Football খেলাধুলা

করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত মোহাম্মদ সালাহ

করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন মিসরীয় ফরোয়ার্ড মোহাম্মদ সালাহ । তবে করোনায় আক্রান্ত হলেও তার মাঝে কোনও উপসর্গ নেই।

শুক্রবার তার আক্রান্ত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছে মিসরীয় ফুটবল ফেডারেশন।

এক বিবৃতিতে মিসর ফুটবল ফেডারেশন জানায়, ২৮ বছর বয়সী এই ফুটবলারের শরীরে কোনো উপসর্গ দেখা যায়নি এবং সেলফ আইসোলেশনে আছেন তিনি। দলের বাকিদের কোভিড-১৯ পরীক্ষার ফল নেগেটিভ এসেছে।

উরুগুয়ের বিপক্ষেও নেইমারকে পাচ্ছে না ব্রাজিল

করোনায় আক্রান্ত হওয়ার ফলে স্বাভাবিকভাবে জাতীয় দলের আসন্ন দুই ম্যাচে খেলতে পারবেন সালাহ। আফ্রিকা কাপ অব নেশন্সের বাছাইয়ে শনিবার টোগোর মুখোমুখি হবে মিসর। একই দলের বিপক্ষে মঙ্গলবার ফিরতি পর্বের ম্যাচ খেলবে তারা।

এ ছাড়া নিজেদের পরবর্তী দুই ম্যাচে হয়তো সালাহকে পাবে না লিভারপুলও। আগামী ২১ নভেম্বর প্রিমিয়ার লিগে লেস্টার সিটি ও এর চার দিন পর চ্যাম্পিয়ন্স লিগে আতালান্তার বিপক্ষে খেলবে তারা। এরই মধ্যে চোট নিয়ে মাঠের বাইরে ছিটকে গেছেন দলটির বেশ কয়েকজন খেলোয়াড়। করোনাভাইরাসেও আক্রান্ত হয়েছেন কয়েকজন।

চলতি মৌসুমে লিগে গতবারের চ্যাম্পিয়নদের প্রথম আট ম্যাচেই খেলেছেন সালাহ। গোল করেছেন আটটি। করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন মিসরীয় ফরোয়ার্ড মোহাম্মদ সালাহ ।

মোহাম্মদ সালাহর উত্থান

ইংরেজী উচ্চারণ মুহামেদ সালাহ (বাংলায় মোহাম্মদ সালা বলা যায়), ডাকা নাম মোমো। মেসির মতো ছোটখাটো গড়নের, বাঁ পায়ের খেলোয়াড়। সেই সালাহ লেস্টারের এক গোলের জবাব দিলেন একাই দুই গোল করে। দুইটাই আসে তার সহজাত ড্রিবলিং এবং ফিনিশিং দক্ষতার সৌজন্যে, যেমনটা বার্সায় মেসি করে থাকেন। প্রথম গোলটায় সাদিও মানের দুর্দান্ত ব্যাকহিল পাস থেকে বল পেয়ে ডি বক্সে বোকা বানান চারজন ডিফেন্ডারকে। তাদের কোন কিছু করার সুযোগ না দিয়ে করেন সমতাসূচক গোল। পরেরটাই কাউন্টারে ডান পাশে বল পেয়ে প্রথম টাচে সেটাকে চিপ করে গোলকিপারের মাথার উপর দিয়ে পাঠিয়ে দেন জালে। দুইটা গোলই মুহামেদ সালাহর মিশরের কিংবা লিভারপুলের মেসি নামের যথার্থতা প্রমাণ করে। কিন্তু সালাহর জন্য এসব নতুন কিছুনা, তার এই উত্থানের শুরু হয় আরো আগে থেকে।

মিশরের ক্লাব “আরব কন্ট্রাক্টর স্পোর্টিং ক্লাব”, ইয়থ একাডেমেরি জন্য প্রসিদ্ধ – সেখানে সালাহ ভর্তি হন ১৪ বছর বয়সে। এরপর প্রায় চার বছর পর ২০০৯/১০ মৌসুমে সিনিয়র ডেব্যু হয় ক্লাবের হয়ে। সালাহ আরব কন্ট্রাক্টরের হয়ে প্রথম গোল করেন আফ্রিকার সবচেয়ে বড় ক্লাব আল আহলির বিপক্ষে, আর তাতেই সালাহ চলে আসেন সবার নজড়ে। সেবছর জিতেন আফ্রিকারর সেরা উদীয়মান খেলোয়াড়ের পুরষ্কার। আফ্রিকাতে দুর্দান্ত নৈপুণ্য তাকে নিয়ে আসে ইউরোপিয়ান ক্লাবের ফোকাসে।

