ঢাকা ১২:৫১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬, ২৮ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

পাকিস্তানে প্রথম দিনের শান্তি আলোচনা অগ্রগতি দিয়ে শেষ

Astha DESK
  • আপডেট সময় : ১১:৫৭:৫৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬
  • / ১০০০ বার পড়া হয়েছে

পাকিস্তানে প্রথম দিনের শান্তি আলোচনা অগ্রগতি দিয়ে শেষ

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের স্থায়ী অবসানের লক্ষ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে প্রথম দিনের শান্তি আলোচনা শেষ হয়েছে। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত এই আলোচনায় অগ্রগতি হয়েছে বলেই ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

আজ শনিবার শান্তি আলোচনা পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে পরোক্ষভাবে শুরু হলেও পরবর্তীতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা এক টেবিলে মুখোমুখি বসে সরাসরি আলোচনায় সম্মত হয়। পরবর্তীতে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর প্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিফ মুনিরের সভাপতিত্বে ত্রিপাক্ষিক বৈঠকে শান্তি আলোচনা এগিয়ে যায় বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম বিবিসি।

প্রথম দিনের বৈঠক শেষে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র দু’পক্ষই নিজেদের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে, যা বিবিসি’র এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

প্রথম দিনের শান্তি আলোচনা প্রসঙ্গে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, পাকিস্তানে থাকা ইরানের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দল সর্বশক্তি দিয়ে ইরানের স্বার্থ রক্ষা করছে এবং এ কাজে সাহসের সঙ্গে নিয়োজিত থাকবে।

সামাজিক মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি জানান, কোনো অবস্থাতেই জনগণের সেবা বন্ধ হবে না এবং আলোচনার ফল যাই হোক না কেন, সরকার জনগণের পাশে থাকবে।

এদিকে, হোয়াইট হাউসের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা পাকিস্তানের সঙ্গে মার্কিন ও ইরানি প্রতিনিধি দলের মুখোমুখি ত্রিপক্ষীয় আলোচনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এ প্রসঙ্গে ওই কর্মকর্তা জানান, বিভিন্ন বিষয়ের মার্কিন বিশেষজ্ঞরাও ইসলামাবাদে উপস্থিত আছেন এবং অন্যান্য বিশেষজ্ঞরা ওয়াশিংটন ডিসি থেকে সহায়তা করছেন।

শান্তি আলোচনার শুরুতে দুই দেশের প্রতিনিধিরা আলাদা কক্ষে অবস্থান করছিলেন এবং পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীরা এক কক্ষ থেকে অন্য কক্ষে প্রস্তাব নিয়ে যাতায়াত করছিলেন (শাটল ডিপ্লোম্যাসি)। তবে আলোচনার অগ্রগতি হওয়ায় দেশ দুটি পাকিস্তানের উপস্থিতিতে একই টেবিলে বসতে সম্মত হয়। ফলে শুরু হয় ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি আলোচনা।

এর আগে পাকিস্তান সরকারের একটি সূত্র বিবিসিকে জানায়, আজ শনিবার মধ্যাহ্নভোজের সময় ইরানি প্রতিনিধিদলের দলের সঙ্গে বৈঠক করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। উল্লেখ্য, পাকিস্তানে ইরানি প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের কালিবাফ।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের নেতৃত্বে মার্কিন প্রতিনিধিদলও ইসলামাবাদে পৌঁছেছে আজ। আলোচনা শুরুর আগে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সাথে বৈঠকও করেছেন জেডি ভ্যান্স।

প্রসঙ্গত, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যৌথ হামলা শুরুর মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে শুরু হয় তীব্র সামরিক সংঘাত। এতে প্রথম দিনই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ নিহত হন দেশটির শীর্ষস্থানীয় নেতা ও সামরিক কর্মকর্তা।

জবাবে ইসরায়েলের বিভিন্ন শহরে এবং মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও স্থাপনা লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু করে ইরানের সামরিক বাহিনী। এরপর গত ২ মার্চ থেকে যুদ্ধে জড়ায় লেবাননের ইরানপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। ইরানের পক্ষ নিয়ে মার্কিন ঘাঁটি ও স্থাপনায় হামলা শুরু করে ইরাকের ইরানপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠীও।

যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই কার্যত বন্ধ হয়ে যায় বিশ্বের ২০ শতাংশ জ্বালানি তেল ও গ্যাস সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি। এতে বিশ্ববাণিজ্যে ব্যাপক প্রভাব পড়ে। বিশেষ করে বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম দ্রুত বাড়তে থাকে। এক পর্যায়ে ক্রুড অয়েলের দাম প্রতি ব্যারেল ১১০ ডলার ছাড়িয়ে যায়।

যদিও গত মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সাময়িক যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর জ্বালানি তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ৯২ ডলারের কিছু নিচে নেমে আসে।

এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যে ৪০ দিন যুদ্ধ চলার পর গত ৭ এপ্রিল ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র দুই সপ্তাহের জন্য যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়। কিন্তু এর একদিন পরই (৮ এপ্রিল) লেবাননে ব্যাপক হামলা চালায় ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। সেদিন এক ধ্বংসাত্মক অভিযানে ১০ মিনিটের ব্যবধানে লেবাননের ১০০টি স্থানে ১৬০টি বোমা হামলা চালায় ইসরায়েলি বিমান বাহিনী। এতে একদিনেই দেশটিতে অন্তত ২৫৪ জনের মৃত্যু হয় এবং আহত হন প্রায় ১২০০ জন।

এই হামলার নিন্দা জানিয়ে পাল্টা হামলা চালায় ইরানও। ইরানের দাবি, দু’সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে লেবাননও অন্তর্ভুক্ত ছিল। অন্যদিকে ইসরায়েল জানায়, যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়েছে ইরানের সঙ্গে, লেবানন এর অংশ নয়। যুক্তরাষ্ট্রও একই সুরে কথা বলে।

এদিকে, আগামী সপ্তাহে ওয়াশিংটনে লেবাননের প্রতিনিধিদের সঙ্গে পৃথক শান্তি আলোচনা শুরু করে আগ্রহ দেখিয়েছে ইসরায়েল। কিন্তু আনুষ্ঠানিক এই আলোচনায় কোনোভাবেই হিজবুল্লাহকে অন্তর্ভুক্ত করা যাবে না বলে শর্ত জুড়ে দিয়েছে নেতানিয়াহু প্রশাসন।

এই প্রেক্ষাপটে, আজ শনিবার ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শান্তি আলোচনা শুরু হয়েছে পাকিস্তানে। এই আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে, লেবাননে সব ধরণের হামলা বন্ধ করা, হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দেওয়া এবং সেখানে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, এবং ইরানের ওপর আরোপিত আর্থিক নিষেধাজ্ঞাজনিত বাধাগুলো তুলে নেওয়া।

উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবারের সাময়িক যুদ্ধবিরতির আগেই যুক্তরাষ্ট্রের তরফে ১৫ দফা এবং ইরানের তরফে ১০ দফা প্রস্তাব পেশ করা হয় মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী যুদ্ধবিরতির লক্ষ্যে। (সূত্র বিবিসি)।

দৈনিক আস্থা/এমএইচ

 

ট্যাগস :

পাকিস্তানে প্রথম দিনের শান্তি আলোচনা অগ্রগতি দিয়ে শেষ

আপডেট সময় : ১১:৫৭:৫৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬

পাকিস্তানে প্রথম দিনের শান্তি আলোচনা অগ্রগতি দিয়ে শেষ

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের স্থায়ী অবসানের লক্ষ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে প্রথম দিনের শান্তি আলোচনা শেষ হয়েছে। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত এই আলোচনায় অগ্রগতি হয়েছে বলেই ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

আজ শনিবার শান্তি আলোচনা পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে পরোক্ষভাবে শুরু হলেও পরবর্তীতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা এক টেবিলে মুখোমুখি বসে সরাসরি আলোচনায় সম্মত হয়। পরবর্তীতে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর প্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিফ মুনিরের সভাপতিত্বে ত্রিপাক্ষিক বৈঠকে শান্তি আলোচনা এগিয়ে যায় বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম বিবিসি।

প্রথম দিনের বৈঠক শেষে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র দু’পক্ষই নিজেদের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে, যা বিবিসি’র এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

প্রথম দিনের শান্তি আলোচনা প্রসঙ্গে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, পাকিস্তানে থাকা ইরানের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দল সর্বশক্তি দিয়ে ইরানের স্বার্থ রক্ষা করছে এবং এ কাজে সাহসের সঙ্গে নিয়োজিত থাকবে।

সামাজিক মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি জানান, কোনো অবস্থাতেই জনগণের সেবা বন্ধ হবে না এবং আলোচনার ফল যাই হোক না কেন, সরকার জনগণের পাশে থাকবে।

এদিকে, হোয়াইট হাউসের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা পাকিস্তানের সঙ্গে মার্কিন ও ইরানি প্রতিনিধি দলের মুখোমুখি ত্রিপক্ষীয় আলোচনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এ প্রসঙ্গে ওই কর্মকর্তা জানান, বিভিন্ন বিষয়ের মার্কিন বিশেষজ্ঞরাও ইসলামাবাদে উপস্থিত আছেন এবং অন্যান্য বিশেষজ্ঞরা ওয়াশিংটন ডিসি থেকে সহায়তা করছেন।

শান্তি আলোচনার শুরুতে দুই দেশের প্রতিনিধিরা আলাদা কক্ষে অবস্থান করছিলেন এবং পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীরা এক কক্ষ থেকে অন্য কক্ষে প্রস্তাব নিয়ে যাতায়াত করছিলেন (শাটল ডিপ্লোম্যাসি)। তবে আলোচনার অগ্রগতি হওয়ায় দেশ দুটি পাকিস্তানের উপস্থিতিতে একই টেবিলে বসতে সম্মত হয়। ফলে শুরু হয় ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি আলোচনা।

এর আগে পাকিস্তান সরকারের একটি সূত্র বিবিসিকে জানায়, আজ শনিবার মধ্যাহ্নভোজের সময় ইরানি প্রতিনিধিদলের দলের সঙ্গে বৈঠক করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। উল্লেখ্য, পাকিস্তানে ইরানি প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের কালিবাফ।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের নেতৃত্বে মার্কিন প্রতিনিধিদলও ইসলামাবাদে পৌঁছেছে আজ। আলোচনা শুরুর আগে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সাথে বৈঠকও করেছেন জেডি ভ্যান্স।

প্রসঙ্গত, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যৌথ হামলা শুরুর মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে শুরু হয় তীব্র সামরিক সংঘাত। এতে প্রথম দিনই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ নিহত হন দেশটির শীর্ষস্থানীয় নেতা ও সামরিক কর্মকর্তা।

জবাবে ইসরায়েলের বিভিন্ন শহরে এবং মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও স্থাপনা লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু করে ইরানের সামরিক বাহিনী। এরপর গত ২ মার্চ থেকে যুদ্ধে জড়ায় লেবাননের ইরানপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। ইরানের পক্ষ নিয়ে মার্কিন ঘাঁটি ও স্থাপনায় হামলা শুরু করে ইরাকের ইরানপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠীও।

যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই কার্যত বন্ধ হয়ে যায় বিশ্বের ২০ শতাংশ জ্বালানি তেল ও গ্যাস সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি। এতে বিশ্ববাণিজ্যে ব্যাপক প্রভাব পড়ে। বিশেষ করে বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম দ্রুত বাড়তে থাকে। এক পর্যায়ে ক্রুড অয়েলের দাম প্রতি ব্যারেল ১১০ ডলার ছাড়িয়ে যায়।

যদিও গত মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সাময়িক যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর জ্বালানি তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ৯২ ডলারের কিছু নিচে নেমে আসে।

এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যে ৪০ দিন যুদ্ধ চলার পর গত ৭ এপ্রিল ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র দুই সপ্তাহের জন্য যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়। কিন্তু এর একদিন পরই (৮ এপ্রিল) লেবাননে ব্যাপক হামলা চালায় ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। সেদিন এক ধ্বংসাত্মক অভিযানে ১০ মিনিটের ব্যবধানে লেবাননের ১০০টি স্থানে ১৬০টি বোমা হামলা চালায় ইসরায়েলি বিমান বাহিনী। এতে একদিনেই দেশটিতে অন্তত ২৫৪ জনের মৃত্যু হয় এবং আহত হন প্রায় ১২০০ জন।

এই হামলার নিন্দা জানিয়ে পাল্টা হামলা চালায় ইরানও। ইরানের দাবি, দু’সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে লেবাননও অন্তর্ভুক্ত ছিল। অন্যদিকে ইসরায়েল জানায়, যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়েছে ইরানের সঙ্গে, লেবানন এর অংশ নয়। যুক্তরাষ্ট্রও একই সুরে কথা বলে।

এদিকে, আগামী সপ্তাহে ওয়াশিংটনে লেবাননের প্রতিনিধিদের সঙ্গে পৃথক শান্তি আলোচনা শুরু করে আগ্রহ দেখিয়েছে ইসরায়েল। কিন্তু আনুষ্ঠানিক এই আলোচনায় কোনোভাবেই হিজবুল্লাহকে অন্তর্ভুক্ত করা যাবে না বলে শর্ত জুড়ে দিয়েছে নেতানিয়াহু প্রশাসন।

এই প্রেক্ষাপটে, আজ শনিবার ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শান্তি আলোচনা শুরু হয়েছে পাকিস্তানে। এই আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে, লেবাননে সব ধরণের হামলা বন্ধ করা, হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দেওয়া এবং সেখানে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, এবং ইরানের ওপর আরোপিত আর্থিক নিষেধাজ্ঞাজনিত বাধাগুলো তুলে নেওয়া।

উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবারের সাময়িক যুদ্ধবিরতির আগেই যুক্তরাষ্ট্রের তরফে ১৫ দফা এবং ইরানের তরফে ১০ দফা প্রস্তাব পেশ করা হয় মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী যুদ্ধবিরতির লক্ষ্যে। (সূত্র বিবিসি)।

দৈনিক আস্থা/এমএইচ