ঢাকা ০৫:২৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম:
Logo পানছড়িতে অষ্টপ্রহার ব্যাপী মহানামযজ্ঞ ও সরস্বতী পূজা পরিদর্শনে বিএনপি Logo পানছড়িতে বিভিন্ন দলের শতাধিক নেতাকর্মী বিএনপিতে যোগদান Logo আপনারা থাকার কষ্ট করছেন, আমরা এখানে উঁচু উঁচু বিল্ডিং করে দিতে চাই Logo পানছড়িতে খালেদা জিয়ার স্বরণে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্টিত Logo ছয় মাসে ব্যাংক থেকে ৬০ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিলো সরকার Logo প্রাণ ফিরছে লোগাং ইউপি শহীদ জিয়া স্মৃতি সংসদে Logo পানছড়িতে ভারতীয় অবৈধ পন্য আটক Logo পানছড়িতে সড়ক নির্মাণে নিম্নমানের খোয়া-রাবিশ ব্যবহার Logo মুসাব্বির হত্যার প্রতিবাদে খাগড়াছড়িতে স্বেচ্ছাসেবক দলের বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ Logo অষ্টগ্রামে জলমহাল দখলকে কেন্দ্র করে অতর্কিত হামলা, ছাত্রদল সভাপতিসহ আহত ৬

হিলি ট্রেন ট্র্যাজেডি দিবস আজ

Astha DESK
  • আপডেট সময় : ০২:৩৫:৫২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৪
  • / ১০৭৫ বার পড়া হয়েছে

হিলি ট্রেন ট্র্যাজেডি দিবস আজ

জয়নাল আবেদীন জয়/জয়পুরহাট প্রতিনিধিঃ

দিনাজপুরের হিলি ট্রেন ট্র্যাজেডি দিবস আজ। ২৯ বছর আগে ১৩ জানুয়ারি হিলি রেলস্টেশনে দুটি ট্রেনের মুখোমুখি সংঘর্ষে বহু হতাহতের ঘটনা ঘটে। সেই দিনের কথা আজও ভুলতে পারেনি হিলিবাসী। দিনটি উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছেন স্থানীয়রা।

১৯৯৫ সালের ১৩ জানুয়ারি, দিনটি ছিল শুক্রবার। রাত সোয়া ৯টার দিকে গোয়ালন্দ থেকে পার্বতীপুরগামী ৫১১ নম্বর লোকাল ট্রেনটি হিলি রেলস্টেশনের ১ নম্বর লাইনে এসে দাঁড়ায়। এর কিছুক্ষণ পর সৈয়দপুর থেকে খুলনাগামী ৭৪৮ নম্বর আন্তঃনগর সীমান্ত এক্সপ্রেস ট্রেনটি একই লাইনে ঢুকে পড়ে। এ সময়ই ঘটে ভয়াবহ মুখোমুখি সংঘর্ষ। এতে বিকট শব্দে গোয়ালন্দ লোকাল ট্রেনের ইঞ্জিনসহ দুটি বগি দুমড়েমুচড়ে আন্তঃনগর ট্রেনের ওপর উঠে যায়।

ভয়াবহ এই ট্রেন দুর্ঘটনায় দুটি ট্রেনের অর্ধশতাধিক যাত্রী নিহত হয়। আহত হয় দুই শতাধিক। নিহতদের অনেকের দেহ ছিন্নবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে থাকে। পরে স্থানীয় মানুষ, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের লোকজনের সহায়তায় লাশ উদ্ধারসহ আহতদের দ্রুত উপজেলা হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠায়। সে সময় সরকারিভাবে নিহতের সংখ্যা ২৭ জন ঘোষণা করা হয়। আর আহতের সংখ্যা বলা হয় শতাধিক।

খবর পেয়ে ছুটে আসেন বিএনপি সরকারের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। ঘোষণা দেন নিহত ও আহতদের আর্থিক ক্ষতিপূরণের। এদের মধ্যে অনেকে ক্ষতিপূরণ পেলেও কয়েকজন আজও পাননি তাদের ক্ষতিপূরণের টাকা।

হাকিমপুর প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি জাহিদুল ইসলাম জাহিদ বলেন, সেদিনের কথা মনে পড়লে আজও শরীর শিউরে উঠে। সে রাতে দুর্ঘটনার সময়ে আমরা হিলি বাজারে প্রেসক্লাবে বসেছিলাম। এমন সময় একটি বিকট শব্দ শুনতে পাই। এতো বিকট শব্দ ছিলো যে আমরা স্থির করতে পারছিলাম না, কোথায় কি হচ্ছে। ছুটে যাই রেলস্টেশনের দিকে। গিয়ে দেখি এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা, শত শত মানুষের আহাজারি।

ক্ষতবিক্ষত মানুষের দেহের বিভিন্ন অংশ পড়ে আছে। আহতরা বাঁচার জন্য আহাজারি করছে, অনেকের শরীর ছিন্নবিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। বুঝে উঠতে পারছিলাম না আমার কি করা উচিত। অবশেষে স্থানীয়দের সহযোগিতায় আহতদের উদ্ধার করে হিলি হাসপাতালে নিয়ে যাই। এতো লাশ, এতো রক্তমাখা ক্ষতবিক্ষত দেহ আগে কখনও দেখিনি। সেই দিনের ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনাটি আজও হিলির মানুষকে আতঙ্কে রাখে।
ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকটি পরিবার ও এলাকার লোকজন জানান, তাৎক্ষণিক ট্রেন দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে স্থানীয় প্রশাসন ও রেল কর্তৃপক্ষ তাদের প্রাথমিক তদন্তে হিলি রেলস্টেশনের কর্তব্যরত স্টেশন মাস্টার ও পয়েন্টসম্যানের দায়িত্বহীনতাকেই দায়ী করেছেন।