সুইস ক্লাব এফসি বাসেল মাত্র ২.৫ মিলিয়ন ইউরোর বিনিময়ে কিনে নেয় ২০ বছর বয়সী মোহাম্মদ সালাহকে। ২০১২ থেকে ২০১৪ পর্যন্ত সেখানে ৭৯ ম্যাচ খেলে ২০ গোল এবং ১৭ এসিস্ট করেন সালাহ।

বাসেলের হয়ে ২০১২/১৩ মৌসুমে ইউরোপা লীগে বেনিতেজের চেলসির সাথে দেখা হয়ে সালাহর, সেখানে তার একটি গোল ছিল। তবে বড় চমক আসে পরের মৌসুমের চ্যাম্পিয়ন্স লীগ গ্রুপ পর্বে যেখানে বাসেলের গ্রুপে ছিল হোসে মোরিনহোর চেলসি।

গ্রুপ পর্বে বাকি কোন ম্যাচ জিততে না পারলেও চেলসির সাথে দুই লেগেই জিতে বাসেল এবং দুটাই আসে সালাহর গোলে। প্রথম লেগে চেলসির মাঠে ১-০ গোলে পিছিয়ে থেকে ৭১ মিনিটে সালাহর বাঁকানো শটে সমতায় ফেরে বাসেল এবং পরে ২-১ ম্যাচ জিতে নেয়। সালাহর গোলটা যে কোন অপ্রত্যাশিত কিছু ছিলনা সেটার প্রমাণ আসে ফিরতি লেগে। নিজেদের মাঠে সালাহ ছিল আরো অপ্রতিরোধ্য, এবার ম্যাচের ৮৭ মিনিটে কাউন্টার এটাকে সালাহর গতি এবং ড্রিবলে পরাস্ত হয় চেলসি ডিফেন্স। ১-০ গোলে ম্যাচ জিতে বাসেল আর নায়ক বনে যান “দি ফারাও” খ্যাত মোহাম্মদ সালাহ।

“যদি হারাতে না পারো তাহলে তাকে কিনে ফেল” – এইটা যদি কোন প্রতিযোগীতার নীতি হয় তাহলে সেটার সফল প্রয়োগ ঘটায় চেলসি। চ্যাম্পিয়ন্স লীগে চেলসিকে অনেকটা একক প্রচেষ্টায় হারিয়ে ইউরোপে ইতিমধ্যে পরিচিত সালাহ; আর সেই চেলসিরই নজড় পড়ে উদীয়মান এই ফুটবলারের উপর। ফলশ্রুতিতে ওই মৌসুমের জানুয়ারি ট্রান্সফার উইন্ডোতেই তাকে স্টেমফোর্ড ব্রিজে নিয়ে আসে মোরিনহো। শুরু হয় সালাহর নতুন যাত্রা। আরব কন্ট্রাক্টরের হয়ে ২০০৯ এ ডেব্যু হবার পাঁচ বছর পর মোমো এখন ইউরোপের টপ ফ্লাইটের খেলোয়াড়। নিঃসন্দেহে তার এবং মিশরের জন্য অনেক বড় অর্জন। কিন্তু বড় জায়গাতে টিকে থাকাও অনেক চ্যালেঞ্জিং আর চেলসিতে সেই চ্যালেঞ্জেরই মুখোমুখি হন সালাহ।

চেলসির প্রথম একাদশে জায়গা পেতে সমস্যা হচ্ছিল সালাহর। মোরিনহো অগ্রাধিকার দিচ্ছিলেন উইলিয়ান, হ্যাজার্ড এবং রামিরেসদের। তবে কি সালাহ হতে যাচ্ছেন আরেক মোরিনহো ভিকটিম। চেলসির জন্য অবশ্য তরুণ প্লেয়ার কিনে লোনে পাঠিয়ে দেয়াটা নতুন কিছু ছিলনা। সালাহর ক্ষেত্রেও তাই ঘটল, মাত্র এক বছরের চেলসি স্পেলে খেলেছেন মাত্র ১৯ ম্যাচ, গোল করেছেন মাত্র দুইটি যেটি বাসেলের হয়ে চেলসির বিপক্ষে করা গোলসংখ্যারও কম।