ঢাকা ০৩:১৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬, ১৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে অনলাইনে জেএমবি সমর্থকদের বিদ্বেষমূলক ক্যাম্পেইন

Astha DESK
  • আপডেট সময় : ০৮:৫০:০৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / ১০৯৭ বার পড়া হয়েছে

খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে অনলাইনে জেএমবি সমর্থকদের বিদ্বেষমূলক ক্যাম্পেইন

স্টাফ রিপোর্টারঃ

বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে অনলাইনে বিদ্বেষমূলক ক্যাম্পেইনে সরব হতে দেখা গেছে জেএমবি ও উগ্রবাদ সমর্থক বেশ কিছু আইডিকে। বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন ৪ দলীয় জোট সরকারের আমলে সারা দেশে সিরিজ বোমা হামলা করে জামায়াতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ (জেএমবি)। এরপর জঙ্গি সংগঠনটির তৎকালীন প্রধান শায়খ আব্দুর রহমান ও শীর্ষ কমান্ডার সিদ্দিকুর রহমান বাংলা ভাইকে আটক করে ততকালীন সরকার।

জঙ্গি হামলার মামলায় জেএমবির শীর্ষ কমান্ডারদের আটক ও পরবর্তীতে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার কারণে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার উপর ক্ষুব্ধ জেএমবি সমর্থকরা। ফলে অনলাইনে খালেদা জিয়ার মৃ্ত্যুতে তাঁর বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক প্রচারণা চালাতে দেখা গেছে তাদেরকে।

বেগম জিয়ার মৃত্যুর খবর সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর জুনায়েদ আদনানী আল বাঙ্গালী নামের একটি জেএমবি সমর্থক আইডি থেকে পোস্ট করা হয়, “আলহামদুলিল্লাহ এক ডাইনির উইকেট পতন।”

আইডিটির প্রোফাইল ও কাভার ফটোতে শায়খ রহমান ও বাংলা ভাই’র ছবি দেয়া রয়েছে। আইডিটি থেকে নিয়মিতই উগ্রবাদ সমর্থন করে প্রচারণা চালানো হয়।

জারবে মুমিন বাংলা নামের উগ্রবাদ সমর্থকদের একটি গ্রুপে ‘ইস্কন রিমুভ ফোর্স’ নামের একটি আইডি থেকে পোস্ট করা হয়, “বেগম খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে শহীদ শায়খ আবদুর রহমান রাহিমাহুল্লাহ এবং তাঁর দলকে উদ্দেশ্য করে বলেছিলো – তোমরা যে ধরনের রাষ্ট্র চাচ্ছ তা কিছুতেই হতে দেয়া হবে না, হবে না। মুজাহিদদের অকথ্য অত্যাচার, মুজাহিদদের স্ত্রীদের ধরে এনে পুলিশ – র‍্যাব – সেনাবাহিনী দিয়ে ধর্ষণ করানো, মুজাহিদ লেতা শহীদ শায়খ আবদুর রহমান রাহিমাহুল্লাহকে রিমান্ডে এনে উলংগ করে অত্যাচার করিয়েছিল খালেদা জিয়া এবং জামাতের জোট সরকার। সন্ত্রাসী দমনের নামে মুজাহিদদের পাইকারি হত্যা চালিয়েছিলো খালেদা জিয়া এবং মতিউর রহমান নিজামির জোট সরকার। এখন তারা হঠাৎ এত ভালো মানুষ, এত ভালো মুসলিম কিভাবে হলো?”

