য হয়।

এর জের ধরেই তাকে হত্যা করে তারা। এরপর থেকেই রবিউল পলাতক ছিল। গতকাল রাতে রবিউলকে আব্দুল্লাপুর থেকে, তার ভাগ্নে বাদশাকে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ থেকে আর মোতালেবকে আশকোনা থেকে গ্রেফতার করা হয়। পরে রবিউলের দেওয়া তথ্য মতে, স্কুলের আঙিনা থেকে মিন্টুর শরীরের পাঁচটি অংশ উদ্ধার করা হয়।

[irp]