DoinikAstha Epaper Version
ঢাকাশুক্রবার ১৯শে জুলাই ২০২৪
ঢাকাশুক্রবার ১৯শে জুলাই ২০২৪

আজকের সর্বশেষ সবখবর

জানাযায় লাশ সামনে রেখে মহানবী মুহাম্মদ সা. কী করতেন

রায়হান জামান
জানুয়ারি ২, ২০২৪ ৩:৪৩ অপরাহ্ণ
Link Copied!

জানাযায় লাশ সামনে রেখে মুহাম্মদুর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কী করতেন। কোন ব্যক্তি ইন্তেকাল করলে তার আত্মীয়স্বজন ও পরিচিতরা দয়াময় আল্লাহ তা’আলার কাছে বিশেষ দোয়া ও মাগফিরাত কামনার লক্ষ্যে মাইয়েতের জানাযার নামাজে শামিল হয়। জানাযার নামাজ হচ্ছে আল্লাহর কাছে মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া করার শরি’ঈ নির্দেশ।


এই সময় মৃত ব্যক্তি দোয়ার খুবই মুখাপেক্ষী থাকেন। কিন্তু আমাদের সমাজে জানাযার আগে মৃত ব্যক্তির লাশ সামনে রেখে দীর্ঘ সময় বক্তব্য দেওয়ার মতো নিন্দনীয় বেদআত এর প্রচলন ঘটেছে, যা দিন দিন বেড়েই চলছে। জেনে রাখা ভালো! তখন মানুষ জীবিত ব্যক্তিদের ভাষণ শোনার জন্য আসেন না! আফসোসের কথা হল, ইদানীং ওলামা-মাশায়েখের লাশ সামনে নিয়েও এমনি করা হচ্ছে। পরিস্থিতি এতটাই নষ্ট হয়ে গেছে যে, লাশ সামনে রেখে বক্তৃতার জন্য লোক খোঁজা হয়, আবার অনেকে বক্তব্য দিতে স্বেচ্ছায় সামনে আসে। অন্যান্য সভা-সেমিনারের মতো একজন সঞ্চালক বা পরিচালক হয়ে যান, যিনি বক্তাদের সিরিয়াল এবং নাম ঘোষণা করেন। আবার এলাকার নেতৃস্থানীয় কেউ উপস্থিত থাকলে তার নাম ঘোষনা করতে হয়, অন্যথায় তিনি অপমান বোধ করেন।

প্রতিটা মানুষই কর্মব্যস্ত, আপন আপন পেশায় নিয়োজিত। শুধু মাইয়েতের মুহব্বতে মাগফিরাত কামনার জন্য নিজের কাজ ফেলে জানাযায় হাজির হয়, কিন্তু মুসল্লিদের দাঁড় করিয়ে রেখে বক্তব্য দীর্ঘ করায় মানুষ বিরক্ত হন, অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। মৃত ব্যক্তির মাগফিরাতের জন্য শরীয়ত যে পদ্ধতি নির্ধারণ করেছে এর বাহিরে গিয়ে লম্বা-চওড়া বক্তব্যের মাধ্যমে মাগফেরাত কামনা করা শরীয়ত পরিপন্থী ও গুরুত্বহীন। মৃত ব্যক্তির গুণকীর্তন সুকর্মগুলোর চর্চা ও তার অবদান গুলোর আলোচনা, স্মৃতিচরণ করতে চাইলে আলাদা সরণসভা/শোক সভার আয়োজন করা যেতে পারে, এতে সমস্যা নেই। কিন্তু জানাযার নামাজে দীর্ঘ সময় মুসল্লিদের দাঁড় করে রাখা নেহায়েত অভদ্রতা ও শিষ্টাচারের পরিপন্থী। এতে জানাযার ভাবগাম্ভীর্য নষ্ট হয়।

জানাযায় শরিক হয়ে মানুষ নিজের মৃত্যুকে উপলব্ধি করবে, কবরের আজাব ও হাশরের ময়দানের কথা স্মরণ করবে, জান্নাত-জাহান্নামের কথা স্মরণ করবে, নিজের ন্যায়-অন্যায় কর্মগুলো মনে মনে স্মরণ করে চোখ থেকে দু ফোঁটা পানি ঝরাবে। দিলকে আখেরাত মুখী করবে। কিন্তু এখানে ও সুন্নাহ পরিপন্থী দুনিয়াদারি । নির্বাচন সামনে রেখে কেউ মারা গেলে, জানাযা হয়ে ওঠে নির্বাচনী প্রচারণা কেন্দ্র ও রাজনৈতিক শোডাউনের জায়গা, অবস্থা আরো জটিল! নেতারা বক্তব্য দিতে না পারলে জানাযায় আসাটাকেই বৃথা মনে করেন। (কথাগুলো অবশ্যই জেনে বুঝে লিখছি)

নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অভ্যাস ছিল কোনো জানাযা সামনে এলে জিজ্ঞাসা করতেন, তার ঋণ আছে কি? যদি জবাব হতো ঋণ নেই, তাহলে জানাযার নামাজ পড়িয়ে দিতেন। অন্যথায় পড়াতেন না ‌। কোনো এক সাহাবীর লাশ সামনে রেখে নবীজি জিজ্ঞাসা করেছিলেন, তার কোন ঋণ আছে? জবাবে সাহাবায়ে কেরাম রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছিলেন‌, হ্যা, আছে। নবীজি বললেন তোমরা তার জানাযা পড়ে নাও আমি তার ঋণ থাকা অবস্থায় জানাযা পড়বো না।

নবী সা. বলেছেন, মুমিনের আত্মার ঋণের কারণে ঝুলন্ত অবস্থায় থাকবে। জান্নাতে যেতে পারবে না। (জামে তিরমিজী)

জানাযার ফরজ ও সুন্নাতঃ

জানাযার ফরজ ২টিঃ
(১) ইমাম ও মুক্তাদি সকলের জন্য চার তাকবীর বলা। (২) দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করা। -শামী -৩/২০৯

জানাযার সুন্নাত ৪টিঃ
(১) আল্লাহ তাআলার হামদ ও সানা পড়া
(২) রাসূলুল্লাহ সা. এর উপর দরুদ পড়া
(৩) মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া করা।

(৪) জানাযার জন্য নূন্যতম তিন কাতার হওয়া।

বেশি হলে সমস্যা নেই তবে কাতার বিজোড় করার উত্তম। এ থেকেই বোঝা যায় ,এটা আল্লাহর বড়ত্বের আলোচনা , রাসূলুল্লাহ সা. এর প্রতি দুরুদ ও মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া করা ছাড়া কারো আত্মপ্রচার, কোনো দল বা নেতার বড়ত্ব চর্চার জায়গা নয়। রাসূল সা. মাইয়েতকে দ্রুত দাফন করতে বলেছেন। সুতরাং মৃতের গোসল, কাফন পরানো ও কবর খনন শেষ হলে কবর দিতে বিলম্ব করা নাজায়েজ। নবীজির কথা অমান্য হয়। জানাযা সামনে রেখে বক্তৃতা করলে এ নাজায়েজ কাজটিই করা হতে থাকে।

প্রিয় নবী সা. বলেছেন, ‘তোমরা লাশকে দ্রুত কবরস্থানে নিয়ে যাও। কেননা মৃত ব্যক্তি যদি নেক লোক হয়, তাহলে কল্যাণের দিকেই তোমরা তাকে নিয়ে যাচ্ছো। আর যদি মন্দ হয় তাহলে সে ক্ষেত্রে তোমাদের ঘাড় থেকে আপদ সরিয়ে দিচ্ছো।’ (সহিহ বোখারী)

হজরত তালহা ইবনে বারা (রা.) অসুস্থ হলে হজরত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে দেখতে গেলেন। অতঃপর বললেন, আমি তালহার মধ্যে মৃত্যুর আলামত দেখতে পাচ্ছি। অতএব (সে মারা গেলে) এ সম্পর্কে আমাকে অবহিত করবে। আর তোমরা দ্রুত কাফন-দাফনের ব্যবস্থা করবে। কেননা কোনো মুসলমানের মৃতদেহকে পরিবারের লোকদের মধ্যে আটকে রাখা উচিত নয়। (সুনানে আবু দাউদ )

দীর্ঘ সময় লাশ রেখে দেওয়া, লাশের ছবি তোলা, ভিডিও করা, জানাজার নামাজের আগে পরে স্থানে স্থানে লাশ প্রদর্শন করা, সবাই গর্হিত কাজ। এগুলো লাশকে কষ্ট দেওয়ার নামান্তর। আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, ‘কোনো মুমিন ব্যক্তিকে মৃত্যুর পরে কষ্ট দেওয়া তেমনি, যেমন জীবিত অবস্থায় তাকে কষ্ট দেওয়া।’ (ইবনে আবী শাইবা)

জানাযার নামাজে শুধু পরিবারের একজন অতি সংক্ষেপে মৃতের জন্য ক্ষমা চাইবে, ঋণের ব্যাপারে ঘোষণা দেবে। এরপর ইমাম সাহেব জানাজা শুরু করবেন। আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে জানাযার নামাজে ফরজ, সুন্নতগুলো কে যথাযথ আদায় করা ও বেদাত বর্জন করার তাওফিক দান করুন। আমিন, ইয়া রাব্বাল আলামিন।

লেখক: শিক্ষক ও খতিব শরিফুল ইসলাম জুবায়ের

বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।
সেহরির শেষ সময় - ভোর ৩:৫২
ইফতার শুরু - সন্ধ্যা ৬:৫৩
  • ফজর
  • যোহর
  • আছর
  • মাগরিব
  • এশা
  • সূর্যোদয়
  • ৩:৫৭
  • ১২:০৮
  • ৪:৪৩
  • ৬:৫৩
  • ৮:১৭
  • ৫:১৯