মোহাম্মদ আব্দুল হামিদ নামের একটি আইডি থেকে শায়খ আব্দুর রহমানের ছবি পোস্ট করে বলা হয়েছে, “আমাদের একজন রত্ন ছিলো,শাইখ আবদুর রহমান। যারা শাইখকে ফাঁসিতে ঝুলিয়েছিলো তাদের জন্য কখনো দোয়া আসে না।”

আজিম মাহমুদ নামের একটি আইডি থেকে শায়খ আব্দুর রহমানের একটি ভিডিও পোস্ট করে ক্যাপশন দেওয়া হয়েছে, “আজ আপনাকেও ভীষণ মনে পড়ে! তৎকালীন এক ক্ষমতাসীন নারী ও তার বাহিনী আপনাকে ফাঁসি দিয়েছিল। শহীদ শাইখ আবদুর রহমান (রহ.)।”

সাইদ অমি নামের একটি আইডি থেকে শায়খ রহমানের একটি ভিডিও পোস্ট করে বলা হয়, “প্রিয় উস্তাদ প্রিয় শাইখ, আমাদের একজন রত্ন ছিলেন, “শাইখ আবদুর রহমান رحمه الله। যারা শাইখকে ফাঁসিতে ঝুলিয়েছিলো তাদের জন্য কখনো দোয়া আসে না। আজ আপনার খুনি বেদনাদায়ক যন্ত্রণা পেয়ে তিলে তিলে মারা গেছেন।”

এই ধরণের ক্যাপশনে পোস্ট দিতে দেখা যায় আরও কয়েক ডজন আইডি থেকে। এসব আইডির কোন কোনটি ছদ্ম নামে আবার কোন কোনটি স্বনামেই পরিচালিত।

মোহাম্মদ আমিনুল হক নামের একটি আইডি থেকে পোস্ট করে বলা হয়, “আল্লাহ’র শরীয়াহ’ পরিত্যাগকারী কারো মৃত্যুতে ইন্না-লিল্লাহ পড়া নিষেধ! সেখানে জান্নাত পাওয়ার জন্য দুআ আমরা কখনো করি না। আমাদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে যামানার সালাহউদ্দীন আইয়ুবী আবু উ-বাইদা’র শাহাদাতে! হাজারটা বিখ্যাত মনিষী’র ইন্তেকাল আর একজন উ-সামার শাহাদাত কখনো সমান হতে পারে না।” মোহাম্মদ আমিনুল হককে ইতিপূর্বে জঙ্গিবাদী সংগঠনে জড়িত থাকার অপরাধে গ্রেফতার করা হয়েছিল।

খালেদা জিয়ার জন্য জান্নাত কামনা করে দেয়া একটি পোস্টে আবু রুমাইসা নামের একটি আইডি থেকে কমেন্ট করা হয়েছে, “আপনার সাক্ষ্যতে কি আসে যায়? মানুষের হিসাব তার ঈমান ও আমলের ভিত্তিতে নেয়া হবে এবং পাওনাও এর ভিত্তিতে দেয়া হবে। সারাজীবন কুফরির জন্য লড়াই করে জান্নাত চাওয়া ও পাওয়া এতই সহজ! নির্বোধ-যাহিল।”

মুফতি হারুন ইজহার খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে এক ফেসবুক পোস্টে বেগম জিয়াকে বাংলাদেশবান্ধব রাজনীতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আইকন ও আধিপত্যবাদ এবং ফ্যাসিবাদের প্রশ্নে আপোসহীন বলে উল্লেখ করেন।

তবে একই পোস্টে মুফতি ইজহার উল্লেখ করেন, “মহান রব্বের কাছে জবাবদিহিতার যে মূল ঈমানী কমিটমেন্ট, তাতে তিনি আরো দশ জন রাজনীতিকের মতই উত্তীর্ণ হতে পারেন নি। রাজনৈতিক দর্শন ও কর্মে তিনি মহান রব্বের নিকট পরিপূর্ণ আত্মসমর্পণ করতে পারেন নি।”