হিলি রেলওয়ে একতা ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন বুলু জানান, প্রতি বছরের ন্যায় এবছরও হিলি রেলস্টেশন প্লাটফর্মে ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহতদের রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া মাহফিল হবে। পাশাপাশি আলোচনা সভা ও সকাল থেকে কালো ব্যাজ ধারণের কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে।

ট্যাগস :

হিলি ট্রেন ট্র্যাজেডি দিবস আজ

আপডেট সময় : ০২:৩৫:৫২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৪

হিলি ট্রেন ট্র্যাজেডি দিবস আজ

জয়নাল আবেদীন জয়/জয়পুরহাট প্রতিনিধিঃ

দিনাজপুরের হিলি ট্রেন ট্র্যাজেডি দিবস আজ। ২৯ বছর আগে ১৩ জানুয়ারি হিলি রেলস্টেশনে দুটি ট্রেনের মুখোমুখি সংঘর্ষে বহু হতাহতের ঘটনা ঘটে। সেই দিনের কথা আজও ভুলতে পারেনি হিলিবাসী। দিনটি উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছেন স্থানীয়রা।

১৯৯৫ সালের ১৩ জানুয়ারি, দিনটি ছিল শুক্রবার। রাত সোয়া ৯টার দিকে গোয়ালন্দ থেকে পার্বতীপুরগামী ৫১১ নম্বর লোকাল ট্রেনটি হিলি রেলস্টেশনের ১ নম্বর লাইনে এসে দাঁড়ায়। এর কিছুক্ষণ পর সৈয়দপুর থেকে খুলনাগামী ৭৪৮ নম্বর আন্তঃনগর সীমান্ত এক্সপ্রেস ট্রেনটি একই লাইনে ঢুকে পড়ে। এ সময়ই ঘটে ভয়াবহ মুখোমুখি সংঘর্ষ। এতে বিকট শব্দে গোয়ালন্দ লোকাল ট্রেনের ইঞ্জিনসহ দুটি বগি দুমড়েমুচড়ে আন্তঃনগর ট্রেনের ওপর উঠে যায়।

ভয়াবহ এই ট্রেন দুর্ঘটনায় দুটি ট্রেনের অর্ধশতাধিক যাত্রী নিহত হয়। আহত হয় দুই শতাধিক। নিহতদের অনেকের দেহ ছিন্নবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে থাকে। পরে স্থানীয় মানুষ, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের লোকজনের সহায়তায় লাশ উদ্ধারসহ আহতদের দ্রুত উপজেলা হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠায়। সে সময় সরকারিভাবে নিহতের সংখ্যা ২৭ জন ঘোষণা করা হয়। আর আহতের সংখ্যা বলা হয় শতাধিক।

খবর পেয়ে ছুটে আসেন বিএনপি সরকারের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। ঘোষণা দেন নিহত ও আহতদের আর্থিক ক্ষতিপূরণের। এদের মধ্যে অনেকে ক্ষতিপূরণ পেলেও কয়েকজন আজও পাননি তাদের ক্ষতিপূরণের টাকা।

হাকিমপুর প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি জাহিদুল ইসলাম জাহিদ বলেন, সেদিনের কথা মনে পড়লে আজও শরীর শিউরে উঠে। সে রাতে দুর্ঘটনার সময়ে আমরা হিলি বাজারে প্রেসক্লাবে বসেছিলাম। এমন সময় একটি বিকট শব্দ শুনতে পাই। এতো বিকট শব্দ ছিলো যে আমরা স্থির করতে পারছিলাম না, কোথায় কি হচ্ছে। ছুটে যাই রেলস্টেশনের দিকে। গিয়ে দেখি এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা, শত শত মানুষের আহাজারি।

ক্ষতবিক্ষত মানুষের দেহের বিভিন্ন অংশ পড়ে আছে। আহতরা বাঁচার জন্য আহাজারি করছে, অনেকের শরীর ছিন্নবিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। বুঝে উঠতে পারছিলাম না আমার কি করা উচিত। অবশেষে স্থানীয়দের সহযোগিতায় আহতদের উদ্ধার করে হিলি হাসপাতালে নিয়ে যাই। এতো লাশ, এতো রক্তমাখা ক্ষতবিক্ষত দেহ আগে কখনও দেখিনি। সেই দিনের ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনাটি আজও হিলির মানুষকে আতঙ্কে রাখে।
ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকটি পরিবার ও এলাকার লোকজন জানান, তাৎক্ষণিক ট্রেন দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে স্থানীয় প্রশাসন ও রেল কর্তৃপক্ষ তাদের প্রাথমিক তদন্তে হিলি রেলস্টেশনের কর্তব্যরত স্টেশন মাস্টার ও পয়েন্টসম্যানের দায়িত্বহীনতাকেই দায়ী করেছেন।

হিলি রেলওয়ে একতা ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন বুলু জানান, প্রতি বছরের ন্যায় এবছরও হিলি রেলস্টেশন প্লাটফর্মে ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহতদের রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া মাহফিল হবে। পাশাপাশি আলোচনা সভা ও সকাল থেকে কালো ব্যাজ ধারণের কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে।