ঢাকা ১১:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬, ২৯ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

লেবাননের বাড়ি-ঘরে বিস্ফোরক লাগিয়ে গ্রাম নিশ্চিহ্ন করে দিলো ইসরাইল

Astha DESK
  • আপডেট সময় : ১০:৫৪:২০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬
  • / ৯৯৮ বার পড়া হয়েছে

লেবাননের বাড়ি-ঘরে বিস্ফোরক লাগিয়ে গ্রাম নিশ্চিহ্ন করে দিলো ইসরাইল

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ

দক্ষিণ লেবাননে একটি গ্রাম গুঁড়িয়ে দিয়েছে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী। আগ্রাসনের অংশ হিসেবে গোটা গ্রামের বাড়িঘরে বিস্ফোরক স্থাপন করে দূর থেকে ব্যাপক বিস্ফোরণ ঘটিয়ে সেগুলোকে মাটির সাথে মিশিয়ে দেয়। সূত্র-দ্য গার্ডিয়ান।

ইসরাইলি সামরিক বাহিনী এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করা তিনটি ভিডিও পর্যালোচনা করে দ্য গার্ডিয়ান বলেছে, যেগুলোতে ইসরাইল-লেবানন সীমান্ত বরাবর তাইবেহ, নাকুরা এবং দেইর সেরিয়ান গ্রামে ইসরাইলকে গণবিস্ফোরণ চালাতে দেখা গেছে।

লেবাননের গণমাধ্যম অন্যান্য সীমান্ত গ্রামেও আরও গণবিস্ফোরণের খবর দিয়েছে, কিন্তু এই দাবিগুলো যাচাই করার জন্য স্যাটেলাইট চিত্র তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

উত্তর ইসরাইলের জনবসতিগুলোর ওপর হুমকি বন্ধ করতে, ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাটজ ‘গাজার রাফাহ ও বেইত হানুনে ব্যবহৃত মডেল অনুসারে সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোর সমস্ত বাড়িঘর ধ্বংস করার আহ্বান জানানোর পরেই এই ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়।

ইসরাইলি সামরিক বাহিনী দক্ষিণ গাজার রাফাহতে ৯০ শতাংশ বাড়িঘর ধ্বংস করে দিয়েছে।

গাজায়, যেখানে ইসরাইলের বিরুদ্ধে গণহত্যা চালানোর অভিযোগ রয়েছে, সেখানে বাড়িঘর গণহারে ধ্বংস করার এই কৌশলকে শিক্ষাবিদরা ‘ডোমিসাইড’ বা ‘গৃহহত্যা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এটি এমন একটি কৌশল যা পুরো এলাকাকে বসবাসের অযোগ্য করে তোলার জন্য পরিকল্পিতভাবে বেসামরিক আবাসন ধ্বংস ও ক্ষতিগ্রস্ত করতে ব্যবহৃত হয়।

ইসরাইলি সামরিক বাহিনী বলেছে যে, এই ধ্বংসযজ্ঞের মাধ্যমে তারা হিজবুল্লাহর সুড়ঙ্গ এবং সামরিক স্থাপনার মতো অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করছে, যা তাদের দাবি অনুযায়ী সশস্ত্র গোষ্ঠীটি বেসামরিক বাড়িঘরের ভেতরে স্থাপন করেছে।

ইসরাইল আরও বলেছে, তারা দক্ষিণ লেবাননের বিশাল এলাকা দখল করবে এবং লিতানি নদী পর্যন্ত সমগ্র অঞ্চলে একটি ‘নিরাপত্তা অঞ্চল’ প্রতিষ্ঠা করবে। ইসরাইলের উত্তরাঞ্চলীয় শহরগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত বাস্তুচ্যুত মানুষদের তাদের বাড়িতে ফিরতে দেয়া হবে না, যা দীর্ঘমেয়াদী বাস্তুচ্যুতির আশঙ্কা তৈরি করেছে।

তবে মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলো বলেছে যে, দূরনিয়ন্ত্রিত এই ব্যাপক বিস্ফোরণগুলো উদ্দেশ্যহীন ধ্বংসযজ্ঞের শামিল হতে পারে, যা একটি যুদ্ধাপরাধ। যুদ্ধ আইন অনুযায়ী, বৈধ সামরিক কারণে প্রয়োজন না হলে ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিক বাড়িঘর ধ্বংস করা নিষিদ্ধ। (সূত্র-দ্য গার্ডিয়ান)।

দৈনিক আস্থা/এমএইচ

ট্যাগস :

লেবাননের বাড়ি-ঘরে বিস্ফোরক লাগিয়ে গ্রাম নিশ্চিহ্ন করে দিলো ইসরাইল

আপডেট সময় : ১০:৫৪:২০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬

লেবাননের বাড়ি-ঘরে বিস্ফোরক লাগিয়ে গ্রাম নিশ্চিহ্ন করে দিলো ইসরাইল

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ

দক্ষিণ লেবাননে একটি গ্রাম গুঁড়িয়ে দিয়েছে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী। আগ্রাসনের অংশ হিসেবে গোটা গ্রামের বাড়িঘরে বিস্ফোরক স্থাপন করে দূর থেকে ব্যাপক বিস্ফোরণ ঘটিয়ে সেগুলোকে মাটির সাথে মিশিয়ে দেয়। সূত্র-দ্য গার্ডিয়ান।

ইসরাইলি সামরিক বাহিনী এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করা তিনটি ভিডিও পর্যালোচনা করে দ্য গার্ডিয়ান বলেছে, যেগুলোতে ইসরাইল-লেবানন সীমান্ত বরাবর তাইবেহ, নাকুরা এবং দেইর সেরিয়ান গ্রামে ইসরাইলকে গণবিস্ফোরণ চালাতে দেখা গেছে।

লেবাননের গণমাধ্যম অন্যান্য সীমান্ত গ্রামেও আরও গণবিস্ফোরণের খবর দিয়েছে, কিন্তু এই দাবিগুলো যাচাই করার জন্য স্যাটেলাইট চিত্র তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

উত্তর ইসরাইলের জনবসতিগুলোর ওপর হুমকি বন্ধ করতে, ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাটজ ‘গাজার রাফাহ ও বেইত হানুনে ব্যবহৃত মডেল অনুসারে সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোর সমস্ত বাড়িঘর ধ্বংস করার আহ্বান জানানোর পরেই এই ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়।

ইসরাইলি সামরিক বাহিনী দক্ষিণ গাজার রাফাহতে ৯০ শতাংশ বাড়িঘর ধ্বংস করে দিয়েছে।

গাজায়, যেখানে ইসরাইলের বিরুদ্ধে গণহত্যা চালানোর অভিযোগ রয়েছে, সেখানে বাড়িঘর গণহারে ধ্বংস করার এই কৌশলকে শিক্ষাবিদরা ‘ডোমিসাইড’ বা ‘গৃহহত্যা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এটি এমন একটি কৌশল যা পুরো এলাকাকে বসবাসের অযোগ্য করে তোলার জন্য পরিকল্পিতভাবে বেসামরিক আবাসন ধ্বংস ও ক্ষতিগ্রস্ত করতে ব্যবহৃত হয়।

ইসরাইলি সামরিক বাহিনী বলেছে যে, এই ধ্বংসযজ্ঞের মাধ্যমে তারা হিজবুল্লাহর সুড়ঙ্গ এবং সামরিক স্থাপনার মতো অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করছে, যা তাদের দাবি অনুযায়ী সশস্ত্র গোষ্ঠীটি বেসামরিক বাড়িঘরের ভেতরে স্থাপন করেছে।

ইসরাইল আরও বলেছে, তারা দক্ষিণ লেবাননের বিশাল এলাকা দখল করবে এবং লিতানি নদী পর্যন্ত সমগ্র অঞ্চলে একটি ‘নিরাপত্তা অঞ্চল’ প্রতিষ্ঠা করবে। ইসরাইলের উত্তরাঞ্চলীয় শহরগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত বাস্তুচ্যুত মানুষদের তাদের বাড়িতে ফিরতে দেয়া হবে না, যা দীর্ঘমেয়াদী বাস্তুচ্যুতির আশঙ্কা তৈরি করেছে।

তবে মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলো বলেছে যে, দূরনিয়ন্ত্রিত এই ব্যাপক বিস্ফোরণগুলো উদ্দেশ্যহীন ধ্বংসযজ্ঞের শামিল হতে পারে, যা একটি যুদ্ধাপরাধ। যুদ্ধ আইন অনুযায়ী, বৈধ সামরিক কারণে প্রয়োজন না হলে ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিক বাড়িঘর ধ্বংস করা নিষিদ্ধ। (সূত্র-দ্য গার্ডিয়ান)।

দৈনিক আস্থা/এমএইচ