পোস্টটিতে ইজহারের বক্তব্য সমর্থন করে বেগম খালেদা জিয়ার ইমান ও জান্নাতে যাওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে কমেন্ট করতে দেখা যায় অনেককে। বদরুদ্দোজা নামের একটি আইডি থেকে কমেন্ট করা হয়, “গণতন্ত্রের মা বাংলাদেশের মা ইত্যাদি ইত্যাদি হয়ে জান্নাতে যাওয়া যাবে না জান্নাতে যাইতে হলে আল্লাহর প্রকৃত বান্দী হতে হবে দেশপ্রেম দিয়ে জান্নাতে যাওয়া যাবে না নামাজ প্রেমীরা জান্নাতে যাবে।”

২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট এক যোগে সারাদেশে সিরিজ বোমা হামলা চালায় জঙ্গি সংগঠন জামায়াতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ (জেএমবি)। ২০০৬ সালের ৬ মার্চ ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা থেকে বাংলাভাইকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব সদস্যরা। এর চারদিন আগে সিলেট থেকে গ্রেপ্তার করা হয় শায়খ রহমানকে। পরবর্তীতে ২০০৭ সালের ২৯ মার্চ রাতে শায়খ আবদুর রহমান ও সিদ্দিকুল ইসলাম ওরফে বাংলাভাইসহ নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জামা’আতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশের (জেএমবি) ছয় শীর্ষ নেতার ফাঁসি কার্যকর করা হয়। শীর্ষ জেএমবি নেতাদের গ্রেফতার ও ফাঁসি কার্যকরের ঘটনায় উগ্রবাদ সমর্থকরা তৎকালীন জোট সরকার ও বেগম খালেদা জিয়ার উপর ক্ষুব্ধ।

সাম্প্রতিক সময়ে জেএমবি’র বেশ কয়েকজন সদস্য মুক্তি পেয়ে জেল থেকে বের হয়েছেন। গত ২৬ ডিসেম্বর কেরানীগঞ্জের হাসনাবাদ এলাকায় একটি মাদ্রাসায় ভয়াবহ বিস্ফোরণে মাদ্রাসাটির দেয়াল ধ্বসে পড়ে। মাদ্রাসার পরিচালক আল-আমিন শেখ নিউ জেএমবি সদস্য বলে দাবি করেছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী।

ট্যাগস :

খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে অনলাইনে জেএমবি সমর্থকদের বিদ্বেষমূলক ক্যাম্পেইন

আপডেট সময় : ০৮:৫০:০৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫

খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে অনলাইনে জেএমবি সমর্থকদের বিদ্বেষমূলক ক্যাম্পেইন

স্টাফ রিপোর্টারঃ

বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে অনলাইনে বিদ্বেষমূলক ক্যাম্পেইনে সরব হতে দেখা গেছে জেএমবি ও উগ্রবাদ সমর্থক বেশ কিছু আইডিকে। বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন ৪ দলীয় জোট সরকারের আমলে সারা দেশে সিরিজ বোমা হামলা করে জামায়াতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ (জেএমবি)। এরপর জঙ্গি সংগঠনটির তৎকালীন প্রধান শায়খ আব্দুর রহমান ও শীর্ষ কমান্ডার সিদ্দিকুর রহমান বাংলা ভাইকে আটক করে ততকালীন সরকার।

জঙ্গি হামলার মামলায় জেএমবির শীর্ষ কমান্ডারদের আটক ও পরবর্তীতে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার কারণে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার উপর ক্ষুব্ধ জেএমবি সমর্থকরা। ফলে অনলাইনে খালেদা জিয়ার মৃ্ত্যুতে তাঁর বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক প্রচারণা চালাতে দেখা গেছে তাদেরকে।

বেগম জিয়ার মৃত্যুর খবর সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর জুনায়েদ আদনানী আল বাঙ্গালী নামের একটি জেএমবি সমর্থক আইডি থেকে পোস্ট করা হয়, “আলহামদুলিল্লাহ এক ডাইনির উইকেট পতন।”

আইডিটির প্রোফাইল ও কাভার ফটোতে শায়খ রহমান ও বাংলা ভাই’র ছবি দেয়া রয়েছে। আইডিটি থেকে নিয়মিতই উগ্রবাদ সমর্থন করে প্রচারণা চালানো হয়।

জারবে মুমিন বাংলা নামের উগ্রবাদ সমর্থকদের একটি গ্রুপে ‘ইস্কন রিমুভ ফোর্স’ নামের একটি আইডি থেকে পোস্ট করা হয়, “বেগম খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে শহীদ শায়খ আবদুর রহমান রাহিমাহুল্লাহ এবং তাঁর দলকে উদ্দেশ্য করে বলেছিলো – তোমরা যে ধরনের রাষ্ট্র চাচ্ছ তা কিছুতেই হতে দেয়া হবে না, হবে না। মুজাহিদদের অকথ্য অত্যাচার, মুজাহিদদের স্ত্রীদের ধরে এনে পুলিশ – র‍্যাব – সেনাবাহিনী দিয়ে ধর্ষণ করানো, মুজাহিদ লেতা শহীদ শায়খ আবদুর রহমান রাহিমাহুল্লাহকে রিমান্ডে এনে উলংগ করে অত্যাচার করিয়েছিল খালেদা জিয়া এবং জামাতের জোট সরকার। সন্ত্রাসী দমনের নামে মুজাহিদদের পাইকারি হত্যা চালিয়েছিলো খালেদা জিয়া এবং মতিউর রহমান নিজামির জোট সরকার। এখন তারা হঠাৎ এত ভালো মানুষ, এত ভালো মুসলিম কিভাবে হলো?”

মোহাম্মদ আব্দুল হামিদ নামের একটি আইডি থেকে শায়খ আব্দুর রহমানের ছবি পোস্ট করে বলা হয়েছে, “আমাদের একজন রত্ন ছিলো,শাইখ আবদুর রহমান। যারা শাইখকে ফাঁসিতে ঝুলিয়েছিলো তাদের জন্য কখনো দোয়া আসে না।”

আজিম মাহমুদ নামের একটি আইডি থেকে শায়খ আব্দুর রহমানের একটি ভিডিও পোস্ট করে ক্যাপশন দেওয়া হয়েছে, “আজ আপনাকেও ভীষণ মনে পড়ে! তৎকালীন এক ক্ষমতাসীন নারী ও তার বাহিনী আপনাকে ফাঁসি দিয়েছিল। শহীদ শাইখ আবদুর রহমান (রহ.)।”

সাইদ অমি নামের একটি আইডি থেকে শায়খ রহমানের একটি ভিডিও পোস্ট করে বলা হয়, “প্রিয় উস্তাদ প্রিয় শাইখ, আমাদের একজন রত্ন ছিলেন, “শাইখ আবদুর রহমান رحمه الله। যারা শাইখকে ফাঁসিতে ঝুলিয়েছিলো তাদের জন্য কখনো দোয়া আসে না। আজ আপনার খুনি বেদনাদায়ক যন্ত্রণা পেয়ে তিলে তিলে মারা গেছেন।”

এই ধরণের ক্যাপশনে পোস্ট দিতে দেখা যায় আরও কয়েক ডজন আইডি থেকে। এসব আইডির কোন কোনটি ছদ্ম নামে আবার কোন কোনটি স্বনামেই পরিচালিত।

মোহাম্মদ আমিনুল হক নামের একটি আইডি থেকে পোস্ট করে বলা হয়, “আল্লাহ’র শরীয়াহ’ পরিত্যাগকারী কারো মৃত্যুতে ইন্না-লিল্লাহ পড়া নিষেধ! সেখানে জান্নাত পাওয়ার জন্য দুআ আমরা কখনো করি না। আমাদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে যামানার সালাহউদ্দীন আইয়ুবী আবু উ-বাইদা’র শাহাদাতে! হাজারটা বিখ্যাত মনিষী’র ইন্তেকাল আর একজন উ-সামার শাহাদাত কখনো সমান হতে পারে না।” মোহাম্মদ আমিনুল হককে ইতিপূর্বে জঙ্গিবাদী সংগঠনে জড়িত থাকার অপরাধে গ্রেফতার করা হয়েছিল।

খালেদা জিয়ার জন্য জান্নাত কামনা করে দেয়া একটি পোস্টে আবু রুমাইসা নামের একটি আইডি থেকে কমেন্ট করা হয়েছে, “আপনার সাক্ষ্যতে কি আসে যায়? মানুষের হিসাব তার ঈমান ও আমলের ভিত্তিতে নেয়া হবে এবং পাওনাও এর ভিত্তিতে দেয়া হবে। সারাজীবন কুফরির জন্য লড়াই করে জান্নাত চাওয়া ও পাওয়া এতই সহজ! নির্বোধ-যাহিল।”

মুফতি হারুন ইজহার খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে এক ফেসবুক পোস্টে বেগম জিয়াকে বাংলাদেশবান্ধব রাজনীতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আইকন ও আধিপত্যবাদ এবং ফ্যাসিবাদের প্রশ্নে আপোসহীন বলে উল্লেখ করেন।

তবে একই পোস্টে মুফতি ইজহার উল্লেখ করেন, “মহান রব্বের কাছে জবাবদিহিতার যে মূল ঈমানী কমিটমেন্ট, তাতে তিনি আরো দশ জন রাজনীতিকের মতই উত্তীর্ণ হতে পারেন নি। রাজনৈতিক দর্শন ও কর্মে তিনি মহান রব্বের নিকট পরিপূর্ণ আত্মসমর্পণ করতে পারেন নি।”

পোস্টটিতে ইজহারের বক্তব্য সমর্থন করে বেগম খালেদা জিয়ার ইমান ও জান্নাতে যাওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে কমেন্ট করতে দেখা যায় অনেককে। বদরুদ্দোজা নামের একটি আইডি থেকে কমেন্ট করা হয়, “গণতন্ত্রের মা বাংলাদেশের মা ইত্যাদি ইত্যাদি হয়ে জান্নাতে যাওয়া যাবে না জান্নাতে যাইতে হলে আল্লাহর প্রকৃত বান্দী হতে হবে দেশপ্রেম দিয়ে জান্নাতে যাওয়া যাবে না নামাজ প্রেমীরা জান্নাতে যাবে।”

২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট এক যোগে সারাদেশে সিরিজ বোমা হামলা চালায় জঙ্গি সংগঠন জামায়াতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ (জেএমবি)। ২০০৬ সালের ৬ মার্চ ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা থেকে বাংলাভাইকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব সদস্যরা। এর চারদিন আগে সিলেট থেকে গ্রেপ্তার করা হয় শায়খ রহমানকে। পরবর্তীতে ২০০৭ সালের ২৯ মার্চ রাতে শায়খ আবদুর রহমান ও সিদ্দিকুল ইসলাম ওরফে বাংলাভাইসহ নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জামা’আতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশের (জেএমবি) ছয় শীর্ষ নেতার ফাঁসি কার্যকর করা হয়। শীর্ষ জেএমবি নেতাদের গ্রেফতার ও ফাঁসি কার্যকরের ঘটনায় উগ্রবাদ সমর্থকরা তৎকালীন জোট সরকার ও বেগম খালেদা জিয়ার উপর ক্ষুব্ধ।

সাম্প্রতিক সময়ে জেএমবি’র বেশ কয়েকজন সদস্য মুক্তি পেয়ে জেল থেকে বের হয়েছেন। গত ২৬ ডিসেম্বর কেরানীগঞ্জের হাসনাবাদ এলাকায় একটি মাদ্রাসায় ভয়াবহ বিস্ফোরণে মাদ্রাসাটির দেয়াল ধ্বসে পড়ে। মাদ্রাসার পরিচালক আল-আমিন শেখ নিউ জেএমবি সদস্য বলে দাবি করেছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী।